| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গেওর্গে আব্বাস
মানুষ মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে, এ-এক বিস্ময়কর ঘটনা। পশু সম্প্রদায়ের ভেতর কেউ কারো সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে বলে আমার জানা নেই। মৃত মানুষের সঙ্গে সওয়াল-জওয়াব করতেন চর-কাশিমপুর গ্রামের ছোটমিয়া। আমি ছোটমিয়াকে নিয়ে দু’চার লাইন গল্প লিখতে পারি কিন্তু ছোটমিয়া হতে পারি না; বিধায় শরণাপন্ন হয়েছি কবি মলয় রায় চৌধুরীর। যে প্রযত্নেই হোক, আপনার সঙ্গে কথা যে বলতেই হবে কেদার ভাদুড়ী।
আমার শহরে রোদ উঠেছে, দাউ-দাউ সূর্যের পাশে আধখানা চাঁদও উঠেছে। আমি হাঁটছি স্মলহীথে, কভেন্ট্রি রোড ধরে। আজ রাস্তায় নেমে এসেছে অজস্র নারী ও কমলালেবু। চোখের সামনে এতো এতো স্তনের প্রবাহ... এখন কী হবে কেদার ভাদুড়ী?
- নারীর রক্তে রোদ লাগবে। ধীরে তা দুধ হয়ে যাবে।
আমার ডানদিকে অসংখ্য সিলভারবার্জ, বাঁদিকে বুলেবার; মাথার উপরে উদগ্র জানালাগুলো রাস্তার দুইধারে ঝাঁপিয়ে পড়ছে যেন! জানালায় দেখি শিশুদের মুখ। ঐ মুখগুলোর মধ্যে কেদার ভাদুড়ীকে চিনে নিতে কষ্ট হচ্ছে না আমার। ঠোঁট নেই, দাঁত নেই, মাড়ি নেই অথচ শূন্যস্থানে উজ্জ্বল হাসি ঝুলে আছে। আমি কি মাথার ভেতরে এরকম ক'টি লাইন লিখে রাখব-
ঝাঁপিয়ে-পড়া
উদগ্র জানালায় ছিল শিশুদের মুখ
তারা কুসুম শিকারী...
গলিত কাঁচের বাঁশি গলিত ভোরের বাগানে
বাঁকানো সূঁতোয় কারা যেন বেঁধে রাখে দিবসের ঘুড়ি
মহামাতৃগর্ভে
উড়ন্ত শালিকের লাশ স্থির হয়ে আছে
পথে
পাথর কুড়াতে যাই
শ্রীমঙ্গলে মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলে...
পথে পড়ে আছে হরিণের নাভী
সে এক উড়ন্ত চোখের স্মৃতি
স্থিরতম আয়নাখণ্ডে...
বড় একা লাগছে কবি। উড়ন্ত শালিকের লাশের সঙ্গে আমিও যে স্থির হয়ে আছি নীলবর্ণ ঘুঘু।
‘‘পাঁঠাকে ধরে আড়াই পোঁচে যখন বধ করে কসাই তার ছটফটানি লক্ষ্য করেছ কখনো? শালা শুয়োরের জগতে আমি এক পাঁঠা। কলজে থেকে বেরিয়ে আসে এক নিখাঁদ যকৃত। রঙ তার সেই নারীটির মতো, আমি ছটফট করি, কাতরাই, কেউ কিছু খবর রাখে না। কেননা ঘরে থেকে আমি একা এবং একাই।’’
কেন যে এই একাকিত্বর কথা বারংবার লিখে যেতে চাই। কেন লিখে যাব তবে? মৃত্যুর পরে ছেলে ছোকরাদের গালি খেতে?
‘‘ কবি মণীন্দ্র গুপ্ত বললেন, বছর বছর কবিতার বই ছাপিয়ে যান। লাইব্রেরীতে লাইব্রেরীতে দিয়ে যান। তাছাড়া আমাদের আর করণীয় কিছুই নেই। কও, তাও তো পারলুম না। ভাবি কী হবে ছবি হয়ে থেকে; মৃত্যুর পর শুধু গালাগালি খেতে? আরো?’’
মৃত্যুর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে জগৎসংসারে দু’পঙক্তিও রচিত হয়নি, হবেও না। এ-অভিজ্ঞতা থাকলে কী রকম হতো আমাদের কাব্যভাষা? নতুন অর্জনের জন্য মনন স্তরকে তবে কি ''ইদমে'' নিয়ে যেতে হবে? শতবর্ষ আগে আমি এই ব্রহ্মাণ্ডে ছিলাম না, আমি কি তবে কবিতা লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম? শতবর্ষ পরেও আমি থাকবো না। এজন্যই বোধহয় আমি আমার কোন এক রচনায় বলেছি-- আমি যেন কবিতা লিখি মৃত্যুর পরে। আজকাল অনেকেই জিজ্ঞেস করে আপনার কবিতায় টুথপেস্ট, ফুটবল, টেনিস, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো নেই কেন? উত্তর আমার জানা নেই। আজকাল বোধহয় কবিতা লেখা অনেক অনেক সহজ হয়ে গেছে, মিস্ত্রিবিদ্যার বিষয় হয়ে উঠেছে। এমন ভেজালের বাজারে আমি কি তবে প্রস্রাবকেও বীর্য বলে চালিয়ে দেব?
‘‘খোঁজারা কি তবে ভাল কবিতা লেখে? কখনো? কবিতা লিখতে হলে বীর্যবান হতে হয় মলয়! বীর্যবান। জীবন মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করতে হয়। তেরোবার, ঠিক তেরোবার মৃত্যু নামক মাগীটা বুকে হিস্-স্ তুলে বেরিয়ে গেছে। অভাবনীয়ভাবে বেঁচে আছি। এখনো। আমার তো মনে হয় এর পেছনে অলৌকিক কিছু আছে। 'মনে হয়' কেন। আমি নিশ্চিত। রবার্ট ক্লাইভ দু’বার এভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন। তৃতীয়বার নয়। তুমি জানো?''
কাল, মাহকাল আহার করে নদী, পশুপাখি, নারী-নাভীবতীসহ কবি কেদার ভাদুড়ীকেও। and many miles to go before i sleep - রবার্ট ফ্রস্টের মতো তিনিও বহুপন্থ হেঁটেছেন। নির্মাণ করেছেন ধ্যান। এক্ষেত্রে তিনি নিরঙ্কুশ সচেতন এবং অন্যমনস্ক পাঠকের ব্যাপারেও হুশিয়ার।
‘‘ সব মানুষ মানুষ নয়, সব কবিতা কবিতা নয়। আমার কবিতা পড়তে হলে একা একঘরে নির্জনে, ধূপের ধূঁয়ায় একটু, হ্যাঁ একটু মদ্যটেনে আঁধার আঁধারিতে পড়াই ভাল। আমার সব কবিতা ঐ রকমভাবেই জন্ম কিনা, তাই। ’’
‘‘ আমি মনে করি কোন কবিতাই শিরোনাম যথাযথ হতে পারে না। নাম্বার দেয়া উচিত। সেক্সপীয়র যেমন দিয়েছেন-১.২.৩...। নামও দেয়া উচিত নয়। গাড়িতে যেমন নাম্বার দেয়া থাকে অনেকটা তেমনি। কে শক্তি, কে সুনীল, কে জয়, কে মলয় আর কেইবা উত্তম কেউ জানলো না। বোঝা যেত তখন ব্যাপারটা। আর পঠন ভঙ্গির কথা? এমন সব কবিতা আছে আমার, আমি ছাড়া আর কেউ ঠিকমতো পড়তে পারবে না। পারে না। দেখেছি। একবার ঋষিণ মিত্র আমার এক কবিতায় সুরারোপ করেছিল। তখন বুঝেছি কবিতারও মার্ডার হতে পারে। বলিনি কিছুই। কেননা এমন কোনো আদালত নেই যেখানে এই খুনের মামলার বিচার হতে পারে। একটা কবিতা যখন একবার পড়েই লোকে বুঝে যায় তখন বাঁদরামির নীল ইতিহাস আমার জানা হয়ে যায়।''
''আমি যা করি তা হলো এই। ধ্যান। নির্জনতার ধ্যান। ধ্যান মানে খুব সহজ আবার কঠিনও। এক জায়গায় বসে মননকে মনন শূন্যতায় নিয়ে যাওয়া চাই। কিংবা কোন একটি দৃশ্যে বা বস্তুতে অপলক অনেকক্ষণ দৃষ্টি রাখা চাই। এরকম বেশ কয়েক মাস অভ্যাস করলেই কে যে শেয়াল আর কে যে সিংহ মুখ দেখলেই চেনা যায়। অদ্ভুত এক শক্তির স্ফূরণ হয় তাতে। ফলে কবিতা বা যে কোন শিল্পের অবস্থান সর্বকালীন এবং সর্বগ্রাসী হয়ে পড়ে। আমি যে একা থাকি বা থাকতে হয় আমার পক্ষে ও দুটোই নির্জনতা এবং ধ্যান বেশ সহজলভ্য। ’’
প্রকাশক ও পশু ব্যাপারি
বইমেলা ও ভিখারীর মেলা
এক মানব জন্মে আমি বাংলা একাডেমীর বইমেলায় গিয়েছি একবার- ২০০৮ এ। ঐ বছরই নিজের পয়সায় আমার একখানা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলাম। সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা। বইমেলা তো নয় যেন মানুষের মেলা! একসঙ্গে এতো মানুষের উত্তাপ ভাল লাগারই কথা, এতো এতো ভিড় আর উড়নচণ্ডী আলাপ মন্দ লাগারও কথা। আমার মন্দ লাগেনি। কারণ আমার সঙ্গে নারী নিতম্বনন্দিনী সর্বদা বিরাজিত ছিল। সে শুধু কথা বলে। আমার শুধু ভাললাগে। সে শুধু লাফ দেয়। আমার শুধু ভাল লাগে। সে টেলিভিশনে ইন্টারভিউ দেয়। আমার শুধু ভাললাগে। ঐ রাজবদনের জন্যই বোধহয় দেখতে পেলাম, বইমেলায় ভেজা অক্ষরগুলো উড়ছে তো উড়ছে... অক্ষরের গায়ে মাতৃজরায়নের শ্লেষাও লেগে আছে। এই অক্ষরগুলো পৃথিবীর নিরক্ষরেরা সৃষ্টি করেছিলেন।
বইমেলায় কার বই কী রকম হিট হলো, কয় কপি বিক্রি হলো, কে কার মোড়ক উন্মোচন করলো, কে কয়টা অটোগ্রাফ দিল ইত্যাদি বিষয়ে প্রচুর শুনেছি। অন্তরে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করেনি। যদি করত তাহলে কবি কেদার ভাদুরীর সংজ্ঞামতে নিজকে ভিখারীদের দলভূক্ত মনে হতো, গ্লানি তৈরি হতো। তবে রঙের গ্লানিও কি খুব ছোট করে দেখা যায়!
প্রিয় রাজবদন একগুচ্ছ গাঁদাফুল উপহার দিয়েছিল, ঐদিন সংবাদপত্রে দেখলাম ঢাকা মহানগরীর মিরপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত লাগেজ পাওয়া গেছে। লাগেজের ভেতর তিনখণ্ডে বিভক্ত নারীটির পরণে ছিল পেটিকোট। পেটিকোটের রঙ হলুদ। রাজবদনের দেয়া গাঁদাফুলের রঙও হলুদ। আমি বইমেলায় বসে কবি মিহির মুসাকি, সরকার আমিনের সঙ্গে ফুচকা খেয়েছি নাকি রঙের বিদ্রুপ দেখেছি বুঝতে পারছিনা। বইমেলায় শুধু কবিদের সঙ্গে দেখা হয়নি। দেখা হয়েছিল প্রকাশকদের সঙ্গেও। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে আমি যেন ১৩ নদী পাড়ি দিয়ে হাটে গেছি পশু বিক্রি করতে। তারা আমায় প্রতিবছর একটা করে উপন্যাস লেখার পরামর্শ দিয়েছে। উপন্যাসের বাজার ভাল, কাটতি ভাল। সায়েন্স ফিকশনের অবস্থাও খারাপ নয়; কবিতার অবস্থা কোরোসিন। তাদের সঙ্গে কবি কেদার ভাদুরীর দেখা হলে নিশ্চয়ই তিনি বলতেন এরা প্রকাশক নয় পশু বেপারি। সবাই সবকিছু বলতে পারে না, কবি কেদার ভাদুড়ী পারেন।
‘‘জ্ঞান আমার সীমিত স্বীকার করছি। কিন্তু এই বোধ আমার এটুকু হয়েছে যে শব্দই হচ্ছে ব্রহ্ম। আকবর বাদশা তানসেনের গান শুনতেন যেমনটি। তা আবার শোনা যাবে দূর ভবিষ্যতে। সুতরাং ইতিহাসের দীপক-রাগ বেজে উঠবে। এরকম আরো এরকম অনেক কিছু, আছো কোথায়?''
