| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আলোচনায় কথা বলেন আলোচক। আড্ডায় সবাই। জনসভায় নেতা। আর টকশোতে টকার। বুদ্ধিজীবী আছেন যেমন, তেমন আছেন টকশোজীবী। আর এই টকশো নিয়ে দেশে টক-ঝাল-মিষ্টি কথার শেষ নেই। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এক বা একাধিক টকশো প্রচার করে। কেউ কেউ প্রায় সারাদিন। এর কারণও আছে।
সবচেয়ে কম খরচে। কখনো বিনা খরচে। আবার কখনো উল্টো খরচ-পাতি আদায় করে চলে টকশো। ফলে এমন মওকা কোন টেলিভিশন চ্যানেলই ছাড়তে চায়না। এর ওপর টকশো’র বিজ্ঞাপন বাবদ আয়তো আছেই।
টকশো’র টকাররা এখন যেন বিশেষ একটি শিল্পী শ্রেণি। যেমন অভিনয় শিল্পী, আবৃত্তি শিল্পী তেমন। তারা এখন সর্ববিষয় বিশেষজ্ঞ। একই টকার সন্ধ্যায় এক চ্যানেলে রাজনীতি। রাতে আরেক চ্যানেলে চিকিৎসা সেবা। আর মধ্যরাতে তৃতীয় কোন চ্যানেলে পরিবেশ নিয়ে ফাটাফাটি আলোচনার পর তৃপ্তির ঢেকুর তুলে কোন এক চ্যানেলের গাড়িতে করে বাড়ি ফেরেন। আমরা দর্শকরা তাঁর একই অঙ্গে এত রূপে বিমোহিত হই।
টকশোতে দেশের নানা সমস্যার সমাধানমূলক বহুমূখী ও বিপরীতমূখী আলোচনাও পাই আমরা।বিভ্রান্ত হই। দর্শকরা প্রশ্নও করেন। আবার প্রশ্নকর্তারা প্রশ্ন না করে লম্বা বক্তৃতাও করে ফেলেন। সবমিলিয়ে যত সমস্যা তত সমাধানের মত। তবে গোল বাধে তখনই যখন এই টকাররাই একে অন্যের মতামত মানতে না পেরে কখনো কখনো বাকযুদ্ধ ছেড়ে মল্লযুদ্ধ শুরু করেন অন এয়ারেই।
আর এবার সরকার নতুন আরেক যুদ্ধ শুরু করল। যুদ্ধটা যেন একপাক্ষিক। প্রতিপক্ষের তেমন কিছু করার আছে বলে মনে হয় না। আর তা হল টকশো দমন অভিযান। অনুমোদন পাওয়া খসড়া সম্প্রচার নীতিমালায় টকার আর টকশোওয়ালারা ভালই বেকায়দায় পড়বেন বলে মনে হয়। কারণ নীতিমালায় বলা হয়েছে টকশোতে অসত্য , বিকৃত বা মিথ্যা কোন তথ্য দেয়া যাবে না। ভাবনাটা হয়তো শুনতে কারুর ভাল লাগবে। সরকার দেশের টেলিভিন দর্শকদের অসত্য কথা শোনা থেকে মুক্তি দিচ্ছেন। কিন্তু এই ভাবনার ভিতরে অন্যকিছু নেইতো!
দশের মানুষের সত্য-মিথ্যা জ্ঞান কী লোপ পেয়েছে? হয়তো পেয়েছে। নয়তো সরকারকে সত্য মিথ্যা নির্বাচন করে দিতে হবে কেন। নাবালক শিশুকে ভালমন্দ দেখিয়ে দেন মা-বাবা। আর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় দেশের মানুষকে জন্য এই নাবালক সেবা দেয়ার জন্য এখন প্রস্তুত। তবে ভয় হয় সারাজীবনই না আবার নাবালক করে রাখে!
মুক্ত আলোচনা, মুক্তমঞ্চ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের খুবই প্রিয় শব্দ। মুক্ত আলোচনার নামে টকারদের বড় একটি অংশ এখন যে শব্দ দূষণ করছেন তাও সত্য। কিন্তু তাই বলে যারা দূষণ মুক্ত করার দায় নিতে চান তাদের দূষণ কে দূর করবে?
আমি বলি কি- ছেড়ে দিন না প্লিজ। আমাদেরই দেখতে দিন। আমরাই বিবেচনা করব, গ্রহণ করব প্রত্যাক্ষাণ করব।
আমরা কী কখনো দাবি করেছি যে রাজনীতিবিদদের খিস্তি বন্ধ করতে হবে আইন করে। করিনি। কারণ আমরা জানি ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী ফলে পরিচয়’।
আরো তথ্য পাবেন এই লিংক-এ
Click This Link
ঢাকা/০৫.০৮.২০১৪
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৯:৪৭
রুচি বলেছেন: দশের মানুষের সত্য-মিথ্যা জ্ঞান কী লোপ পেয়েছে? হয়তো পেয়েছে। নয়তো সরকারকে সত্য মিথ্যা নির্বাচন করে দিতে হবে কেন।
..............খুব ভাল বলেছেন