| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সম্প্রতি একজন সরকারি কর্মকর্তা/ ওনার স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে শতাধিক কোটি টাকার লেনদেনের খবরে অনেকে হইচই শুরু করেছেন। বাংলাদেশে দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, কিন্তু এই মামলাটি আমার কাছে একটি দুর্বল মামলা বলে মনে হয়। যারা শতাধিক কোটি টাকার লেনদেনের খবরে হৈচৈ করছেন আমার ধারণা কারেন্ট একাউন্টের ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিভাবে তৈরি হয় এই বিষয়ে তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই।
ধরা যাক আমার একটি ছোট্ট ব্যবসা আছে এবং এই জন্য ব্যাংকে একটি কারেন্ট একাউন্ট আছে যাতে আমি শুরুতে জমা রাখলাম ১০ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১০ লক্ষ টাকা খুব বড় টাকা না, একটা মুদি দোকানেও আট-দশ লাখ টাকার উপরে পুঁজি লাগে।
ধরা যাক প্রথম সপ্তাহে আমি কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাল ক্রয় বাবদ ৮ লক্ষ টাকার চেক দিলাম, এবং মাল পাওয়ার পর আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ওই মাল ৮ লক্ষ টাকায় বিক্রি করলাম। ।( হিসাবের সুবিধার জন্য লাভের কথা বাদ দিলাম।) এভাবে আবার ৮ লক্ষ টাকার মাল কিনলাম, ৮ লক্ষ টাকার মাল বিক্রি করলাম পরের সপ্তাহে আমি পুনরায় ৮ লক্ষ টাকার মাল কিনলাম ৮ লক্ষ টাকার মাল বিক্রি করলাম আট লক্ষ টাকার মাল কিনলাম ৮ লক্ষ টাকার মাল বিক্রি করলাম। এইভাবে চার সপ্তাহ চালিয়ে গেলাম। মাসের শেষে ব্যাংক আমার ব্যালেন্সে দেখাবে ৬৪ লক্ষ টাকা জমা ,৬৪ লক্ষ টাকা বের হয়ে গিয়েছে মোট এক কোটি ২৮ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। (প্রথম দিনের জমা ১০ লক্ষ টাকা ধরলে এক কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার লেনদেন) ।
যদি সপ্তাহে দুইবার জমা দুইবার উত্তোলন না হয়ে ছয়বার জমা ছয় বার উত্তোলন হয় তাহলে এই পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে যাবে। ১০ লাখ টাকার একাউন্টে মাসে ৫ কোটি টাকার লেনদেন মোটেও আস্বাভাবিক ব্যাপার না। একটা কারেন্ট একাউন্টে বছরে দেড়শ কোটি টাকা লেনদেন খুব অস্বাভাবিক ব্যাপার না।
একজন সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবসায় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারার কথা না। কিন্তু নিয়ে ফেললে তা কন্ডাক্ট রুলের লংঘন হবে। তবে এটার জন্য তিরস্কার বা এই জাতীয় মৃদু শাস্তির সম্ভাবনা বেশি। যারা এই ধরনের কাজ করেন সাধারণত আইনজীবীর সাহায্য নিয়ে কর রিটার্ন দাখিল করেন। উনি যদি সত্যিই সত্যিই দুই নম্বরি করে থাকেন তাহলেও বিষয়টাতে খুব বড় রকমের সাজা হবে বলে মনে করি না, হয়তো আপাতত সাসপেনশনে থাকবেন, মামলা কয়েক বছর ঝুলে থাকবে পরে পূর্বের বকেয়া বেতন সহ রি-ইনস্টেড হবেন।
সরকার যখন জনগণকে ক্ষমতার উৎস মনে করে টিকে থাকার জন্য আমলাদের উপর নির্ভর করে না তখন দুর্নীতি দমন করতে চাইলে সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। আর সরকার নিজেই দূর্নীতি গ্রস্থ হলে সেক্ষেত্রে আমলাদের দুর্নীতি ধরতে চাইলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসার সমূহ সম্ভাবনা।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:২২
গোবিন্দলগোবেচারা বলেছেন: কষ্ট করে আমার পাতায় এসে পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্যজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=122119108136976521&id=61579295638162
খবরটা সত্য হলে অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৫২
খায়রুল আহসান বলেছেন: দুর্নীতি দমনের জন্য সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট, এ কথাটি সঠিক।