''ব্রহ্মবিদ আমি নই, হওয়ার ইচ্ছেও নেই। লেখক যখন লিখে, বই ছাপিয়ে বাজারে ছাড়লে তার বেওসাদারী বুদ্ধিও একটা আছে। কিন্তু মনে মনে যখন ভাবলেন, এপ্রিসিয়েটেড হোক, পাঠকে নিক, কাটতি হোক ভাল তখন তা ভিক্ষাবৃত্তি। শুধুমাত্র উচ্চমার্গীয় সাধু সন্ন্যাসীরা নিজেদের বানানো গল্প (যেমন parab'e) বা উপদেশাবলী বা নিজেদের দর্শন কখনই লিখে রাখতেন না। পাছে তারা ভিক্ষুক হয়ে যান এই ভয়ে। পাঠকের অনেকগুলো চোখ আছে। যেমন শরীরি চোখ, এপ্রিসিয়েট করার মতো চোখ এমনি আরো অনেক গুলো। আমি যখন বড় বড় লেখকদের বই পড়ি সাংকেতিক চিহ্নগুলো দেখতে দেখতে তখন আমি আমার মানসিক শব্দের মাধ্যমেই অনেকসময় তারিফ করে বসি- এ একধরণের ভিক্ষা দেয়াই বোঝায়। এজন্য কবিদের অনেকসময় নতুন নতুন শব্দ প্রয়োজনে তৈরি করে নিতে হয়। যেমন আমি করেছি বহুবার- তার মধ্যে একটা শব্দচক্ষু।''
‘‘ এক মহিলার সঙ্গে আলাপ শিশুকাল থেকেই। মহিলার নাম জানতুমনা। পরে জানলুম ভাগ্যদেবী। এখন যাই বলো আর তাই বলো ভাগ্যদেবীর ওপরে আমি পুরোপুরি নির্ভরশীল। সুতরাং আমার কবিতা চলল কি চলল না, রইল কি রইল না জীবন্ত তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই একটুকুও। আমি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবো, আমি তা দিয়ে কবিতা বানাবো, আমি তা আমারই সৎপথে অর্জিত পয়সা খরচ করে ছাপবো, বই বাঁধাবো, লোকের কাছে গিয়ে ফেরি করবো, বিক্রি করবো, তাও আবার বাকিতে, প্রচার করবো- আহা পড়ে দেখ আমার কবিতা, কী সুন্দর এবং মৌলিক। আমার দ্বারা তা হবে না। হয়ও না। একটু আধটু যে করিনি তাও নয়। সেটুকুতেই যা পরিচিতি। হঠাৎ ভাগ্যদেবীর সৌজন্যে উত্তম দাশের আতিথ্যে ‘মহাদিগন্তে’ প্রকাশিত হয় আমার কবিতা। মহাদিগন্তের তো একটা পাঠক সমাজ আছে। তারা কী বলে জানিনে। তারা যাই বলুক তারা তো আর মিডিয়া নয়। মূল্য আর তার কতটুকুই। এখন মিডিয়াগুলিই আমাদের ভাগ্য বিধাতা। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নামে যদি আমার কবিতা ‘আ উইন্ডফল’ দেশ পত্রিকায় বেরুতো তাহলে অন্তত পশ্চিমবঙ্গের ইধার থেকে উধার আনন্দে এবং উৎসবে লাফিয়ে উঠত। ব্যাতিরেকে একসময় বাংলা কবিতার পাশাপাশি অনুদিত ইংরেজি কবিতাও অনেক ছাপিয়েছি তাতেও‘ স্পিকটি নট’ হয়ে আছে বাংলা। আসলে শিক্ষিত জনগণের কাছেও পৌঁছুল না। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার যদি অনেক টাকা থাকত কোলগেট টুথপেস্টের মতো আমার হৃদয়পেস্ট কবিতার বিজ্ঞাপন দিতাম।’’
জানতে তো অনেক কিছুই ইচ্ছা করে কেদার ভাদুড়ী। জীবনে কতোবার গঙ্গার জলে শিশ্ন ধুয়েছেন, আত্মহননেচ্ছা জাগ্রত হয়েছে কতোবার। কতোবার মাস্টারবেশন করেছেন? আপনিই বলতে পারেন ''ডানহাত কাঁপে, বাঁহাত একটু- কবিতা তো লিখি, ঐ বাঁ হাত দিয়েই কাজ সেরে ফেলি। কতজনের তো দুটো হাতই নেই তারা আবার পা দিয়ে লিখে পরীক্ষাও দেয় দেখেছি।''
কবিতা, যৌনতা ও মৃত্যু এই ত্রিমাত্রিক ছায়াকে কোনও কি কোন পৃথক করে দেখার অবকাশ রয়েছে? আমি তো প্রায়শঃ মৃত্যুর ও মেরুদণ্ডে সর্বগ্রাসী কাম জেগে উঠতে দেখি; আবার পঞ্চশিরায় কবিতা। আবার এমনও ভাবা যায় মৃত্যু ও যৌনতা ভাল করে ব্যাখ্যার জন্য তৃতীয় অবজেক্টধর্মী শিল্পের নাম কবিতা। সমাজ সংস্কার শিক্ষা, বিদ্যা, বুদ্ধি ইতিহাস ইত্যাদি মাথায় রেখে যা বলতে চেয়েছি তা বলা হয়নি কোনদিন; বলেছি অন্যকিছু। দিন দিন চালাক হয়েছি, শুধু ভাণ ধরেছি। আপনি যদি বলতেন ডানহাত কাঁপে, বাঁ-হাত দিয়েই কবিতা লিখি ও মাস্টারবেশন করি; গ্রহণ করতে অসুবিধা হতো না আমার। আপনার পক্ষেই তা বলা সম্ভব যেহেতু আপনি মেরুদণ্ড সম্পন্ন। মানুষের দেহ হতে হাড় খুলে নিলে জেলি হয়ে যায়- এক প্লেট জেলি। আমাদের সমাজে কেদার ভাদুড়ীর অভাব, প্লেটভর্তি জেলির অভাব নেই। নারী, মদ, মাংস, সশব্দ চেতনা, জাগ্রত চেতনাসহ সর্ববিষয়ে কেদার ভাদুড়ীর কথায় হাড়ের সন্ধান পাওয়া যায়।
--------------------------------------------------------------------------------
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:২৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আপনার মন্তব্য পছন্দ হয়নি। লেখা উচিত ছিল মৃতের কাঁধে বন্দুক রেখে বেশ তো প্রতিভা জাহির করছেন। কিছু যে করছি না তাও কিন্তু নয়। পরবর্তী অংশে এ বিষয়গুলোই সংযোজিত হচ্ছে। পুরো লেখাটা পড়ুন। পাঠ শেষে মন্তব্য অথবা দুই পয়সা ভিক্ষে দিয়ে যান- কেদার ভাদুড়ীর সূত্রমতে।
২|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:৫৭
আরিয়ানা বলেছেন: ''আমি যা করি তা হলো এই। ধ্যান। নির্জনতার ধ্যান। ধ্যান মানে খুব সহজ আবার কঠিনও। এক জায়গায় বসে মননকে মনন শূন্যতায় নিয়ে যাওয়া চাই। কিংবা কোন একটি দৃশ্যে বা বস্তুতে অপলক অনেকক্ষণ দৃষ্টি রাখা চাই। এরকম বেশ কয়েক মাস অভ্যাস করলেই কে যে শেয়াল আর কে যে সিংহ মুখ দেখলেই চেনা যায়। অদ্ভুত এক শক্তির স্ফূরণ হয় তাতে। ফলে কবিতা বা যে কোন শিল্পের অবস্থান সর্বকালীন এবং সর্বগ্রাসী হয়ে পড়ে। আমি যে একা থাকি বা থাকতে হয় আমার পক্ষে ও দুটোই নির্জনতা এবং ধ্যান বেশ সহজলভ্য। ’' ++++++++
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:২৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ধ্যান।
এতো প্লাস কোথায় রাখি!!!
৩|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:২২
তনুশ্রীপাল বলেছেন: বিনির্মাণ ...............বিষ্ময়কর।
পুরোটা পড়ি।
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩২
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পড়ুন।
সারাটা না পড়েই বিনির্মাণবাদী, কী করে জানলেন !!!
৪|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৪৮
নম্রতা বলেছেন: স্থিরতম আয়নাখণ্ডে জেগে থাকি একা !
শূন্যতার মুখোমুখি ডাহুক
ও অচেনা শহর !
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: Blind & the helpless !
I wasn't there !
৫|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:১৩
মাশূক আনিস বলেছেন: কবি, কাল- মহাকালের হিসেব আগামির জন্য অবশিষ্ট থাক ,আমাদের
প্রাপ্তিতে কেদার ভাদুরী আর গেওর্গে আব্বাসই যথার্থ আরাধ্য , সময়ের সঞ্চয়। আপনার রচনাটি সুখপাঠ্য , বিষয় ও ভাষা দুয়েই রয়েছে অধীর তীব্রতা , মানুষজন্মে কবিমাত্র একবারই অনুভুতি জয়ী হয়ে ক্ষনজন্মা অভিধায় বহুপথ মাড়িয়ে যায় , সম্পুর্ণ লেখাটি পাঠের জন্য ব্লগে আবারও আসব । মঙ্গল কামনায়...
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মন্তব্য ভাল লাগেনি। লেখা উচিত ছিল আজকাল কবি হতে হলে চারপাশে উপপত্নীদের মতো অসংখ্য উপকবি তৈরি করতে হয়। উপকবি আর ছাগলদের যন্ত্রণায় আপনি যে ত্যক্ত বিরক্ত তা ভাল করেই বুঝতে পারি।
৬|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:১৮
মাশূক আনিস বলেছেন: কেদার ভাদুড়ী
----------------
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪২
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আমি মনে করি কোন কবিতাই শিরোনাম যথাযথ হতে পারে না। নাম্বার দেয়া উচিত। সেক্সপীয়র যেমন দিয়েছেন-১.২.৩...। নামও দেয়া উচিত নয়। গাড়িতে যেমন নাম্বার দেয়া থাকে অনেকটা তেমনি। কে শক্তি, কে সুনীল, কে জয়, কে মলয় আর কেইবা উত্তম কেউ জানলো না। বোঝা যেত তখন ব্যাপারটা।
৭|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৪৮
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: চলুক, কথা হবে তামাম শোধ এর পরে।
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মুডে আছি কথা চলুক। আজকাল দেখছি আপনার কাছে অনেক সার্টিফিকেট জমা হয়েছে। যারা দু'চার লাইনও আবর্জনা লিখতে পারে নাই তাদেরকে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, গণহারে; বিশেষ করে লন্ডনীদের কে। ভাল কথা, সাইফুল্লাহা মাহমুদ দুলাল না কি বলেছেন প্রবাসী লেখকরা বই পড়ে না ইত্যাদি ইত্যাদি ....তাদের মনের আশা পূরণ করতে পারছে না এহেম...। দুলালের পাঠকীয় বোধ নিয়ে আমি যথেষ্ঠ সন্দিহান-ই নই আমি নিশ্চিত এরা সুপার মার্কেটের গদ্যপদ্যের পাঠক। তাই এদের বোধও ম্যাড়মেড়ে। এদেরকে একপ্রকার মাকাল ফলও বলা যেতে পারে। আর মাকালফল দেখলেই চেনা যায়; ভাষাকেন্দ্রিক বিষয়গুলো খেয়াল করলে নিশ্চিত হওয়া যায়। দুলালরা এখনো বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য দশখানা বইয়ের তালিকা তৈরি করতে পারবেন কিনা আমি সন্দিহান। তথ্য জানিয়ে রাখি ঐ দশখানার মধ্যে আমি চারখানা পড়েছি, ছয়খানা এখনও বাকি। বেঁচে থাকলে পড়বো। মরে গেলেও আফসোস নাই। তাদের কিছু না পড়েও আমি দু'চার লাইন আবর্জনা লিখতে পেরেছি। কথা আসুক।
৮|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫
প্রজন্ম একুশ বলেছেন: Purota porlam.
Shihorito.
Plus.
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৫১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ভাল করেছেন।
Plus সিন্ধুকে রাখলাম।
৯|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:১৫
শিবা বলেছেন: অসাধারণ!
আপনি যদি বলতেন ডানহাত কাঁপে, বাঁ-হাত দিয়েই কবিতা লিখি ও মাস্টারবেশন করি; গ্রহণ করতে অসুবিধা হতো না আমার। আপনার পক্ষেই তা বলা সম্ভব যেহেতু আপনি মেরুদণ্ড সম্পন্ন। মানুষের দেহ হতে হাড় খুলে নিলে জেলি হয়ে যায়- এক প্লেট জেলি। আমাদের সমাজে কেদার ভাদুড়ীর অভাব, প্লেটভর্তি জেলির অভাব নেই।
নারী মদ, মদ, মাংস, সশব্দ চেতনা, জাগ্রত চেতনাসহ সর্ববিষয়ে কেদার ভাদুড়ীর কথায় হাড়ের সন্ধান পাওয়া যায়।
এমন কথা কেদার ভাদুড়ীর পক্ষেই বলা সম্ভব বলে আপনি জানিয়েছেণ্ আর আমি বলছি এমন অসাধারণ বিনির্মাণ কেবর আপনার পক্ষেই সম্ভব। আমার জানা নেই বাংলা সাহিত্যে কেউ কখনও মৃত মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কিনা। আবার ও বলছি অসাধারণ! আপনার এই লেখা কাল এবং মহাকাল জয় করুক...
