| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হিপনোটক্সিক ইরেকটাস
অনেকে ছদ্মনামে লিখেন নিজেদের আসল পরিচয়টাকে গোপন রাখার জন্য , কিন্তু আমি লিখি কারন আমার ছদ্মনামটার প্রতি দুর্বার আকর্ষন থেকে । আসল নামটা আদনান , চট্টগ্রাম মেডিকেলে পড়ি । মানসিক বিকাশটা আমার যতটুকু হওয়ার দরকার ছিল ঠিক ততটুকু হয় নি বটে তবে এতটাও কম হয় নি যে রবীন্দ্রনাথের "শেষের কবিতা" না বুঝেই বন্ধুদের রবীন্দ্রভিতীকে দাঁত খেলিয়ে ধিক্কার দিয়ে যাবো । প্রচন্ড একগুঁয়ে আর একরোগা বলে এতটাই খ্যাতি কুঁড়িয়েছি যে অনেকেই চোখ বুজে আমার নামের আগে অহংকারী তকমা বিনামূল্যে খোদাই করে দিতে উদ্যত । তাদের বলবো - "নেভার জাজ এ বুক বাই ইটস কাভার ।" একটা সময় ছিলো যখন নিজেকে মিথ্যার চাদরে আবৃত করে রাখার মাঝেই নিজের জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতাম । যখন বুঝতে পারলাম যে একটুকরা কাপড় দিয়ে পশ্চাত দেশ ঢাকতে গিয়ে নিজের সম্মুখ লজ্জাস্হান উম্মুক্ত রাখাটাকেই আমি এতোদিন নিজের বিচক্ষনতা বলে বিবেচনা করে এসেছি , তখন থেকে মিথ্যার আবরনকে চরমভাবে ঘৃণা করতে শুরু করে দিয়েছি নিজের অজান্তেই । আমার আদালতই আমার বিবেক । আমি এই আদালতের রায় মতোই চলি । কারো এই রায় ভালো না লাগলে তার দায়ভার আমি নিতে পারবো না । আমি যুক্তিবাদী । অন্যের যুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ।যুক্তিতে হেরে আমি নিজের অবস্হান পরিবর্তনেও রাজি । আমার শেষ কথা - ” যদি তোর ডাক শুনে কেও না আসে - তবে একলা চলরে ।। “
পা দুটো তার কখনো কখনো পাশের পা দুটোর দিকে বেঁকে যাচ্ছে। দিগভ্রান্ত হয়ে হাটছে বলে বেশির ভাগ সময়ই মনটা আটকে যাচ্ছে ঘড়ির কাটার বিপরীতে । বিপরীত লিঙ্গের পদযুগলের মৃদু সংঘর্ষে সম্বিত ফিরে পাওয়া মাত্রই আনাঁড়ি অভিনেতার মতো পদযুগলদ্বয়ের মালিকেরা পদযুগলদ্বয়কে বিপরীতদিকে চালাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।
ব্যাবধান তো বাড়েই সেটাকে কমাবার জন্য। সে ধর্ম মেনেই মৃদু আলিঙ্গন করে উর্ধবাহুযুগল, কখনোবা আঙ্গুলের পৃষ্ট। এভাবেই ব্যাবধান বাড়া কমাবার খেলা খেলতে খেলতেই সময় আর পথ দুটোই সামনের দিকে গড়াতে থাকে।
নীরবতা ভাঙ্গে নারীকন্ঠ -
-এভাবে আর কতো?
এমন পরিবেশের সাথে বেমানান মোটা স্বরটা শুধু একটা শব্দই বলতে পারে -
" অ্যাঁ? "
আবার সেই চিরায়ত পথচলা, সাথে সাথে নিষ্ঠুর নীরবতা...
কিছুকাল পর পর মুখ চাওয়া চাওয়ি করে তারা যেনো একে অপরের মনেরভাব বুঝে নিয়ে নীরবতাকে বৈধতাদানের খেলায় নেমেছে, কিন্তু সেখানে বাধ সাজে কিছু দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস।
এবারে মোটা স্বরটা নীরবতাকে গলা টিপে বলে -
- "ভালোবাসি ! "
- " কথাটা কি হাস্যকর শুনাচ্ছে না? "
- "তবুও ভালোবাসি ! "
- " এক সময় আমিও তো বাসতাম । অনেক বেশিই বাসতাম। "
- " এখন? "
- " ভালোবাসার অনুমতি নেই যে ! "
আবার নেমে আসে শশ্মানের নিষ্ঠুর পথচলা। সেই মৃদু স্পর্শ, সেই নটরাজদের নারকীয় অভিনয় - সব মিলিয়ে দুটো মস্তিষ্কই আজ বিকল হবার জোগাড়...
