নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

hasan03

hasan03 › বিস্তারিত পোস্টঃ

কানাডার জীবন-৪

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:৩৮

আগের পর্ব-

১ম পর্বঃ Click This Link

২য় পর্বঃ Click This Link

৩য় পর্বঃ Click This Link



**********************************************

কানাডা আসার পর মোবাইল নিতে গিয়ে বিরাট বিপত্তিতে পড়েছিলাম। আসার পরপর দেশ থেকে মা বাবা একটু পরপর ফোন করত খোজ নেয়ার জন্য । তারা ফোন করত আমার ফ্রেন্ড এর মোবাইলে। আমি দেশে ফোন করতাম অনলাইন একটা সাইটের ভিওআপি সার্ভিস ব্যবহার করে। তখনও অবশ্য ক্রেডিট কার্ড পাই নাই। আমার ফ্রেন্ড তার ক্রেডিট কার্ড থেকে পে করে দিত। মোবাইল না থাকায় ফোন করতে হত ল্যাপটপ থেকে। এই জন্য ভার্সিটির ল্যাবে থাকলে আর ফোন করা যেত না। ল্যাপটপ থেকে কল এর মানও ভাল হয় না। এই জন্য একটা মোবাইল নেয়ার জন্য একটু অস্থির হয়ে যাই। কিন্তু হায়!!! এইখানে মোবাইল নেয়া যে এত বিপত্তির কাজ কে জানত।



বলা ভাল, এখানে অনেক ভাল ভাল মোবাইল খুব কম দামে কিংবা কোন ডলার ছাড়াই নেয়া যায়।আন্ড্রইয়েড, ব্ল্যাকবেরি, উইন্ডোজ ফোনের অনেক মডেল ফ্রি পাওয়া যায়। সাথে প্ল্যান বা কানেকশন নিতে হয়। প্রতি মাসে কানেকশন এর জন্য যত টাকা দেয়া হয় তার থেকে একটা অংশ কেটে রাখবে আপনার মোবাইলের জন্য। বিভিন্ন ধরনের কানেকশন নেয়া যায়। তবে এইখানে পার মিনিট কানেকশন চার্জ অনেক। যেমন ২৫ ডলার দিয়ে পুরো মাসে মাত্র ১০০ মিনিট কথা বলতে পারবেন। ১০০ মিনিট আবার ইনকামিং আউটগোয়িং মিলিয়ে। মানে কেউ আপনাকে ফোন করলেও আপনার মিনিট কাটবে। তবে কিছু প্ল্যানে সন্ধ্যা ৫ টা, কিছু প্ল্যানে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে কল ফ্রি। আবার প্রায় সব প্ল্যানেই শনি, রবিবার সারাদিন কল ফ্রি। এখন আপনি যদি ২৫ ডলারের প্ল্যান নেন তাহলে হয়ত মাসে আপনার এই ২৫টাকার ২.৫ ডলার কাটা যাবে মোবাইলের জন্য। এই ২.৫ জিনিসটাকে ওরা বলে ট্যাব। যেহেতু বেশি টাকা নাই আমার, তাই চাইছিলাম জিরো ডলার দিয়ে একটা মোটামুটি মানের অ্যান্ড্রইয়েড মোবাইল নিতে। তবে গিয়ে দেখলাম অ্যান্ড্রইয়েড আইসক্রিম স্যান্ডউইচের HTC এর একটা মোটামুটি ভাল মোবাইল জিরো ডলারে পাওয়া যাচ্ছে। সাথে আবার ৫০ ডলার গিফটও দিচ্ছে । কিন্তু হায়!! প্রথমেই দোকানের লোক বলে আমার নিজস্ব ক্রেডিট কার্ড লাগবে। আমার ক্রেডিট কার্ড তখনও আসে নি। তাই ওইদিন আর মোবাইল কেনা হল না।



