নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হাবিজাবি

বলার তেমন কিছু নাই... হাবাগোবা একজন মানুষ! নতুন ব্লগার... ব্লগ জিনিসটা এখনো আয়ত্ত্বে আসেনাই...

গোবা

বলার তেমন কিছু নাই... হাবাগোবা একজন মানুষ! ব্লগ জিনিসটা এখনো আয়ত্ত্বে আসেনাই... তারপরও করি আরকি!

গোবা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ও ইসলাম ‌॥ পর্ব ৬

০৪ ঠা জুন, ২০১৩ সকাল ১০:৩৫

কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ও ইসলাম ‌॥ পর্ব ১

কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ও ইসলাম ‌॥ পর্ব ২

কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ও ইসলাম ‌॥ পর্ব ৩

কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ও ইসলাম ‌॥ পর্ব ৪

কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ও ইসলাম ‌॥ পর্ব ৫



ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু বিষয়



এর আগে আমরা ইসলামের কিছু মূলবিষয় – বিদআত, কুফর ও শিরক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। বিদআত কিভাবে কুফরে ও শিরকের পথে নিয়ে যায় তাও আলোচনা করেছিলাম। এবার আমরা ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু বিষয়ের অবস্থান সম্পর্কে জানব (যেমন – ভবিষ্যৎগননা করা কিংবা সুফিবাদ নিয়ে ইসলাম কি বলে)।



আল্লাহর অবস্থান ও ইসলাম



লোকমুখে চালু আছে যে, আল্লাহ পাক সর্বত্র বিরাজমান। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সর্বত্র পরিব্যাপ্ত – এটা সঠিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁর সত্তা তাঁর সৃষ্টির সাথে মিশে আছে। বরং সত্ত্বাগত ভাবে তিনি সৃষ্টি থেকে পৃথক এবং তিনি সাত আসমানের ওপরে আছেন এবং তিনি সৃষ্টির উর্দ্ধে অবস্থানকারী। অতএব তিনি তাঁর সত্তার দ্বারা সর্বত্র বিরাজমান নন, আর মানুষের যুক্তিও তাঁর সর্বত্র বিরাজমান হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে, কেননা যদি তিনি সর্বত্র থাকেন, তবে অর্থ এই দাঁড়ায় যে যাবতীয় আবর্জনাতেও তাঁকে পাওয়া যাবে, কিন্তু এটা তাঁর পবিত্রতার ধারণার বিরোধী, উপরন্তু আল্লাহ পাক তাঁর কিতাবে কিংবা তাঁর রাসূল (স) তাঁর হাদীসে কোথাও উল্লেখ করেননি যে তিনি সর্বত্র বিরাজমান। বরং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি আসমানে, অর্থাৎ সাত আসমানের উপরে অবস্থিত, আর এটাই সঠিক বিশ্বাস। আল্লাহ'তালা বলেন -



তোমরা কি এটা হতে নির্ভয় হয়েছো যে, যিনি আকাশে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন, অনন্তর তা আকস্মিকভাবে থর থর করে কাঁপতে থাকবে?[৮৩]



তাই প্রকৃতি বা অন্যান্য সৃষ্টির মাঝে আল্লাহতা'লা রয়েছেন – এই চিন্তা করাটা আল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে তাঁর নিজের দেয়া আয়াতেরই পরিপন্থী।



সুফিবাদ ও ইসলাম



পার্থিব লোভ লালসা ও ভোগ বিলাস যথাসম্ভব পরিত্যাগ করা ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক শিক্ষানীতি হলেও সন্ন্যাসবাদের কোন স্থান এখানে নেই। আজকের খ্রিষ্টধর্মে এর বহুল প্রচার থাকলেও এটা আসলে কোন ঐশী নির্দেশ নয়। ধার্মিক খ্রিষ্টানগণ যখন অনুভব করলেন বিবাহ ও ঘরসংসার করে যথেষ্ট আখিরাতমুখিতা অর্জন করা যায়না, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মানবীয় বুদ্ধি বিবেক খাটিয়ে এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন, যার ফলে তারা হয়ে পড়ল সংসার বৈরাগী। ইসলামের মাঝেও একদল মানুষ অনুরূপ নতুন পদ্ধতির সূচনা করেন যাদের আক্বীদা, কাযযকলাপ কোন কিছুই শরীয়াহ সম্মত নয়। যেমনঃ সুফীবাদের অনুসারী ও অন্যান্য কতিপয় পথভ্রষ্ট দল সৃষ্টির সাপেক্ষে আল্লাহ পাকের সত্তা ও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ও কদর্য ধারণা পোষণ করে থাকে আর এ সম্পর্কে তাদের কিছু বাতিল পরিভাষা আছে। যেমন -

