নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হারুন নিউজ

আমাকে দিয়ে কিছু হবে না...

হারুন উর রশীদ স্বপন

Good for nothing

হারুন উর রশীদ স্বপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

তারা চুপ গাজায় , আমরা তুবায়

০৮ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৯:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেছেন,গাজায় ইসারায়েলি হত্যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব চুপ কেন। চুপ কেন বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তিনি সবাইকে প্রতিবাদী হতে বলেছেন।

আমাদের কথাও তাই। আর প্রধানমন্ত্রী যখন নিজেই এই প্রশ্ন তুলেছেন তখন আমরা আরো প্রতিবাদী হতে সাহস পাই। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ধন্যবাদ আপনাকে। মানবতার জন্য আপনার এই আকুতি আমাদের গর্বিত করে।

আপনাকে এবার অনুরোধ জানাব আরেকটি বিষয় নিয়ে। আর তা আমাদের ঘরের কাছে। প্যালেস্টাইনের মত দূরে নয়। ঢাকায়। আর সুনির্দিষ্ট করে বললে বাড্ডায়। আপনি হয়তো বুঝতে পারছেন এরইমধ্যে যে আমি তুবা গ্রুপের ১,৬০০ শ্রমিকের কথা বলছি।

হ্যাঁ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তারা বেতন পেয়েছেন দুই মাসের। আরো একমাসের নাকি পাবেন রোববারে। বাংলাদেশে এই প্রথম জোর করে বকেয়া বেতন নিতে বাধ্য করা হল। এটি একটি উদাহরণ। পিটিয়ে, টিয়ারগ্যাস ছুড়ে, টেনে হিঁচড়ে বিজিএমইএ ভবনে শ্রমিকদের যেতে বাধ্য করা হল বেতন নিতে।

কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ঈদের আগে থেকেই এই শ্রমিকরাতো বেতনের জন্য অনশন করে আসছেন। না খেয়ে থাকছেন। তাহলে তারা বেতন নিতে চাইবেন না কেন? কেন তাঁদের পিটিয়ে বেতন খাওয়াতে হবে। এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার কেউ নেই। শ্রমিকরা কোন দয়া চায়নি। তাঁরা চেয়েছিলেন তাদের বকেয়া তিনমাসের বেতন-বোনাস এবং ওভারটাইম একসঙ্গে নিতে। তাঁরা এই পাওনা নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু উল্টো আংশিক বেতন নিয়ে চোখের জলে বাড়ি ফিরেছেন!

গাজায় ঈদ হয়নি। ঈদের দিনেও ইসারায়েলি হামলায় প্যালেস্টাইনি নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। আর তুবা গ্রুপের ১,৬০০ শ্রমিক ঈদের দিন না খেয়ে কাটিয়েছেন। অনশন করেছেন। তাই বলে তাদের কাছে কেউ যায়নি। না কোন মন্ত্রী, না কোন পোশাক মালিক। তাদের শিশুদের খাবারই জোটেনি ,তারপরতো নতুন পোশাক। আর এই শ্রমিকদের ৮০ ভাগই কিন্তু নারী।

ঈদে আপনি দেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তুবার শ্রমিকরা কী সেই শুভেচ্ছা পেয়েছে। তারা কী আপনার শুভেচ্ছায় ঈদের আনন্দ ভাগভাগি করতে পেরেছে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই তুবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেন তাজরীণ ফ্যাশানস-এরও মালিক। তাজরীণ ফ্যাশানস-এর আগুনে ২০১২ সালে ১১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আর ওই আগুনের জন্য দায়ী দেলোয়ার হোসেন। সেই মামলায় দেলোয়ার হোসেন জামিনে মুক্ত হয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে যখন পাঁচতারা হোটেলে বৈঠক করেন তখন বাড্ডায় পুলিশ বেধড়ক পেটায় পোশাক শ্রমিকদের

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই দেলোয়ার হোসেনের তুবা গ্রুপ গত তিন মাসে নিট মুনাফা করেছে ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আর শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ছিল ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। চাইলে ঈদের আগেই তারা বেতন-বোনাস দিতে পারত। কিন্তু দেয়নি। কারণ তারা চেয়েছিল শ্রমিকদের কৌশলে রাস্তায় নামিয়ে দেলোয়ারকে মুক্তি না দিলে বেতন হবে না সেই অজুহাত তুলে ধরতে। এবং তাতে সফল হয়েছে দেলোয়ার ও তার সহযোগী বিজিএমইএ।

মানবতার প্রতীক আপনি। আর মানবতা বিশ্বজণীন। গাজায় যেমন মানবতা লঙ্ঘিত হয়, তুবার পোষাক শ্রমিদেরও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। দেশ-কাল-পাত্র ভেদে মানবাধিকারের সংজ্ঞা পাল্টায় না। নির্যাতিতরা সবদেশে একইভাবে কাঁদে। তাদের গায়ের রক্ত ঝরে।

প্লিজ মাননীয় প্রধামন্ত্রী, তুবা গ্রুপে শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদ আপনি জানাবেন কী



আরো বিস্তারিত পাবেন এই লিংক-এ



Click This Link



হারুন উর রশীদ স্বপন

ঢাকা

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.