| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুহা. হাফিজুর রাহমান শামিম
আমি একজন বাংলাদেশি, একজন বাঙালি,সর্বোপরি একজন মানুষ।
হালকা ঠাণ্ডা চারদিকে। ফালগুণ মাস।আবছা আবছা অন্ধকার।শেষ রাতের কুয়াশাগুলো ঘাসের ডগায় শিশির হয়ে জমতে শুরু করেছে।আমি আর নীলা হাত ধরে হাঁটছি।আবছা আলোতে নিলার মুখটা ঠিক বুঝা যাচ্ছেনা।আমি নীলাকে দ্রুত হাঁটতে বললাম।আমার কোন কথাই শুনছেনা ও।শুকনো একটা খাল।ফেটে চৌচির হয়ে আছে।আমরা খালটা সোজাসুজি পার হলাম।এতক্ষণে বুঝতে পারলাম আমার পায়ে জুতা নাই।নীলার পা দেখা যাচ্ছেনা।খালের এ পারটাতে বিশাল সর্ষে ক্ষেত।ফুলে ফুলে হলুদ হয়ে আছে।থাকুক না । তাতে আমার কি?আমরা পালিয়ে যাচ্ছি।কোথায় যাব এখনো ঠিক করিনি।হটাত থমকে দাঁড়ালাম।সামনে মেঝ চাচার বাড়ি।ব্যাটা পাঁচ বছর পর বিলেত থেকে বাড়ি ফিরেছেন।সারা দিন রাত বাসা থেকে বের হোননা।একবার দেখে ফেললে ওখানেই যাত্রা শেষ।ডানে বামে কোন রাস্তা নেই।ক্ষেতের মধ্যে সরু একটা পথের মত চোখে পরল।আমি ডান দিকের পথ ধরে হাঁটতে লাগলাম।ডানদিকের যাত্রা শুভ।মা ছোটবেলায় বলেছিলেন।চিন্তায় আমার মাথা ভোঁভোঁ করছে।নীলার চোখেমুখে চিন্তার কোন লেশ মাত্র নেই।মেয়ে মানুষ গুল কেমন করে এত নির্ভার হয়?আমার ইচ্ছা করছে ওকে একটা ধমক দিয়ে কাঁদিয়ে ফেলি।আমার উপর ওর নির্ভরতা দেখে ভালও লাগছে।পথটা অচেনা।হটাত একটা খাল চোখে পরল।খালের পার ধরে হাঁটছি ।একটা নৌকা পেয়ে গেলাম।আমাদের জন্য যে এই ব্যবস্থা করে রেখেছে, মনে মনে তাকে ধন্যবাদ দিলাম।আমি এক লাফে নৌকায় উঠে নীলাকে উঠতে বললাম। ও খিলখিল করে হেসে উঠল।
ওমা তুমি কখন উঠলে?
আমি খানিকটা চমকে গেলাম।দেখি ও আমার আগে উঠে বসে আছে।ওর এই চঞ্চলতা আমার ভালো লাগে।আমি গ্রামের ছেলে।নৌকা বেয়ে অভ্যাস আছে।হালকা ধাক্কা দিতেই নৌকাটা প্রচণ্ড গতিতে চলতে লাগল।নদীতে ঢেউ নাই,স্রোত নাই, তেমন বাতাসও নাই।আমার একটু অস্বাভাবিক ঠেকল।যাই হোক দ্রুত গেলেই ভালো।নীলা লাল রঙের স্যালোয়ার কামিজ পরেছে।লাল আমার একদম পছন্দ না।আমার পছন্দ হালকা সবুজ।ইদানিং ওটাও ভালো লাগে না।কারণ আমার চারপাশে কোন সবুজ নাই।উপরে তাকালে নীলাকাশ,নীচে নীল জল।এখন নীল রঙ টাই বেশি ভালো লাগে।ও আজ নীল শাড়ি পরলেই বেশি ভালো লাগতো।
ও মা , নীলা নীল শাড়ি পরে বসে আছে।ও খিল খিল করে হেসে উঠল।আমি কঠিন করে বললাম, যেখানে সেখানে কাপড় বদলানো ভীষণ অসভ্যতা।
তুমি যে বললে?