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৫৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: কাল মহাকালে টিকে না থাকলেই ভাল। পোলাপানদের গালিগালাজ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
১০|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:২৯
মাহবৃব সাজ্জাদ বলেছেন: সব মানুষ মানুষ নয়, সব কবিতা কবিতা নয়। আমার কবিতা পড়তে হলে একা একঘরে নির্জনে, ধূপের ধূঁয়ায় একটু, হ্যাঁ একটু মদ্যটেনে আঁধার আঁধারিতে পড়াই ভাল। আমার সব কবিতা ঐ রকমভাবেই জন্ম কিনা, তাই। ’’
------------------------------------------------------------------------------
আমি মনে করি কোন কবিতাই শিরোনাম যথাযথ হতে পারে না। নাম্বার দেয়া উচিত। সেক্সপীয়র যেমন দিয়েছেন-১.২.৩...। নামও দেয়া উচিত নয়। গাড়িতে যেমন নাম্বার দেয়া থাকে অনেকটা তেমনি। কে শক্তি, কে সুনীল, কে জয়, কে মলয় আর কেইবা উত্তম কেউ জানলো না। বোঝা যেত তখন ব্যাপারটা। আর পঠন ভঙ্গির কথা? এমন সব কবিতা আছে আমার, আমি ছাড়া আর কেউ ঠিকমতো পড়তে পারবে না। পারে না। দেখেছি। একবার ঋষিণ মিত্র আমার এক কবিতায় সুরারোপ করেছিল। তখন বুঝেছি কবিতারও মার্ডার হতে পারে। বলিনি কিছুই। কেননা এমন কোনো আদালত নেই যেখানে এই খুনের মামলার বিচার হতে পারে। একটা কবিতা যখন একবার পড়েই লোকে বুঝে যায় তখন বাঁদরামির নীল ইতিহাস আমার জানা হয়ে যায়।''
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৫৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: বাঁদরামির নীল ইতিহাস আমার জানা হয়ে যায়।''
১১|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৩১
মাহবৃব সাজ্জাদ বলেছেন: ''আমি যা করি তা হলো এই। ধ্যান। নির্জনতার ধ্যান। ধ্যান মানে খুব সহজ আবার কঠিনও। এক জায়গায় বসে মননকে মনন শূন্যতায় নিয়ে যাওয়া চাই। কিংবা কোন একটি দৃশ্যে বা বস্তুতে অপলক অনেকক্ষণ দৃষ্টি রাখা চাই। এরকম বেশ কয়েক মাস অভ্যাস করলেই কে যে শেয়াল আর কে যে সিংহ মুখ দেখলেই চেনা যায়। অদ্ভুত এক শক্তির স্ফূরণ হয় তাতে। ফলে কবিতা বা যে কোন শিল্পের অবস্থান সর্বকালীন এবং সর্বগ্রাসী হয়ে পড়ে। আমি যে একা থাকি বা থাকতে হয় আমার পক্ষে ও দুটোই নির্জনতা এবং ধ্যান বেশ সহজলভ্য। ’’
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৫৯
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: নির্জনতার ধ্যান।
১২|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩
মাহবৃব সাজ্জাদ বলেছেন: কবি কেদার ভাদুড়ীকে আমাদের সামনে নিয়ে আসার জন্য আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ। যদিও তার কবিতা আমার একটিও পড়া নেই।
আর আপনার এই অসাধারণ বিনির্মাণ আমাকে মোহাবিস্ট করেছে।
আপনি ভাল থাকুন।
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ভাল থাকতে আমার ভাললাগে না।
আপনি ভাল থাকুন।
১৩|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৪৮
মাহবৃব সাজ্জাদ বলেছেন: আমার শহরে রোদ উঠেছে, দাউ-দাউ সূর্যের পাশে আধখানা চাঁদও উঠেছে। আমি হাঁটছি স্মলহীথে, কভেন্ট্রি রোড ধরে। আজ রাস্তায় নেমে এসেছে অজস্র নারী ও কমলালেবু। চোখের সামনে এতো এতো স্তনের প্রবাহ... এখন কী হবে কেদার ভাদুড়ী?
- নারীর রক্তে রোদ লাগবে। ধীরে তা দুধ হয়ে যাবে।
দারুণ!
এখন আমার কী হবে আমি তো বুঝতে পারিছনা
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: উত্তরাধুনিকতা নিয়ে আরও লিখুন। মৌলিক কথা আসুক।
১৪|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৩২
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: খুব সাবলীল লাগছে। পড়তে ভাল লাগছে। চেতনার ভিতর বসে মিস্ত্রিগণ কাঠের পেন্সিলে জিভে আঁকছেন। চলুক...
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৫৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পাতামী নাও সবাই বানাতে পারে না, কানু মেস্তইর (মিস্ত্রী )পারে। দশ গ্রামে তার নাম ডাক ছিল। বন্ধুরা আমায় মায়া করে কবিতার কানু মেস্তইর বলে। আমার দুঃখ লাগে । নূহের নৌকা কি কানু মেস্তইর বানিয়েছিল! অথবা নীলনদের ঐ পানসিখানি...ক্লিওপেট্রার পানসি!!!
১৫|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:১৪
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন:
কবি, আমি ইহা কী হেরিলাম! অসাধারণ বিনির্মাণ!
আপনি মৃত কেদার ভাদুড়ীর উছিলায় তো ভালই নিজেকে জাহির করছেন। আমারও ইচ্ছা করছে নিজেকে জাহির করতে। ইচ্ছে করছে কেদার ভাদুড়ীকে জিজ্ঞেস করি, বাকল সরিয়ে কয়টি নারীর দগদগে ম্যামারি-গ্ল্যান্ড দেখেছেন, হৃদপিণ্ড দেখেছেন? কিংবা দেখেছেন কি ভিখারীর চিমসে স্তন তুলে দিতে সন্তানের মুখে? যাই হোক আমার ক্ষমতা নেই কেদার ভাদুড়ীকে প্রশ্ন করি। কবি আপনি কি একটু তাঁকে আমার হয়ে কিছু কথা জিজ্ঞেস করবেন? আপনার আশ্বাস পেলে পরে জানাবো।
তিনি বলেছেন ...
আমি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবো, আমি তা দিয়ে কবিতা বানাবো, আমি তা আমারই সৎপথে অর্জিত পয়সা খরচ করে ছাপবো, বই বাঁধাবো, লোকের কাছে গিয়ে ফেরি করবো, বিক্রি করবো, তাও আবার বাকিতে, প্রচার করবো- আহা পড়ে দেখ আমার কবিতা, কী সুন্দর এবং মৌলিক। আমার দ্বারা তা হবে না। হয়ও না। একটু আধটু যে করিনি তাও নয়।
তাহলে আমারও আশা আছে, একটু আধটু ভিক্ষা আমিও করতে পারি।
আবারও ধন্যবাদ জানাই আপনাকে অসাধারণ বিনির্মাণের জন্য।
নিরন্তর মঙ্গলে থাকুন।
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:০৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: অসাধারণ বিনির্মাণ! সার্টিফিকেট দিলেন!!
একবার আন্দালীব গং গবেষণায় নেমেছির জারুল কোন মাসে ফোটে। পরবর্তীতে আপনার কবিতায় দেখলাম জারুল ফোটে যোনিকুঞ্জে। মাশাল্লাহ, ভালই লেগেছিল। এই ভালর অর্থ এই নয় যে , আমি বলছি মহৎ কিছু লিখে ফেলেছেন। আমার ক্ষমতা কম । আমি তা বলতে পারি না। আমার জন্মের দুই বছর আগে কেদার ভাদুড়ী কবিতা লিখেছেন 'শুকনা জল' শিরোনামে। এখন এই শিরোনামে আমিও কবিতা লিখলে আপনারা বলবেন প্লাস, প্লাস, প্লাস।
সুবিমল মিশ্রের তেজষ্ক্রিয় আবর্জনা পড়েছেন?
ডাস্টবিন বেয়ে আবর্জনা যখন উপচে পড়ে তখনও একধরণের ছন্দ তৈরি হয়। কবি কেদার ভাদুড়ী ছন্দ নিয়ে কথা বলেছেন ।আপনিও বলুন। প্রতিভা জাহির করুন।
১৬|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১০
মাহবৃব সাজ্জাদ বলেছেন: শেক্সপীয়র
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১২
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: শেক্সপীয়র/ সেক্সপীয়র দু'ভাবেই লেখা যায়।
১৭|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:০৬
শিবা বলেছেন:
আর আমি বলছি এমন অসাধারণ বিনির্মাণ কেবল আপনার পক্ষেই সম্ভব। আমার জানা নেই বাংলা সাহিত্যে কেউ কখনও মৃত মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কিনা।
আবার ও বলছি অসাধারণ!
আপনার এই লেখা কাল এবং মহাকাল জয় করুক...
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৪৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ষ্টান্ডবাজীও বলতে পারেন। তবে ''ষ্টান্ডবাজী কোনো লিল্প নয়, এ-জাতীয় উপদেশবাক্য না আসাই ভালো।'' সবাই আজকাল কাট/পেষ্ট কথা বলে। মন্তব্যভিক্ষা সাদরে গৃহীত হল।
১৮|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪৫
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন: দাদা, আপনার লেখায় মন্তব্য করার যোগ্যতা আমার নেই। তবে এইটুকু বলতে পারি, আমরা সবাই মৃত। সুতরাং মৃতরা মৃতদের কাঁধে বন্দুক রাখতেই পারে। তবে আমার মনে হয়েছে মলয় রায় চৌধুরীর জবানিতে আপনি নিজের কথা মানে একজন কবির কথাই বলেছেন।
আমার কাছে এইখানে বিষয়ের চেয়ে বাক্যের সৌন্দর্যই প্রধান। আমি শিল্পকে বিষয়বদ্ধ করে দেখি না। আমি দেখি এর সৌন্দর্য। যেমন, "নারীর রক্তে রোদ লাগবে। ধীরে তা দুধ হয়ে যাবে।" এই বাক্যের সৌন্দর্য ব্যাখ্যাতীত।
আপনার প্রতিটি রচনার মতো এই রচনাটিও শিল্পোত্তীর্ণ।
আমার এইসব ভালো লাগে।
সুন্দর ও শূন্যতা অনিত্য নয়।
১২ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৩১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: নির্ঝর, মাইন্ড করেছেন!!
আসলে মন্তব্যের ক্ষেত্রেও কেদার ভাদুড়ীর টোনটা ধরে রাখতে চেষ্টা করছি। ব্লগে কেদার ভাদুড়ী থাকলে হয়তো এ-রকমই বলতেন।
বড় কবিরা শর্দি কাশি এগুলো ছড়ায় না; সংক্রমিত করে, এইডস ছড়ায়। কেদার ভাদুড়ী এইডস ছড়াতে জানেন। মোমেন পাঠকরা সংক্রমিত হতে জানে।
১৯|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:২৭
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন:
না কবি আমি সার্টিফিকেট দিলাম না। দিতে পারি না। আমি কেবল আমার ভাল লাগা মন্দ লাগা জানাতে পারি। এবং তাই করতে চেয়েছি। আমি প্রভিভা জাহির করতে পারি না। কেননা জাহির করা শব্দটার প্রতিই রয়েছে আমার অনীহা। প্রতিভা জাহির করতে হয় হয় না। প্রতিভা হলো ফুলের সৌরভের মতো যা অতিদূর থেকেও টের পাওয়া যায়। কবি কেদার ভাদুড়ীর যেমন। কিংবা মৃত ভাদুড়ীর সঙ্গে কথপোকথনে গেওর্গে আব্বাস। আর আমি ছন্দ নিয়ে কী বলবো? জীবনে কোন ক্ষেত্রেই যেখানে ছন্দ তৈরি করতে পারিনি। কেবল দেখেছি ছন্দহীনতা। কেদার বাদুড়ী আবর্জনার স্তুপ উপচে পড়ার সময় ছন্দ দেখেছেন আমি দেখি না। আমি দেখি না বিশাল নর্দমায় পরিণত হওয়া বৃড়িগঙ্গায় যখন কালো দুষিত জল প্রবাহিত হয় তখন কোন ছন্দ তৈরি হয় কিনা। বরং ঐ মুহূর্তে আমার কাছে ছন্দহীনতাই ষ্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। কবিতাকে সঙ্গতের কাছাকাছি নিতে বলেছিলেন একসময় অনেকে। সিম্বলিস্টরা চেয়েছিলেন স্বনির্ভর ছন্দ প্রবাহ। রিচার্ড ওয়ার্গনারও বলেছেন কবিতা আর সঙ্গীতের যোগসূত্রের কথা। একজন কবি তার কবিতার ভাষার শব্দের প্রথাসিদ্ধ ও বিমূর্ততাকে ছন্দের পোশাক পরিয়ে সঙ্গীতের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু কবিতা আর সঙ্গীত যে এক নয় এটা তো আমার জানি। তাই ছন্দ থাকুক ছন্দের জায়গায় আর কবিতা হয়ে উঠুক ছন্দহীনতার আবরণে বিমূর্ত ভাবনায়। কিংবা ছন্দবদ্ধো হয়ে উঠুক প্রথা ভেঙে। আর এ বিষয়ে আমি বলার কে? আপনারা বলুন। আমি গলাধঃকরণ করি। হজম করতে পারবো কিনা বলতে পারছিনা। কেননা এতে জগতের কিছুই যায় আসে না। আমি চাই পথের শেষ প্রান্তে থেকে মিছিল দেখে যেতে।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:০৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: শূকরেরা নর্দমায় থাকে। শূকরের চর্বিতে সাবান বানালে ভাল হয়, ময়লা পরিষ্কার হয়। সাবান তৈরীর প্রধান কাঁচামাল শূকরের চর্বি, বলা যায়। কবিতার কাঁচামাল কী হওয়া উচিত, তা এখনো স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনি বা পারবোও না। তবে এটুকু জানি, কবিতা ব্যাখাত হতে হলে কাঁচামাল সন্ধান জরুরী। বিষয়টিকে সমালোচনার পদ্ধতিগত প্রকৌশল বলা যেতে পারে।
স্নেহভাজন লাবণ্য ,
দীর্ঘদিন হলো কোনো সমালোচনা যে আমার চোখে পড়েনি। কবিতা , কবি, কাব্যগ্রন্থ নিয়ে ইদানিং সবাই হাওয়া-মিঠাই জাতীয় কথাবার্তা বলছে। আমার নিজের বইয়েরও বেশ কিছু আলোচনা পড়েছি। গত সপ্তাহেই পড়লাম ওপার বাংলার একটা পেটমোটা সংকলনে। সম্পাদক, তাও আবার মানবেন্দু রায়। করুণ দশা। ভাল করে একটা গালিও দিতে জানে না, প্রশংসা তো দূরের কথা। লেখা কতোটা স্বতন্ত্র, কীভাবে মৌলিক হয়েছে তা ব্যাখ্যাত হওয়া অবশ্যই জরুরী। শুধু মৌলিক হয়েছে বললেই চলবে না। তাছাড়া সমালোচনা নিজেও একটা মৌলিক বিষয়। অনেক সময় মূল রচনাকে ছাপিয়ে উঠা জরুরী। তা না হলে কিসের আবার আলোচনা, সাতিহ্য-আলোচনা?