হুলুল[৮৪] - সুফী ও অন্যান্য পথভ্রষ্ট দলের পরিভাষায় হুলুল হচ্ছে সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার অবস্থান, হতে পারে সেটা গোটা সৃষ্টিজগতে কিংবা এর কোন অংশে। গোটা সৃষ্টিজগতে স্রষ্টার অবস্থানের মতবাদ এই যে - স্রষ্টা সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সর্বত্র বিরাজমান।

ইত্তিহাদ[৮৪] - দুটো বস্তু এক হওয়াকে আরবীতে ইত্তিহাদ বলা হয়। পথভ্রষ্টদের পরিভাষায় ইত্তিহাদ হল এই ধারণা যে স্রষ্টা ও সৃষ্টি অথবা এর কোন অংশ প্রকৃতপক্ষে একই সত্তা। স্রষ্টা ও গোটা সৃষ্টি একই সত্তা হওয়ার মতবাদকে ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’(وَحْدَة الوُجُود)[৮৫] বলা হয়। যারা স্রষ্টা ও সৃষ্টির কোন অংশ একই সত্তা হওয়ায় বিশ্বাসী তারা ধারণা করে যে নবী, সৎকর্মশীল, দার্শনিক প্রকৃতির লোকেরা স্রষ্টারই অংশ।



হুলুল ও ইত্তিহাদের ধারণা সুস্পষ্ট কুফর ও ধর্মদ্রোহিতা, আর এর মধ্যে নিকৃষ্টতার দিক থেকে ইত্তিহাদ হুলুলের চেয়েও মারাত্মক, কারণ তা সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে এক সত্তায় পরিণত করেছে।



জ্যোতিষশাস্ত্র ও ইসলাম



আল-কুরআন এবং হাদীসে দিনের আলোর মত স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে গায়েবের জ্ঞান বা অদৃশ্যের জ্ঞান আল্লাহ পাকের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্য, এতে কারও কোন অংশীদারিত্ব নেই। গায়েবের জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে এমন সবকিছু যা মানুষের ইন্দ্রিয়সমূহের দ্বারা জানা যায় না। সেটা হতে পারে অতীতের ঘটনা, কিংবা ভবিষ্যতের ঘটনা কিংবা দূরত্বের কারণে মানুষের জ্ঞান থেকে অন্তরালে থাকা কিছু যেমন জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছু বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ পাক চাইলে তাঁর সৃষ্টির কোন অংশকে জানাতে পারেন, যেমন তিনি রাসুল (স) মারফত আমাদেরকে জান্নাত জাহান্নামের বিবরণ জানিয়েছেন। তেমনি আল্লাহ পাক পৃথিবীতে মানুষের রিযিকের বিলিবন্টন সংক্রান্ত তথ্য ফেরেশতাগণের নিকট প্রকাশ করলে তাঁরা তা জানতে পারেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নবী-রাসূল কিংবা ফেরেশতারা গায়েব জানেন, বরং গায়েবের জ্ঞানের একাংশ আল্লাহ পাক তাদেরকে জানালে তবেই কেবল তারা তা জানতে পারে। আর তাই এটি ইসলামী আকীদার একটি অন্যতম মূলনীতি যে গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ পাকের বৈশিষ্ট্য, এই বৈশিষ্ট্য কারও প্রতি আরোপ করলে তাকে আল্লাহর সমকক্ষ করা হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'লা বলেন -

বল, 'আল্লাহ ব্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং তারা জানে না কখন তাদের পুনরুত্থান হবে।[৮৬]

জ্যোতিষশাস্ত্র, রাশিচক্র এবং অনুরূপ ভ্রান্ত বিদ্যাগুলোর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থা ও অবস্থান দেখে কোন ঘটনা, ভাগ্য বা ভবিষ্যৎ নির্ণয় করা। এই বিদ্যাচর্চার দুটি তাওহীদ বিরোধী দিক রয়েছেঃ



প্রথমতঃ এই ধারণা করা যে গ্রহ-নক্ষত্র মহাবিশ্বের ঘটনাবলীকে সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে, এই ধারণা মূলত রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শিরক করার সমতুল্য।

দ্বিতীয়তঃ গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান থেকে মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যত নির্ণয়ের চেষ্টা, যা কিনা আল্লাহ পাকের অদৃশ্যের জ্ঞানের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে অপরকে শরীক করার শামিল।



জ্যোতিষশাস্ত্র ইসলাম ধর্মে পুরোপুরি হারাম। কারণ এতে বিশ্বাস করা হচ্ছে যে আল্লাহতা'লা নন বরং গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানই মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অনেকে জ্যোতিষশাস্ত্রের (Astrology) সাথে জ্যোতির্বিদ্যাকে (Astronomy) মিলিয়ে ফেলেন। দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান দেখে মানুষের ভাগ্য বলে দেয়া হয়। আর জ্যোতির্বিদ্যায় গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের উপর নির্ভর করে গানিতিকভাবে হিসেব করে সময়, ঋতুচক্র, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি নির্ণয় করা হয় (যেমন প্রাচীনকালে নামাজের সময়সূচী ও ইসলামিক বর্ষপঞ্জী তৈরি করার কাজে জ্যোতির্বিদ্যার অংকপ্রণালী ব্যবহার করা হত)। এ প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনের আলকুদ্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর হুসাম আলদ্বীন ইবনে মুসা আফানা'র ভাষ্য -



