নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হাসান পালগিরি

হাসান পালগিরি › বিস্তারিত পোস্টঃ

রশিদ ভাই ও আপু

২৭ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:২০

২০০৮ সাল ঢাকায় এলাম। ভর্তি হলাম রাজধানীর সুপ্রতিষ্ঠিত একটি কলেজে। থাকবো কোথায়? এমন চিন্তা যখন মাথার ওপর ভর করছে। তখন "মুশকিলের আহসান" হিসাবে আবির্ভূত মতি ভাই। নিয়ে গেলেন তার মেসে। বড় ভাইদের দেখে চান্দি পুরোটাই গরম। সব আমার চেয়ে কমপক্ষে ৬-৭ বছর বড়। কী করি এখন? শহরের কোন রাস্তাই জানা-শুনা নাই। সেখানে মেস পাওয়া তো সোনার হরিন। কয়েক মাস গেল, নিজের ভুল ভাঙলো, বড় ভাইয়েরা আপন করে নিয়েছে খুব সহজে। ওই বছরের জুলাই মাসে মেসে আগত রশিদ ভাই। এক কথায় চরম, নরম, জটিল, অস্থির, ওসাম অলংকারে মড়ানো আমাদের রশিদ ভাই। তার সঙ্গে আমার বয়সের পার্থক্য দুই বছরের। তিনি আমার আইটি জগতের ওস্তাদ। ফেইসবুক-মেইল সবেই তার কাছ থেকে চেনা। এবার মূল পর্বে আসা যাক... তার সঙ্গে ইডেন কলেজের এক আপুর এ্যাপিয়ার। গভীর জলের মাছ তিনি,, ওই আপুর সঙ্গে তিনি যখন ছুটিয়ে প্রেম করছেন, রাজধানীর বিভিন্ন পার্কে-লেকে ডেটিং করছেন, খাওয়া-দাওয়া অভিজাত রেস্টুরেন্টে, থাকছেন মধ্য মানের আবাসিক হোটেলে, তখনও কেউ কিছুই জানতো না। উনার সিটের সঙ্গেই আমার সিট। আস্তে আস্তে কথা বললেও শুনতে পেতাম। যাক মধ্য রাত অবধি তার ফোনডেটেং চলত। কেউই কিছু জানে না। সবার কাছে তিনি নিখাদ ভদ্র ছেলে বটে। (আমাদের বাসায় ১০টা পর ফোনে কথা বলা নিষেধ ছিল। মেয়েদের সঙ্গে মিলামেশা ছিল যথারীতি মার্শাল ল) সব উপেক্ষা প্রেমের কাছে। খুব গর্ব হত যখন দেখতাম একটি পবিত্র প্রেমের দৃষ্টান্ত রশিদ-আপুর জুটি। আপুর সঙ্গে আমার কখনো কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে মাঝে মধে ভাইয়ার মন খারাপ হলে আমার সঙ্গে কথা বলত। সাধ্য অনুযায়ী সাজেস্ট করতাম। ভাইয়ার সঙ্গে এখন আর দেখাও হয় না ও কথা হয় না। তবে হঠ্যাৎ করে আজ (২৭.০৬.১৩) দেখা পেলাম তার। নীলক্ষেত্রে। কোথায় যেন যাচ্ছেন। খুব ব্যস্ত। তবুও আমার ডাকে সাড়া দিয়ে দাড়ালেন,,হাসি মুখে কথা বললেন,,খোজ নিলেন আমার। ভদ্রতার খাতিরে আমিও তার ও ভাবির কথা জিজ্ঞাসা করলাম। কিন্তু উত্তর যা পেয়েছি সতিৎ সেটার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না...রশিদ ভাই বললেন..ভালো আছি তবে তোমার ভাবি ..।।। কী হয়েছে ভাই? দীর্ঘনিশ্বাস... কিছু নীরব থেকে অতঃপর উত্তর। সেও ভালো আছে,,,স্বামীর সংসারে। খুব আগ্রহ নিয়ে বললেন জানো,,ওর একটা বাচ্চা হয়েছে। কী ফুটফুটে। তার আগ্রহ ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে বাকী নেই,,, কষ্টের দোলনচাপায় পিষ্ট ভাই আমার। বিস্তারিত বললেন,,,, ভাবির বিয়ে হয়ে গেছে বছর দুইয়েক আগে। স্বামী ডাক্তার। বড় লোক,থাকে গুলশানে। গাড়ী আছে। আর আমার ? সেই মাকেটিংর ছোট্র একটা চাকুরী। দশ হাজার টাকা বেতন। এখন মেসে থাকি। বাড়ীতে টাকা দিতে হয় ৬ হাজার। আমার কাছে সে কী আসবে? প্রশ্ন করলাম...উনি তো আপনাকে অনেক ভালোবাসত? টাকার কাছে কী সব বিক্রি হয়ে গেল? হেসে উত্তর... অভাব আসলে ভালোবাসা দক্ষিনের জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। এর বাহিরে আর কিছুই বলতে চাই না। রশিদ ভাই ভেজা চোখ মুছে চলে গেল....অবাগ হয়ে দাঁড়িয়ে উত্তর খোজার ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগলাম....উত্তর খুঁজছি...এখনও পাইনি।



কে বড় টাকা না ভালোবাসা??????

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.