| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাহমূদ হাসান
http://www.facebook.com/saintmartinbangladesh এই পৃথিবীতে নানান বর্ণের, নানা ধর্মের, নানা রকম মানুষ আছে, আছে অনেক বিরল প্রজাতির মানুষও, আমি সবার সাথে সমানভাবে মিশতে পারি, সো ইউ আর ওয়েলকাম!!!!
সবুজ প্রকৃতি আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের নানান জায়গায় লুকিয়ে আছে নয়নভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ দেশে একদিকে যেমন রয়েছে সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্যের বন-বনানী আর অন্যদিকে রয়েছে নীল সমুদ্রের হাতছানি।
তেমনি একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের স্থান হলো সেন্টমার্টিন। এ বছর সেন্টমার্টিনে আমার মামার ব্যবসায়িক সূত্র ধরে তাই যাওয়া হয়েছিল সেন্টমার্টিনে। প্রথম সেন্টমার্টিনে পা রেখে ভাবতেই পারছিলাম না যে, এমন একটি দর্শনীয় স্থান আমাদের দেশে রয়েছে। সত্যিই তখন মনের গভীর থেকে স্রষ্টাকে খুব ধন্যবাদ দিয়েছিলাম এমন একটি সুন্দর জায়গা আমাদের দেশে সৃষ্টি করার জন্যে।
সেটা ছিল ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহ। ঢাকা থেকে আমরা ক'জন বন্ধু রাত ৯ টার গাড়ীতে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। প্রায় ১১ ঘন্টার বাস জার্নির পর আমরা সকাল ৮ টায় পৌঁছে যায় টেকনাফ বন্দরে। সেখানে ঈগল ঘাটে নোঙ্গর করা ছিল আমাদের জাহাজ কুতুবদিয়া। আমরা সবাই হালকা নাস্তা সেরে টিকেট কেটে জাহাজে উঠলাম। কিছুক্ষণ পর আমাদের যাত্রা শুরু হল। সত্যি সে মুহুর্তে দারুন লাগছিল। ঠিক যেখান থেকে আমাদের জাহাজ রওয়ানা হলো সেটা ছিল নাফ নদী। নদীপথে ১২ কিলোমিটার যাওয়ার পর আমাদের জাহাজ সমুদ্রে প্রবেশ করে। জাহাজের ডান দিকে দাড়িয়ে ছিল মায়ানমারের উঁচু পাহাড়। বাইনোকুলার সাথে থাকায় আনন্দটা পৌছে গিয়েছিল চরমে, দূর থেকে সেন্ট মার্টিন দেখে যেন আবেগের ঢেউ এসে আছড়ে পড়লো মনে, প্রায় আড়াই ঘন্টা পর আমরা সেন্টমার্টিনে এসে পৌঁছি।
নারিকেল গাছে ঘেরা সবুজ দ্বীপ। তার চারপাশে চোখ জুড়ানো সমুদ্রের নীল জল। সমুদ্রে ভাসমান নৌযান। প্রচুর নারিকেল গাছের জন্য দ্বীপটিকে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়। সবকিছুই স্বপ্নের মত লাগছিল। ভ্যান এ চড়ে পৌঁছলাম রিসোর্ট-এ। রিসোর্ট এর চারপাশ ঘিরে আছে কেয়া ফল গাছ।
খাওয়া-দাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়লাম সেন্টমার্টিন এর সৌন্দর্য অবলোন করতে। সেন্টমার্টিনের মোট দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার আর এর প্রস্থ ১.৫ কিলোমিটারের মত। এখানে স্থানীয় জনগণের সংখ্যা ৭ হাজার। জানা যায় যে ১৮৯৫ সালে কিছু বার্মিজ এবং বাঙ্গালী লোক এখানে বসবাস শুরু করেছিল। অবশ্য এখন এখানে বার্মিজদের বসবাস নেই।
সেন্টমার্টিন এর অনেকটা জুড়ে রয়েছে প্রবাল পাথর। থরে থরে সাজানো এ পাথর কোথা থেকে আসে কেউই তা বলতে পারে না। সারি সারি নারিকেল গাছগুলো দেখতে অপূর্ব! এভাবেই হাটতে হাটতে একসময় বিকেল গড়িয়ে এলো। সুর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য কে না অবলোকন করতে চায়। পড়ন্ত বিকেলে সূর্যটা আস্তে আস্তে ঢলে পড়ল সমুদ্রের কোলে। সে এক অবর্ণনীয় সৌন্দর্য! সমুদ্রজলের উপর ডুবন্ত সূর্যের আলোছটা। ধীরে ধীরে সূর্যটা ডুবে গেলো সমু্দ্রের বুকে। এমন অপূর্ব একটি দৃশ্যের সাথে নিজেকে ভাবতেও খুব ভালো লাগে।
পূর্ণিমার রাতে সেন্টমার্টিন যেন হয়ে উঠে জলপরী কন্যা। জোয়ারের সাথে যেন ভেসে আসে আলোর ঢেউ, চাঁদের আলোর স্নিগ্ধতা আর জোয়ারের শব্দ যেন মিশে যায় একসাথে। এমন একটি রাতে নিজের ভ্রমণটাকে মনে হলো খুব সার্থক!!!
সকালে উঠেই চলে গেলাম বীচে, ওফ! নীল সমুদ্রের হাতছানি!!! সামনে সুবিশাল আকাশ! আর নিচে সীমাহীন নীল সমুদ্র!!! সময়ের সাথে সাথে জোয়ার বাড়তে লাগল... ঢেউয়ের সাথে মেতে উঠার মজাই আলাদা, প্রতিটি ঢেউয়ের সাথে মেতে উঠা, সীমাহীন আনন্দ!!! ক্ষণিকের জন্য জীবনের সব দু:খ ভূলে যাওয়া!!!!
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে জাহাজে করে ফিরে এলাম, সাথে করে নিয়ে এলাম কিছু সুখময় স্মৃতি, আবার সেই কর্মব্যস্ত জীবন!! কবে যে আবার যাব...
২|
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৫
মাহমূদ হাসান বলেছেন: Thank you!!
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
ঘাসফুল বলেছেন: চমৎকার লেখা... গত সপ্তাহে ঘুরে আসলাম... দূর্দান্ত !!!