নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোঃ হোসেন সুমন

মোঃ হোসেন সুমন › বিস্তারিত পোস্টঃ

র্কমক্ষেত্রে এগিয়ে থাকার ২০ উপায়

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৬

কর্মক্ষেত্রে আমরা সকলেই চাই একে অন্যের চাইতে এগিয়ে থাকতে। এজন্য নিজেকে আমরা নানা ভাবে উপস্থাপন করি ও প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হই। দৃস্টি রাখতে হবে এ প্রতিযোগীতা যেন কোন অসুস্থ্য মানসিকতার প্রতিযোগীতা না হয়। প্রত্যকে অন্য সহকর্মীদের সাথে সহযোগীতার মনোভাব ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিচের ২০ টি উপায় মেনে চললে একটি ভাল কর্মপরিবেশের সৃষ্টির সাথে সাথে নিজেকে এগিয়ে নিতে পারবেন অনেকদূর। আসুন আমরা জেনে নিই কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে থাকার ২০ উপায় -
১. নিজের লক্ষ্য এবং উর্দ্দেশ্য নির্ধারন করুনঃ কর্মক্ষেত্রে সাফল্য লাভের প্রথম ধাপ হল আপনার জীবনের লক্ষ্য এবং উর্দ্দেশ্য নির্ধারণ। একজন তিরন্দাজ এর লক্ষ্য থাকে তার তীর সঠিক টার্গেট ভেদ করবে এবং এ জন্য তাকে বারবার চেষ্টা করতে হয়। তার যদি লক্ষ্যই না থাকত তবে সে তীর ছুড়ারও আগ্রহ হারিয়ে ফেলত। এখন ধরুন আপনার কোন লক্ষ্য নেই তাহলে আপনি ক্যারিয়ারএ উন্নতি করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। খুব তাড়াতাড়ি ছিডকে পড়বেন নিজের যাত্রাপথ থেকে। এজন্য যে কাজটি করতে হবে তা হল যটপট আপনার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা। আপনার লক্ষ্য হতে হবে SMART (S=Specific, M=Measurable A= Achievable R= Realistic T= Timebound)। এমন একটি লক্ষ্য নির্ধারন করুন যা বাস্তবভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট ,যা নির্দিষ্ট একটি টাইম ফ্রেমের মধ্যে অর্জন করা আপনার পক্ষ্যে সম্ভব ।
২. প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরী করুনঃ আপনার সকাল হতে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি কাজের টুডু লিষ্ট থাকতে হবে। আমরা মানুষ কোন যন্ত্র নই, তাই ভুলে যাওয়াটা আমাদের পক্ষে স্বাভাবিক। নির্দিষ্ট সময় পরপর নিজের কাজের তালিকাটা চেক করে নিন এতে আপনি অফিসে অন্যদের চাইতে এগিয়ে থাকবেন । বস ডাকলে সাথে একটি ডাইরি নিয়ে যান এবং বসের দেয়া গুরুত্বপূর্ণ ইনস্ট্রাকশনগুলো নোট করুন এতে যেমন বসের সুনজরে আসবেন তেমনি আপনার কাজ ড্রপের সংখ্যাও থাকবে শুণ্যর কাছাকাছি। সর্বোপরি নোট করার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর নোট গুলো চেক করুন্ । এতে আপনার সাফল্য টেকিয়ে রাখার শক্তি করো থাকবেনা এমনটি আপনার নিজেরও।
৩. টিম ওয়ার্ক করুন এগিয়ে থাকুনঃ টিম ওয়ার্ক হচ্ছে একটি দলের প্রাণ। আপনি যদি টিমওয়ার্ক করতে পারেন তবে অন্যদের চাইতে থাকবেন অনেক এগিয়ে। নিজের ইগুকে বাদ দিয়ে দলের সাথে মিলে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াই হল টিমওয়ার্ক। সকলে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ এ ধারনা থাকতে হবে সবসময়। নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন যাতে টিমের অন্যরা বুঝতে পারে আপনার গুরুত্ব । সর্বদা হ্যা সূচক মনোভাব আপনার একটি ভাল ইমেজ তৈরি করবে। ব্যাক্তিগত সাফল্যর দিকে না তাকিয়ে দলগত সাফল্যর দিকে তাকান। আপনি যদি দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন তবে দলইশুধু এগিয়ে যাবেনা আপনি নিজেও এগিয়ে যাবেন।