First of all, it is worth noting that the Arabs knew astronomy a long time ago. They would predict time through observing the movements of stars. According to the scholars of Shar`iah, there are two terms confused in many people's minds when it comes to dealing with the question in hand. These terms are astronomy and astrology. Astronomy is the science that deals with studying the movements of the celestial bodies and reducing observations to mathematical order. That science is useful in determining time, seasons, the direction of Prayer, etc. Astrology, on the other hand, is concerned with studying the positions and aspects of celestial bodies in the belief that they have an influence on the course of natural earthly occurrences and human affairs. Astrologists believe that the movements of stars have an influence on people's lives. Both Muslim astronomers and [religious] scholars refuse the prophecies of astrologists.[৮৭]



অর্থাৎ ইসলামে জ্যোতিষশাস্ত্র কিংবা ভবিষ্যৎগণনার কোন স্থানই নেই।



জ্বিন জগৎ ও ইসলাম



জ্বিন জাতি কুরআনে বর্ণিত এক অতিপ্রাকৃত সত্তা। আরবি জ্বিন শব্দটির আক্ষরিক শব্দার্থ যে কোন কিছু যা গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী বা অনেক দূরবর্তী।[৮৮] পৃথিবীতে মানুষের আগমনের আগে থেকেই তাদের অস্তিত্ব ছিল, এখনও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষ তাদের দেখতে পায়না, তবে জিনরা মানুষকে দেখতে পায়। তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। মানুষের মত তাদের মধ্যেও ভালো ও খারাপ ভেদাভেদ রয়েছে।



কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জ্বিনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাস এর শেষ অংশে জ্বিন জাতির উল্লেখ আছে। জ্বীনদের সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহতা'লা বলেন-



আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্য যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।[৮৯]

হযরত সুলায়মান (আ) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে -



সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হল তার বাহিনীকে - জিন, মানুষ ও পাখিদেরকে এবং তাদেরকে বিন্যস্ত করা হল বিভিন্ন ব্যুহে।[৯০]



কুরআনে আরো বলা আছে হযরত মুহাম্মদ (স) কে জিন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।[৯১][৯২] অর্থাৎ ইসলামে কোনভাবেই জ্বীনদের অস্তিত্ব অস্বীকার করবার উপায় নেই। জ্বিনরা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। বিশিষ্ট ইসলামিক পন্ডিত ইবন তাইমিয়াহ'র মতে যাদুকরদের যাদুর নেপথ্যে রয়েছে জ্বিনদের বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ। এর প্রয়োগেই যাদুকররা কোন জিনিসকে শূন্যে ভাসিয়ে ফেলত, ভাগ্যগননাকারীরা ভবিষ্যৎ জেনে নিত আর আধ্যাত্মিক গুরুরা যখন আত্মাদের সাথে যোগাযোগ করত তখন ভাওতাবাজী করার জন্য জ্বিনরা মৃত মানুষের গলার স্বর নকল করে কথা বলত।[৯২] সাধু সন্ন্যাসী, ভাগ্যগণক, যাদুটোনা চর্চাকারীদের দ্বারা সংঘটিত নানা অলোকিক ঘটনা দেখে বহু মানুষ তাদেরকে আল্লাহর প্রিয় পাত্র ভাবা শুরু করে এবং তাদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার আতিশয্যে তারা যা বলে তাই করতে থাকে। পুরো ব্যাপারটিই ঘটে জ্বিনজগত সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতার কারণে। মানুষের মাঝে একদল লোক যাদুটোনা, ভাগ্যগণনা জাতীয় বাতিল ও নিষিদ্ধ বিষয় চর্চার জন্য জ্বিনদের সাহায্য নেয়, তারা শয়তান জ্বিনদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য নানাপ্রকার শিরকী ও কুফরী কাজ করে, জ্বিনদের ইবাদত করে, ফলে শয়তান জ্বিনেরা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে এই সমস্ত নিষিদ্ধ বিষয় চর্চায় সাহায্য করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতা'লা বলেন -



আর যেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে সমবেত করবেন। সেদিন বলবেন, “হে জ্বিনের দল, মানুষের অনেককে তোমরা বিভ্রান্ত করেছিলে” এবং মানুষদের মধ্য থেকে তাদের সঙ্গীরা বলবে, “হে আমাদের রব, আমরা একে অপরের দ্বারা লাভবান হয়েছি এবং আমরা পৌঁছে গিয়েছি সেই সময়ে, যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।” তিনি বলবেন, “আগুন তোমাদের ঠিকানা, তোমরা সেখানে স্থায়ী হবে। তবে আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত।” নিশ্চয় তোমার রব বিজ্ঞ, সর্বজ্ঞ। [৯৩]



অর্থাৎ আমাদের চারপাশে মানুষের করা অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার যেসব প্রয়োগ দেখা যায়, যা সাধারণ চোখে অলৌকিক বলে মনে হয় তা আসলে জ্বিনদের ঘটানো ব্যাপার-স্যাপার। আর এসব কাজে জ্বিনদের সাহায্য নেবার ব্যাপারে আল্লাহতা'লা সাহায্যকারীদের জাহান্নামের বার্তা দিয়েছেন।



চলবে...

