নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হাবিবমহাজন

আমার চিন্তা, আমার চেতনা, আমার অভিজ্ঞতা

হাবিবমহাজন

নিভৃতচারী প্রগতিশীল সচেতন ও সুখী সমাজের স্বপ্ন দেখি।

হাবিবমহাজন › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঘুরে আসুন নন্দন পার্কে

০৫ ই মার্চ, ২০০৬ ভোর ৪:৩৮

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে নন্দন পার্ক একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে সব ধরনের দর্শনাথর্ীদের কাছে স্বীকৃতি লাভ করেছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নে নন্দন গ্রুপ এবং ভারতের বৃহত্তম পার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিকো পার্কস এন্ড রিসোর্টস লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই পার্ক প্রতিষ্ঠিত। রাজধানী ঢাকার সনি্নকটে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে বিকেএসপি এবং চন্দ্রার মাঝামাঝি সাভারের বাড়ইপাড়ায় 60 বিঘা জায়গা নিয়ে এ পার্কঅবস্থিত।



নন্দন পার্ক দর্শনাথর্ীদের মনের আবেগ, অনুভূতি ও চাহিদা উপলব্ধি করে সংযোজন করছে নিত্য নতুন রাইড। এরই ধারাবাহিকতায় নন্দন পার্ক অ্যাডভেঞ্চার জোনে সংযোজন করেছে রোমাঞ্চকর ও দুঃসাহসিক রাইডগুলো, যা বর্তমান যুগের উদ্যমী ও প্রাণচঞ্চল তরুণ-তরুণীদের কাছে এক আনন্দপূর্ণ ও আকর্ষণীয় রাইড হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। এসব রাইডে আরোহণের জন্য রয়েছে যথেষ্ট নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।



নন্দন পার্কে ঢুকলেই বসন্তকালীন ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে হয়। তারপর পায়ে পায়ে হেঁটে এগিয়ে গেলে চমৎকার ছিমছাম পরিবেশে বড়ো একটি টাওয়ার চোখে পড়বে। ওটাই অ্যাডভেঞ্চার জোন। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই অ্যাডভেঞ্চার জোন তৈরি করা হয়েছে।



অ্যাডভেঞ্চার জোনে রয়েছে 5টি রাইড। রাইডগুলোর নাম হলো জিপ রাইড, রক ক্লাইম্বিং, র্যাপলিং, চ্যালেঞ্জ কোর্স এবং অবস্ট্যাকল কোর্স। এর মধ্যে প্রথম 4টি রাইড বড়োদের জন্য এবং শেষোক্ত রাইডটি 5 থেকে 10 বছরের বাচ্চাদের জন্য।



1. জিপ রাইডঃ

45 ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট টাওয়ার থেকে প্রায় 550 ফুট দূরত্বে 45 ডিগ্রি স্লোপে 14 মি.মি. স্টিল ওয়ারের সাহায্যে স্যান্ডিং পয়েন্টে বা ভূমিতে অবতরণ করতে হয়। এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় রোমাঞ্চকর রাইড।



2. রক ক্লাইম্বিংঃ

এই রাইডটি 45 ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট 90 ডিগ্রি খাড়া একটি টাওয়ারের পাশর্্ব দেশে পর্বতাকৃতি করে তৈরি করা হয়েছে। ঐ পর্বতের গায়ে লাগানো কৃত্রিম পাথর বেয়ে পর্বতারোহণ করতে হবে এই দুঃসাহসিক খেলায়। আরোহণকারীর নিম্ন পতন রোধের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।



3. র্যাপলিং ঃ

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে র্যাপলিং একটি অত্যন্ত সহজ ও আনন্দদায়ক রাইড। এটাও 45 ফুট উঁচু টাওয়ারের ওপর থেকে টাওয়ারের খাড়া গা বেয়ে বেয়ে স্ট্যাটিক রোপের সাহায্যে কৃত্রিম পাথরে র্যাপলার পা দুটি একসঙ্গে কাঁধ বরাবর বাঁকা করবে এবং হাঁটু দুটি 90 ডিগ্রি সোজা করে টাওয়ারের গায়ে জোরে ধাক্কা মেরে পিছনে যাবে এবং একই সময় হাতের মধ্যে স্ট্যাটিক রোপ রিলিজ করে নিচে অবতরণ করতে হবে এই দুঃসাহসিক খেলায়।



