| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
পূর্বকথাঃ
সাজু আর আমি ক্লাসরুমের সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে। গত কালের নৃত্যগীত সন্ধ্যার আয়োজন নিয়ে কথা বলছিলাম।কথোপকথনের মূল বিষয় নৃত্যগীতের আয়োজন নিয়ে নয়, বরং নৃত্য পরিবেশনকারী 'সুদর্শন পুরুষ' মালবিকা – কে নিয়ে।
কথোপকথনঃ
-অসহ্য
-কি অসহ্য?
-ওর অঙ্গভঙ্গী।
-অঙ্গভঙ্গী বলছো কেন? এটা তো নাচ।
- এটা কোন নাচ হলো? হাত পা ছুঁড়লেই নাচ হয়?
-আজকাল হয়। শুধু নাচই হয় না। উচ্চাংগ নৃত্যও হয়।মালবিকার সজাগোজ দেখ না? দরবারে নৃত্য পরিবেশনের সময়ে বাঈজীরা এমন পোশাকেই আসতো।
-এখানে কোন দরবার হচ্ছে না কি?
- না তা হচ্ছে না। তবে নৃত্য পরিবেশনকারী মনে হয় তোমার মন ছুঁতে পারেনি। তোমার চোখে ওকে সুন্দরী রমনী মনে হয়নি? তাই না?
- রমনী? এই ছেলে কিভাবে রমনী হবে?
- আমার চোখে অবশ্য সে সুদর্শন পুরুষ।তাই আমার ভাল লেগেছে। তোমার ভাল লাগেনি কারণ তোমার দৃষ্টিতে সে 'সুদর্শনা' মানে সুদর্শন রমনী হতে পারে নি।
- একটা মানুষ একজনের চোখে পুরুষ আরেকজনের চোখে রমনী হবে কিভাবে?
- কিন্নর যারা, তার হো তাই-ই।নারী পুরুষ উভয় সত্তার বাস এক দেহে। যেমন মালবিকা।আমি তাকে পুরুষ রূপে দেখেছি তাতেই ভাল লেগে গেছে। তুমি তাকে নারী রূপে দেখতে পেলে বাদ বাকী কিছু খেয়ালেই আসতো না। তার অংগভঙ্গীকে কেরিকাচার মনে হতো না। নৃত্যে পরিবেশনকে ছন্দের তালে তালে শৈল্পিক উপস্থাপন মনে হতো। আমার কি মনে হয় জানো?
-কি মনে হয়?
-মালবিকা শতভাগ কিন্নর হয়ে উঠতে পারে নি। এখনো পুরুষালী ভাবটা অর্ধেকের বেশী রয়ে গেছে। সমান সমান নারী, পুরুষ হলে তোমার আর আমার কাছে সে 50/50 ব্যালেন্স হয়ে যেত।
- কিন্নররা তো প্রাচীন পুরাণ অনুসারে অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক দেবতা । তাই নয় কি? আমাদের ডাইমেনশানে এসে সেই মানুষেরও দুইভাগ আছে, নারী ও পুরুষ। বেশ জটিল ক্রোমোজম-বিভাজন। আর দেবতাদের ক্রোমোজমের সজ্জা তো জানি-ই না। ঐটুকু তো একদম অজানা।
-হ্যা বেশ জটিল ক্রোমজোমের সজ্জা। আমি একজন চ্যনেলারদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছি যে, 7D -র সত্তারা অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক অ্যাঞ্জেলিক। তাদের কি জটিল ক্রোমজোমের বিন্যাস! তাদের গুণাবলী আমাদের ধারণারও উর্ধ্বে। তাহলে কিন্নরদের কথা ভেবে দেখ। যদি তারা 5D এরও উর্ধ্বের সৃষ্টি হয়, এবং সেখান হতে 3D তে এসেছে সুর, বাদ্য আর নৃত্যের ঝংকারে অনুরণন ঘটাতে কিন্তু প্রপ্ত অধিকারের অভাবে ভিক্ষা করে , ভাঁড় গিরি করে জীবন যাপন করতে হচ্ছে, তাহলে কি কঠিন দুঃসহ তাদের এই ইঙ্কারনেশানে পথ চলা। শুধু বাধা আর বাধা
-নিশ্চয়ই । এরা আমাদের কাছে, না পুরুষ না নারী । কিন্তূ গোড়ায় যেখানে এরা সৃষ্ট, সেখানে কিন্নরদের-ও স্ত্রী জাত আছে। তাদের বলে ‘কিন্নরী’। পুরাণ মতে, কিন্নররা সাধারণত হিমালয়ের কল্পিত গন্ধর্বপুর বা কুবেরের আলকা নগরীতে বাস করত। তাদের বাসস্থান ছিল দেবতাদের স্বর্গীয় রাজ্যে, বিশেষত হিমালয় পর্বতমালায়—গন্ধমাদন, কৈলাস, এবং মেরু পর্বতের আশেপাশে। এখনো বসবাস করে ।কিন্তু সেই উচ্চ ডাইমেনশান তো আমরা দেখতে পাই না। তাই না? সেখানে তারা দেবতাদের জন্য সংগীত পরিবেশন করে। পুরাণে বলা হয়েছে, দেবতারা যখন আনন্দ করেন, তখন কিন্নররা তাদের জন্য গান ও নাচ পরিবেশন করেন। গন্ধর্ব ও কিন্নর উভয়েই স্বর্গীয় সংগীতজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
-ঠিকই ধরেছ। এদের ক্রোমোজম বিন্যাস, পুরাণ অনুসারে যদি ১০০+ হয় তাহলে বেশীর ভাগই তো অজানা এবং misunderstood. খেয়াল করো, ব্রহ্মার সাত জন মনোজাত পুত্র ছিল।
-মনোজাত মানে?