রেফারেন্সসমূহঃ

৮৩। সূরা মুলক, আয়াত ১৬

৮৪। Click This Link

৮৫। Click This Link

৮৬। সূরা নামল, আয়াত ৬৫

৮৭। Astronomy and the Beginning of the Lunar Months - lecture given by Dr. Yusuf Marwah

৮৮। http://en.wikipedia.org/wiki/Jinn

৮৯। সূরা যারিয়াত, আয়াত ৫৬

৯০। সূরা নামল, আয়াত ১৭

৯১। Muḥammad ibn Ayyub al-Ṭabari, Tuḥfat al-ghara'ib, I, p. 68;

৯২। Abu al-Futuḥ Razi, Tafsir-e rawḥ al-jenan va ruḥ al-janan, pp. 193, 341

৯২। Ibn Taymiyyah, al-Furqan bayna awliya’ al-Raḥman wa-awliya’ al-Shayṭan ("Essay on the Jinn"), translated by Abu Ameenah Bilal Phillips

৯৩। সূরা আনআম, আয়াত ১২৮

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জুন, ২০১৩ দুপুর ১:০১

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: আপনি কোয়ান্টাম নিয়ে যে ব্যাপক গবেষণা করছেন - আমার মনে হয় এটাই কোয়ান্টামের জন্য বিরাট সফলতা। সে তার কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু মানুষের মাঝে নিজের পরিচিতি ও গ্রহনযোগ্যতা তৈরী করতে পেরেছে বলেই আপনি এই গবেষণায় আগ্রহী হয়েছেন। অন্যথায় এই দেশে কত প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন তৈরী হচ্ছে আবার সময়ের ব্যাবধানে হারিয়েও যাচ্ছে তার হিসেব কে রাখে।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ব্যাপারে আপনি যত অভিযোগ/আপত্তি উত্থাপন করেছেন তার জবাব/ব্যাখ্যা দেয়ার দ্বায়িত্ব তাদেরই। আমি আমার সামান্য অভিজ্ঞতায় কিছু কথা বলছি - হয়ত এগুলি আপনার জন্য নতুন কোন চিন্তার খোরাক হবে।

বিজ্ঞান সম্পর্কে সহজ বক্তব্য হচ্ছে 'যে কোন বিষয়ে কোন সুনির্দিস্ট পদ্ধতিতে জ্ঞান আহরণ সংরক্ষণ বিশ্লেষণ ও বিতরণ কে বিজ্ঞান বলা হয়'। বিজ্ঞান মাত্রই ভৌত বিজ্ঞান নয় - বরং সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, রাস্ট্রবিজ্ঞান - এ'গুলিকেও বিজ্ঞানের আওতাধীন বিবেচনা করা হয়। কোয়ান্টাম যে বিজ্ঞানের কথা বলে তা সম্ভবত এই ধরনের বিজ্ঞান। তারা যেহেতু জীবন জাপনের উন্নততর উপায় সম্পর্কিত বিষয়গুলি সুনির্দিস্ট পদ্ধতিতে আহরণ বিশ্লেষন সংরক্ষণ ও বিতরণের কাজ করছে তাই এটাকে বলছে 'জীবন যাপনের বিজ্ঞান'।

ধর্ম বা স্রস্টার বিষয়ে তাদের অবস্থান হচ্ছে একজন বা অনন্য এক সত্তার প্রতি বিশ্বাস। তবে ধর্মীয় সংস্কৃতি বা ইবাদত পদ্ধতি বা পরকালীন সাস্তি/পুরোষ্কার সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে তারা কোন কথা বলে না। এর মুল কারণ হচ্ছে তারা সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তাই ধর্মের এইসব বিষয়গুলি তারা যার যার নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও শিক্ষার উপর ছেড়ে দেয়। এ'জন্যই এটা কোন 'ইসলামী সংগঠন' নয়, নয় কোন 'ধর্মীয় সংগঠন' । এটা হচ্ছে 'জীবন যাপনের বিজ্ঞান' যেখানে শুধুমাত্র ইহকালীন জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

হ্যা মনের শক্তি সম্পর্কিত তাদের কিছু কিছু কথাকে স্রস্টার সাথে শরিক বা সাংঘর্ষিক মনে হয় বটে - কিন্তু একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলেই বিষয়টা বুঝা যায়। ধরুন বৃস্টিপাতের কথা। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন তিনিই বৃস্টি বর্ষণ করেন। সাম্প্রতিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে 'সুর্যের তাপে পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে যায় এবং শীতল হয়ে বৃস্টি আকারে ঝরে পরে - যা পানিচক্র নামে পরিচিত'। এখন কি আপনি বলবেন 'আল্লাহ নয় বরং পানি চক্রই বৃস্টি ঘটায়?' অথবা বিজ্ঞানের বই এ যখন লেখা হচ্ছে 'পানি চক্রের কারনে বৃস্টি হয় ' তখন সেটা বিশ্বাস করা কি শিরক হবে?

