| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গোবা
বলার তেমন কিছু নাই... হাবাগোবা একজন মানুষ! ব্লগ জিনিসটা এখনো আয়ত্ত্বে আসেনাই... তারপরও করি আরকি!
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যাকাত ফান্ডের মাধ্যমে যাকাতের অর্থ সংগ্রহ করে তা বিতরণ করে। এক্ষেত্রে তারা অমুসলিমদের মাঝেও যাকাত বিতরণ করে। এটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? ইসলামে যাকাতের আটটি খাত সম্পর্কে আল্লাহতা’লা সুরা আততাওবা’র ৬০তম আয়াতে বলেন-
সাদকা (এখানে যাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট (যাকাত আদায় ও বিতরণের সাথে যুক্ত) কর্মচারীদের জন্যে, যাদের অন্তর (ইসলামের জন্য) আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্যে, দাসমুক্তির জন্যে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্যে। এটা আল্লাহর বিধান। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞামায়।
এ সম্পর্কে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে বলা আছে -
>> ভিন্নধর্মী, পাহাড়ি, ধর্মহীন কাউকে যাকাত দেয়া যাবে কি-না?
>> মহান আল্লাহ যাকাত ব্যয়ের যে ৮টি খাত নির্দিষ্ট করেছেন তাতে ফকির-মিসকিন বলা আছে। ঈমানদার ফকির-মিসকিন বলা হয় নি। [০]
অর্থাৎ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলছে যে যেহেতু কোথাও ঈমানদার ফকির মিসকিনের কথা বলা হয়নি তাই ভিন্নধর্মী বা ধর্মহীনদের যাকাত দেয়া যায়। কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও বিভিন্ন হাদীস পর্যালোচনা করে ইসলামিক পন্ডিতগণের দেয়া মতামত অবশ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সাথে একেবারেই মিলেনা। তাঁদের মতে – যাকাত একটি ফরজ ইবাদত এবং একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে যাকাত দিবে। যদি আপনার আশপাশে বা পরিচিত কোন মুসলিমদের মাঝে যাকাত গ্রহনের মত কেউ না থাকে তবে সেক্ষেত্রে অমুসলিমদের যাকাত দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ একজন মুসলিমের যাকাত পাবার হক সবচেয়ে বেশি এবং সে-ই যাকাত পাবার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।[১][২][৩] এবং এরকম যাকাত পাবার মত মুসলমান আমাদের চারপাশেই প্রচুর পরিমানে রয়েছে। তার মানে এই নয় যে অমুসলিমদের দান করা যাবেনা। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং সবাইকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে থাকার জন্য ইসলামে বিভিন্নভাবে দান করাকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এরকমই একটা ব্যবস্থা হচ্ছে সাদকা। যাকাত হচ্ছে সবচেয়ে কম পরিমানের একটা দান যেটা করা আল্লাহতা’লা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন এবং এটা কেবল মুসলিমদের জন্যই। আর সাদকা হচ্ছে ঐচ্ছিক দান যা সবাইকেই দেয়া যায়। অমুসলিমদের সাদকা দেয়া যেতে পারে।[৪][৫]
অতএব আপনি যদি আপনার মুসলিম কোন ভাইকে বঞ্চিত করে ভিন্নধর্মী বা ধর্মহীন কাউকে যাকাত দিয়ে ফেলেন, ইসলামিক বিদ্বানদের মতানুযায়ী সেক্ষেত্রে আপনার যাকাত আদৌ আদায় হবেনা। তাই যাকাত দেবার ক্ষেত্রে আমাদের আগে আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের বিবেচনা করতে হবে, এবং আমাদের মত গরীব দেশে এরকম মুসলিম ভাই-বোন এতবেশি পাওয়া যায় যে যাকাত দিয়ে কূল পাবার কথা না। একটু চোখ মেলে তাকান, আপনার আশপাশেই এরকম প্রচুর দরিদ্র মুসলিম যাকাত গ্রহীতা পেয়ে যাবেন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ডের প্রশ্নবিদ্ধতা নিয়ে সামু ব্লগেই আরেকটি পোস্ট রয়েছে, দয়া করে ঐ পোস্টটিও পড়বেন।
রেফারেন্সসমূহঃ
[০] http://quantummethod.org.bd/zakat
[১] http://islamqa.info/en/ref/3238
[২] Click This Link
[৩] Click This Link
[৪] http://islamqa.info/en/ref/3854
[৫] Click This Link
১৩ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ৮:৫৯
গোবা বলেছেন: ধন্যবাদ পাকাচুল ভাই। এরা যে যাকাত দিয়ে সেটার বিনিময় নেয় সে ব্যাপারটা জানা ছিল না। ব্যাপারটা জানাবার জন্য ধন্যবাদ। এ তো ভয়াবহ শরীয়তের লঙ্ঘন! আল্লাহ তা'লা সবাইকে সুমতি দিন, আমিন!
২|
১১ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১১:৫৪
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন:
ভাই মিনিমাম বুঝটুকুন নিয়ে তারপরে না হয় প্রতিবাদ করেন!!!