- জানি ন্ তবে আমার মনে হয় manifested হওয়া, অভিব্যক্ত হওয়া কে মনোজারত বলে।,ব্রহ্মার সেই সাত মানসপুত্ররা হলো- ভৃগু, মরীচি, অঙ্গিরা, ক্রতু, পুলহ, পুলস্ত্য। মরীচি ও ক্রতুর কন্যা- অরুন্ধতীর মিলনে বিশ্ব সৃষ্টিতে বিভিনন্ন ধারায় বংশের উতপত্তি হয়। ভেবে নিলাম বংশ মানে প্রজাতি। এসব বংশের মাঝে রয়েছে দেবতা, অসুর, নাগ,অপ্সরা, প্রাণীকুল, ১০০+গন্ধর্ব/ কিন্নর, চিত্রসেন (যারা গায়ক জাতি)। এরা ক্রমান্বয়ে বিস্তৃতি লাভ করে সৃষ্টি জগতকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। অর্থাৎ বহু রকমের DNA সৃষ্টি হয়ে গেল ।তার মাঝে কিন্নর একটি সৃষ্ট। একটি প্রজাতি। এরা ‘আধা-মানব, আধা-দেবতা’-র DNA এর সংমিশ্রণ। নয় কি?
- অবশ্যই। পৌরাণিক ধারণায়, কিন্নররা স্বর্গীয় সংগীতজ্ঞ, যাদের শরীরে মানুষের ও পাখির বৈশিষ্ট্য থাকে। কিন্নররা স্বর্গীয় রক্ষক (খোজা।) এরা সঙ্গীত, নৃত্য,সুর, সভা গায়কদের সাথে সম্পর্কযুক্ত।আবার অন্য দিক দিয়ে ভেবে দেখ, আমাদের প্ল্যানেট যখন উচ্চ ডাইমেনশানের দিকে এগুবে তখন পৃথিবি উৎস বা সোর্সের কাছাকাছি চলে আসবে। মানুষরা আর 3D তে আবদ্ধ থাকবে না। তাদের মস্তিষ্কের left hemisphere, right hemisphere একই সাথে কার্যশীল হবে। তখন মানুষের মাঝে দুই সত্তা মানে নারী সত্তা, পুরুষ সত্তার উপরিপাতন হবে। একই দেহে প্রকাশিত হয়ে, একই সঙ্গে কার্যশীল হবে দুটি সত্তার।। ক্রোমজোমের গঠন নির্ঘাৎ এক থাকবে না।
-না। কিন্তু 5D তে সব মানুষেরা ভাবেসাবে কিন্নরদের মত হবে?
- হ্যা। এবং খেয়াল কর, সেই স্বর্গলোকের কিন্নর -এর প্রতিভূ এই ডাইমেনশানের কিন্নর। যদি দেবতাদের (ধরে নিলাম কোন একপ্রকার ET – দের ) ক্রোমজোম ওদের মাঝে থেকে তাহলে তাদের জটিল এই ক্রোমজমের বিন্যাসে দেবতাদের মতন সেই গুণটাও নিশ্চয়ই থাকবে?
- কোন গুণটা? সেই অভিশাপ দেয়ার ব্যাপার?