আসলে এই বিশ্বজগতের সব কিছুই সুনির্দিস্ট কিছু নিয়মের মাধ্যমে ঘটে - আল্লাহ সেই নিয়মগুলি তৈরী করে রেখেছেন। তাই আমরা বলি - 'আল্লাহ পানি চক্রের মাধ্যমে বৃস্টি বর্ষণ করান' - ফলে পানিচক্রও মানা হয় আবার শিরকও হয় না।

এবার মনের শক্তি সম্পর্কে কোয়ান্টামের বলা সকল কথা এই ফরম্যাটে চিন্তা করুন। তাহলে আর সেগুলিকে শিরক মনে হবে না। কোয়ান্টাম এটাই বলে যে মনের শক্তি এবং তার ব্যাবহার পদ্ধতি বিশ্বজগতের স্রস্টাই ঠিক করে দিয়েছেন - আমরা সেই পদ্ধতিগুলি খুঁজে বের করছি মাত্র। যদি আমরা সঠিক পদ্ধতিটি খুঁজে পাই তাহলে সেটা মানব কল্যানে কাজে লাগাতে পারব। এই অনুসন্ধানই ভৌত দৃস্টিতে বিজ্ঞান, আধ্যাত্মিক দৃস্টিতে ধ্যান। আর এই দুয়ের সমন্ময়ের চেস্টায় কর্মরত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

১৩ ই জুন, ২০১৩ সকাল ১১:৩১

গোবা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই বিশাল কমেন্ট করার জন্য। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কতটুকু গ্রহনযোগ্যতা তৈরি করেছে সেটা ঠিক জানিনা, তবে পরিচিত-অপরিচিত প্রচুর মানুষ এই সংগঠনে যোগ দেয়ায় কৌতুহলের বশবর্তী হয়ে এটা নিয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু করি। খোঁজখবর নিতে গিয়েই বেশ কিছু জিনিসে খটকা লাগে, যার ফলশ্রুতিই হচ্ছে এই লেখাটি। প্রথমেই একটা অনুরোধ করব, দয়া করে কি আপনি লেকাটির সবগুলো পর্ব পড়বেন?

আপনি বিজ্ঞানের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তাতে সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, রাস্ট্রবিজ্ঞান - এসবও বিজ্ঞানের আওতায় পড়ে। তবে জীবন যাপনের জন্য ধ্যান করা দরকার বা মনকে কাজে লাগিয়ে আশপাশের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার - এই কনসেপ্টটা কিভাবে বিজ্ঞানের আওতায় পড়ে, ভাই? ধ্যান করে কিভাবে "জ্ঞান আহরণ সংরক্ষণ বিশ্লেষণ ও বিতরণ" হচ্ছে সেটাও বুঝতে পারছিনা যে!

কেন এরা ইসলাম ধর্মের মাঝে ধ্যান নিয়ে আসে? ইসলাম ধর্মে ধ্যান করা বৈধ এটা বোঝাতে কেন তারা জাল হাদীস আর কুরআনের আয়াতের বিকৃত ব্যাখ্যা করছে? আপনি বললেন যে "তবে ধর্মীয় সংস্কৃতি বা ইবাদত পদ্ধতি বা পরকালীন সাস্তি/পুরোষ্কার সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে তারা কোন কথা বলে না।" যদি তাই হয় তবে কেন এরা ধ্যানকে ইবাদত হিসেবে দেখে? কেন বলে যে অন্যান্য ইবাদতের আগে (নামাজ, কুরআন তেলওয়াত) ধ্যান করা অপরিহার্য? এটা কি অনেকটা লোকজনের কাছে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন কাজকর্ম নিজেদের আলোকে তুলে ধরার শামিল নয় কি? আরেকটি কথা ভাই আপনি বলছেন যে এরা "ধর্মীয় সংগঠন", এরা সব ধর্মকেই সমান ভাবে গুরুত্ব দেয়। যদি তাই হয়, তবে একটা বিশাল সমস্যা এখানে দেখা দিচ্ছে। ইসলাম বলে ইসলাম ব্যতীত অন্যসব ধর্ম কুফরী ধর্ম। কুফরী ধর্মের সাথে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন আল-ইসলাম কখনোই একই কাতারে আসবেনা। যে কারণে ইসলামের পাশাপাশি অন্য ধর্মকে গুরুত্ব দেয়া যাবেনা। তাই কোন সংগঠনে অন্যধর্মালম্বীদের নিয়ে কাজ করতে পারলেও (স্বেচ্ছা রক্তদান, বন্যা-ঝড়ে আক্রান্তদের সাহায্য, শীতের কাপড় বিতরণ প্রভৃতি), ধর্মীয় সংগঠন খুলে ইসলামের পাশাপাশি অন্য ধর্মকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কোন উপায় নেই। সূরা আল কাফিরুন আন্তঃধর্ম প্রেমের বাণী ছড়ায় না বরং ইসলামকে অন্যান্য সব ধর্ম হতে আলাদা করে মহান স্থানে উন্নীত করে (যদিও লোকজন একে সব ধর্মই সমান এমন মতবাদে ভুল করে)।

