| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
স্মৃতিশক্তি খুব দ্রুত কমে আসছে। যদি উলটা পালটা কথা বলি তাহলে কিছু মনে করো না। যেমন ধরো পাশ দিয়ে হেঁটে গেলাম, চিনলাম না, তখন ভেবো না, আমি না চেনার ভান করছি। আমি হয় অসুস্থ। আর যদি আমার আমি অন্য প্যারালাল টাইম লাইন থেকে আসি, তাহলেও হয়তবা তোমাকে চেনা চেনা লাগবে কিন্তু তখনো সেই আমি তোমার সাথে কথা বলবো না। কারণ অন্য টাইম লাইনের সবকিছু ৮০% মিলে যায় আর একটু কম বেশী হয়। ফলে কনফিউশান সৃষ্টি হয়। চেনা মানুষের সাথে কথা বলা সাধারণত হয়ে উঠে না।
অনেকে বলে ফেলে, 'আপনার মত একজনকে আমি চিনি।' আমাকে এরকম পাঁচজন বলেছে। তার মাঝে ভিকারুন্নেসার দুজন ছাত্রী দুবার বলেছে। তারা অনেকক্ষণ একভাবে তাকিয়ে ছিল। বিশ্বাস করতে পারেনি যে আমি তাদের সেই চেনা ব্যক্তি না। এতোই বলে মিল পেয়েছে তারা।
যে ইউনিভার্সিটিতে কাজ করতাম সেখানে তিনবার ঘটেছে। মন্ট্রিয়লে আমাকে একজন দু'বার দেখেছে। আমি তো তোমাকে ট্রেনে দেখলাম। সেই ফার্স্ট ইয়ারের তুমি। তখন ছিল সেপ্টেম্বর ২০২৫.
গত তিনি দশক কিন্তু আমার ভাবনা জগৎ একদম shut down ছিল। কিছু ভাবতাম না। দু’চারটা লেখা মাঝে মধ্যে লিখতাম। আমার সম্পাদিত ম্যগাজিনের ৩৭ টি সংখ্যার দু’ তিনটি বাদে কোথাও আমার কোন লেখা ছিল না।
আর এখন?
সুফি দর্শনের আধ্যাত্মিকতা বা মৃত্যুচেতনা আমার সব লেখায় কোন না কোন ভাবে এসে যায়। বিশেষ করে গত বছরের ১৭ই অক্টোবর থেকে আমার মাঝে একটা চিন্তা বেশ জেঁকে বসেছে। আর তা হলো, ‘আমার আর বেশী সময় নেই হাতে। আমার সব কথা লিখে যেতে হবে।’ আর এ থেকেই আবারো, তিন দশর পর, হাতে যেন লেখার ঝর্ণা নেমেছে।[মান যাই-ই হোক]।
প্রথম ভাবনা 'ম্যনিফ্যস্টেশান' ছিল প্রথম অডিও রূপে বলা আমার কথা। তোমার মত একজনকে যে দেখেছিলাম ট্রেনে, পাক্কা ১ ঘন্টার জার্নিতে, সে নিয়ে বলা কথা। তারপর থেকে আরো কিছু গল্প সংযুক্ত হয়েছে অডিও হিসাবে । ইউটিউবের লিঙ্ক তো দিয়েছিলাম তোমায়। লেখা শুরু করেছি দু' তিনটা অডিও করার পর। তাই দীর্ঘ বিরতির পর আবার সামু ব্লগে লেখাগুলো জমা রাখার জন্য ব্লগে আসলাম।
ভবিষ্যতে 3-days black out হবার prophecy আছে। তখন নেট সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাবে। এসব ফাইল অনলাইনে রেখে কি হবে ? তাও রাখি।
জীবনের এ পর্যায়ে এসে দেখি সব লেখা একত্রে জড়ো করলে একটা উপন্যাস হবে। জীবন আসলে খোদার লেখা একটা উপন্যাস। আমরা তার ভেতরের চরিত্র মাত্র। তাই এই শেষের দিকে এসে আর কোন কিছুর জন্য আক্ষেপ থাকে না।
আক্ষেপ নাই।
১৫ই মার্চ, ২০২৬
©somewhere in net ltd.