-হ্যা । সেই গুণ - তারা যদি কষ্ট পেয়ে মন থেকে শাপ দেয় তাহলে তা ফলে যায়।
-কি সাংঘাতিক।
-এই ডাইমেনশানে DNA লক্ (অকার্যকর) থাকলে এই গুণ সুপ্ত থাকতে পারে। কিন্তু ১০০+ গন্ধর্ব/কিন্নর এর সৃষ্টি দেখে মনে হয় কমপক্ষে ১০০ প্রকার সজ্জা তৈরী হয়ে আছে LGBQT স্পেকট্রামে, যা আমরা জানি না।তবে আমরা যত উচ্চ ডাইমেনশানে উন্নীত হবো, ততই উৎসের দিকে ফিরে যেতে যেতে বহু ধরণের ক্রোমজোমের সজ্জা দেখতে পাব।মানে প্রকৃতির বহুধরণের সৃষ্টি অবলোকন করতে পারবো। উপরের দিকে পৌঁছুতে পৌঁছুতে ব্রহ্মার সাত মানসপুত্রের দেখা পাব। তাদের বংশের সকল ধারা দেখতে পাব। কিন্নরদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্যসমূহ,গুণ, ক্ষমতা সম্বন্ধে জানতে পারলে তারা আর আমাদের কাছে তাচ্ছিল্যের পাত্র হবে না ।এই 3-ডাইমেনশানে তাদের ভাঁড়ামি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে না। তারা নিজেরাও জানবে তারা কোথা থেকে আগত। একটা ছিটকে পড়া পথচ্যুত উল্কা পিন্ড নয়। তাদের এইরূপ দৈহিক গঠন নিয়ে পৃথিবীতে আসার কি কারণ তা জানতে পারলে কেউ –ই তাদের প্রাপ্ত সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না।তারা আর হাসি ঠাট্টার পাত্র হবে না। তাদেরকে তামাশা করে, মানবেতর জীবন যাপন করে বাঁচতে হবে না।
......।.।
১৩/০৭/২০২৬
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: কার উক্তি?
সুন্দর তো !
২|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪০
শূন্য সারমর্ম বলেছেন:
যৌনতার ডার্ক ফ্যন্টাসিকে বিজ্ঞান দিয়ে ডিফেন্ড করবার চেস্টা।
৩|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
কিন্নর, নৃত্য ও মানুষের ভবিষ্যৎ সত্তার অনুসন্ধান মুলক গল্পটি বেশ মনযোগ সহকারে দীর্ঘক্ষন লাগিয়ে পাঠ করলাম ।
পাঠান্তে আমার দৃষ্টিতে কিছু পর্যালোচনা নীচে তুলে দিলাম ।
আপনি একটি আপাত সাধারণ ঘটনাকে একজন নৃত্যশিল্পীকে দেখা উপলক্ষ করে মানুষের পরিচয়, সৌন্দর্যবোধ এবং
অস্তিত্ব সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। গল্পের শুরুতে একজন দর্শক নৃত্যশিল্পীকে দেখে মুগ্ধ হন, কিন্তু
অন্যজন প্রশ্ন তোলেন তিনি কি নারী, না পুরুষ? এই প্রশ্ন থেকেই গল্পটি ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে পৌরাণিক কল্পনা
এবং পরে আধ্যাত্মিক ও অধিবিদ্যাগত আলোচনায় প্রবেশ করে।
এখানে মালবিকা কেবল একজন শিল্পী নন; তিনি দ্বৈততার প্রতীক। তাঁর মধ্যে পুরুষ ও নারীর বৈশিষ্ট্যের সহাবস্থান
আপনার কাছে মানুষের সীমাবদ্ধ পরিচয়ের ঊর্ধ্বে এক সমন্বিত সত্তার ইঙ্গিত বহন করে।
গল্পে আপনি ভারতীয় পুরাণের কিন্নরদের আধুনিক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পুরাণে কিন্নরদের দেবলোকের
সংগীতজ্ঞ ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এখানে তাদেরকে মানুষের ভবিষ্যৎ বিবর্তনের সম্ভাব্য রূপ হিসেবে
কল্পনা করা হয়েছে। এই কল্পনার সঙ্গে আপনি 5D, 7D, উচ্চমাত্রিক চেতনা, DNA, ক্রোমোজোম এবং বহুমাত্রিক
অস্তিত্বের ধারণা যুক্ত করেছেন।
এই অংশগুলো মূলত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ নয়; বরং কল্পবিজ্ঞান, আধ্যাত্মিক দর্শন ও প্রতীকের মিশ্রণ। ফলে গল্পটি এর
পাঠককে এগুলোকে তথ্যগত সত্য হিসেবে নয়, সাহিত্যিক রূপক হিসেবে পড়তে হয়। গল্পের সবচেয়ে ভাল দিক
হলো, এটি সৌন্দর্যকে কেবল নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না। আপনি বলতে চেয়েছেন, প্রকৃত সৌন্দর্য
মানুষের লিঙ্গে নয়, তার শিল্প, সত্তা এবং চেতনায়।
গল্পটি সংলাপনির্ভর হওয়ায় পাঠকও সহজেই আলোচনার অংশ হয়ে ওঠেন। প্রশ্নোত্তরের ভঙ্গিতে জটিল দর্শনও
তুলনামূলকভাবে সহজভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
আপনি পুরাণ, দর্শন, আধ্যাত্মিকতা এবং আধুনিক শব্দাবলীর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি অভিনব ভাষাশৈলী নির্মাণ
করেছেন। অনেক জায়গায় এটি প্রবন্ধের মতো, আবার অনেক জায়গায় দার্শনিক আলাপচারিতার মতো।
গল্পে নৃত্যকে কেবল বিনোদন নয়, এক ধরনের আধ্যাত্মিক ভাষা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রচলিত লিঙ্গ-ধারণার বাইরে সৌন্দর্যকে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে ।
ভারতীয় পুরাণের কিন্নর ধারণাকে নতুনভাবে কল্পনা করার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে ।
গল্পটি পাঠককে চিন্তা করতে বাধ্য করে মানুষ আসলে কে?