4. চ্যালেঞ্জ কোর্সঃ

এটা অ্যাডভেঞ্চার জোনের আরো একটি দুঃসাহসিক ও রোমাঞ্চকর রাইড। এই রাইডটি বার্মা ব্রিজ, প্লাংক পেন্ডুলাম, প্যারালাল রোপ এবং হর্স পেন্ডুলামের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি রাইডের উচ্চতা 18 ফুট এবং দৈর্ঘ্য 24 ফুট।



5. অবস্ট্যাকল কোর্স ঃ

এই রাইডটি সম্পূর্ণভাবে 5 থেকে 10 বছরের বাচ্চাদের জন্য। এই রাইডটি উপভোগ করার সময় রাইডারের নিরাপত্তার জন্য অভিভাবক সঙ্গে থাকবেন এবং নিরাপত্তা বিধান করবেন।



মাত্র 60 টাকার টিকিটের বিনিময়ে এই রাইডগুলো উপভোগ করা যাবে। এ রাইডগুলোর ব্যবহারের নিয়মনীতি ও নিরাপত্তা নীতি কঠেরভাবে মেনে চললে দুর্ঘটনার কোনো অবকাশই থাকবে না।



অ্যাডভেঞ্চার রাইড, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, ওয়াটার কোস্টার, ক্যাবল কার, আইসল্যান্ড, টাইটানিকসহ এ পার্কে রয়েছে বিশ্বমানের 28টি রাইড। দুইভাবে নন্দন পার্কে যাওয়া যায়। ঢাকা-সাভার-নবীনগর-চন্দ্রা রুটে অথবা ঢাকা-আশুলিয়া-চন্দ্রা রুটে নিজস্ব পরিবহনে অথবা পার্কের তত্ত্বাবধানে ঢাকা-চন্দ্রা রুটের সুপার বাস, হানিফ মেট্রো এবং মঞ্জিল পরিবহনে যাওয়া যায় নন্দন পার্কে।



সপ্তাহের রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল 11টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত, শনিবার সকাল সাড়ে 10টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন সকাল 10টা থেকে রাত 9টা পর্যন্ত খোলা থাকে।



এ পার্কে বাইরের কোনো খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। রুচিসম্মত, পরিষ্কার আর স্বাদে ভরা পছন্দের সব ধরনের দেশী ও বিদেশী খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে নন্দন পার্কে। পার্কে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি 60 টাকা (গত শুক্রবার ব্যান্ডশো থাকায় প্রবেশ মূল্য ছিল 150 টাকা)। শুধু মাত্র ওয়াটার ওয়ার্ল্ডএর ফি 250 টাকা।এছাড়া প্রতিটি রাইডের জন্য রয়েছে বিভিন্ন মূল্যের আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা।



রাজধানীর আশপাশে যারা বেড়াতে যেতে চান তারা চলে যেতে পারেন সাভারের নন্দন পার্কে।

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:০৩

অতিথি বলেছেন: নন্দন পার্কের বিশাল বর্ননা। তার চেয়ে বড় কথা হলো ভেজালহীন পরিচ্ছন্ন একটি ব্লগ।
ধন্যবাদ মহাজন, ভালো পোষ্টের জন্য।

২| ০৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:০৩

হাবিবমহাজন বলেছেন: ঝড়ো হাওয়া ধন্যবাদ ঝড়ের বেগে মন্তব্য করার জন্য।

৩| ০৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:০৩

কাশফুল বলেছেন: হাবিবমহাজন ভাই আপনার পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ ।
আপনি কি অগি্নতে কাজ করত রাহাত ভাইকে চেনেন ?

৪| ০৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:০৩

অতিথি বলেছেন: বস আবার গেলে আমাকে জানাবেন।

৫| ০৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৩

অতিথি বলেছেন: নন্দন পর্াক সমর্্পকে জেনে উপকৃত হলাম।

৬| ০৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৩

হাবিবমহাজন বলেছেন: কাশফুলঃ খুবই সুন্দর ব্লগ নিক আপনার । আইসিটির সঙ্গে যুক্ত বলে আমার ফ্রেন্ড স সার্কেলও আইসিটি থেকে এসেছে বেশী। যাই হোক রাহাত ভাইকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। অগি্নর মালিক পক্ষ সালাম ভাই, সামসী ভাই, কনসালটেন্ট মোজাহেদ, সাপোর্টের বাপপি, রুমেলসহ অনেকের সাথে আমার ব্যক্তিগত এবং ভালো সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে রুমেল ও বাপপি গত ঈদ উল-আযহার পর দিন থেকে আমাদের সপ্তাহব্যাপী সেন্ট মার্টিন ভ্রমনের সঙ্গী হয়েছিল। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