মঈন চৌধুরী একবার লিখেছিলেন, সাহিত্য বিষয়ে এতো এতো থিওরি আছে আমাদের চারপাশে। উচিত হলো আলোচনার ক্ষেত্রে ওগুলোকে টুলস হিসেবে ব্যবহার করা। কথাটা কিন্তু মিথ্যে নয়। আপনি কি খেয়াল করেননি আপনার একটা কবিতা নিয়ে আমি দশটি আলোচনা লিখেছিলাম। বিষয়টি অনেকটা এরকম- একজন সুন্দরী নারীকে দশবার দেখার মতো এবং তা শুরু করা যায় তার দেহের যে কোন অংশ ধরে। আলোচনা বা দেখা বিষয়টা হয়তো এরকমই অনেকটা।
''ছন্দ থাকুক ছন্দের জায়গায়, আর কবিতা হয়ে উঠুক ... ''এসব কথায় যুক্তি নাই। অনেকটা মেয়েলি মায়াকান্নার মতো। অন্তনির্হিত ভাবাবেগকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। শুনলাম ছন্দ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন, তাই ছন্দ বিষয়ে আলাপ পাড়তে চেয়েছিলাম আর কি। পথের শেষ প্রান্তে থেকে মিছিল দেখার বিনয় কেন? তাও উচ্চকণ্ঠে, সব কিছু হজম করছেন অনেকটা সর্পের মতো। বিষয়টি এরকম - শব্দকে শিকার করতে হয় বাঘের থাবায় আর হজম করতে হয় অজগরের মতো। দুটো বিষয়ে একটা যোগসূত্র আছে। এটাও বোধ হয় ছন্দ। বাইনারী বিষয়েও কি ছন্দ কম আছে!
২০|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:২৯
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন:
ছন্দোবদ্ধ
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:০৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ছন্দোবদ্ধ
তাই নাকি!!!
২১|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:০৯
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: প্রিয় কবি,
আপনার ক্রোধের স্বর ও দ্যোতনা আমি বুঝি।
আমি কাউকে সার্টিফিকেট দেই না।
তাবিজ কম লিখেছি, তা বলা যাবেনা।
তবে তা কারো গলায় ঝুলাতে দেই না।
বইয়ের আলোচনা লেখা আর সনদ দেয়া যে এক নয়
তা আপনিও ভালো জানেন, বুঝেন।
Click This Link
লেখাটা এখানে পড়তে পারেন।
আমরা মংগলগ্রহে বাস করছি , তা বলার কোনো সুযোগ নেই।
আমাদের চারপাশে মেধাবী মুখ আছে ঠিকই , মাঝে মাঝে পরখ করে
নিতে হয়। সংখ্যায় কম হলেও তা আশা জাগানিয়া।
পরিশেষে আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিই, জীবনানন্দ দাশ তার জীবনের
শেষ চারটি বছর বড় দুর্ভোগে কাটিয়েছিলেন। চাকরী ছিলনা, স্ত্রীর যাতন ছিল, টানাপোড়েন ছিল অশেষ।
সেই কবিই এখন বহুল পঠিত।
আমরা সেই বাংলা সাহিত্যের ধারক বাহক কি না !!
তাই আমার শংকা শেষ হয় না। বরং আমি আলোর আবহে প্রতিদিন
নতুন মুখ খুঁজি ।
ভালো থাকুন।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: সর্বনাশ! এই লিংকের লেখা নিয়ে আমি কোন ইঙ্গিতই দেইনি। মুদ্রণ মাধ্যমেও লেখাটি চোখে পড়েনি। আর যদি পড়তোও এ বিষয়ে কোন কথা বলতামই না।
''তৃতীয় বাংলার কবি'' এ জাতীয় তকমা বিষয়ে কবি মাশুক ইবনে আনিসের সঙ্গে দীর্ঘ বাক্যবিনিময় হয়েছে কয়েকবার। কবি তো কবিই! তার রক্ত-মাংস-ভাষা নার্ভটাই হলো প্রধান। কে কোথায় বসে লিখেছেন, কি করছেন ঐ বিষয়টি ধর্তব্যে নিলে দেখা যাবে গোটা বাংলা সাহিত্যের অর্ধেকই বিদেশে বসে রচিত হয়েছে। মজার বিষয় বলি, কেতকী কুশারী ডাইসন লণ্ডনে এসেছেন কতো কতো আগে( তৃতীয় বাংলার অধিকাংশজন ''আমিসহ'' এসেছি জুম্মায় জুম্মায় চারদিন হলো) কই কেতকী কুশারী কে তো এসব বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ হতে দেখিনি। যদিও ডায়াসপুরা ডায়াসপুরা করেছেন কয়েকটি লেখায়। কিন্তু যুক্তিও তৈরি করেছেন। একপ্রকার গ্রহণ যোগ্যতা তৈরি হয়েছে। বুদ্ধিমান তো! কেউ এখনো অনুমতি না নিয়ে লেখা ছাপলে মামলা ঠুকে দেন। আর আমাদের তৃতীয়বাংলা খ্যাত অকবিগুলো ঢাকা থেকে ধান্দাবাজ বই বেপারীরা আসলেও কালীদাস বানাইয়া ফেলে। আপনার লেখনিতে ঐসব নামও দেখি। তাদের নামের আগে কবি শব্দটি নির্দিধায় বসিয়ে দেন। বিষয়টি এরকম হয়তো দাঁড়াবে, আপনি কাকে কবি বলছেন কাকে চামার বলছেন কিছুই যাবে আসবে না কারো; আমার তো নয়ই। দেখেননি ক'দিন আগেও লন্ডনী মূর্খগুলো বিভিন্ন নামে আমার নিক নিয়ে কথা বলেছে। চিন্তা করুন তো বাপ-মায় লন্ডনে পাঠাইছে দু'পয়সা রুজি করতে... মাঝে মাঝে কবিতা পড়বে, বই পড়বে, রেঁস্তোরায় বসবে...। গেওর্গে আব্বাসের নিক নিয়ে সময় নষ্ট করবে কোন দুঃখে। কবি কেদার ভাদুড়ী সাক্ষাৎকারে বলেছেন উনি শুধু মেয়েদের প্রেমই পাননি, ছেলেদের প্রেমও পেয়েছেন। বিভিন্ন নামে কবিতা লিখেছেন, বিশেষ করে মেয়েদের নামে। আমি যে নতুন লিখছি তা নয়। ঐ ইন্টারমিডিয়েট বয়সে ছন্দ নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে যেয়ে ছড়া লিখেছি- ছদ্মনামে । বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ছড়ায় আমার ছড়া আছে। আমি মোটামুটি চালাকই ছিলাম। সচেতনও বলতে পারেন। ছড়াকার হতে চাইনি, অন্যকিছু চেয়েছি। কী যে চেয়েছি তাও জানিনা। এক জন্মে জানা কি সম্ভব?
আপনার কাঁধে বন্দুক রেখে দীর্ঘ বললাম, ভলিউম বাড়ালাম। এখন আপনাকে একটু প্রশংসা করি। আপনার পরিপাকতন্ত্র অজগরের মতো। আপনি হজম করতে পারেন। সবাই পারে না। উগলে দেয়।
২২|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:০৪
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: প্রথমে মার্জনার আশ্রয় নিচ্ছি, এই মন্তব্য বৃহৎ হতে পারে এবং মেদবহুল (আত্মকথনে মেদ আসবেই- এটা প্রচলিত সত্য এবং পর্যবেক্ষণ করা)।
====================
আমি কেদার ভাদুড়ী কে চিনি না, পাঠ করি নাই। আমার পাঠ-পরিধি অতি নগণ্য। গেল চার বছর সঞ্চয় আরো কমছে, বাংলা বই পাওয়া যায় না যেখানে থাকি। অজ্ঞতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
এই লেখাটা মন দিয়ে পড়লাম, একা নিজন ঘরে; তবে মদসামগ্রীবিহীন। আপনার কয়েকটা লেখা পড়ে যে ধারণা এসেছে তা ভেঙে গেল। অন্য একজনকে দেখলাম। এই নিকের আড়ালের লোকটির পরিচয় আমি জেনেছি সপ্তাহ দুয়েক আগে বোধহয় (আমি একটু দেরী বুঝি কিছু কিছু বিষয়)।
আমি বেশি প্রশংসা করতে পারি না, মনে হয় যেন তোষামোদের প্রস্রাব নির্গত করছি; তাই অনেকের সাথে জমাট নেই। ভালো না লাগলে লেখাতে মন্তব্য করি না (যেমন- আপনার গত লেখাটিতে আরাম পাই নি!) তবু-ও মাঝে মাঝে বন্ধু, হৃদ্যতা বেজার হবে বলে পিঠ চাপটাতে হয়, ব্লগে অন্যদের পিঠ চাপটানো দেখে আমার-ও ইচ্ছে হয় (মানুষ তো!)।
এর মানে এই নয় যে যেসব লেখা মন্তব্য নেই সেগুলো ভালো লাগে নি, অনেক সময় অনুপস্থিত থাকি।
যারা পাঠ-প্রতিক্রিয়া লেখে তাদের জন্য মায়া হয়! এসব সমকালীন পাঠ-প্রতিক্রিয়া কী প্রভাবিত নয়? জীবনবাবু নিয়ে আমি লিখতে পারি, রবিকে নিয়ে; কিন্তু সমকালীন অন্য কাউকে লিখাটা কি অপরাধস্বরূপ নয়? আমার তাই বোধ হয়। তাই এই ঘরনার লেখা বা রচনা চোখ বুলিয়ে যাই।
====================================
এসব কথা কেন লিখলাম জানি না, বলতে ভালো লাগল তাই বলেছি। ক্ষমাসুন্দর।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৪১
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: সমসাময়িকদের নিয়ে লিখলে দোষের তো কিছু দেখি না! তবে একজন কবির রঙ তৈরি হতে ১০/১২ বছর যেহেতু লেগেই যায়, সময় নিয়ে আলোচনা লেখাই যৌক্তিক। একটু খোলাসা করি। আন্দালীব-এর কবিতার ক'টি লাইন আমার ভাললেগেছিল- সঙ্গমের চেয়ে বারান্দায় দাঁড়াবার ইচ্ছরা তীব্র হয় ... লাইনটি দীর্ঘদিন আমার মনে থাকবে। টেলিফোনে অনেককেই পড়ে শুনিয়েছি। এখন যদি আলোচনা লিখেতে বসি তবে হয়তো দেখা যাবে এই লেখকই পরবর্তী রচনায় এতই বিরক্তকর কিছু লিখেছেন যে ভালোলাগা লেখাটাও মন্দ লাগা শুরু করবে। তাহলে বিষয়টি হয়তো এরকম- ভালো লেখার ধারাবহিকতা তৈরি না হলে আলোচক যিনি, তাকে বিপাকেই পড়তে হয়। তবে হ্যাঁ আন্দালীবের একটি কবিতায় একটিমাত্র লাইন দিয়ে যদি কেউ হাজার লাইন তৈরি করেন তাতেও আমার আপত্তি নেই। আলোচনাটি তখন মৌলিক হয়ে উঠে আর মূল কবিকে তখন সার্টিফিকেট গ্রহিতার চরিত্রে অবতীর্ণ হতে হয় না। লবণ্য প্রভার একটি কবিতা নিয়ে আমি দশটি আলোচনা লিখেছি। কোথাও বলিনি লাবণ্য প্রভা ভাল কবি, উত্তীর্ণ কবি, তার লেখা বিনির্মাণবাদী ইত্যাদি ইত্যাদি।
ব্লগের বিষয়টি একটু আলাদা করে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক ভাল লাগা মন্দ লাগার বিষয়টির মূল্যও কম নয়। আবেগের মর্যাদা তো কবিকেই দিতে হয়। প্রিয় অদৃশ্যের দুই লাইনের জবাবে আমি দীর্ঘ মন্তব্য লিখেছিলাম। ভাবছি লেখাটা একটু ঠিকঠাক করে আমার কোনো গ্রন্থে সংকলিত করবো। সাময়িক আবেগ তুচ্ছ হয় কী করে! ব্লগের মন্তব্য অংশে সমালোচনা করতে গেলে একটু বিপদও আছে। আমি যদি বলি আপনার কবিতা ভাল লাগেনি। তখন নৈতিকভাবে দায়িত্ব দাঁড়ায়, আপনি বলবেন কেন ভাল লাগেনি। আর তা হওয়ার-মিঠাই জাতীয় কথার মধ্যে প্রকাশিত হলে চলবে না। বলার জন্য সাহিত্যতত্ত্বের টুলসগুলি ব্যবহার করা জরুরী। হাতুরী-বাটালে তো অভাব নেই। মন্তব্য রাখার মতো উড়ালপন্থে এতোকিছু বলার সময় কি কারো আছে ?