তবে গল্পটিতে কিছুটা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে । গল্পে DNA, ক্রোমোজোম, 5D, 7D, বহুমাত্রিক সত্তা, দেবলোক,
ET ইত্যাদি বিষয়কে একই ধারায় যুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর অনেকগুলোই প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য নয়; বরং
বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বা নিউ এজ দর্শনের ধারণা। ফলে পাঠক যদি এগুলোকে বৈজ্ঞানিক দাবি হিসেবে গ্রহণ করেন,
তাহলে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে। সাহিত্যিক কল্পনা হিসেবে এগুলো গ্রহণ করলে গল্পের রূপকধর্মিতা বেশি স্পষ্ট
হয়।এছাড়া গল্পের শেষাংশে ধারণার ঘনত্ব এত বেশি যে, কাহিনির প্রবাহ কিছুটা শিথিল হয়ে দার্শনিক বক্তৃতার রূপ
নিয়েছে।
গল্পের অন্তর্নিহিত বার্তা বিশ্লেষণ করলে মনে হয় আপনি কয়েকটি বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছেন;
১. মানুষকে কেবল নারী-পুরুষ পরিচয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়; মানুষের গভীরে আরও বিস্তৃত এক সত্তা রয়েছে।
২. শিল্প, সংগীত ও নৃত্য মানুষের চেতনাকে উচ্চতর স্তরে উন্নীত করতে পারে।
৩. পুরাণের প্রতীকগুলিকে আধুনিক ভাষায় নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
৪. মানবসভ্যতা হয়তো ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত, বৈচিত্র্যগ্রহণকারী এবং উচ্চতর চেতনার দিকে অগ্রসর হতে পারে
এটি আপনার কল্পনামূলক দার্শনিক ভাবনা।
৫. সৌন্দর্যের প্রকৃত উৎস বাহ্যিক লিঙ্গ নয়; বরং অন্তর্নিহিত সত্তা, শিল্পীসুলভ প্রকাশ এবং চেতনার বিকাশ।
মোট কথা এই রচনা দার্শনিক কল্পসাহিত্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি তথ্যভিত্তিক বিজ্ঞান বা পুরাণের ব্যাখ্যা
নয়; বরং পুরাণ, আধ্যাত্মিকতা এবং কল্পবিজ্ঞানের উপাদান ব্যবহার করে মানুষের পরিচয়, সৌন্দর্য, চেতনা ও বিবর্তন
সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। গল্পটির মূল শক্তি তার কল্পনাশক্তি, প্রতীকী ভাষা এবং চিন্তার উদ্রেক করার
ক্ষমতায়; আর এর সবচেয়ে বড় বার্তা হলো মানুষের প্রকৃত পরিচয় কেবল তার শরীর বা লিঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বরং
তার চেতনা, শিল্পবোধ এবং মানবিকতার মধ্যেই নিহিত।
বহু অর্থ ও ভাববোধক গল্পটির জন্য ধন্যবাদ শুভেচ্ছা রইল ।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: "এখন এক অদম্য উন্মাদনা চলছে!
আমি আর সহ্য করতে পারছি না,
আমার জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পেয়েছে,
এই ভয়ঙ্কর ভঙ্গিতে আমার আত্মা স্তম্ভিত!
"রাজা সুগ্রীব হেসে বললেন, “একে ভঙ্গি বলছ কেন?
ভালো করে দেখ, বন্ধু, এটা স্পষ্টতই একটা নাচ!”
কিন্তু জাম্ববান প্রচণ্ড রাগে গর্জে উঠে বললেন,
“তুমি এটাকে ব্যালে বলছ? তুমি এটাকে প্রেমলীলা বলছ?
এটা কোনো নাচ নয়—এটা বানরের লাফালাফি!”