সঞ্চয়ঃ তুমি খুব জুনিয়র হয়ে যাও আমাদের ভ্রমন দলে।হিঃ হিঃ নো প্রবলেম। ভ্রমনে এত সাংবিধানিক নিয়ম মানলে চলে না। অথর্াৎ নো জুনিয়র, নো সিনিয়র।

অপেক্ষায় থাকো সামনের এই গরমে এমন টাইপের ভ্রমন মাসে অন্ততঃ 2 বার না করলে আমাদের পেটের ভাতই হজম হবে না। খরচ কিন্তু পার হেড একেবারেই সমান সামন (তোমার 1টাকা দামের কি যেন ধোয়ার ব্রান্ড সেটাবাদে!!??) । আগামী নভেম্বর থেকে দার্জিলীং দিয়ে শুরু করব আমাদের দেশের বাইরের ভ্রমন।

৭| ০৫ ই মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১২:০৩

অতিথি বলেছেন: সমস্যা নাই বস আমি আছি।খরচের ব্যাপারে চিন্তা কইরেননা ।

৮| ০৫ ই মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:০৩

হাবিবমহাজন বলেছেন: সঞ্চয় তুমি হয়তো মাইন্ড করছ, হয়তো বা করো নাই - খরচের ব্যাপারটি নিয়ে। যাই হোক একটা কিসসা শোনঃ

আমি, পলিন ও সবুজ অফিস টাইমের পরে বসুন্ধরায় প্রায় প্রতিদিন মিলিত হই ঘুরাঘুরির জন্য যেহেতু সবার অফিসের দূরত্ব বসুন্ধরা সিটি থেকে পায়ে হেটে মাত্র5 মিনিটের পথ। যখন যা ইচ্ছা খাই, খরচের দরকার হয় খরচ করি। যাবতীয় খরচের টাকা যে কোন একজনে করি। মন চাইল হাজীর বিরানী খাবো - দে দৌড় পুরান ঢাকা। ঘরোয়ার খিচুরী খাইতে ইচ্ছে হচ্ছে- সিএনজি ভাড়া কর, চল পাড়ি জমাই মতিঝিলের উদ্দেশ্যে। বাজট কম - তাতে কি নীল ক্ষেতের ঐতিহাসিক তেহারি আছে না- উঠ রিক্সায়। মসলাদার (মুরগীর গ্রীল) খাইনা কত দিন- চল যাই সায়েনসল্যাবঃ ছায়ানীড়ে। খরচ...... কোন বিষয়ই না। আমাদের মাঝে অলিখিত শর্ত হল পার হেড সমান সমান। বুঝলেন না , এটা ব্যাচেলরদের কমন ভাষা। বাসায় এসে এক্সেলে তৈরী বিশেষভাবে ডিজাইন করা ফমর্ূলায় ফেলে ঝটপট হিসাব বের করে ফেলি। কারো কাছে টাকা নাই নো প্রবলেম। পরে দিলেও চলবে। কিন্তু টাকাটা পরে দিতে হবেই, হবে।

এতে বন্ধুত্বের ফাটল ধরে না- বিশেষ করে টাকা পয়সার ব্যাপারে। এই তিনজনের থেকে বেশী লোক থাকলে তারাও অবাক হয় আমাদের এই অদ্ভূত হিসাবের ভঙ্গি দেখে। অবশ্য সবাইকে তা মানতে বাধ্য করা হয়। অতিরিক্তরাও হাসি মুখে মেনে নেয় আমাদের অলিখিত সংবিধান।

আর তাতে কারো মানসিক বা আর্থিক ক্ষতির অবকাশ থাকে না।

৯| ০৮ ই মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:০৩

সিমরান শিকদার বলেছেন: আগামী শুক্রবার সম্ভবত 10 মার্চ নন্দন পার্কে যাওয়ার ইচ্ছেআছে। আপনার তথ্য খুবই কেিজ লাগবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.