আর আপনি যে লেখাটির কথা বললেন ঐ প্রসঙ্গে বলি, লেখাটি তৈরির সময় আমার মাথায় নাটকের ফর্ম ছিল নাকি কবিতার ফর্ম ছিল নিজেই জানি না। একটি লিটলে বের হওয়ার পর একদল তরুণ ঐটাকে নাটক বানিয়েছে অনেকটা কাব্যনাট্যের মতো। তাও যেন-তেন নয়, রাজস্থান থেকে কস্টিউম আনিয়েছে। আমার ভাল লেগেছে। এজন্য ভাল লেগেছে যে ছেলেগুলোকে আমি একদম চিনি না। আজকাল ব্যক্তি পরিচয় ছাড়া কিছুই হয় না। ব্যক্তি নিয়ে কথা বেশি , লেখা নিয়ে কম। মনে হচ্ছে, সবকিছু নষ্টদের অধিকারো যাবে''। যাবে কি, চলেই তো গিয়েছে। তারেক জিয়ার শাসনামলে পোলাপানরা ডিসি, এসপি হয়ে গেছে, ঘুষ দিয়ে। কী রাজনীতি কী শিল্প সাহিত্য সর্বক্ষেত্রে ক্ষয় রোগ। দেখা দিয়েছে ক্ষয় রোগ। কথা বাড়ুক...
২৩|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:৩৩
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয় কবি.................... পাঠ করছিলাম.........
আরও আরও পাঠ করতে চাই......................
আমি তেমন একটা পড়াশোনা করিনা তবে আপনার লিখাসব.........যা পাচ্ছি যা সংগ্রহে আছে তা জীবনে বহুবার পাঠ করতে চাই.........
আমি এই জীবনে যতটুকু কবিতা পাঠ করেছি স্মরনীয়........তার ভেতরে কিছু আছে যা কিনা ভুলতে পারিনি বা ভোলা সম্ভব হবেনা........
প্রথম........
''দেখা হয়নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীশের উপরে
একটি শিশির বিন্দু''
দ্বিতীয়.......
'' চুল তার কবে কার অন্ধকার বিদীশার দিশা''
তৃতীয়.......
''আমি কি মানুষ ছিলাম কোনোদিন
জলের জঙলে কেবলই হারাই বিরল প্রজাতি''
সবসময় মঙ্গলে বসবাস করুন...............
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৫৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: প্রিয় অদৃশ্য
আপনার জন্য কেদার ভাদুড়ীর একটি স্মৃতিচারণ সংযোজন করি।
১৯৯১ সালের ফোর্থ এপ্রিল সন্ধ্যেবেলায় আমার ঘরে বসে আছি একা। চোখের সামনে পদ্মা, রাজসাহি শহরের। ১৪ মাইল চওড়া। বর্ষাকলে। সূর্য অস্ত যাচ্ছে ওপারে। আস্তে আস্তে আঁধার হয়ে এলা আমবাগান পেরিয়ে, সব্জিবাগান, কুয়োতলার পাশ দিয়ে সন্ধ্যামালতির ঘ্রাণে সুবাসিত উঠোনে এসে পৌঁছলাম। বুঝলাম আমার মায়ের শাড়িটাড়ি রাখার বাক্সের ডালাটা আপনা আপনি খুলে গেল। ডালার থেকে পাটকরা একটা গরদের শড়ি শূন্যে বাসতে ভাসতে উঠে এসে মা যেভাবে শাড়ি পরতেন, যেমনভাবে শাড়ি পরতেন, মাথায় একটু ঘোমটা শাড়িখানা সেইরূপে সেইভাবে রূপ ধরে প্রকৃতই আমর মা। ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায়। বারান্দা থেকে নেমে উঠোনে, উঠোন থেকে তুলসী তলায়। প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলেন, শঙ্খে ফুঁ দিলেন, প্রণাম করলেন। দেখলেন আমি এসিছি্। বললেন, হাত-পা ধো, কিছু খেয়ে নে, কিছু খেয়ে নিয়ে পড়তে বসো। যেমন বলে থাকেন ঠিক তেমনি। সেই স্বর, তেমনি। সেই ছন্দ, চলার। মা ঘরে ঢুকলেন। শাড়িখানা আবার ভাঁজ হয়ে বাক্সে গিয়ে যেমন থাকে তেমনি থাকল। ডালা আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেল। বলে রাখা ভাল আমার মা চারুমতি দেবি মারা গেছেন সেই কবে। ১৮ অক্টোবর, ১৯৬৭, বৃহস্পতিবার। একাদশীল দিন। বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। এরকম ভাবতে ভাবতে, ভাবতে ভাবতে এই ভাবনাটাই মা ও তাঁর মাধুর্য নিয়ে কবিতায় এলো। কবতিাটি এরকম-
শরীরে শঙ্খের শব্দ, কে দিলে আজ ফুঁ?
স্মৃতিতে তুলসিতলা, পিদিম জ্বালিয়ে দিলেন মা।
মা কোথায়? মা নয় মায়েরই মতো হয়ে গরদের শাড়িখানা
আবছা আবছা অন্ধকারে একা একা হেঁটে এসে 'শম্ভূ'
শম্ভূ বলে ডাক দিয়ে যেনো ব'লে ওঠেন, পা ধো, খা খেয়ে পড়তে বসো;
পরে, ভাঁজ হ'য়ে উড়ে গেলে, তালা পড়ে, চাবি,
এই ছবি; এইটুকু, এর বেশি ঝাপসা চোখে চেয়েও দেখি না।
শরীরে শঙ্খের শব্দ, কে দিল আজ ফুঁ?
রোগে শোকে ভোগে আছি, স্বপ্ন ঘোরে তবু।
২৪|
১২ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:৫৪
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
গেওর্গে আব্বাস এর মৃত কেদার ভাদুড়ীর সাক্ষাৎকার
সাক্ষাতকার হলো অনুসন্ধানের একটি কৌশল। একে অপরের বিষয়ে সম্যক ধারণা লাভের টুলস হিসেবেও সাক্ষাতকার পদ্ধতিটা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বা সম্পর্কের বিস্তারিতকরণেও এটা ব্যবহৃত হয়। মানুষে মানুষের সাক্ষাত নেয় - এটা বিস্ময়ের কারণ হতেও পারে কারো কারো কাছে। আমার কাছেও কিছুটা। পশুদের ভিতর এই পদ্ধতির প্রচলন আছে কি না তা গবেষণার দাবী রাখে। অনেক পশুপাখিকে দেখা যায় ঠোঠ ঘষাঘষি করে, ডানা-ঝাপটায়, কাছাকাছি মুখ নামিয়ে আনে - এইগুলা তাদের ভিতরকার সাক্ষাতকারের পদ্ধতি কি কে জানে! মৃতমানুষের সাথে সওয়াল জবাব করতে আমিও দেখেছি। বিস্ময় জাগেনি, জেগেছে প্রশ্ন। আর একধরণের মানসিক উঠোনের টোপ খাওয়া মাটির মত ঠেকেছে। আমপাবলিক এইগুলারে বলে জ্বিনে বা পরীতে ধরছে। এই প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তি তার নিজের কথা বলে অন্যের জবানিতে। আপনিও দেখতেছি তাই করতেছেন। কেন করতেছেন?
আপনি আপনার আগের ন্যারেটিভের জায়গা থেকে সরে আসতেছেন দেখে ভাল লাগছে। মানে আগের লেখাগুলাতে আপনি যেখানে যে জীবন যাপন করেন, সেখানকার স্থানীকতার দাগ প্রায় থাকতোনা বললেই চলে, এই লেখাটাতে স্থানীকতার ছায়া লেগে থাকতে দেখে ভাল লাগছে। হয়তো কফিমগ, ফোনবুথের চৌপাশ নাই কিন্তু ভূমির রূপ আছে। পারিপার্শ্বিকতার এই যে মিশেল আনা দেখে সত্যি ভাল লাগছে।
- নারীর রক্তে রোদ লাগবে। ধীরে তা দুধ হয়ে যাবে। এইবাক্যটা খুব চমৎকার। নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞানীর মতো কথা বলতেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে লিঙ্গহীন যদি হতো ওই নারীর রূপ? কেমন হতো? এখানে নারীর জায়গায় যদি হিজড়া এসে যেত? বা আপেল কুল? কিংবা বকুল গাছের পাতা? এই যে শিশুর কথা বললেন এখানে আমরা জানিনা এটা নারী না পুরুষ না হিজড়া নাকি খেঁজুর গাছ। এইরকম হলে ভাল লাগে। আরো সম্ভাবনা বাড়ে বৈ কমে না।
ঝাঁপিয়ে-পড়া
উদগ্র জানালায় ছিল শিশুদের মুখ
তারা কুসুম শিকারী...
গলিত কাঁচের বাঁশি গলিত ভোরের বাগানে
বাঁকানো সূঁতোয় কারা যেন বেঁধে রাখে দিবসের ঘুড়ি
মহামাতৃগর্ভে
উড়ন্ত শালিকের লাশ স্থির হয়ে আছে
এই কয়লাইন খুবই ভাল লাগলো।
চলবে...
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:১৭
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ছোট মিয়াকে নিয়ে এখনো আমি বিষ্মিত এবং বিষ্মিত এ-জন্যেই যে এ-সব সওয়াল-জওয়াবের বিনিময়ে তিনি কখনোই ধান্দা করেননি না এবং ধান্দার প্রয়োজনও ছিল না যেহেতু তিনি সঙ্গতিপূর্ণ পরিবারের সন্তান ছিলেন; তাছাড়া তাঁকে পাগল চিন্হিত করে কেউ একটা ঢিলও ছুঁড়তে দেখিনি। ছোটমিয়াকে নিয়ে আরো কিছু কথা আছে। পরে আলাপ...
আবরা
গভীর তন্দ্রা হতে ঝুর-ঝুরে হয়ে উঠে আসার সময় অলৌকিক আরাম ডানা ঝাপটে উড়ে গেলে ছোট মিয়ার বুক ধড়ফড় করে। তার কপালের ঘাম শীর্ণ ধারায় শুভ্র দাঁড়ির গুঁড়ি বেয়ে কবরের অন্ধকার ঘাসে বিদ্ধ হয়। কান হতে তিনি কবরের মাটি পরিস্কার করেন। আট নং দেওকলস ইউনিয়নবাসী মরহুম, মরহুমাদের কাছ থেকে যাবতীয় সওয়ালের জওয়াব নিয়ে বড়িমুখো ছোট মিয়ার পায়ের নীচে এসে গোরস্থানের সাপগুলো ঠান্ডা ছড়ায়। তিনি ঠান্ডা ভালবাসেন, তিরিশ বছরের পরিচিত পিছলে শীতে ঘাম নিবারণ করেন। মাঝে মাঝে গতর জিলকি মেরে উঠলে তসবিহর গুটা টিপতে যেয়ে ভীষণ ব্যথিত হন তিনি। তার সুন্দি-কাঠের তসবিহর দানায় অজস্র বছর আগেকার পরীস্থানের যে সব চিরকুমারীরা বান্ধা পড়ে আছে তারা কলিজা ফাটিয়ে চিখ দিয়ে ওঠে। তখন তিনি কলবের সাথে আল্লাহু আল্লাহু জপেন। সীমান্তবর্তী কালা পাহাড়ে গেলে পরিগুলি সেই সব খেস-কুটুম দেখে স্বস্থি পায়, যাদের জন্ম হয়েছিল প্রাচীন বুখারায়, শ্রীহট্টের কালা-মোল্লার প্রেমে পড়ে আড়াইশ বছর আগে যারা চিরতরে দেশান্তরী হয়। কয়লার ট্রাকে করে ভরা পূর্ণিমায় অথবা ঘোর অমাবশ্যায় ছোট মিয়া কালা-পাহাড় জেয়ারতে যান। রাতের তৃতীয় প্রহরে তিনি পাহাড়ের পেটে কান পেতে মৌতা মাটির সাথে সওয়াল-জওয়াব করে অনবরত ঘামতে থাকেন। দেওকলস ইউনিয়নের পঞ্চায়েতি কবরের মত এখানে কোনও সাপ না থাকায় ছোট মিয়া শীতের জন্য প্রার্থনা করেন। গায়েব থেকে উত্তর আসে না। ঘোর দীর্ঘতর না হওয়ায় ছোট মিয়ার থুতনি কেঁপে ওঠে। আধো-তন্দ্রায় ঝলসে ওঠা কবরগুলোর সাথে আকাশের নক্ষত্ররাজির মিল খুঁজে পেয়ে কান্না পায় ছোট মিয়ার। দলা আসমানে এত এত কবর কেন?