মনের শক্তির ব্যাপারে আপনি বলেছৈন যে - "কোয়ান্টাম এটাই বলে যে মনের শক্তি এবং তার ব্যাবহার পদ্ধতি বিশ্বজগতের স্রস্টাই ঠিক করে দিয়েছেন - আমরা সেই পদ্ধতিগুলি খুঁজে বের করছি মাত্র।" কথাটা অনেকটা তাবিজ-কবজ দেয়া হুযুরদের কথার সাথে মিলে যায় - "তাবিজের শক্তি এবং তার ব্যাবহার পদ্ধতি বিশ্বজগতের স্রস্টাই ঠিক করে দিয়েছেন - আমরা সেই পদ্ধতিগুলি খুঁজে বের করছি মাত্র।" তার মানে কি দাঁড়ালো যে তাবিজের একটা শক্তি রয়েছে? যা এমন কিছু করে যা দিয়ে আপনার উন্নতি হবে। এ কথাটি কি শিরক নয়? মনের একটি শক্তি রয়েছে, যা দিয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের দাবী অনুযায়ী প্রকৃতির নেপথ্য শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় - এ ব্যাপারটা কি শিরক মনে হয়না?

যাই হোক, ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ যে আপনি সময় খরচ করে আমার এই লেখাটি পড়েছেন। আাশা করছি আপনি এই লেখাটির সবগুলো পর্বই পড়বেন।। ধন্যবাদ ভাই। :)

২| ০৭ ই জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১১

বাহলুল বলেছেন: সাবলিল ও সুন্দর লিখা। চালিয়ে যান ভাই

১৩ ই জুন, ২০১৩ সকাল ১০:৩৪

গোবা বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই! :)

৩| ২০ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৩

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: যাক দীর্ঘদিন পরে হলেও আপনার একটা জবাব পাওয়া গেল।

কিন্তু আমি বল্লাম কি আর আপনি বুঝলেন কি? দয়া করে এই অংশটা আবার পড়েন -

"এ'জন্যই এটা কোন 'ইসলামী সংগঠন' নয়, নয় কোন 'ধর্মীয় সংগঠন' । এটা হচ্ছে 'জীবন যাপনের বিজ্ঞান' যেখানে শুধুমাত্র ইহকালীন জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।"

কোয়ান্টাম কোন ধর্মীয় সংগঠন নয় - তাই এর সাথে ধর্মকে গুলিয়ে না ফেলাই ভাল। এ'জন্য এরা কোন ধর্মের পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলে না। শহীদ আল বোখারী নিজে মুসলিম এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে অংশগ্রহনকারী অধিকাংশই মুসলমান বলেই ইসলামের প্রসঙ্গ বিভিন্ন ভাবে এসে যায় - কিন্তু সেটা কোন মুখ্য বিষয় নয়।

আপনি মনের শক্তিকে তাবিজের শক্তির সাথে তুলনা করলেন - যেটা নিতান্তই হাস্যকর। আপনি কি অস্বীকার করতে পারেন দুনিয়ার জ্ঞান বিজ্ঞানের যত উন্নতি হয়েছে তার পিছনে ইহজাগতিক বিচারে ( বা আল্লাহর সাহায্যের পরে ) মানুষের মনই সব থেকে বেশী ভুমিকা রেখেছে? বিজ্ঞানীরা তাদের সকল চিন্তা গবেষণা প্রথমে মনে মনেই করেন - তারপর নতুন কিছু পেলে সেটা বাস্তবে প্রয়োগ করে দেখেন ঠিক হচ্ছে কী না।

দুনিয়ার কবি সাহিত্যিক নাট্যকারসহ সকল শৃজনশীল মানুষের নব নব উদ্ভাবন মনের থেকেই হয়। না কি আপনার ধারনা ওনারা মন ছাড়াই কাজ করেন?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে মন নিত্য নতুন ধারনা, বৈজ্ঞানিক সুত্র, চিন্তা, কবিতা, গান, নাটক, উপন্যাস তৈরী করে চলেছে হাজার বছর ধরে সেই মনের শক্তি কি এতেই সীমাবদ্ধ? বা সেই মনের সকল বিষয় কি আমরা ইতিমধ্যেই জেনে ফেলেছি? আমাদের জানার বাইরে মনের কি আর কোন শক্তি-ক্ষমতা থাকতে পারে না? যদি থাকে আর আমরা যদি সেটা খুজে বের করে আমাদের প্রয়োজনে ব্যাবহার করি তাহলে কি সেটা শিরক হয়ে যাবে??