আমার ক্রেডিট কার্ড আসতে আসতে ৩ সপ্তাহ লেগে যায়। ক্রেডিট কার্ড পেয়ে সাথে সাথেই দোকানে যাই। এইবার ওরা বলে আমার সিন কার্ড নাই। সিন কার্ড আসতেও একটু সময় লাগে। তার আগে সিন কার্ড ইস্যু করার অফিস থেকে একটা কাগজে আমার সিন কার্ড লিখে দিয়ে ওরা সিল করে দেয়। কিন্তু আমি এই কাগজ দেখালে দোকানের লোক বলে এইটা দিয়ে কাজ হবে না। সিন কার্ডই লাগবে। তার উপর আবার কানাডিয়ান আইডি চায়, মানে ড্রাইভিং লাইসেন্স, কানাডিয়ান পাসপোর্ট কিংবা ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার আইডি ইত্যাদি। কিছুই তো নাই। তাই কি আর করা, ওইদিনও ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসলাম ।



সিন কার্ড আসার পর আবার আরেকদিন যাই। এইবার ভাগ্য ভাল ছিল, আমার ফ্রেন্ড এর এক পরিচিত লোক ছিল দোকানে। উনি কোন কানাডিয়ান আইডি চান নাই। আমারও মোবাইল নিতে আর কোন বাধা রইল না। মোবাইল তো ফ্রি পেলামই সাথে ৫০ ডলার গিফট হিসেবে পেলাম। তবে নেয়ার আগ পর্যন্ত খুব ভোগাইছে জিনিসটা।



তবে এখানে আসার পর সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ি পড়ালেখা নিয়ে। অনেক দিন পড়ালেখার বাইরে ছিলাম। তাই পড়ালেখা করতে ইচ্ছা করত না শুরুর দিকে। কিন্তু এইখানে দেখি একদিন ক্লাস নেয়ার পর পরই ২য় সপ্তাহ থেকেই অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া শুরু হয়ে গেছে। তাও আবার একেবারেই নতুন ধরনের একটা ম্যাথ এর কোর্স এর অ্যাসাইনমেন্ট। দেশে যেরকম করতাম, একইভাবে জমা দেয়ার ২ দিন আগে বসি অ্যাসাইনমেন্টটা নিয়ে। কিন্তু দেখি এই ম্যাথ এর আগা মাথা কিছুই বুঝি না। থিওরি পড়তেই অনেক সময় লাগবে। কেনো যে আরও আগে থেকে শুরু করলাম না এই ভেবে প্রচন্ড আফসোস হচ্ছিল। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত আমার ফ্রেন্ড এর সহায়তায় কোনরকম একটা দাড় করাইলাম অ্যাসাইনমেন্ট। ওই সপ্তাহের মত বাচলাম মনে হল। তবে এখানে পুরো সেমিস্টার ধরেই এইরকম ভয়াবহ চাপ থাকে পড়ার। কোনদিন যে কি থাকে অনেক সময় সেটা মনেও থাকে না। আজকে একটা শেষ করলাম, দেখা যায় কালকেই আবার আরেকটার ডেডলাইন চলে আসছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় একই দিনে অনেক কিছু থাকে। অ্যাসাইনমেন্ট এর চিন্তায় মাঝে মাঝেই রাতে ঘুম হত না আমার এইরকম অবস্থা। তার মধ্যেই আবার কুইজ, প্রজেক্ট কিংবা টিএ এর জন্য কাজ করতে হয়। আর ম্যাথ কোর্স যে এত ভয়াবহ হতে পারে এইটা জানা ছিল না। যেদিন ম্যাথ কোর্স এর অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়ার ডেডলাইন থাকত তার আগের দিন মনে হত পালিয়ে দেশে চলে যাই। এই ম্যাথ কোর্সটা পুরো সেমিস্টার জুড়েই আমাকে ভয়াবহ যন্ত্রনার মধ্যে রাখে। একটা একটা অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করি আর মনে হয় আর কোনদিন ওই অ্যাসাইনমেন্টটা করতে হবে না। এইভাবেই চলতে থাকে পুরো সেমিস্টার। (চলবে)