মৌতার সাথে সওয়াল জওয়াব করে পয়সা রুজীর যে তমত্ তুলেছিল আব্দুল আলিম, তার চার বছরের মেয়েটি হঠাৎ মারা গেলে গ্রামের সকলে ছোট মিয়াকে ভয় পেতে শুরু করে। আগে যারা সালাম দিত না এখন দশহাত দূর থেকে সালাম দেয়, হিন্দুরাও নমস্কার বলে হাত জোড় করে। ছোট মিয়ার বুকে আব্দুল আলিম-এর চিখ লেপ্টে থাকে
আমার কইলজাখাউরি মাই, কই গেলেরে
ও আল্লাহ...
ভেঙ্গে ভেঙ্গে চৌচির হন ছোট মিয়া। যারা মায়া করে গাছ-পাকনা ফয়-ফসল দেয়, সাদা লুঙ্গি-পাঞ্জাবি দেয়, তাদের সকলকে জোড় হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। মউতের আগে পরের দেয়া এক কুলি− পানিও গিলবেন না বলে কসম খেয়েছেন। ভক্তদের বেদনা বাড়ে। আব্দুল আলিম এসে ক্ষমা প্রার্থনা করলে লজ্জিত ছোট মিয়া তাকে বুকের সাথে লেপ্টে ধরেন সব মালিকের ইচ্ছা...
তোমার মেয়ে ভালা আছে, বেহেস্তর ফুল-বাগিচাত কেচমা হাতে পানি ঢালের; তুমি ত খুশি অইবার কথা।
শবে ব’রাত এলে খুশি হতে পারেন না ছোট মিয়া। গ্রামের সকলে বলে, জগতের এই দিনে সব মুর্দা মানুষের রুহ ফজলের নামাজের আগ পর্যন্ত মুক্ত করে দেয়া হয়। যারা অনন্ত দোযখে নিক্ষিপ্ত হয়েছে তারাও ঐ দিন মুক্তি লাভ করে জন্ম-ভিটা ঘুরে ঘুরে দেখে এবং আয়-আওলাদের সুখ-দুঃখে শরিক হয়; মুর্দার মোনাজাত কবুল হয় না জেনেও তারা আওলাদের জন্য রাব্বুল আলামীনের দরবারে হাত উঠায়।
পাঁচ বছর আগেকার এক শবে বরাতের রাতে গ্রামের সবাই যখন কবর জেয়ারত শেষে মসজিদে গেছে, শূন্য কবরস্থানে ছোট মিয়া বিড়বিড় করে উচ্চারণ করেন আস্সালামুআলাইকুম ইয়াআহল্লাল কুবুরী...
এক চিরল চিৎকার তরঙ্গায়িত হয় কবরস্থানে। কয়েক-চাকা অন্ধকার নিমিষে সরষে দানার মত উজ্জ্বল হয়ে শূন্যতায় অনর্গল ঝরতে থাকে। গায়েবী আওয়াজ ও আলোর কম্পনে মাথা ঝিম ধরে এলে জেয়ারতরত লতা ঘেরা লোহার গেইট খুলে তিনি কবরস্থানে আশ্রয় নেন। বিন্নার ছোবায় ঘেরা কবরগুলো একবার কান্না করে, একবার হেসে ওঠে। দেওকলস ইউনিয়নের আকাশ অনেক নীচে নেমে আসলে পুরনো কবরগুলোকে মানুষের এক একটি গুর্দার মত মনে হয়। গভীর জ্বরে কম্পমান তিনি কবরে কান পেতে সওয়াল রচনা করেন। মরহুম হাজী ফরিদ উদ্দিন উদলা গতরে ভবের-পারের দিকে দৌঁড়াতে থাকেন। নদী তীরে অপেক্ষমান মৃত মানুষদের পারাপারের দায়িত্ব তার। ফরিদ উদ্দিনের কোনও বিশ্রাম নেই, এমন কি শবে বরাতের রাতেও!
-কি ভুল তুমি করছিলায় ফরিদ! তোমার কেনে এত এত আযাব!
-ধুলার দুনিয়ায় ঊনআশি বছর বাচিয়াছিলাম, তাই।
-তোমার কি কোনও মুক্তি নাই ফরিদ ফরিদ ভাইছাবরেবো...
-না। তোমার লাশও যে একদিন আমার খেয়ায় পার করে দিতে হবে
-কোথায় পার করে দেবে?
-জিতা মানুষ, এমন কি একটা জিতা মাশাও যেখানে কোনো দিন যেতে পারে না।
-আমি যে যেতে চাই ঐখানে...
-ঐখানে বাস করে তোমার পইরদাদা, পইরদাদী, বড় মামা, নানাজি, নানিজি...
ঐ রাতে কবরের সওয়াল জওয়াবরত ছোট মিয়া সহ কবরস্থান জেয়ারত করে যায় পঞ্চায়েতের কয়েকজন মুসল্লী। ঐ রাতে নিজকে জিন্দা-কবর ভেবে আন্দোলিত হন ছোট মিয়া।
পরদিন মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। ছেলেদের ছবক দিতে হবে না বলে ভেতরে ভেতরে খুশি হন তিনি। উঘার থেকে এক ফালি ধান বের করে শুকোতে দেন, সামনের শুক্রবার জুম্মার আগে ধানগুলো সোনাহরের রাইস মিলে ভাঙ্গাতে হবে। আল্লা পা'কের জিগির-আশগারে মশগুল হওয়ার ইরাদা করেও ধ্যানী হতে পারেন না ছোট মিয়া। শবে বরাতের রাতে মৃত আত্মার যে মুক্তি হয় না, এমন নাফরমানি কথা দেওকলস ইউনিয়নের কারো কাছেই তিনি বলতে পারেন না। সত্য গোপনের বোঝা নিয়ে ক্ষির শিন্নি রান্নায় মনঃস্থির করেন। বোবাপুত্র রানা মিয়াকে নারকেল ছুলাতে দিয়ে অযথা রাগারাগি করেন।
রানা কেন আব্দুল কুদ্দুস হল না? পাঞ্চমের ছাত্র আব্দুল কুদ্দুস মাদ্রাসায় যেদিন ভর্তি হতে আসে, প্রিন্সিপাল সাব ছেলেটির চেহারা, তমিজ ও কালাম পাঠ শুনে জীন্নে মু’মিনের ছাও বলে সন্দেহ করেছিলেন। আব্দুল কুদ্দুস যে জীন্নে মু’মীন নয়, বোখারার পরীদের সাথে সওয়াল জওয়াব করে ছোট মিয়া অবগত হয়েছেন। গুইটের গরু চরাতে পারে রানা মিয়া, আক্ষা বলে ডাকতে পারে না। ...সেই যে মাঠে বেরিয়েছিলো রানা, দুই প্রহরী আলোয় তার গুর্দা ফেটে যায়। ডরের পারের দোষী অংশে গরু রাখার মাখালী কাম করেছিল বলে প্রাণ কবজ হয়েছে রাণার, গ্রামের কারো কারো কথায় ছোট মিয়ার দুখ লাগে। -আমার পুত আবরা অইতো পারে, মাখাল নায়, আমার পুত...
পাতিহাড় ছোট হয় ছোট মিয়ার, কল-জিহ্বা দিয়ে দূরুদ শরীফ বেরিয়ে আসে না, তসবির দানায় ঘুমিয়ে পড়া চিরকুমারীরা যারা অনন্ত যৌবনা, তাদের মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠলে সুন্দিকাঠের তসবিহর বিচি ক্ষয় হয়। রাতের তৃতীয় প্রহরে জোড়-নয়নে ছোট মিয়া অসীম আসমানে দীর্ঘ তাকিয়ে থাকেন। মৃত চন্দনী ও জোনাকীর গুঁড়া তার দু'চোখে লেপ্টে যায়। রানা’র কাচা কবরের দিকে তাকিয়ে কলবে উচ্চারিত দূরুদপাঠ ভাগ্নবাতাসে একবার ডুবে যায়, ডুবে ডুবে ভেসে ওঠে ও পুত, ঘুমাওরে, আল্লার বিছরাত ঘুমাও। আখেরাতর দিন আল্লায় তোমার জবান ঠিক করি দিবানে, তুমি আমারে আব্বা কইয়া ডাক দিবায়।
দু’পা কেঁপে ওঠে তার। গোরস্থানের হেইছা ঘাস দূরু দূরু করে। পুত্র রানার কাচা কবরের পাশে অন্যান্য দিনের মত সওয়াল জওয়াবে ঘোর আসে না, অথচ তিনি ঘামতে থাকেন, অথচ সাপগুলো আর ঠান্ডা চড়াতে আসে না।
২৫|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৫৫
প্রভ৭১ বলেছেন: লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন:
কবি, আমি ইহা কী হেরিলাম! অসাধারণ বিনির্মাণ!
আপনি মৃত কেদার ভাদুড়ীর উছিলায় তো ভালই নিজেকে জাহির করছেন। আমারও ইচ্ছা করছে নিজেকে জাহির করতে। ইচ্ছে করছে কেদার ভাদুড়ীকে জিজ্ঞেস করি, বাকল সরিয়ে কয়টি নারীর দগদগে ম্যামারি-গ্ল্যান্ড দেখেছেন, হৃদপিণ্ড দেখেছেন? কিংবা দেখেছেন কি ভিখারীর চিমসে স্তন তুলে দিতে সন্তানের মুখে? যাই হোক আমার ক্ষমতা নেই কেদার ভাদুড়ীকে প্রশ্ন করি। কবি আপনি কি একটু তাঁকে আমার হয়ে কিছু কথা জিজ্ঞেস করবেন? আপনার আশ্বাস পেলে পরে জানাবো।
তিনি বলেছেন ...
আমি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবো, আমি তা দিয়ে কবিতা বানাবো, আমি তা আমারই সৎপথে অর্জিত পয়সা খরচ করে ছাপবো, বই বাঁধাবো, লোকের কাছে গিয়ে ফেরি করবো, বিক্রি করবো, তাও আবার বাকিতে, প্রচার করবো- আহা পড়ে দেখ আমার কবিতা, কী সুন্দর এবং মৌলিক। আমার দ্বারা তা হবে না। হয়ও না। একটু আধটু যে করিনি তাও নয়।
তাহলে আমারও আশা আছে, একটু আধটু ভিক্ষা আমিও করতে পারি।
আবারও ধন্যবাদ জানাই আপনাকে অসাধারণ বিনির্মাণের জন্য।
নিরন্তর মঙ্গলে থাকুন।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:২৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: লাবণ্য প্রভা-ই লিখতে পারেন
কৃষ্ণসর্পের পোঁদ ও পরমাঙ্কের ভাঁজ হতে
আলোর ভেতরে উড়ন্ত কৃমির আওয়াজ থামছে না। তোমার জন্ম ও যোনিকুঞ্জে জারুল ফুটেছে, অথচ বেড়ালের আর্তস্বর আজো গগণ বিদীর্ণ করা; তারা থামছে না। আরমানি আয়নায় দেখি বৃক্ষের কেশর, আর তোমার হাত-পা-আঙুলের পাশে থেঁতলে পড়া গান্ধীর শিশ্ন, ক্রন্দনরত...
তুমি তবে নারী নও
পুরুষ নও
তুমি ঈশ্বর নও
মানুষ নও
অথচ তোমার স্তনমূলে নিরন্তর ঘাই দেয় আনাকুন্ডা শাবকেরা। তুমিও প্রেমিক এক, মৃত বাঘিনীর উলান চুষে দাও, ছাতি ভ'রে দুগ্ধ পান করো; অতঃপর উদগত ক্ষুধায় আরো বেঁকে যাবে অর্জুনের তীর, হারপুন তোমার। ঝেড়ে ফেলো উদ্ধৃত পালক, ঝেড়ে ফেলো কাশি ও পুতনা বীর্য; আজ এই পূর্ণিমার রাতে বহুজন আমরা একজন হয়ে মদ ও মূত্র পান শেষে ফিরে যাবো পৃথিবীর প্রাচীন গুহায়; প্রতœভূম আমাদের সাঁইজির মাজার।
ঘুম আসে
কৃষ্ণ সর্পের পোঁদের ভাঁজের মতো দু'চোখ বুঁজে আসে। অথচ দেখি ঘাসের স্তন বেয়ে নেমে পড়ছে দুধ সবুজ স্লে¬টের ওপর
নখের গুঁড়ি সাদা হয়ে আসে
কৌটার ভেতর থেকে বের হয় বহুবর্ণ আগুনের জিব।
ওহে মানুষ ও জন্তু-সন্তান আমার
প্রার্থনাগৃহের নিতম্বের খাঁজে পুদিনার পাতা হেসে উঠছে দেখে
তোমরাও চুম্বন করো আর
চুম্বকের পাহাড়ে রেখে যাও জন্মের দাগ
আজ জন্মদিন।
আজ জন্মের ও মৃত্যুদিন তোমার আমার
বিবস্ত্র বাতাসে চলো ঘুড্ডি উড়াই
দুই হাতে শক্ত করে ধরে রাখি উরুর নাটাই...
