| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটের মধ্যে ৩২টিতে মৃত্যুদন্ডের বিধান আছে। মৃত্যুদন্ড নেই মাত্র ১২টি স্টেটে।আর ১৯৭৬ সালে আদালতের নির্দেশে সেখানে মৃত্যুদন্ডের বিধান চালুর পর থেকে প্রধানত: লেথাল ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে ২৮ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। আরো ১৬ জনকে এই বছরেই মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদন্ড ফিরে আসার পর এপর্যন্ত ১,৩৮২ জনের দন্ড কার্যকর হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের মত গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদন্ডের বিধানের পক্ষে।
তাহলে রাশেদ চৌধুরীকে কেন ফেরত নয়:
-------------------------------------
সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল রাশেদ চৌধুরীর এখন আশ্রয় যুক্তরাষ্ট্র। আর তিনি সেখানে অবস্থান করে জঘন্যতম এই হত্যাকান্ডের দন্ড এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই আত্মস্বীকৃত খুনীকে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত রক্ষা করছে। তাদের যুক্তি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান হলে তাকে ফাঁসি দেয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের বিরোধী তারা। কি হাস্যকর কথা। যে দেশের অধিকাংশ মানুষ মৃত্যুদন্ডের পক্ষে। ৩২ স্টেটে যেখানে মৃত্যুদন্ডের আইন আছে। আট মাসেই সেখানে ২৮ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। তাদের মুখে এই কথা কী মানায়?
কানাডার আইন কী বলে:
----------------------
যেবছর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদন্ড ফিরে আসে সেই বছর মানে ১৯৭৬ সাল থেকে কানাডায় মৃত্যুদন্ড রহিত করা হয়। হত্যাকান্ডের অপরাধে তারা সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদন্ডের বিধান করেছে। ১৯৬২ সালে কানাডায় সর্বশেষ মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়। আর ২০০১ সালে কানাডার সর্বোচ্চ আদালত যুক্তরাষ্ট্র বনাম বার্নস-এর মামলার রায়ে বলে ‘মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে না’ কেবল এই নিশ্চয়তা পেলেই কানাডা ভিনদেশী অপরাধীদের সেদেশে ফেরত পাঠাবে। কিন্তু আদালত কিছু বিশেষ ব্যতিক্রমের কথাও বলেছে।
নূর চৌধুরীকে কেন বিশেষ বিচেনায় নয়:
-----------------------------------
বঙ্গবন্ধুর আরেক আত্মস্বীকৃত খুনী লে. কর্ণেল এ এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায় বেশ বহাল তবিয়তেই আছেন। ঢাকায় কানাডার রাষ্ট্রদূত হিদার ক্রুডেন বলেন,‘ সপরিবারে শেখ মুজিব হত্যা একটি জঘন্যতম কাজ। কিন্তু নূর চৌধুরীকে ফেরত দেয়ার ব্যাপারে তিনি তাদের দেশের আইন অনুসরণ করার কথা বলেছেন।
নূর চৌধুরী নারী ও শিশু হত্যার মত জঘন্য অপরাধের আত্মস্বীকৃত খুনী। তাহলে কানাডার আদালত যে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রের কথা বলেছে সেই বিশেষ বিবেচনায়ই তাকে ফেরত পাঠাতে পারে। নূর চৌধুরী বাংলাদেশে অপরাধ করে কানাডায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কানাডার আইনে তাঁর বিচার হয়নি, হয়েছে বাংলাদেশের আইন। আর কানাডার আইন যদি এমনই হয় তাহলে দুনিয়ার সব খুনি খুন করে কানাডায় গিয়ে বসবাস করবে। কানাডা হবে খুনিদের আবাসস্থল।
আর কানাডায়ই এখন হত্যাকান্ডের মত জঘন্যতম অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান ফের চালুর দাবি জোড়াল হচ্ছে। ২০০৪ সালে এই দাবী ছিল কানাডার ৪৮ ভাগ নাগরিকের। আর ২০১০ সালে এই দাবির পক্ষে সমর্থন জানায় ৬১ ভাগ নাগরিক। কাকতালীয় হলেও ২০১৩ সালে মৃত্যুদন্ডের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় শতকরা হিসেবে জনমত সমান সমান। ৬৩ ভাগ।
এর আগে ১৯৮৭ সালে কানাডার হাউজ অব কমন্সে মৃত্যুদন্ড ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবের ওপর বিতর্ক হয়। আর সেই প্রস্তাব সামান্যতম ভোটের ব্যবধানে পাশ হয়নি। তবে এখন প্রস্তাব উঠলে তা পাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আরো খবর এই লিংক-এ
Click This Link
হারুন উর রশীদ স্বপন
ঢাকা
©somewhere in net ltd.