নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পরের জন্মে মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই

হাসান শরিফ

বাবার সরকারি চাকুরির সুবাদে শৈশব কৈশোর-স্কুল কলেজ সবই চট্টগ্রামে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাংবাদিকতা করি। পরের জন্মে মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই।

হাসান শরিফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ক্লাস নাইনের গোলমালে বুঝি তারিখটা ৩১ ডিসেম্বর! তবুও শুভ জন্মদিন...

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৬

ফেইসবুকে ঢুকে ডান পাশের বার্থ-ডে ক্যালেন্ডার দেখে ডিজিটাল বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানানোর কাজটা আমি প্রায়ই করি। কিন্তু আজকে সেই কাজটি করতে গিয়ে আমার মাথা খারাপের যোগাড়। ৩১ ডিসেম্বর এতো মানুষের জন্মদিন? ঘটনা কি? তাহলে কি আগে থেকে পরিকল্পনা করে বাবা-মায়েরা... ধুর! এইগুলান আমি কি ভাবতাছি?



দুই-এক মিনিট বিষয়টি নিয়ে ভাবার চেষ্টা করলাম। জন্মদিনের তালিকার দিকে তাকালাম। দেখলাম আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককেরও জন্মদিন ৩১ ডিসেম্বর। আরো অনেকেরই... হুমম..



ইউরেকা। ইউরেকা! পাইছি। রহস্য উদ্ধার। ঘটনা তো অন্যখানে। আবিস্কার করলাম ৩১ ডিসেম্বরে এতো মানুষের জন্ম হওয়ার এক গুঢ় রহস্য।



এতোক্ষনেও যারা রহস্যের সমাধান করতে পারেননি তাদের বলছি। এর পেছনে নিরীহ ওই লোকটি যার জন্মদিন ৩১ ডিসেম্বর তাঁর কোন দায় নেই। বরং তাঁর এক ধরনের ক্ষোভই আছে। কারণ মেট্টিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ক্লাস নাইনে যেবার রেজিস্ট্রেশন করতে হয় তখনই ঘটে গেছে সর্বনাশ। আমাদের প্রাণ প্রিয় শিক্ষা গুরুরা আমাদের ভবিষ্যত চাকুরি বাকুরির চিন্তায় যার যেদিনই জন্মতারিখ থাকুক না কেন সব ৩১-১২- করে ফেলেছেন। অনেকের অভিভাবকরাই আবার সজ্ঞানে সন্তানদের চাকুরির ভবিষ্যত চিন্তা করে এই বয়স রহস্যের সমাধান করেছেন।



বাংলাদেশে ক্লাস নাইনে কতো কিশোর যে এভাবে তাঁর সত্যিকার জন্মতারিখ হারিয়েছে তার হিসাব নেই। প্রথমে বিষয়টি অনেকেরই মেনে নিতে কষ্ট হয়। কিন্তু যখন রেজিস্ট্রেশন হয়ে যায় তখন আর করার কিছু থাকে না। আস্তে আস্তে ভুলে যেতে হয় নিজের সত্যিকার জন্মতারিখ। এরপর একসময়ে নিজেও তিনি বিভিন্ন জায়গায় জন্মতারিখ লেখা শুরু করেন ৩১-১২-ওমকু সাল। দেখা যায় ওই তারিখ ধরে অনেকেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠায়। কিন্তু তাতে মন ভরে না। মনে হয় কি যেন নেই। আফসোস।



শুধু কি ৩১ ডিসেম্বর? আমাদের প্রিয় শিক্ষক বা অভিভাবকদের আরেকটা প্রিয় তারিখ ১ জানুয়ারি। আপনার ফেইসবুকের বন্ধুদের দেখুন। অনেকেরই জন্মদিন ১ জানুয়ারি। রহস্য সেই ক্লাস নাইন।



এ তো গেলো অন্যদের কথা। কিন্তু আমার। আমার পোড়া কপাল যে আমার এক শিক্ষক আমার সত্যিকারের জন্মদিন ৬ মে'র বদলে ৩১ করলেন। কিন্তু সেটা হলো ৩১ মে। তাঁর মাথা থেকে ৩১--এর ভুত আর নামলো না। যথারীতি অফিসিয়াল জায়গাগুলোতে আমার জন্মতারিখ লিখতে হয় ৩১-০৫-।



দেখা যায়, প্রতি বছর ওইদিনে আমাদের অফিসের এইচআর নামক একটি জঘন্য ডিপার্টমেন্ট ( মাফ করবেন যারা এই মানব সম্পদে কাজ করেন) থেকে কোকিলা কণ্ঠে একজন ফোন দেয় এবং সাত সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গায় জন্মদিনের শূভেচ্ছা জানিয়ে। আমি বিরস কন্ঠে বলি এইটা আমার আসল জন্মদিন না। দয়া করে ৬ মে আমাকে ফোন দেবেন। উনি মিষ্টি করে হেসে বলেন, তিনি ঠিক করে রাখছেন। পরের বছর এই ভুল হবে না।



বিশ্বাস করলেন তাঁর কথা। করতে পারনে। কিন্তু আপনার বিশ্বাস ভেঙ্গে যাবে যখন দেখবেন পরের বছরও সেই একই ভুলই হয়ে যাচ্ছে। যতোদিন বেঁচে থাকবেন ততোদিন ক্লাস নাইনের শিক্ষকদের সেই ভুলের খেসারত আপনাকে দিতেই হবে।



তাই কি আর করা। চলেন তাদের শুভেচ্ছা জানাই যারা জন্ম নিয়েছিলেন ৩১ ডিসেম্বর আর ১ জানুয়ারি। কারো জন্মদিন যদি সত্যিকারই এই দিনে হয় তাকেও শূভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৫

রিজভী বলেছেন: আমিও একটু আগে ফেসবুকে প্রায় ডজনেরও ওপরে উইশ করলাম।

লেখাটা দুর্দান্ত লেগেছে।

+

২| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১১

হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন: ভাল যুক্তি।

৩| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩০

বলাক০৪ বলেছেন: আমাদের পরিবারে (এক্সটেনডেড ফ্যামিলি) আজ তিনজনের সত্যি সত্যিই জন্মদিন।

৪| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৫

তাজা কলম বলেছেন: শুভ জন্মিদন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.