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:২৩

বিডি আইডল বলেছেন: প্ল্যান বোধহয় টেলাসের ট্যাব নিয়েছেন? ট্যাব ছাড়াও রজার্স, বেলের লাইন আছে। একেবারে নতুন মডেলের সেটগুলো ৩ বছর প্ল্যানে ১৫০$ এর মত রাখে।

ক্রেডিট কার্ড যে পেয়েছেন, এটাতেই বেশিরভাগ লোক ঝামেলায় পড়ে। আইনত কোন নন-কানাডিয়ান ক্রেডিট কার্ড পেতে পারে না। সাথে থাকতে হয় জব ইনকাম। ক্রেডিট রেটিং টা ঠিক রাখা খুবই জরুরী, ভবিৎষতে কানাডাতে থেকে যাবার চিন্তা থাকলে।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৩৫

hasan03 বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য। কুডোর প্ল্যান মনে হয়েছে সবচেয়ে সস্তা, এই জন্য ওইটা নিছিলাম। ট্যাব ছাড়া নেয়া যায়, কিন্তু একবারে কিছু টাকা দিয়ে দিতে হয়, এই জন্য নেই নাই :)

২| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৩৯

বিডি আইডল বলেছেন: দেশে ফোন করার জন্য এটা ব্যবহার করতে পারেন। সেল থেকেই করতে পারবেন এবং সার্ভিস চমৎকার। আমি ব্যবহার করছি বেশ কয়েকবছর ধরে।

http://www.simplecall.com/ca/

এদের ডাইরেক্ট কল সার্ভিসটা চমৎকার। মোবাইলে আপনি একটি লোকাল নাম্বার সেভ করে রাখবেন (যেটা বাংলাদেশের একটা নম্বরের সাথে লিংক করা থাকবে।) সেই নম্বরে কল করলে কল সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাবে। খরচও বেশ কম।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৪২

hasan03 বলেছেন: ধন্যবাদ। ট্রাই করে দেখব।

৩| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৪৪

বিডি আইডল বলেছেন: আপনি আছেন কতদিন? বউ কি সাথে?

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৪৮

hasan03 বলেছেন: আসছি গত বছর। বউ সাথে আছে এখন :)

৪| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৫১

বিডি আইডল বলেছেন: সুযোগ থাকলে বউকেও পড়াশোনায় ঢুকিয়ে দিন...স্টুডেন্ট স্পাউসদের জন্য ফান্ড ম্যানেজ করাটা সহজতর হয়। আমিও তাই করেছিলাম। আমার বউ এর জন্য প্রথমে শুধু টিউশন ফি মউকুফ করার প্রস্তাব দিয়েছিলো প্রফ। পরে পুরো ফান্ডই পেয়ে যায়।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৫৬

hasan03 বলেছেন: ধন্যবাদ ভাল পরামর্শ দেয়ার জন্য। জী আমিও সুযোগ খুজতেছি :)

৫| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৫৯

বিডি আইডল বলেছেন: আর কানাডাতে যদি থেকেই যান...জেনে রাখবেন এই সময়টাই হলো সবচেয়ে কষ্টবিহীন, আনন্দের টাইম। পড়াশোনার মত কিছু ছোট খাট কাজ বাদ দিলে এই সময়টা এনজয় করুন। পরে আর এইরকম কোন টাইম পাবেন না :)

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:০৪

hasan03 বলেছেন: জী আমিও তাই শুনছি। তবে সেমিস্টার এর মধ্যে খুব চাপে থাকি :( আমার থেকে যাওয়ার ইচ্ছা নাই, আপাতত ইচ্ছা পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে যাওয়ার।

৬| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:২৯

বাতাসের রূপকথা বলেছেন: এই স্টুডেন্ট লাইফের চেয়ে মজার সময় আর নেই। আমার সতের বছর আগের ঘটনা মনে পড়ে গেল, যদিও আমি থাকি আমেরিকাতে। আপনি কি কিলোনা শহরে থাকেন নাকি?

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:৪১

hasan03 বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই কমেন্ট করার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.