নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময় সীমাহীন

হুমায়রা হারুন

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।

হুমায়রা হারুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

জ্ঞান অন্বেষণে এক ইউক্লিড

৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ৩:৩২

ঢাকা ইউনিভার্সিটির কলাভবনের লাইব্রেরির ভেতরের দিকে একটা অংশ আছে যেখানে বিশাল লম্বা হল-ওয়ে। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দেখা যায় না। নীস্তব্ধ, কোলাহল বিহীন। কারোর বিচরণ নেই ওখানে। সারি সারি শেলফ্‌ আর শেলফ্‌ । আর তা ভর্তি বাইন্ডিং করা রিসার্চ পেপার। একটা বাইন্ডিং বই বের করে আবার খালি জায়গামতন রাখা যায় না। এক ইঞ্চিও জাগা যেন মাপা। সেই অংশে জুনিয়র ছাত্ররা যায় না। রিসার্চার-রা যায় কি না সন্দেহ। কোনো বই তে কারো হাতের ছোঁয়া কখনো পড়েছে বলে মনে হয় না। ধূলা পত্র ঝাড়া হয় কিনা কে জানে।
আমি সেই বইয়ের সমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রথম অনুভব করেছিলাম যেন ইউক্লিডের আমলের 'লাইব্রেরি -অফ -আলেক্সানড্রিয়া'তে দাঁড়িয়ে আছি। কি যে এক অনুভূতি। আমি মাত্র ফার্স্ট ইয়ার। কিন্তু কেন কিভাবে ঐ অংশে ঘুরতে ঘুরতে চলে এসেছি, আমি নিজেও জানি না। তারপর ডিকশনারির মতন মোটা একটা বাঁধাই করা বই বের করে নিলাম। দেখি সোনালী অক্ষরে, মলাটের ওপরে লেখা Metaphysics.
পাতা খুললাম। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের রিসার্চ জার্নাল । ইংরেজীতে লেখা। একটি শব্দও বুঝি না। যত্ন করে তুলে রাখতে যাব বইখানা শেলফে, দেখি সেই খালি জায়গায় আর বই রাখা যায় না। এক মিলিমিটার ও জায়গা বের করতে পারি না। পাশের বইয়ের ওপর সারিবদ্ধ বইয়ের ভারে, আমার শক্তিতে কুলালো না যে একটু জায়গা করে নিই। বইটি পড়ার টেবিলে রেখে চলে এলাম।
সেইদিন কেন Metaphysics-এর এই বই আমার হাতে এসে পড়েছিল আমি জানি না। আর তারও ১৭ বছর পর আমার, মেটাফিজিক্স-এ যাত্রা শুরু।
তবে সেসব জার্নালে আমি ম্যাথ পাই নি। ওটা দর্শন শাস্ত্র -র একটা এক্সটেন্ডেড শাখা হিসাবে পরিগণিত। রচনাগুলো সে ভাবেই সন্নিবেশিত। আর আমার পথ হলো, ফিজিক্স থেকে কোয়ান্টাম- মেকানিক্স হয়ে মেটাফিজিক্স। আমার কিছু ম্যাথ লেগেছে পড়াশোনায়। তবে কঠিন না। কারণ আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষার মান কম । তাই জটিল ম্যাথ কখনো শিখি নি।
কিন্তু লাইব্রেরির কালেকশান দেখে সেদিন বুঝেছিলাম কেন এই প্রতিষ্ঠানকে 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ড' বলা হতো।
যে লেখাটি তখন ইংল্যান্ডে প্রকাশ হতো, সেটাই এই প্রতিষ্ঠানে অ্যাভেইলেবেল হয়ে যেত। সমান মানের লাইব্রেরি। আর কলা অনুষদের এই পাঠাগারকে মূল 'লাইব্রেরি' বলা হয়। সাইন্স লাইব্রেরিকে বলা হয় না। ওট সাইন্স লাইব্রেরি নামেই পরিচিত। কিনতু কলা ভবনের পাঠাগারটি হলো 'লাইব্রেরি।'
আর সেদিন? আমি ছিলাম জ্ঞান অন্বেষণের সন্ধানে একজন ইউক্লিড, যাকে প্রকৃতি একটা Metaphysics -এর বই হাতে তুলে দিয়ে কোন অজানা কারণে সংকেত দিয়েছিল যে, এই সেই বিষয়- যা তোমার জানার 'ক্ষেত্র' হবে কোন একসময়ে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.