২৬|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৫৫
প্রভ৭১ বলেছেন: চলুক ........
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:২৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: তাই !!!!
২৭|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:১০
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন: @কবি আশরাফ মাহমুদ,
আমি আপনার নিম্নোক্ত অংশটুকু বুঝি নাই। যদি এখানে আপনি সমকালীন অন্যকেউ বলতে মলয়রায় চৌধুরীকে বোঝান। তবে কোটেশন অংশগুলি মলয়রায় চৌধুরীরই বলা কথা। এবং এটা সাক্ষাতকার। এখানে কবি গেওর্গে আব্বাস নিজের মতন করে সাক্ষাতকারটি লিপিবদ্ধ করছেন।
(যারা পাঠ-প্রতিক্রিয়া লেখে তাদের জন্য মায়া হয়! এসব সমকালীন পাঠ-প্রতিক্রিয়া কী প্রভাবিত নয়? জীবনবাবু নিয়ে আমি লিখতে পারি, রবিকে নিয়ে; কিন্তু সমকালীন অন্য কাউকে লিখাটা কি অপরাধস্বরূপ নয়? আমার তাই বোধ হয়।)
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:৪০
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ঠিক বিষয়টিই ধরতে পেরেছেন।
তবে সাধারণ ভাললাগা/ মন্দলাগাকে আঘাত না করাই উচিত।
২৮|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:২৯
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: @ নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
উপরের মন্তব্যে আমি বলেছিলাম যে এগুলো আত্মকথন এবং মেদবহুল। মলয়রায় চৌধুরী বা কেদার ভাদূড়ী আমার পাঠ করা হয় নি। মলয়ের একটি কবিতা ব্লগে পাঠ করেছিলাম, আমার ভালো লাগে নাই এবং অশ্লীল হিসেবে চিহ্নিত করেছি (যেহেতু অশ্লীলতার মাপ ব্যক্তি, কাল, স্থান নির্ভর অর্থ্যাৎ আপেক্ষিক তাই মলয়ের বৈদ্যুতিক ছুতাকে আমি অশ্লীল বলেছি)।
আপনার মন্তব্যের পরে আবার পাঠ করলাম। ধোঁয়াশা কাটল। আমি কোটেশন চিহ্ন খেয়াল করি নাই আগে!
========================================
আমি পাঠ-প্রতিক্রিয়া বলতে এই রচনাকে (কবি আব্বাসের এই রচনা) বোঝাই নি। সাধারণ অর্থে। উদাহরণ দিলে একটু খোলাসা হতে পারে। ধরুন, আমি জীবনবাবুর বনলতা নিয়ে পাঠ-প্রতিক্রিয়া লিখলাম। আমার দৃষ্টিতে এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। যেহেতু আমাদের বসবাস এবং মনজ কাল ভিন্ন। সর্বাপরি, আমরা কিন্তু বিচ্ছিন্ন নই- মাঝে কেবল ভাষার সাঁকো। অথচ আমি যদি আপনার কোন কবিতাগ্রন্থের পাঠ-প্রতিক্রিয়া লিখি তা প্রভাবিত হতে বাধ্য। আপনি পরিচিত, বন্ধু। আমার পিঠ চুলকানো স্বভাব জেগে উঠতে পারে। প্রভাবের ক্ষেত্র বহুলাংশে বেড়ে যায় (জীবনবাবুর ক্ষেত্রে তা নগণ্য) এটার বৈজ্ঞানিক সম্ভাব্যতা-ও মেলানো যায়।
প্রকৃত নিরপেক্ষে কেউ নন, ঈশ্বর-ও নন।
তবে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করতে পারি মাত্রার উপর। কে কতটুকু অপরাধ করল তার মাত্রা (মানে, অনিরপেক্ষ হলো)।
=================================
মন্তব্যে অস্পষ্টতা থাকলে বলবেন অনুগ্রহ করে।
২৯|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩৮
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন: @কবি আশরাফ মাহমুদ, অনেক ধন্যবাদ। আপনার কথা ঠিক। মানে পিঠ চুলকানোর কথাটা
।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৩৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: কার্টুন কেন? দেখলে মাথা চিনচিন করে। আপনার চিত্রকর্ম দেখলে ভাললাগত।
৩০|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:০০
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: সমসাময়িকদের নিয়ে লেখাটা বলতে আমি পরিচিতদের তোষামোদী পাঠ-প্রতিক্রিয়া বুঝিয়েছি। নির্ঝরকে করা মন্তব্যে কিছুটা পরিষ্কার করতে চেয়েছি মনবোধ। আপনিই কথাগুলো বলে দিলেন। ব্লগের কয়েকটা পাঠ-প্রতিক্রিয়া পড়ার অনুরোধ রইল। কে কার চেয়ে বড় কবি তা প্রমাণের দায় পড়েছে যেন আলোচকের উপর- পয়গম্বর কিংবা নবীরা-ও বোধ হয় ঈশ্বরের এতো ধন্যতা প্রকাশ করেন নাই! হায়! এসব পিঠ-চুলকানোর কথা বলছি।
যেহেতু আমরা সৃষ্টির পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থা জানি না, আমরা নিজেদের আবদ্ধ জলের ব্যাঙ হিসেবে ধরে নিতে পারি। আমরা একটা সময়কালে আবদ্ধ, ক্রমেই এর পরিধি বাড়ছে হয়ত বা বাড়বে।
আপনার লেখা কেন ভালো লাগে নাই (পূর্ব পোস্টটি) তা বিস্তারিত প্রকাশ করা উচিত ছিল এবং আমি লজ্জিত না করার্থে। আমার কাছে বিন্যাস বা কাঠামো ভালো লাগে নি! ব্লগে ভালো লাগা না লাগার বিষয়টি এক কথায় শেষ করতে চাই, চেষ্টা করি। কারণ, খেপাখেপীর ব্যাপার আছে। ফলস্বরূপ, হয়ত গালি হজম বা ভাষিক-উদ্দীপনার মুখোমুখি হতে হয় (যদি-ও এসব শয়ে আসছে ক্রমশ)।
ব্লগকে কেবল সাহিত্য পাঠের স্থান হিসেবে নিই নি, আমি মজা করি, আড্ডা দেই; কিন্তু পিঠচুলকানীতে উৎসাহী না। আপনাকে কখনো বলি নি আপনি মৌলিকতার পুরোধা, যদি-ও অনেক পোস্ট প্রিয়তে। এভাবেই আমার সই, যে বোঝার বুঝে নিক।
সময়টাই অনেকাংশে ধারাল ছুরি হয়ে যায়।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৩৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মূল বিষয়টিই কিন্তু পাঠকীয় সীমাবদ্ধতা। কেউ যদি মার্কেজ, জয়েস, বোরহেস, টুটুয়ালা, অক্রি, চিনুয়া আচেবে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, দেবেশ রায়, ওয়ালিউল্লাহ, অমিয় ভূষণ মজুমদার, তারাশঙ্কর, সমরেশ বসু, সুবিমল মিশ্র না পড়ে গদ্য নিয়ে সে কি বলবে বলুন তো!!
পিঠচুলকানীর বিষয়টি বাদ দেন। আর বাদ দেন বলছি এজন্যেই যে, এ-বিষয়ে বোধ হয় বলেও ফেলেছি অনেক। তাছাড়া ব্লগে তো অনেকের সাধারণ সেন্সই ডেভলাপ করে নাই। আমি দেখলাম তো, কার নিক কি , কে তৃতীয় বাংলার কবি কে অষ্টম বাংলার ইত্যাদি আজে বাজে কথা বলছে; আমার ধারণা ছিল ওরা ওগুলো মুছে দেবে, ব্লক করবে। কৈ তারা তো সেন্সের পরিচয় দিল না।
এনিওয়ে, আমার দু'টো পলেসি আছে ১. নিজের লেখার পক্ষে কোনো সাফাই দেব না কেননা আমি আমার লেখার প্রথম পাঠক মাত্র; তাছাড়া আমি কেউ না, আমি কোনো সরকারী বা আধা সরকারী কবি না, পপষ্টারও না। ২. কারো লেখাকই আমি মন্দ বলি না বা ভাললাগেনি এ-রকমও বলি না। আর যদি বলি কর্যকারণ সহ অস্ত্র হাতে নিয়ে বলি। তখন আমি নিরীহ পাঠক না, অর্জুন।
কেন জানেন তো!! যদি পাল্ঠা প্রশ্ন করে বসে- ভাই, কবিতা পড়ার সময় মুড ঠিক ছিল তো!! ঘরে কি ঝগড়াঝাটি হইছে!!!
এই পোষ্টে দুঃখ মার্জনা এগুলো বাদ দিন। মন খুলে আলাপ পাড়ি।
''আলাপ পাড়ি।'' শব্দটা আমার নয়, মুক্তি মন্ডল-এর।
৩১|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:৩৩
গায়ত্রী সান্যাল বলেছেন: অনেক ভালো লাগলো।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৩৯
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মন্তব্যভিক্ষা গৃহীত হল।
৩২|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:৪৮
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
কথাহীন....................
মুগ্ধতা !
আর
অপেক্ষা।
শুভেচ্ছা।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২০
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মুগ্ধতা !
আর
অপেক্ষা।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: অপেক্ষার অবসান হোক। মুগ্ধতারও কি অবসান হবে!!!
৩৩|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৩৫
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন:
'১.'ছন্দ থাকুক ছন্দের জায়গায়, আর কবিতা হয়ে উঠুক ... ''এসব কথায় যুক্তি নাই। অনেকটা মেয়েলি মায়াকান্নার মতো।
২.আজ রাস্তায় নেমে এসেছে অজস্র নারী ও কমলালেবু। চোখের সামনে এতো এতো স্তনের প্রবাহ
.................................................................................................