আমি কখন বললাম?
আমি তোমার মনের কথা বুঝতে পারি, নীলা গম্ভীর গলায় বলল।নীলা মন খারাপ করে বসে আছে।আমার খারাপ লাগলো।প্রায় কান্না পেয়ে গেল।নীলাকে নীল শাড়িতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।বললে হয়তো অনেক খুশি হত। ইচ্ছা করছে না।খালের পানি টা নীল হলে আরও ভালো লাগতো।আমি হটাত আনমনা হয়ে গেলাম। একি! আমার বৈঠা ভেসে যাচ্ছে।কিছু না বুঝে পানিতে ঝাঁপ দিলাম।নীলার খিল খিল হাসির শব্দ আমার কানে এলো।রাগে, দুঃখে, আমার চোখে পানি এসে গেল।অনেক কষ্টে নৌকায় উঠে দেখি নীলা খালের ধারে দাড়িয়ে আছে।আমার বোকামির জন্য নিজের উপর প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে।নৌকাটা আসলে অই পারে পৌঁছে গিয়েছিল।আমি মুখ গম্ভীর করে পারে উঠলাম।ঠাণ্ডায় আমার সারা শরীর কাঁপছে।মনে হচ্ছে বাড়ি চলে যাই।কিন্তু তা সম্ভব না।কাল নীলার বিয়ে ।সকাল হবার আগে পালাতে হবে।নীলা হাত বাড়িয়ে আমাকে তুলল।শাড়ীর আঁচলে মাথা মুছে দিল।আমার আনন্দে চোখে পানি চলে এল।দাঁড়ানোর সময় নেই।থাকলে কিছুক্ষণ কেঁদে নিতাম।নীলা দ্রুত হাঁটছে।আমি কিছুতেই ওকে ধরতে পারছি না।অদূরে পাকা রাস্তা দেখা যাচ্ছে।দুয়েকটা বাস হর্ন বাজিয়ে চলে যাচ্ছে।
নীলা আস্তে হাঁটো,আস্তে............।
নীলা ফিরে তাকাল।
আবার সেই দুষ্টুমিভরা খিল খিল হাসি, নীল শাড়ি পরা নীলাকে অপূর্ব লাগছে।আমি ওর পিছু পিছু ছুটছি।ফোনটা বেজে উঠল, নিশ্চই বাসা থেকে কেউ ফোন করেছে।
“ফিফটিন মিনিট লেফট ফর ডিউটি স্যার”
আমি চমকে উঠলাম, কে, কে বলছেন??????
ইঞ্জিন ক্যাডেট মনির স্যার.....................।
আমি ধীরে ধীরে চোখ খুললাম।টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালালাম ১১৪৫ বাজে।এনালগ ঘড়ি।দিন না রাত ঠিক বুঝতে পারছি না।রুমটা অন্ধকার ছিল।নীলার জন্য মনটা খারাপ হয়ে গেল।বেচারি কে মাঝ পথে ফেলে এলাম।সত্যি ওর যদি বিয়ে হয়ে যায়!!!!
পোর্টহোলের পর্দাটা সরিয়ে বাইরে তাকালাম।জ্যোৎস্না রাত।সাগরের নীল জলে চাঁদের রুপালী আলো চিকচিক করছে।নীল আকাশটা চাঁদের আড়ালে দেখা যাচ্ছে না। নীলা নীল আকাশের মতই রুপালী আলোয় বর্ণহীন হয়ে গেল।
“ডিউটি টাইম”
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৪
মুহা. হাফিজুর রাহমান শামিম বলেছেন: ধন্যবাদ।আপনি বলার পর মনে হচ্ছে, 'আমার' শব্দটি আসলেই বেমানান হয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৩৩
নেক্সাস বলেছেন: সুন্দর গল্প।
আমার নীলা নীল আকাশের মতই রুপালী আলোয় বর্ণহীন হয়ে গেল। এখানে আমার শব্দটা না হলে ভালো হবে।