৪. নিজেকে গুছিয়ে রাখুন ও সর্বদা পরিপাটি থাকুনঃ সর্বদা নিজেকে গুছিয়ে রাখুন। আপনি কতটুকু স্মার্ট তা আপনার ডেক্স এর দিকে তাকালেই বুঝা যায়। অফিস ত্যাগের পূর্বে নিজের ডেক্স গুছিয়ে যান যাতে পরবর্তীদিন একটি সুন্দর পরিবেশে অফিস শুরু করতে পারেন। অফিসে ঢুকার পর নিজের ডেক্স , কম্পিউটার মুছুন তারপর কাজে হাত দিন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ব্যাক্তিগত পরিচর্যা। ব্যাক্তিগত পরিচর্যার দিকে খেয়াল রাখুন নিয়মিতভাবে। নিজেকে দূর্গন্ধের উৎস বানাবেন না। ভালো মানের বডি স্প্রে ব্যবহার করুন যাতে আপনার সহকর্মীরা আপনার ঘামের দুর্গন্ধের শিকার না হয়। যাদের সিরারেট খাওয়ার অভ্যাস আছে ব্যাগে সুইংগাম বা মাউথওয়াশ রাখুন । মিটিং কিংবা টপ ম্যানেজমেন্ট এর কারো রুমে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন।
৫. সহকর্মীদের সাথে সু সম্পর্ক বজায় রাখুনঃ সর্বদা সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। কারো সাথে অহেতুক বিতর্কে জড়াবেন না । ভুলেও অফিসে ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক আলোচনা করবেন না। এতে সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সর্বদা যে কোন পরিস্থিতিতে হাসিমূখে থাকার চেস্টা করুন। প্রত্যেক সহকর্মীর সাথে ভাল ব্যবহার করুন বিশেষ করে অফিসের পিয়ন কিংবা অফিস সহকারীদের সাথে। আপনার ভাল ব্যবহার আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করবে।
৬. অন্যের বিরক্তের কারন না হওয়াঃ নিজেকে কখনও অন্যের বিরক্তের কারন হিসাবে উপস্খাপন করবেন না। কারো ডেক্সে গিয়ে অযথা আড্ডা দিবেন না। মেইল, এসএমএস কিংবা মিসকল দিয়ে কাউকে বিরক্ত করবেন না। এসব বিষয় যে কোন সময় আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে।
৭. অন্যেকে সাহায্য করুন, প্রয়োজনে নিজে সাহায্য চাইতে কুন্টিত হবেন নাঃ সর্বদা অন্যেকে সহায্য করার মনসিকতা রাখুন। আপনি যদি কোন বিষয় অনেক ভাল জানেন কিংবা ভল বুঝেন তবে যেই আপনার কাছে সহায্য চাইতে আসুক না কেন তাকে সাহায্য করতে দ্বিধাবোধ করবেন না, কারণ সাহায্য করলে অফিসে আপনার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে, গুরুত্ব বাড়বে এবং আপনার এগিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হবে। আর নিজে কোন বিষয় না বুঝলে যিনি ভাল জানেন তার কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে নিন্ এতে সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক ভাল হবে, এর সাথে আপনার নিজের ও ডেভেলপমেন্ট হবে।
৮. চ্যালেঞ্জ গ্রহন করুনঃ নতুন কোন কাজ কিংবা নতুন প্রজেক্টের সাথে সম্পৃক্ত হউন ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। চেষ্টা করুন প্রত্যেকটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে শেষ করতে। আর প্রতিদিনের কাজ শেষে বসকে আপডেট দিন। এতে আপনার বস ডেমন আপডেটেড থাকবে তেমনি আপনি কোন সমস্যায় পড়লে তিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন।
৯. সময়ানুবর্তী হউনঃ সময়ানুবর্তীতা কর্মক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রত্যহ সময়মত অফিসে উপস্থিত হউন। যদি কখনও অফিসে আসতে দেরি হয় তবে বসকে অবহিত করে আপনার দেরির কারণ ও উপস্তিত হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানিয়ে দিন। কাজের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি নিয়মিত আপনার বসকে আপডেট রাখুন এবং কোন কাজ সম্পন্ন করতে দেরী হলে তা সাথে সাথে বসকে জানিয়ে অতিরিক্ত সময় চেয়ে নিন। আর চেষ্টা করুন সময়ের কাজ সময়ের আগে শেষ করার।
১০. অন্যের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকাঃ কখনও অফিসে অন্যর সমালোচনা করবেন না এটি আপনার চরিত্রের নেগেটিভ দিক হিসাবে বিবেচিত হবে। কারও মধ্যে এ প্রবণতা থাকলে তাকে এমনভাবে বুঝিয়ে বলুন যাতে বিষয়টি তিনি ব্যাক্তিগতভাবে না নেন।