শ্রদ্ধাভাজনেষু;
আপনার মন্তব্যের জবাব এবং রচনার মধ্য থেকে উপরোক্ত লাইনকটি আমি উদ্ধৃত করতে বাধ্য হলাম।
ভাষা ভাব প্রকাশের মাধ্যম। সেক্ষেত্রে ভাষাকে মেয়েলি কিংবা পুরুষালী বলা অযৌক্তিক। তবে আপনার এই ধরণের ভাষা ব্যবহারে আমি মোটেও বিস্মিত হই না। কেননা এটা দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক ভাষাগত আধিপত্রেরই ধারাবাহিকতা। সাহিত্যেক্ষেত্রে যে পুরুষদেরই একাধিপত্য এটা নারী লেখকরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বহু আগেই। নারী তার নিজস্ব ভঙ্গি প্রকাশ করার জন্য ভাষার দুর্বলতা আবিষ্কার করে ফেলেছে। আর তাই ভার্জিনিয়া উলফকে লিখতে হয়েছিল man made language ১৯৮০ সালে। ভাষাল পুরুষবাচকত্ব language is masculine নিয়ে। এই গ্রন্থটি তার এ বিষয়ের একটি দীর্ঘ গবেষণার ফসল। এই গ্রন্থটিতে তিনি দেখিয়েছে, কীভাবে ভাষা তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। ভাষার অনেক বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই পিতৃতান্ত্রিকতা সংরক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে এর ভূমিকা কতোটা নগ্ন। আর তাই তিনি অস্বীকার করেন, ভাষা পুরুষের। পরবর্তীতে অন্যান্য নারীবাদী লেখকরাও এটি সমর্থন করেন। ভাষার লৈঙ্গিকীকরণ একটি বহু পুরোনো ধারা। ফরাসি তাত্বিকরা ভাষার পুরুষ বাচক স্ত্রীবাচক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। তবে তা ছিল তর্কের খাতিরে। acriture feminine এর কথাটি বলেছেন। হেলেন সিক্সোয়াস তারthe lough of the medusa গ্রন্থে প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। অভিধাটি স্ত্রীলিঙ্গ সম্পর্কিত। তবে ভাষার এই লৈঙ্গিক মেরুকরণ এখন আর ধোপে টিকবে না। ভাষায় গঠনগত ত্রুটি থাকতে পারে। যেমন আপনি যখন কোন পুরুষ লেখকের ভাষার দুর্বলতা আবিষ্কার করেন তখন লিখেন, ভাষা ম্যাড়মেড়ে । কিন্তু নারী লেখকের বেলায় শব্দটি হয়ে যায়, মেয়েলি মায়াকান্না।
যাই হোক, আপনার নারী ও কমলালেবু' শব্দবন্ধটি খুব দ্রুত আমার মস্তিষ্কে অনুরণণ তুলেছে। আমি রীতিমতো বিস্মিত। আবার বিস্মিত নই। কেননা নরম্যান মেইলার , হেনরি মিলার এবং ডি এই লরেন্সের মতো লেখকরা একাজটি করেছেন খুব ভালভাবেই। ১৯৬৯ সালে কেইট মিলেট তাঁর সেক্সুয়াল পলিটিক্স গ্রন্থে দেখান কীভাবে ক্ষমতার সম্পর্ক কাজ করে এবং কীভাবে পুরুষরা নারীদের ব্যবহার করে। এবং তাদের ওপর আধিপত্য চিরস্থায়ী করে। এতে তিনি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন, সাহিত্যে কীভাবে নারীরা পুরুষদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে। ভার্জিনিয়া উলফ তার বীজগর্ভ রচনা a room of one's own গ্রন্থের চতুর্থ এবং পঞ্চম অধ্যায়ে বলেছেন যে, ভাষা ব্যবহার লৈঙ্গিকীকৃত হয়েছে সেজন্যে যখন কোন নারী উপন্যাস রচনায় প্রবৃত্ত হয় তখন দেখে যে তার ব্যবহারের জন্যে কোনো সাধারণ বাক্য প্রস্তত নেই। মহান পুরুষ উপন্যাসিকরা তদের ইচ্ছেমতো করে ইতোমধ্যেই একটি স্বাভাবিক গদ্য রচনা সৃষ্টি করেছেন যা দ্রুত কিন্তু সমর্থ নয়। অভিব্যক্তিপূর্ণ কিন্তু মূল্যবান নয়। আর আপনাদের প্রধান ঋত্বিক ফ্রয়েড মহাশয়কে পরিত্যাগ না করে এ কথাটা বলা বোধহয় অযৌক্তিক হবে না যে পুরুষের অবচেতনে নারীর প্রতি য্যেনতা ছাড়া আর কোন বিষয় কাজ করেনা। তাই ভাষাও হয়ে উঠে যৌনগন্ধী এবং প্রবলরূপে পুরুষতান্ত্রিক।
৩৪|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৩৮
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: আর আপনাদের প্রধান ঋত্বিক ফ্রয়েড মহাশয়কে পরিত্যাগ না করে এ কথাটা বলা বোধহয় অযৌক্তিক হবে না যে পুরুষের অবচেতনে নারীর প্রতি যৌনতা ছাড়া আর কোন বিষয় কাজ করেনা। তাই ভাষাও হয়ে উঠে যৌনগন্ধী এবং প্রবলরূপে পুরুষতান্ত্রিক।
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:১৯
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আমার কাঁধে বন্দুক রেখে বেশ তো বিদ্যা জাহির হলো লাবণ্য। মন্দ লাগলেও কিছু করার নাই, তাই ভাল লাগল। এবার আসল কথায় আসি; যা বুঝলাম, আপনি বেশ দীর্ঘ করে বললেন এই কথাটি বলার জন্যই ''আপনি যখন কোন পুরুষ লেখকের ভাষার দুর্বলতা আবিষ্কার করেন তখন লিখেন, ভাষা ম্যাড়মেড়ে । কিন্তু নারী লেখকের বেলায় শব্দটি হয়ে যায়, মেয়েলি মায়াকান্না।''
কথাটা ঠিক না। আপনি যুক্তিতে কতোটা কাঁচা বা কতোটা পাকনা সেই বিষয়ে অনুধ্যায়ী হচ্ছি না। আমি বরং আরেকটি মেয়েলি বাক্য আবিষ্কার করি ''আর আপনাদের প্রধান ঋত্বিক ফ্রয়েড মহাশয়...'' ফ্রয়েডের পরে মহাশয় আর ঋত্বিকের আগে আপনাদের কেন? এরকম বাক্য দেখলে প্রেমিক প্রেমিকাদের মান অভিমানের কথাই মনে পড়ে। আমি যেভাবে মন্তব্যে রিপ্লাই দিচ্ছি কেউ যদি বলে ''আপনার ভাষা ম্যাড়মেড়ে'' তখন তা গ্রহণ করতে হবে। উচিতও। এখনে গেওর্গে আব্বাস পুরুষ না নারী সেটা বিষয় না। ''আব্বাস'' অবজেক্ট মাত্র। ফ্রয়েড আমাদের হবেন কেন? '' আপনাদের ''শব্দটির জন্য বাক্যটিকে অভিমানে টইটুম্বুর মনে হচ্ছে। আমি যদি বলতাম ''এখানে কেদার ভাদুড়ী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে- শিবের গীতের অবতারণা করছেন কেন'' এটা হতো গেঁয়ো। আবার যদি বলতাম ''আপনাদের মন্তব্য পেয়ে সুখায়ছে'' এ বাক্যটি হতো চটুল। দ্বিমত করতাম না। সবকিছুই রঙ লাবণ্য, রঙ। আপনার বাক্যটি মেয়েলি হয়েছে তা আপনি(অবজেক্ট )মেয়ে বলে নয়- বাক্যের কালার তা-ই বলছে বলছে।
এনিওয়ে, চলেন নেংটিইঁদুরের দৌঁড় দেখি। হতাশাগ্রস্ত শিল্পী ওয়াল্ট ডিজনী হয়ে যাই- কাহিনী জানেনতো!!!!
রাস্তায় স্তনের প্রবাহ...
''রাস্তায় শিশ্নের প্রবাহ'' সমস্যা কি? অবশ্য প্রয়োগ বিদ্যায় পারঙ্গম হওয়া চাই। নতুবা ডাইজেস্টে সমস্যা হবে।
নারীবাদীদের থিওরি ভালই লিখেছে তবে ইনট্রুডিউসিং দেরিদা গ্রন্থে একটি কার্টুন দেখেছি। দেহটা নারীর কিন্তু মাথা নাই। মাথায় শিশ্ন বাসানো। নারীবাদীরা প্রকারন্তেরে পুরুষ হয়ে ওঠার ব্যাপারেই কি ইঙ্গিত করা হলো? নারীরা পুরুষ না হয়ে উঠলেই ভাল, জগৎ লাবণ্যময়ী থাকবে। কথা আসুক, ছন্দ না হোক শাঙ্খবিদ্যা নিয়ে...
৩৫|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮
অদৃশ্য বলেছেন:
আশরাফ ভাই,
প্রথমেই বলে নিচ্ছি আপনাদের আলোচনা পড়তে পড়তে আপনার একটি লিখার ওপর এসে চোখ আটকে গেলো.......আর ভাবলাম এটা নিয়ে আমার ভাবনাটুকু একটু জানিয়ে রাখি......শুধু আলোচনার খাতিরে এবং এই অংশটুকুতেই তা সীমাবদ্ধ, কিছু মনে নেবেননা.............. আপনি লিখেছেন
''যেহেতু আমরা সৃষ্টির পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থা জানি না, আমরা নিজেদেরআবদ্ধ জলের ব্যাঙ হিসেবে ধরে নিতে পারি।'' ........
আপনার এই কথার সাথে কেন যেন মন যাচ্ছে না....... যেহেতু মানুষ সৃষ্টি সেরা জীব তাই তার ভাবার ও জানার অধীকার আছে বা অবশ্যয় ভাবা ও জানা প্রয়োজন সে কিভাবে সৃষ্টি হলো বা কেন হলো বা কে তাকে সৃষ্টি করলো ?........ আমি এরকমটা ভাবি.......
আর এটা ঠিক আছে যে আমরা আবদ্ধ জলার ব্যাঙ..........
কেননা আমরা ভাবতে জানিনা, জানতে চাইনা, চোখের পর্দাতুলে সঠিক আর বেঠিক ছহিভাবে দেখবার ইচ্ছেও আমাদের নাই, নাকি এড়িয়ে যাই। এবং আমরা সবখানেতে তোষামদি ও কৃত্তিমতা খুঁজে বেড়াই। এইসব নিয়েই আমরা বেশিরভাগই আমাদের জীবন কুয়োর ব্যাঙের মতো শেষ করে দিলাম...... দু'চারজন যারা কুয়ো থেকে উঠে আসতে পেরেছেন তারা ইতিহাস বানিয়ে গ্যাছেন। তারা মহান হয়েছেন অথবা নিজেকে মানুষ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ে গ্যাছেন।
তবে কথা হলো আমরা কি সত্যই শুধুমাত্র একটি নির্দ্দিষ্ট সময়কালে বন্দী বা আবদ্ধ ?
আমার মতে যদি তাই হতো তাহলে............ অতীত বা ভবিষ্যৎ বলে কিছু থাকতো কি ?
হ্যাঁ, তার আগে জানা দরকার........
আসলে আপনি এই নির্দ্দিষ্ট সময়কাল বলতে কতটুকু সময়কালকে এর ভেতরে আবদ্ধ করতে চাইছেন...........এক সৃষ্টি জনম নাকি তার থেকে কম ?
আর একটি ব্যাপার আমার ভাবনায়........ যে কেউ তার পাঠ-প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন তা কথ্যও হতে পারে লেখ্যও হতে পারে। তা সমসাময়িক হতে পারে আবার অসমসাময়িকও হতে পারে......আমি এর ভেতরে ভালোকিছু দেখি........ অবশ্য এটা আমার দেখা।
আপনার ভাবনা জানবার জন্য কথাগুলো বলেছি মাত্র, আপনার সময়অভাব থাকলে, না জানালেও কোনই অসুবিধা নাই। শুভকামনা।
১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৬
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: উপস্থিতি প্রাণবন্ত হচ্ছে অদৃশ্য।
৩৬|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৬
ডল বলেছেন:
বাহ! বাহ! এখানে তো প্রতিভা জাহিরের মেলা বসেছে। সবাই কেবল আমি আমি করছে। গেওর্গে আব্বাস যদিও সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন্।
হিটার আসো,
প্রতিভা জাহির করো...
১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মত্রাতিরিক্ত বলার সুযোগ দিচ্ছি না। তবে ঠিক জায়গায় আলো ফেলেছেন। মিথ্যে বলেননি।
৩৭|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:২৫
প্রভ৭১ বলেছেন:
@ ডল আপনার ঘটে কিছু থাকে তো বলেন। আবার সঙ্গী ডাকেন কেন?
৩৮|
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:২৫
প্রভ৭১ বলেছেন: প্রকাশক ও পশু ব্যাপারি
বইমেলা ও ভিখারীর মেলা
১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০০
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: নিজে কিছু বলুন।
৩৯|
১৪ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:১৯
প্রভ৭১ বলেছেন: আমার নিজের কথা ......আভিধানিক লেখা হয়েছে।
১৪ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৩৯
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: প্রভ,
অভিধান থেকেই আভিধানিক, তাই তো! অভি শব্দের ১৬টি অর্থের ১টি হল চিন্থ। অভিধা শব্দের ক্রিয়াভিত্তিক অর্থ হল চিন্থের দ্বারা ধারণ করা এবং মুখ্য অর্থ হল শব্দোচ্চারণ মাত্র অর্থ প্রতীত হওয়া। ভালই তো।
৪০|
১৪ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৫
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: পিচ্ছিল কথা শুধু গড়াতেই থাকে, তাই কিছু মন্তব্য মুছে দেয়া হলো। তারা দুঃখিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমি নিজেও দুঃখিত নই।
৪১|
১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৩৩
প্রভ৭১ বলেছেন: গেওর্গে আব্বাস বলেছেন
নারীবাদীদের থিওরি ভালই লিখেছে তবে ইনট্রুডিউসিং দেরিদা গ্রন্থে একটি কার্টুন দেখেছি। দেহটা নারীর কিন্তু মাথা নাই। মাথায় শিশ্ন বাসানো। নারীবাদীরা প্রকারন্তেরে পুরুষ হয়ে ওঠার ব্যাপারেই কি ইঙ্গিত করা হলো?
নারীবাদীরা কিছু বলেন
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৫৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: কিছু বলেন
৪২|
২০ শে জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:২০
শামস নুর বলেছেন: প্রিয় পোষ্ট
২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৫৪
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: ভাল করেছেন।
৪৩|
২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:০৮
আন্দালীব বলেছেন: দৃষ্টি আকর্ষণঃ "গং"
এতো অনায়াসে ব্যবহৃত করলেন !
------------
লেখা বিষয়ে- যথেষ্ট সময়সুযোগমতো পড়তে চাই। বিষয়টাই তো কৌতূহলৌদ্দীপক।
৪৪|
২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:১০
আন্দালীব বলেছেন: স্যরি, "ব্যবহার করলেন" পড়তে হবে।
২৬ শে জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩৩
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: এই পোষ্টে মাইন্ড করার কোনো চান্স নেই। কলিজা বলে পৃথক কিছু নেই; সারাটা দেহ মিলে একটা মাত্র কলিজা...
৪৫|
২৫ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৩৩
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয় কবি.............. আমার ২৩নং মন্তব্যে
''চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা''..... হবে
আমার ভুলের পরিমান এত বেশি যে সবাই হাসাহাসি করবে....
২৬ শে জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩৯
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: হাসাহাসি করবে...
করুক।
মূর্খরাই বেশি হাসে।----বোধ হয় সক্রেটিস বলেছিলেন।
৪৬|
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৫৩
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আর সব পোস্ট কোথায়?
!!!!!!!!
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:৫৮
গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: মেইল করছি। বিকাশ সরকারের লেখা পাঠ করলে মুগ্ধ হবেন।
৪৭|
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন:
কবি কী হলো?????????????
লেখাগুলো সরিয়ে ফেলেছেন কেন?
৪৮|
২০ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:০১
অদৃশ্য বলেছেন: প্রিয়কবি................
আশাকরছি আপনার লিখাসব আবার ফিরে পাব।
সুস্থ থাকুন....... মঙ্গলে বসবাস করুন
৪৯|
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:৩৫
শিবা বলেছেন:
কেমন আছেন কবি!
...এতোদিন কোথায় ছিলেন?
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:০১
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন: মাথা ঘুরছে। অদ্ভুত ঘোর। শূন্যতার আকার।
++