২২ শে জুন, ২০১৩ সকাল ৯:০১

গোবা বলেছেন: লেখক বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য। হ্যা ওটা আমারই ভুল ছিল, আমি ঠিকমত লাইনটি দেখতে পাইনি। তবে ইসলামিক সংগঠন নয় আবার ধর্মীয় সংগঠন ও নয় - এমন একটা প্রতিষ্ঠান কেন তাহলে ধর্মকে এতো গুরুত্ব দেবে? কেন তারা বিভিন্ন ধর্মের বাণী প্রচার করে? কেন তারা মাটির ব্যাংকের উপর "হাক্কুল ইবাদ" কথাটি লিখে দেয়? কেন তারা বলে মাটির ব্যংকে টাকা ফেললে সৃষ্টিকর্তা খুশি হবেন? কেন তারা যাকাত ফান্ড করে তাতে যাকাত নেন? কেন তারা বলেন যে ধ্যান একটি ইবাদত? ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেলনা! আপনি বলছেন যে এরা ধর্মের পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেনা অথচ আমি দেখছি যে ধর্মীয় ব্যপারগুলো বেশ ভালমতই হাইলাইট করে (বরং বলা ভাল যে পুঁজি করে) এরা পথ চলছে। অন্য কোন সংগঠন যেটি ধর্মীয় নয় কিন্তু সব ধর্মের লোকজন সেখানে আসে (যেমন ধরুন ছায়ানট), সেসব কি এভাবে ধর্মকে পুঁজি করে পথ চলছে? কথায় কথায় মানত করে মাটির ব্যাংকে টাকা ফেলতে বলে? যাকাত আদায় করছে? সব ধর্মের বাণী প্রচার করছে? মোটেই না তাইনা!

মন নিয়ে যা বলেছেন তা ঠিকই আছে। বিজ্ঞানীরা মনে মনেই চিন্তা করেন, দুনিয়ার কবি সাহিত্যিক নাট্যকারসহ সকল শৃজনশীল মানুষের নব নব উদ্ভাবন মনের থেকেই হয়। সবই ঠিক আছে। কিন্তু মনের ক্ষমতা অসীম, একে দিয়ে "দৃশ্যমান সবকিছুর পেছনে প্রকৃতির যে নেপথ্য স্পন্দন ও নিয়ম ক্রিয়াশীল তাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা [১]" অর্জিত হয় - ধারণাটা কেমন হয়ে গেল বলুন তো? মন দিয়ে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার এই ধারণাটি কি শিরকের সাথে মিল খায়না? মন (আসলে মস্তিষ্ক) ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক সুত্র, চিন্তা, কবিতা, গান, নাটক, উপন্যাস তৈরী করা এক জিনিস আর মন ব্যবহার করে প্রকৃতির নেপথ্য শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা আরেক জিনিস। এখন কোয়ান্টাম যদি বলে যে মনের ক্ষমতা এতই অসামান্য যে একে দিয়ে প্রকৃতির নেপথ্য শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তবে বলতেই হয় যে মানুষ নিজেই নিজের ও অপরের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যেটা "রবুবিয়াতের ক্ষেত্রে শিরক" হয়ে যায়।


[১] সাফল্যের চাবিকাঠি কোয়ান্টাম মেথড - মহাজাতক; পরিবর্ধিত নতুন সংস্করণ - জানুয়ারী, ২০০০। পৃষ্ঠা - ১৬১।

৪| ২৩ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১:৪১

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: "হ্যা ওটা আমারই ভুল ছিল, আমি ঠিকমত লাইনটি দেখতে পাইনি"

যাক অন্তত নিজের ভুল স্বীকার করলেন - ধন্যবাদ। আসলে আমাদের অবস্থাতো এমনই যে - একটা কমেন্ট ঠিকমত মনোযোগ দিয়ে পড়ি না, অথচ অন্যের সমালোচনা করতে ওস্তাদ! কারণ, সমালোচনা হচ্ছে সবচেয়ে সহজ কাজ।

আমি আগেও বলেছি, কোয়ান্টামকে ডিফেন্ড করা আমার কাজ নয়, কারণ আমি কোয়ান্টামের কর্তৃপক্ষ নই। আমি বাইরে থেকে যতটুকু দেখেছি তাতে তাদের সমালোচনার চেয়ে সমর্থনযোগ্য কাজেই বেশী তৎপর মনে হয়েছে।

