| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুহা. হাফিজুর রাহমান শামিম
আমি একজন বাংলাদেশি, একজন বাঙালি,সর্বোপরি একজন মানুষ।
আজ ও বাড়িতে ফিরবে।চারদিকে কেমন একটা চাঁপা উৎসব উৎসব পরিবেশ। সবাই অপেক্ষা করছে। ওর নাম সাইদুল। মেরিন একাডেমীতে একসাথে পড়তাম। ভীষণ বেয়াড়া টাইপের ছেলেটা।একই জেলায় বাড়ি বলে একাডেমী ছুটি হলে একসাথে ফেরা হত। চট্রগ্রাম টু পটুয়াখালী, বাসে প্রায় ১৮-২০ ঘণ্টা লেগে যেত। সেবার ঈদের আগে একাডেমী ছুটি হল। ছ’মাস অবরুদ্ধ জীবন থেকে ছাড়া পেয়ে মনে হল আকাশে উড়ছি। কালো সানগ্লাস পরে এদিক সেদিক তাকাচ্ছিলাম।জানি আমার চোখ কি খুঁজছিল।বাসে ওর সাথে পাশাপাশি সিটে বসলাম।ভাগ্য সুপ্রসন্ন। আমার ঠিক উল্টা দিকের সিটে একটা মেয়ে বসল।আমি একটু ভাবসাব নিয়ে নরেচরে বসলাম।পুরো বাস ভর্তি মানুষের মাঝে একাডেমীর ইউনিফর্ম পরা আমাদের দু’ জনকে সবাই একটু আড় চোখে দেখছিল।আর জাই হোক, পাশের সিটের মেয়েটা যখন আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল আমি তখন অন্য কিছু অনুভব করতে লাগলাম। বাস শহর ছেড়ে অনেক দূর চলে এসেছে। আমি ভাব মেরে প্রকৃতি দেখছি। তবে আমার পাশের জানালা দিয়ে নয়, ঠিক উল্টা পাশের জানালা দিয়ে। মাঝে মাঝে চোখ নিচে নেমে যাচ্ছে। এটা আমার দোষ নয়। বিধাতা প্রদত্ত স্বভাব।সাইদুল ঘুমিয়ে পরেছে।আমার কেন যেন ঘুম আসছে না।বসে বসে অনেক কিছু কল্পনা করে ফেললাম। হটাত কোন কথা বার্তা ছাড়া ও আমার কোলের উপর বমি করে দিল।আমি কিছু বুঝে উথার আগেই আমার শার্টে মুখ মুছে আবার ঘুমেয়ে পরল।রাগে ঘৃণায় আমার মাথা ঝিমঝিম করছিল।আমার ইচ্ছে হচ্ছিল ওর শার্ট প্যান্ট গুল খুলে আমি পরে ফেলি। আমার অসহায়ত্ব দেখে অন্তত একটা লোকের দয়া হল।লোকটা একটা লুঙ্গি আর একটা শার্ট এগিয়ে দিলেন। বেচারার দয়ার কথা ভুলবার নয়।বাস ভর্তি লোকের মাঝেই লুঙ্গিটা পাল্টাতে হল। শার্ট টা পরতে গিয়ে দেখি পাঁচটা বোতামের তিনটাই নাই। সারাটা পথে অই মেয়েটা আমার দিকে কয়বার তাকিয়েছে জানি না। তবে আমি আর একবারও তাকাইনি।
আমি কুয়াকাটা থেকে ছুটে এসেছি ওদের বাসায়, ও আসবে বলে। আরও অনেকে এসেছে। চারদিকে অনেক মানুষ, তবে কেউ কোলাহল করছে না। আমার একে একে মণে পরতে লাগল অনেক গুল ঘটনা। দু’ দিন আগেও আমাকে ফোন করে বলেছিল , একটা ফ্ল্যাট বুকিং দে। সেইলর ডেভলপমেন্ট নামে একটা ডেভলপার কোম্পানিতে ওর শেয়ার ছিল। আমি হাসছিলাম, টাকার অভাবে লোকাল বাসে চড়ি, আর ঢাকায় ফ্ল্যাট!
হটাত এ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে সবাই ছোটাছুটি শুরু করল।আমি দাড়িয়ে ছিলাম নির্বাক। ফ্রিজ ভ্যান থেকে সাইদুল চার জনের কাঁধে ভর করে নেমে এল।
তোকে মিস করি অনেক, জানি তুই আর কখন ফোন দিবি না।তবু অপেক্ষা করি।মনের অজান্তে খুঁজে ফিরি, কোথাও তুই নাই আর..................তোর বন্ধুদের হৃদয়ের হাহাকার শুনতে পাস না স্টুপিড?ভালো থাকিস।
পুনশ্চ : কে, এম, সাইদুল আলম, (একাডেমীক নাম্বারঃ২৭১৩,ব্যাচ নং-৪৪,বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী)ঢাকা এয়ারপোর্ট রোডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতবরণ করে।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৩৩
মুহা. হাফিজুর রাহমান শামিম বলেছেন: একাডেমী তে বাইরে যাওয়ার জন্য আলাদা ইউনিফর্ম আছে।সেটা ফর্মাল এবং শালীন।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:০৩
খেলাঘর বলেছেন:
দু:খজনক।
একাডেমীর বাইরে যেতে ইউনিফর্ম পরা উচিত নয়।