নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিরোনামহীন

অভিমানী ,ক্রদ্ধ ,খেপা আমি

গেরাইম্মা পোলা রক্স

হারিয়ে জাওয়াকে চলে যাওয়া ভেবে তোমরা আমাকে খুজবে না জানি।তবু কখনো হবোনা আমি অভিমানি।

গেরাইম্মা পোলা রক্স › বিস্তারিত পোস্টঃ

কান্নার স্রাবন

০৮ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ২:৪০

শ্রাবনের জন্ম আজ থেকে দশ বছর আগে। তখন ঘন বর্ষা। দাদা শখ করে নাম দিলেন শ্রাবন। শ্রাবনের মা তার নবাগত ছেলেকে নিয়ে শঙ্কিত, কারন লোকমুখে শুনেছেন বর্ষায় জন্মানো বাচ্চার সারা জীবন কাঁদতে কাঁদতে যায়, হাজার হোক গাঁয়ের মেয়ে বলে কথা। অন্যদিকে দাদা প্রচন্ড খুশি, তার ধারনা রহমত হিসেবে খোদাতায়ালা তাকে প্রেরন করেছেন। তিনি তার খেলার সাথী পেয়েছেন।



ভীষন রকম ডানপিটে এই ছেলেটি। বৃষ্টির প্রতি অসম্বভ ভালবাসা তার। মায়ের শাষন, দাদার আদরের কাছে হার মেনে যায়। ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো, বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলা এসব না করলে নাকি পরিপূর্ন পুরুষ হওয়া যায়না, দাদা বলেছেন। শ্রাবনের প্রাথমিক শিক্ষা তার দাদার কাছ থেকে নেওয়া। বাবা ব্যবসা নিয়ে বড়ই ব্যাস্ত, আর মা সংসার সামলাতেই হিমশিম খায়।



কুমার যেমনি নরম কাঁদাকে নিপুন হাতের ছোয়ায় জীবন্ত করে তুলে, দাদা তেমনি তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন তার নাতিকে। শ্রাবনের আকাশ জুড়ে শুধুই তার দাদা। দাদার জীবনের শেষ ইচ্ছা শ্রাবনের বিয়ে দেখে যাওয়া। নাতবৌয়ের নাম বর্ষা হওয়া বান্ছনীয়।



আমার প্রিয় ঋতু বর্ষাকাল, রচনা লিখে স্কুলে প্রতিযোগিতায় শ্রাবন প্রথম হয়। কদম ফুল তার প্রিয় ফুল। "আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ" গানটা তার হৃদয় ছুয়ে যায়। নামটি শ্রাবন বলে, স্কুলে কেউ কেউ তাকে লেডিস বলে ডাকত। দাদার একটিই সান্ত্বনা "নামে নয় কাজেই পরিচয়"।



শ্রাবনের যখন আট বছর বয়স তখন সে একবার গ্রামের পুকুরে পড়ে গিয়েছিল নৌকা থেকে। ভরা বর্ষায় পুকুর তখন কানায় কানায় টইটুম্বুর। ছোট চাচা ঝাপিয়ে পড়ে সেদিন তাকে বাচিয়েছিল। তখন থেকে তার গ্রামে যাওয়া নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। শ্রাবন ভাবে সাঁতার শিখতে না পারা তার জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যার্থতা, যেটা তার নামের সাথে মানায় না। গত বছর শ্রাবনের সুন্নতে খাৎনায়, দাদা তাকে একটি লুঙ্গি আর একটি পান্জাবি দিয়েছিল।



একটি শিশুর পরিপূর্ন ভাবে বেড়ে উঠার জন্য যে পরিমান সাপোর্ট প্রয়োজন, শ্রাবন সেটি তার দাদার কাছ থেকে পেয়েছে। সামাজিক আচার-বিধি থেকে শুরু করে ধর্মীয় আদব কায়দা সবই দাদার কাছ থেকে শেখা। "বোকা বন্ধুর চেয়ে বুদ্ধিমান শত্রু ভাল আর দূর্জন বিদ্যান হলেও পরিত্যাজ্য" এই বিচারে সত্যিকারের বন্ধু পাওয়া কঠিন হলেও এক্ষেত্রে শ্রাবন ছিল ভাগ্যবান।



আজ প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। দাদার শরীরটা বিশেষ ভাল না। গত সপ্তাহে হঠাৎ করে তার হাঁপানির টান প্রচন্ড ভাবে শুরু হয়েছে। এমন বৃষ্টিতে যার খুশির জোয়ার থাকেনা, সে আজ নিশ্চুপ হয়ে ঘরের কোনে বসে রয়েছে। সামনে তার জন্মদিন, দাদা বলেছিল জন্মদিনে তাকে একজোড়া টিয়া কিনে দিবে।



দাদাকে হাসপাতাল থেকে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হল। শ্রাবন তখনো বুঝতে পারেনাই যে সে জীবন থেকে কি হারিয়ে ফেলেছে। বুঝতে পারেনা, তাকে সান্ত্বনা দেবার মানুষটি চলে গেছে এ জগৎ ছেড়ে।



সকলের সাথে শ্রাবন ও যায় দাদার দাফন কাজে। বৃষ্টির কারনে তাকে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে যে নাছোড়বান্দা। প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। যেখানে কবর খোড়া হয়েছে, তা পানিতে ভরে গেছে। এতখানি শুকনো যায়গা নেই যেখানে তার দাদাকে কবর দেয়া যায়। বৃষ্টি কমার লক্ষন না দেখে ওভাবেই কবর দিয়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হল।



আজ শ্রাবন জীবনের সবচাইতে খারাপ সময়টা পার করেছে। ঐ দুঃসহ সৃতি সে ভুলতে পারছেনা। বৃষ্টি আজ তার জীবনে অভিষাপ বয়ে এনেছে। বৃষ্টির কারনে তার দাদা আজ একমুঠো শুকনো মাটি পায়নি। ভাবতে ভাবতে চোখে জল চলে আসে শ্রাবনের। যে বর্ষাকে সে ভালবসত, আজ সেই বর্ষার নির্মম খেলা সে দেখেছে। না আর যাই হোক বর্ষাকে ভালবাসা যায়না।



দুদিন অতিবাহিত হলেও শ্রাবনের কান্না বন্ধ হয়না। লোকচক্ষের অন্তরালে সে কাঁদে তার ঘৃনায় ভরা হৃদয় নিয়ে। হয়তো তার মায়ের শঙ্কা আজ সত্যি হতে চলেছে।/:) কান্নার স্রাবন

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.