নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হারুন নিউজ

আমাকে দিয়ে কিছু হবে না...

হারুন উর রশীদ স্বপন

Good for nothing

হারুন উর রশীদ স্বপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

কার কখন পতন হবে কেউ জানে না

০১ লা অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৮


কে কীভাবে ধরা খাবেন কেউ জানেন না। আজ যিনি মাথার তাজ কাল তিনি পায়ের ধুলো। আজ যিনি অতি আপন, কাল তিনি অপ্রয়োজনীয়-বোঝা। ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী তা আবারো প্রমাণ করলেন।
গালাগাল করা তাঁর স্বভাপে পরিণত হয়েছিল। বাধাহীনভাবে তিনি সাংবাদিকদের গালাগাল করতে পছন্দ করতেন। এই সরকারের গত আমলে তিনি সাংবাদিকদের জন্ম পরিচয় তুলেও গাল দিয়েছেন। ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে সাংবাদিকদের অনুষ্ঠান থেকে কের হয়ে যেতেও বলেছেন। অপমানসূচক কথা বলেছেন দেশের শ্রদ্ধেয় আইনজীবীদের নিয়ে। প্রকৌশলিকে মারধোর করে হাত পাকিয়েছেন। আর তাতে তখন তাঁর কিছুই হয়নি। তাঁর এই বল্গাহীন কথায়, কাজে তার প্রমোশন হয়েছে কীনা তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু ডিমোশন যে হয়নি তা নিশ্চিত। এর প্রমাণ তিনি ৫ই জানুযারির নির্বাচনের পর আবারো মন্ত্রিসভা আলোকিত করেছেন। পাটমন্ত্রী থেকে হয়েছেন ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। এনালগ থেকে হয়েছেন জিডিটালমন্ত্রী। আর শুধু সাংবাদিকদের এই গালাগাল অব্যাহত রেখে তিনি যদি আর না বাড়তেন তাহলে আমি নিশ্চিত তিনি এই মন্ত্রিসভায় না হলেও আবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আরেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতেন। কিন্তু বিধি বাম!
কথায় বলে,‘ বিধাতা যার পতন চান তাকে পাগল করে দেন’। ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করা এইমন্ত্রী সাংবাদিকদের গালি দিয়েও আর তৃৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। টেলিভিশন টকশো নিয়েও অশ্লিল টিপ্পনি কেটে মন ভরছিল না তাঁর। তাই এবার হজ নিয়েই বলে ফেললেন দু’কথা। তাবলীগকেও ছাড়েননি। প্রধানমন্ত্রীর পুত্রকেও আমলে নেননি। ভাবলেন বিদেশে কে খবর রাখবে। সাংবাদিবকরা খবর দেবে? ধমক দিয়ে বসিয়ে দেবেন।
কিন্তু খবর হয়ে গেল। সবাই জেনে গেল। সাংবাদিকদের গালি দিলে প্রমোশন পাওয়া যায়। কিন্তু এবার বিষয় আলাদা। ধর্মীয় অনুভূতি। কেউ তাকে সাথে রাখার ঝুুঁকি নেননি। না প্রধানমন্ত্রী, না তাঁর দল। আপদ রেখে বিপদে পড়তে চাইবে না কেউই। তাই ভূপাতিত হলেন জাঁদরেল মন্ত্রী।
এরকম ‘জাঁদরেল’ আরো আছেন মন্ত্রিসভায়। তারাও সাংবাদিকদের একহাত দেখে নিচ্ছেন অব্যাহতভাবে। সমাজকল্যালণমন্ত্রী সৈয়দ মোহসীন আলী সাংবাদিকদের ‘খবিশ’ আর ‘চরিত্রহীন’ বলে এখন গলা সাধছেন গান গেয়ে। ভবিষ্যতে হয়তো সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরো মধু বর্ষণ করবেন। আর সাংবাদিকদের ‘ধোলাই’ দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রেফারেন্স ব্যবহার করেন। তারপরও তিনি বলীয়ান। মঞ্চে সিগারেট খাওয়ার পর তা বৈধ করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সিগারেট খাওয়ার কথা বলে।
আজ ধরা খেয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী, কাল কী সৈয়দ মোহসীন আলী ধরা খাবেন! হয়তো না। সবাই যে সবসময় ধরা খান তা নয়। আর সাংবাদিক বা প্রতিপক্ষকে ধোলাই দিলে কিছুই হবে না। দুর্নীতি করলেও হয়তো না। তাই যদি হতো তাহলেতো অনেক আগেই আরো অনেকে ধারাশায়ী হতেন।
তাহলে কিসে হবে? হবে, নিজেই নিজের পতন রচনা করবেন। বাড়তে বাড়তে পাগল হয়ে যাবেন । তারপর একদিন ................ । দেখবেন পায়ের তলায় মাটি নেই। পাশে কোন বন্ধু নেই। স্তাবকরা সরে গেছেন। সব বীরত্ব , আস্ফালন পতনের যাত্রা নিশ্চিত করছে। অতএব সাধু সাবধান..

হারুন উর রশীদ স্বপন


ঢাকা/ ০১.১০.২০১৪

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.