১১. অহেতুক সময় নষ্ট করবেন নাঃ কাজের সময় গড়িমসি কিংবা অবহেলা বসত অহেতুক সময় নষ্ট করবেন না। কেন্টিন কিংবা ফুড কর্ণারে অতিরিক্ত সময় বসে অড্ডা দিবেন না। লান্সটাইমে দ্রুত শেষ করে কাজে হাত দিন। এতে জটিল কাজগুলো শেষ করার কেত্রে অতিরিক্ত সময় পাবেন।
১২. সর্বদা নতুন কিছু শিখার জন্য তৈরী থাকুনঃ আপনার যদি কোন বিষয়ে দুর্বলতা থাকে কিংবা কোন বিষয়ে পিছিয়ে থাকেন তবে তা শিখে নেয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিন। নতুন কোন বিষয় আপনার সামনে উপস্তিত হলে তা শিখার জন্য তৈরী থাকুন।
১৩. অফিসের শিষ্টাচার মেনে চলুনঃ প্রত্যেক অফিসে আলাদা আলাদা শিষ্টাচার চর্চা হয়। আপনার অফিসের শিষ্টাচার জানুুন এবং তা মেনে চলুন।
১৪. প্রয়োজনে অধিক সময় কাজ কারুনঃ সর্বদা অতিরিক্ত সময় কাজ করার জন্য প্রস্তত থাকুন। প্রতিষ্টানের প্রয়োজনে যদি অতিরিক্ত কাজ করেন প্রতিষ্টান একদিন তার মূল্যয়ন করবে। আর আপনার অতিরিক্ত প্ররিশ্রম সম্পর্কে আপনার বসকে টেকনিক্যালি অবহিত করে রাখুন। তাই বলে চাপাবাজি করবেন না, সবকাজই ফলাফল দিয়ে বিবেচিত হয়। কাজের ফলাফল সবার সাথে শেয়ার করুন যাতে সবার মঝে আপনার একটি পজেটিভ ইমেজ তৈরী হয়।
১৫. সর্বদা নিজেকে সময়ের সাথে আপডেট রাখুনঃ সর্বদা নিজেকে আপডেট রাখুন। সমসাময়িক বিশ্বের সাথে তাল রেখে আপনার প্রফেশন এগুচ্ছে কিনা খোজ রাখুন। প্রফেশনের সাথে সম্পৃক্ত ম্যাগাজিন কিংবা জর্নাল পড়ুন এতে পেশা সম্পর্কে আপনি থাকবেন আপডেটেড। এছাড়াও ইন্টারনেটে নিয়মিত সার্ফিং আপনাকে দিবে অনেক অজানা তথ্য।
১৬. প্রতিষ্টানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা রাখুনঃ নিজের প্রতিষ্টানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্ক জানুন এবং সে অনুযায়ী কজ করুন। চেষ্টা করুন আপনার কাজগুলো প্রতিষ্টানের লক্ষ্য এবং উর্দ্দেশ্যর সাথে মিল রেখে করার।
১৭. নতুন কিছু করার চিন্তা কুরুনঃ সর্বদা নতুন কিছু করার চিন্তা করুন। নতুন কোন আইডিয়া আসলে তা ম্যানেজমেন্ট এর সাথে শেয়ার করুন। বর্তমানে পৃথিবীর সমস্ত প্রতিষ্টান গুলো ব্যায় কমানোর চেষ্টা করছে। চিন্তুা করুন প্রতিষ্টান কোন খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যায় করছে এবং তা কিভাবে কমানো যায়।
১৮. যোগাযোগের দ্ক্ষতা বাড়ানঃ যোগাযোগের দক্ষতা একটি অপরিহার্য বিষয়। আপনি এ বিষয়ে দক্ষ না হলে আপনার প্রমোশন আটকে যেতে পারে। তাই নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনে বিভিন্ন ট্রেনিং কিংবা কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করুন।
১৯. আইটি রিলেটেড জ্ঞান রাখুনঃ বর্তমান সময়ে আপনি যে পেশায় থাকুন না কেন আপনার আইটি জ্ঞান থাকতেই হবে। এজন্য আহামরি তেমন কিছু জানতে হবে তা না। আপনি এক্সেল, ওয়ার্ড, পাওযার পয়েন্ট এবং ইন্টারনেট ও ইমেইলের মত সাধারন বিষয়গুলো জেনে রাখুন এবং দক্ষতা অর্জন করুন।
২০. সর্বদা সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করুনঃ অফিসে ছোট কোন প্রোগ্রাম থেকে বড় কোন প্রোগ্রােম আপনাকে ছাড়া হয়না কিংবা প্রত্যোক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে আপনার ভাল সম্পর্ক তারা যে কেন প্রয়োজনে আপনার কাছে সাহায্যের জন্য আসে এমন একটি পরিবেশ কল্পনা করুন তো। এধরনের একটি পরিবেশ তৈরী করতে পরাটা অনেক বড় ক্রেডিট এর ব্যপার। এতে আপনার এগিয়ে যাওয়া কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

লেখক: মোঃ হোসেন সুমন
এইচ আর প্রফেশনাল ও ট্রেইনার

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.