নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হুসেইন গনী

হুসেইন গনী › বিস্তারিত পোস্টঃ

এনালগ মাল্টিমিটারের সাহায্যে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্ট টেস্ট করা শিখুন এবং হয়ে যান একজন টেকনিশিয়ান (পর্ব-২)

২৬ শে মে, ২০১৪ রাত ৯:১৭

আসসালামু আলাইকুম।

ইলেক্ট্রনিক্স সম্বন্ধে হালকা ধারনা থাকলে আপনিও হতে পারবেন একজন টেকনিশিয়ান।অর্থাৎ ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট সম্বন্ধে হালকা ধারনা এবং টেষ্ট করার নিয়ম জানা থাকলে আপনি নিজেই যে কোনো সার্কিটের নষ্ট হওয়া কম্পোনেন্টটি পরিবর্তন করে সার্কিটটি পূনরায় সক্রিয় করতে পারবেন।অথচ ইন্টারনেট অনেক ঘেটেও ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট টেষ্টের উপর বাংলায় কোন ভালো পোষ্ট দেখতে পাইনি। তাই আমি নিজেই লেখা শুরু করলাম। গত পর্বে(১ম) ডায়োড নিয়ে লিখেছিলাম,যারা সেই পর্বটি পড়তে চান তার এখানে ক্লিক করুন।

আজ সহজ ভাষায় ট্রানজিস্টর ও ট্রানজিস্টরের টেস্ট নিয়ে লিখলাম।আশা করি পাঠকেরা উপকৃত হবেন।

ট্রানজিস্টর কি?

ট্রানজিস্টর হলো ডায়োডের ভাই। ডায়োড যেমন দুইটি কৃষ্টাল(P-N) দিয়ে গঠিত তেমনি ট্রানজিস্টর তিনটি কৃষ্টাল( P-N-P, N-P-N) দিয়ে গঠিত।এর তিনটি টার্মিনাল বা প্রান্ত থাকে ,যথা -কালেকটার, বেস, ইমিটার।



পৃথক দুইটি P-টাইপের কৃষ্টাল মাঝে একটি N-টাইপ কৃষ্টাল বসিয়ে গঠিত ট্রানজিস্টরকে P-N-P ট্রানজিস্টর বলে।আবার,পৃথক দুইটি N-টাইপের কৃষ্টাল মাঝে একটি P-টাইপ কৃষ্টাল বসিয়ে গঠিত ট্রানজিস্টরকে N-P-N ট্রানজিস্টর বলে।



ট্রানজিস্টর কত প্রকার ও কি কি ?

ট্রানজিস্টরকে বিভিন্ন দৃস্টিকোন থেকে কয়েকটি ভাগে ও উপভাগে ভাগ করা যায়। যেমন ধরুন,

পোলারিটির হিসেবে ট্রানজিস্টর (বাইপোলার ট্রানজিস্টর ) কে দুই ভাগে ভাগ করা হয় -

(১) P-N-P ট্রানজিস্টর ও

(২) N-P-N ট্রানজিস্টর ।



গঠনের উপর ভিত্তি করে ট্রানজিস্টরকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয় –

(১) মেটাল ট্রানজিস্টর ও

(২) সিলিকন ট্রানজিস্টর ।

এছাড়াও আছে--

(১) সাধারন ট্রানজিস্টর

(২) সুইচিং ট্রানজিস্টরস

(৩) ফ্যাট ও মসফেট ট্রানজিস্টর

(৪) পাওয়ার ট্রানজিস্টর

(৫) ফ্রিকোয়েন্সি ট্রানজিস্টর

(৬) লো নোয়েস ট্রানজিস্টর

৭) ড্রাইভার ট্রানজিস্টর

(৮) মিক্সড , ইন্ট্রিগ্রেটেড বা ডার্লিংটোন ট্রানজিস্টর ইতাদি ।



ট্রানজিস্টরের ব্যবহারঃ

ট্রানজিস্টরের প্রধান চারটি ব্যবহার হচ্ছে—

১)আম্পলিফায়ার হিসেবে , যেমন-কারেন্ট বা ভোল্টেজ আম্পলিফায়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

২) সুইচ হিসেবে , যেমন -সলিড স্টেট রিল।

৩) বাফার হিসেবে,যেমন- ইম্পিড্যান্স ম্যাচিং করতে।

৪) রেগুলেটর হিসেবে,যেমন-কারেন্ট, ভোল্টেজ , পাওয়ার ইত্যাদি রেগুলেট করতে।

ট্রানজিস্টর টেস্টঃ

শুরুতে এনালগ মাল্টিমিটারের রেঞ্জ সিলেক্টরটিকে 100Ω-এ নিয়ে আসুন।

আলোচনার শুরুতেই বলেছি যে, ট্রানজিস্টরের তিনটি টার্মিনাল বা প্রান্ত থাকে।যদি লাল প্রোবটি কোন ট্রানজিস্টরের যে কোন একটি টার্মিনালে ধরে বাকি দুই টার্মিনালে কালো প্রোবটি ধরলে উভয় ক্ষেত্রে মিটারের কাটাটি ‘3’ এ আসে তাহলে তা p-n-p ট্রানজিস্টর।