আপনি যে কোটা উল্লেখ করেছেন তাতেই আপনার দাবীর অযৌক্তিকতা প্রমাণীত।
> যাদের অন্তর (ইসলামের জন্য) আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্যে,
এরা কি মুসলিম হবে? ইসলামে আকর্ষিত করা হয় কি মুসলিমকে না অমুসলিমকে?
দাসমুক্তির জন্যে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, দাসের ধর্ম কি উল্লেখ আছ? কিংবা ঋন গ্রহীতারও জাত পরিচয় অনুল্লেখ্য.....
... মুসাফিরদের জন্যে।
সো- সাধারন জ্ঞানটাকে আর একটু ঝালাই করে নিন।
১৩ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ৯:১৭
গোবা বলেছেন: জ্বী ভাই ধন্যবাদ, মন্তব্য করার জন্য। "মিনিমাম বুঝটুকু" দিয়েই ব্যাপারটা আপনাকে বোঝাবার চেষ্টা করি।
অমুসলিমদের যাকাত দেবার ব্যাপারে বিধান হচ্ছে মুসলিম যাকাতপ্রার্থীদের যাকাত দিয়ে যখন যখন আর কোন যাকাত গ্রহীতা পাওয়া যাবেনা, তারপর আপনি অমুসলিমদের দিকে যেতে পারবেন। মুসলিম যাকাত গ্রহীতাদের পাশ কাটিয়ে আপনি অমুসলিমদের যাকাত দিতে পারবেন না, তবে সদকা দিতে পারবেন। যাকাত আর সদকা'র মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে যাকাত দেয়া ফরজ আর সদকা দেয়া ঐচ্ছিক। যদি এটা নিয়ে আরো জানতে ইচ্ছা করে তবে পোস্টে দেয়া লিংকগুলো দয়া করে ঘুরে আসুন।
এক্ষেত্রে কোয়ান্টাম কি করছে? তারা পাহাড়ী অমুসলিমদের যাকাত দিচ্ছে। এখন পাহাড়ী অমুসলিমদের যাকাত দেয়া হচ্ছে কেন? তাদের কে কি ইসলামের জন্য আকর্ষণ করা হচ্ছে? (কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন তো ইসলামের দাওয়াত দেয়না, বরং তারা কুরআনের পাশাপাশি বেদ, ধম্মপদ, গীতা প্রভৃতি ধর্মের বানীও প্রচার করে)। তারা কি কারো দাস কিংবা দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে উদ্গ্রীব? (দাস মানে কিন্তু তারা যাদেরকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে কিন্তু বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক দেয়া হয়না, বাসায় যে বুয়া-ঝি-চাকর থাকে এরা মাস শেষে পারিশ্রমিক পায়, তাই এদেরকে দাসের আওতায় ফেলা যাবেনা)। তারা কি মুসাফির? (পাহাড়ে নিজেদের এলাকায় তারা নিশ্চয়ই মুসাফির নয়)...
সহজ কথা হচ্ছে দাস, ঋণভারাক্রান্ত, মুসাফির ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই মুসলিমদেরকে অগ্রধিকার দেবার কথা বলা হয়েছে। যদি আরো জানতে ইচ্ছা করে তবে দয়া করে শুধু মাত্র সূরা আততাওবার ৬০তম আয়াতটির তাফসীর পড়ুন, অনেক কিছু পরিস্কার হবে। আপনার সুবিধার জন্য তাফসীরের দুটো লিংক দিয়ে দিলামঃ
১। Click This Link
২। http://www.quran4u.com/Tafsir Ibn Kathir/009 Taubah.htm#نَّمَا
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:৩৯
পাকাচুল বলেছেন: এই ভন্ডগুলো আরো একটা কাজ করে যাকাত নিয়ে।
তারা যাদেরকে যাকাত দেয়, তাদের থেকে এর বিনিময় নেয়।
যেমন: তারা কোন দুস্হকে জাকাতের টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে দিলো, কিন্তু শর্ত থাকে, গরু যদি বাছুর দেয়, সেটা কুয়ান্টামকে দিয়ে দিতে হবে।
কাউকে যদি রিক্সা কিনে দেয়, তবে দৈনিক রিক্সার ভাড়া বাবদ যে টাকা জমা দিতে হয়, সেই টাকা কুয়ান্টামকে দিতে হয়।
আপনি যখন কাউকে জাকাত দিবেন, সেটাতে কোন শর্ত আরোপ করতে পারেন না। একবার যখন আপনি যাকাত আদায় করলেন, সেই জাকাতের উপর আপনার কোন অধিকার কিংবা দাবীদাওয়া থাকতে পারে না।
আল্লাহ কিংবা রাসুল এমন কোন বিধিবিধান দেন নাই। কুয়ান্টামের ভন্ডরা আল্লাহ রাসুলের বিধিবিধান টপকে নিজের পছন্দমতো মতবাদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে ধর্মকে নিয়ে।