| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীকে নিয়ে হই হই রব আর শেষ হয় না। সিলেটে সাংবাদিকদের খবিশ, চরিত্রহীন বলে গালি দিয়ে তিনি সংবাদ হয়েছেন। আর তার ফলো-আপ চলছে তো চলছেই। কবে শেষ হবে আল্লা মালুম। সহজে যে শেষ হবে না বোঝা যায়। কারণ এই বিষয় নিয়ে চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত দুু’কলম লেখার লোভ সামলাতে পরলাম না।
আমি কেন চুপ থাকতে চেয়েছিলাম:
সাংবাদিক হিসেবে আমি অনেক ছোট। এত ছোট যে ছাগলেও মুড়ে খায়। তাই সমাজকল্যাণমন্ত্রীর কথা আমার গায়ে লাগেনি। একজন মন্ত্রী রাষ্ট্রের মন্ত্রণাদাতা। আর আমার সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হয়। তাই বড় মানুষেরা কি বললেন তা নিয়ে ভাবা আর অপমান বোধ করা আমার সাজে না। কারণ আমিতো আর সূর্যের সমান নয় যে সূর্যের সঙ্গে শত্রুতা করব।
কথায় মেদ আছে, সত্যও আছে:
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আসলে হয় কৌশলী নন, অথবা কাউকে পরোয়া করেন না। আর শব্দের মাত্রা এবং গনিতেও দক্ষ নন। তাই যদি হতেন তাহলে তাকে ধরা অত সহজ ছিলনা। কারন ‘সাংবাদিকরা’ বলে তিনি আহম্মকি করেছেন। এর আগে যদি কোন কোন শব্দটি ব্যবহার করতেন তাহলেই হয়ে যেত কেল্লা ফতে। আর তখন কথা হত কত ভাগ সাংবাদিক খবিশ ও চরিত্রহীন অথবা অসৎ। কেউ বলত পাঁচ ভাগ কেউ ৮০ ভাগ। কিন্তু কেউ কি বলতে পারতেন দেশে কোন অসৎ, খবিশ বা চরিত্রহীন সাংবাদিক নেই?
দুর্নীতির পরিমান হিসাব করা সোজা:
একজন নাগরিকের প্রকাশ্য আয় আর জীবন-যাত্রার ব্যয় বা মান তুলনা করলেই তিনি সৎ না অসৎ তা বোঝা যায়। সাংবাদিকের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই এই মাপকাঠি আলাদা নয়। তাই বাইরের লোক কেন দরকার হবে সাংবাদিকরা নিজেরাই সেটা যাচাই করে দেখতে পারেন।
আমি একটা হিসাব দিচ্ছি। রাজধানীতে একজন সাংবাদিক ৩০ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকেন। গাড়ি আছে। ড্রাইভারের বেতন এবং জ্বালানী খরচ ৩০ হাজার টাকা। দুই সন্তান পড়ে ইংরেজি মাধ্যমে। মাসে বেতনই দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা। ১লাখ ১০ হাজার টাকা খরচের হিসাব এখানেই দিলাম। এরপর ৪ সদস্যের পরিবারের খাওয়া খরচ, বিউটি পার্লার, পোশাক, বিনোদনসহস আরো অনেক খরচ। মাসে দুই লাখ টাকা বেতনের সাংবাদিক বাংলাদেশে ক’জন আছেন?
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি রাজনীতিবিদ, পুলিশ, বিচারক কাউকেই ছাড়ল না। তাদের কাছে অনুরোধ একবার সাংবাদিকদের আয়-ব্যয় নিয়ে একটু অনুসন্ধান করেন না। সাংবাদিকরা নিশ্চয়ই আপনাদের স্বাগত: জানাবেন!
শোধ বোধ:
সমাজল্যাণমন্ত্রীকে নিয়ে কার্টুন হয়েছে, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ হয়েছে, তাকে নানা শব্দ প্রয়োগে ভর্ৎসনা করা হয়েছে। তিনি নিজেও পরে কষ্ট বোধ করেছেন। কিন্তু আমি কষ্ট বোধ করেছি একই মাত্রার শব্দ প্রয়োগ করে কোন কোন সাংবাদিকের প্রতিক্রিয়ায়। তারাও একই কাজ করলেন। একই ধরণের শব্দ প্রয়োগ করলেন। কিন্তু আমরাতো গুরুজনের কাছ থেকে শুনেছি বেয়াদবের কাছে থেকে আদব শিখতে হয়। আর কবিতাও আছে,‘................ করেছে........ কামড় দিয়েছে পায়, তাই বলে কী...... কামড়ান মানুষের শোভা পায়! এসব উপদেশ বাণী আর মহৎ কথা কি এখন আর চলবে না!
জাত যায় না:
কেউ গালি দিলেই জাত যায় না। জাত যদি যায় তা নিজের কৃতকর্মের জন্যই যায়( সমাজকল্যাণমন্ত্রীই যার বড় উদাহরণ)।
তাই আমি যেন অন্তত: নিজেকে সাবধান করি । সমাজকল্যাণমন্ত্রীর কথা যেন আমার ক্ষেত্রে সত্য না হয়, শুধু আমি কেন একজন সাংবাদিকের ক্ষেত্রেও যেন সত্য না হয়। নিজের জাত তো নিজেকেই রক্ষা করতে হবে।
সাধু সাবধান:
সমাজকল্যাণমন্ত্রী একই মুখে কিন্তু একদিন পর বিবৃতি দিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকে মহান পেশা বলেছেন। তাই তার কোন কথার ওপরই নির্ভর করা ঠিক হবে না। তাঁর কোন কথায় ক্ষুব্ধ আবার কোন কথায় খুশি হলে আমাদেরই বিপদ। তিনি তখন মওকা পেয়ে যেতে পারেন। সাধুদের সাবধান থাকাই ভাল।
হারুন উর রশীদ স্বপন
লিংক
http://www.harunnews.com/
ঢাকা/ ১৩.০৮.২০১৪
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৯:৩২
মাঘের নীল আকাশ বলেছেন: সহমত!