| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হাবীব আহসান অনিক
আমি সাধারণ একজন মানুষ। যন্ত্রপাতি নিয়ে আমার প্রাত্যিহিক কাজকর্ম। কাজ করছি দেশের জন্য...
নব্বই এর দশকের পরের কথা।
আমার ছোটবেলা কেটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। বাবা ছিলেন কলেজের শিক্ষক। প্রতিবেশি দুই বন্ধু সিদ্ধার্থ এর বাবা ছিলেন স্থানীয় গার্লস স্কুলের টিচার। আমি তার কাছে বাংলা ব্যাকরণ পড়তে যেতাম। রানার বাবা ছিলেন ডোম বা সুইপার। সপ্তাহন্তে তিনি এসে আমাদের টয়লেটের ওপেন কন্টেইনার ভ্যাকুয়েট করে দিতেন। আমার এস এস সির আগ পর্যন্ত এরাই আমার ছিল সবচেয়ে কাছের বন্ধু। দিনের অন্ততঃ বার থেকে চৌদ্দ ঘন্টা এদের সাথে কাটিয়েছি এক প্লেটে খেয়ে, এক মাঠে খেলে, এক বালিশে ঘুমিয়ে। আশুরার হালুয়া-রুটি বা বৌদ্ধ-পূর্ণিমার পায়েস বা পূজার লাড্ডু সকলে সমানে গলা ডুবিয়ে আস্বাদন করেছি। নামাজের সময় তারা মসজিদের সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করেছে। আমি গিয়েছি তাদের পুজা মন্ডপে আর মঠের বুদ্ধের সৌম্য মুর্তি ইতিহাস চারণ করারে পুলকিত করেছে। আমার মা রানা বা সিদ্ধার্থের মা-র গলা ধরে গল্প করে কয়েকশো অলস দুপুর কাটিয়ে দিয়েছেন। বাবা-রা রাতের পর রাত পার করেছেন তাস পিটিয়ে। কে বৌদ্ধ কে মুসলমান কে হিন্দু কেউ প্রশ্ন তুলে নাই। কে ছোট কে বড় কখোনো আমাদের মাথাতেও আসে নাই।
বিশ বছর পর জীবিকার তাগিদে আমরা প্রত্যেকে এখন ঢাকায়। আজ আমার দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আমারে নতুন করে শেখাইতে আসে তোমার বন্ধুরা সংখালঘূ। তাদের উপাসনালয় হাত দেয়া যাবে না। বিগ্রহ ভাঙ্গা যাবে না।
আমরা কেউ কখনোই কোন রাজনৌতিক দলকে প্রত্যক্ষ সার্পোট করি নাই। তারপরেও এখন ফেসবুকে সিদ্ধার্থ আমাকে রাজাকার বলে। আমি ওরে বলি বুদ্ধিজীবি। রাস্তায় দেখা হইলে দুজন দুই দিকে তাকিয়ে পাশ কাটাই। আমাদের দুজনের এমন আচরনে রানা অনেক দূরে সরে গেছে। আমাদের কারোর সামনেই এখন সে আর আসে না।
আমাদের মাঝে এই পরিস্থিতি যে বা যারা তৈরী করেছে সে বা তারা কি কোনভাবে ক্ষমা পাবে? জানি না…
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:৫৩
আমিনুর রহমান বলেছেন: দারুন বলেছে। তাদের কখন ক্ষমা করা হবে না।