তারা লামাতে শিশুকানন তৈরী করে পুরো পাহাড়ী জনপদের ৯টি ভিন্ন ভিন্ন জাতির পাঁচ শতাধিক শিশুকে শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় এনেছে যাদের অধিকাংশ বংশের প্রথম শিক্ষিত ব্যাক্তি হবে। ওখান থেকে পাশ করে একজন খুলনা মেডিকেলে চান্স পেয়েছে বলে শুনেছি যে কি না তার পুরো জাতির মধ্যে প্রথম ডাক্তার হতে চলেছে। আর এই প্রতিষ্ঠানটি চলছে কোয়ান্টামের নিজস্ব অর্থায়নে - কোন সরকারী সাহায্য নাই, নাই কোন বিদেশী অনুদান।

অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে যদি শুধুমাত্র এই শিশুকাননের কথাও বিবেচনা করি তাহলেও বলতে হয় কোয়ান্টাম নি:সন্দেহে একটি মহৎ সংগঠন। বাংলাদেশে যদি এই মানের আরো দশটা সংগঠন গড়ে ওঠে তাহলে সেটা দেশের নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে ব্যাপক সহায়ক হবে।

কিন্তু আমরা এমনই এক জাতি যারা নিজেরা কিছুতো করবই না বরং অন্যরা কিছু করলেও তার দোষ ত্রুটি খুঁজতে জীবন পার করে দেব। এই মানষিকতা থেকে বেড়িয়ে আসতে না পারলে জাগতিক বা ধর্মীয় কোন দিক দিয়েই উন্নতির কোন সম্ভাবনা নাই।

আশা করি সমালোচনার সহজ পথ ছেড়ে নিজে কিছু করার চেস্টা করবেন। কোয়ান্টাম যা করছে তার জন্য সেই দ্বায়ী থাকবে, আপনি আমি যা করব তার দ্বায়ও আমাদেরই নিতে হবে। কোয়ান্টামের কাজে ধর্মী বা জাগতিক যেকোন ক্রটি থাকলে আমাদের উচিত ক্রটিমুক্তভাবে তার চেয়েও ভাল কিছু করে দেখান। একমাত্র তাহলেই মনুষ কোয়ান্টামে না গিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানে আসবে। অন্যথায় শুধুমাত্র সমালোচনা আসলে কোন কাজের কিছু না।

২৬ শে জুন, ২০১৩ সকাল ৮:৫৫

গোবা বলেছেন: ভাই জীবনে তো সমালোচনার দরকার আছে। কেউ যদি আমার সমালোচনা না করে তাহলে আমি তো আমার ভুল বুঝতে পারবনা, তাই না। তাই আমি সমালোচনাকে পজিটিভলিই দেখি! :)

কোয়ান্টাম ভালো কাজ করছে ভাল কথা, কিন্তু সেই ভালো কাজের জন্য খারাপ কোন কিছু অবলম্বন করা কি ভালো? ধরুন একজন ঘুষখোর প্রচুর ঘুষ খায় আর একটা অনাথআশ্রম চালা। আপনি কি তাকে সাধুবাদ দেবেন যে উনি একটা অনাথ আশ্রম চালান সেই জন্য নাকি ঘুষ খাবার জন্য তিরস্কার করবেন। আপনি সাধুবাদ দিলে উনি ভাববেন উনার ঘুষ খাওয়াটা হালাল যেহেতু উনি সেই ঘুষের টাকা দিয়ে অনাথআশ্রম চালাচ্ছেন, কিন্তু আসলেই কি তাই? একটা ভাল কাজ যখন একটা খারাপ কাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তখন কি আর সেটাকে ভালো কাজ বলা যায়? কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যেভাবে বিশাল একটা জনগোষ্ঠিকে প্রতারিত করছে (এজন্য আপনাকে লেখাটির সবগুলো পর্ব পড়তে হবে @ https://quantummethodbd.wordpress.com) সে তুলনায় একটা স্কুল চালানো বা ব্লাড ব্যাংক চালানো বা সুন্নতে-খৎনা পরিচালনা করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

যাই হোক, আমার লেখাগুলো সমালোচনামূলক নয় বরং মানুষজনকে সাবধান করে দেবার জন্য তুচ্ছ প্রচেষ্টা মাত্র। আমার এই প্রচেষ্টায় যদি একজন মানুষও প্রতারণার কবল থেকে মুক্তি পায় সেটাও কিন্তু একটা ভাল কাজ হিসেবে পরিগণিত হবে, কী বলেন? ওহ ভালো কথা, আমি যে একদমই দেশের উন্নতির জন্য কিছু করিনা তা কিন্তু নয়, ব্লগে পরিচয়ে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছি বলে নিজের আসল পরিচয় দিচ্ছিনা, তবে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আমার জায়গা থেকে আমিও দেশের জন্য কিছু করছি এবং সেটা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। :)

৫| ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১:৩১

amhabib বলেছেন: দারুন লাগলো এই পর্ব পড়ে তাই শুরু করে দিলাম ১ম পর্ব থেকে , অসংখ্য ধন্যবাদ এত কষ্ট করে শেয়ার করার জন্য

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.