যদি যে কোনো একটি লিডের ক্ষেত্রে কাটাটি নড়ে তাহলে আবার একই নিয়মে অন্য কোনো লিডে লাল প্রোবটি ধরে বাকি দুই টার্মিনালে কালো প্রোবটি ধরে টেস্ট করতে হবে।এভাবে মোট ৩বার টেস্ট করতে হবে চুড়ান্ত ফল পেতে।যদি কোনো বারই উভয় ক্ষেত্রে মিটারের কাটাটি ‘3’ তে না আসে তাহলে এবার,

কালো প্রোবটি ট্রানজিস্টরটির যে কোন একটি টার্মিনালে ধরে বাকি দুই টার্মিনালে লাল প্রোবটি ধরলে উভয় ক্ষেত্রে মিটারের কাটাটি ‘3’ এ আসে তাহলে তা n-p-n ট্রানজিস্টর।নাহলে আবার একই নিয়ম অনুসরণ করুন।



এখন,

যদি মিটারের কাটাটি অন্য দুইটি লিডের কোনটির ক্ষেত্রে না নড়ে তাহলে ট্রানজিস্টরটি ওপেন(নস্ট)।

যদি মিটারের কাটাটি সব টেস্টের ক্ষেত্রে নড়ে তাহলে ট্রানজিস্টরটি শর্ট(নস্ট)।

যদি মিটারের কাটাটি কোনো একটি টেস্টের ক্ষেত্রটি হাল্কা নড়ে তাহলে ট্রানজিস্টরটি লিকি(নস্ট)।



এতক্ষণ আমরা ট্রানজিস্টরটির পোলারিটি(n-p-n নাকি p-n-p) এবং ট্রানজিস্টরটি ভালো নাকি খারাপ তা নির্ণয় করলাম।

এখন আমরা জানব ট্রানজিস্টরের কোনটি বেস, কোনটি ইমিটার আর কোনটি কালেক্টর।

যে common Terminal –টি দিয়ে আমরা ট্রানজিস্টরটির পোলারিটি(n-p-n নাকি p-n-p) নির্ণয় করলাম সেটি হচ্ছে বেস।বাকি দুইটি টারমিনালের যেটি কম রেজিস্ট্যান্স দেখাবে সেটি কালেক্টর ও অপরটি ইমিটার।তবে কিছু ক্ষেত্রে ইমিটার ও কালেক্টর বের করা কঠিন। তাই সবচেয়ে ভালো ট্রানজিস্টরের পিন কনফিগারেশন নেট থেকে নামিয়ে নেয়া।

তবে একটি পদ্ধতিতে নিশ্চিতভাবে ট্রানজিস্টরের পিন কনফিগারেশন জানা যায় যা আমি হয়ত ভবিষ্যতের কোনো পোস্টে জানাব।

এবার নষ্ট সার্কিটের (রেডিও-টিভির) খারাপ ট্রানজিস্টরগুলো পরিবর্তন করে ফেলুন।

আমার পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই প্রিয়তে নিবেন এবং কমেন্ট করবেন। এতে নতুন পোস্ট দেওয়ার আগ্রহ বেড়ে যাবে।

আগামীতে অন্যান্য কম্পোনেন্ট নিয়ে ধারাবাহিক পোষ্ট দেওয়ার আশা রেখে আজ বিদায় নিচ্ছি।

আল্লাহ হাফেয

ছবি -ইন্টারনেট

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে মে, ২০১৪ রাত ১১:১৪

পড়শী বলেছেন: খুব ভাল লাগল। +++++

২৮ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৯

হুসেইন গনী বলেছেন: আপনার কমেন্ট পড়ে আমারও খু-------------ব ভাল লাগল

২| ২৭ শে মে, ২০১৪ রাত ১২:৪৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: এ বিষয়ে আমার বেশ আগ্রহ থাকায় আপনার পোষ্টটি প্রিয়তে নিলাম এবং আপনাকেও অনুসরণ করছি।

২৮ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৪

হুসেইন গনী বলেছেন: কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আশা করি,কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধে হলে অথবা ভুল পেলে জানাবেন

৩| ২৭ শে মে, ২০১৪ দুপুর ২:২২

সুমন কর বলেছেন: EEE যারা পড়ছে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয়।

২৮ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৪:৫০

হুসেইন গনী বলেছেন: ঠিকই বলেছেন

৪| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৫ ভোর ৬:১৭

মোঃ রহমান বলেছেন: Bi aponaka onak donnobad.

৫| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:২৯

নাজমুল ইসলাম রনি বলেছেন: হোসেইন গনি ভাই ভালো লিখেছেন। অনেক সহজভাবে ব্যবহারিক আলোচনা করেছেন। তবে ট্রানজিস্টর নিয়ে এই সাইটে অনেক ভালো লেখা হয়েছে আপনি চাইলে পড়তে পারেনঃ ট্রানজিস্টর কাকে বলে

এছাড়া এই সাইটে অনেক ব্যবহারিক আলোচনা হয়ে থাকে চাইলে ভিজিট করতে পারেনঃ http://blog.voltagelab.com

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.