পদযুগলদ্বয়ের গতি কমে আসে। সামনেই একটা মন্দির । এক জোড়া চোখ সেখানে নিথর হয়ে পড়ে আছে, বাকি জোড়াটা বোধহয় ঝাপসা হয়ে বুজে আসতে চাচ্ছে। কিন্তু এখন তো চোখযুগলের সেই অধিকার নেই, সমাজ সে অধিকার শৈশবের পর থেকেই কেড়ে নিয়েছে।
দুর খেকেমাগরিবের আজানের সুললিত ধ্বনি ভেসে আসছে । এখন নীলাকে বিদায় দেবার পালা ...
হাতটা ছেড়ে দেয় সোহান । নীলা ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে । পেছনে থাকে শুধু কিছু স্মৃতি । নীলা আচল দিয়ে মুখ ঢাকে আর সোহান পকেট থেকে একটা রুমাল আর এক প্যাকেট সিগেরেট বের করে । রুমালটা নীলার দেয়া ।
মায়াবী দিনগুলো যায় যায় করছে । বাসন্তী আগমনী গেয়ে উঠা কোকিলের প্রস্তুতির কথা জানিনে তবে দোকানিরা ঠিকই ফুলের পসরা সাজানো শুরু করে দিয়েছে । ভালোবাসার পসরার প্রতীকিয় ফুলগুলোর উপর পুনঃ পুনঃ দেয়া পানির ফোটাগুলা এতটাই জ্বলজ্বল করছে যেনো ভালোবাসার অমরত্বের ঘোষণা দেয়াই তাদের আপাত গুরু দায়িত্ব । এত সহজলভ্যতার মাঝেও কাঙ্খিত ফুলটির জন্য বারবার রাস্তার এপাশ ওপাশ করছে এক মায়াবিনী ।
-একটি কালো গোলাপ হবে,কালো গোলাপ?
-কি করবেন কালো গোলাপ দিয়ে?
-বাসর সাজাব !
-লাল গোলাপ নেন আপা,মানুষতো বাসর সাজাতে লাল গোলাপ নেয় ৷
-লাশের সাথে বাসর হবে তাই কালো গোলাপ চাই !
বিশেষ কারো জন্য ফুল কেনার জন্য এসেছে রোহান । ফুলের দোকানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে মেয়েটির কথা শুনছিল রোহান । হঠাৎ কালো গোলাপের নাম শুনে কৌতূহলী হয়ে উঠে সে -
-এক্সকিউজ মি , কিছু মনে না করলে আপনার বাসর,কালো গোলাপ আর লাশের গল্পটা জানতে পারি ৷
-আরে তুমি রোহান না , সোহানের ছোট ভাই ?
-জ্বী,জ্বী ! কিন্তু আপনি ভাইয়াকে চিনেন কি করে?
-আমি নীলা!
মূ্হুর্তেই নিঃস্তব্দ হয়ে যায় চারদিক ।
-ও আপনি তাহলে সেই নীলা , ঢাকা ভার্সিটিতে পড়েন?
-হুম !
রবীন্দ্রনাথই সম্ভবত বলেছিলেন কারো সম্পর্কে কিছু বলার আগে তার সম্পর্কে ছোট্ট একটা বর্নণা দিয়ে দিতে। নীলা, ছোট্ট নামটারই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো সোহান। যতটুকু লম্বা হলে একটা বাঙালী ললনাকে লম্বা বলা যায় ঠিক ততটুকুনই লম্বা, হলদে বরন গা, গোলাপী ঠোট দুটোর ঠিক উপরে একটা তীল যেনো গোল চেহারাটার মায়া বাড়িয়ে দিয়েছে শতগুনে। ঘন কালো কেশবিন্যাস যখন বাতাসে উড়ে তখন সেই কেশবাগানে হারিয়ে পথ হারায় পথিক, সময় যেনো থমকে যায় ক্ষনিকের জন্য। গোল গোল কাজলমাখা আঁখিগুলো যখন ড্যাব ড্যাব করে কারো দিকে তাকিয়ে থাকে তখন মুখ দিয়ে কথা বলাই দায় হয়ে পড়ে, যেনো ট্রাকিয়া আর ভোকাল কর্ডটা কেও কেটে নিয়ে গেছে। আর তার ঠোটের কোনে বাকা চাঁদের মতো এক চিলতে হাসি নীলাকে বানিয়ে দিয়েছে বহু পুরুষের প্রথম হৃদসম্রাজ্ঞী। ঠিক এমনটাই লিখা আছে সোহানের ডায়েরীতে ।
কিন্তু আজ নীলাকে দেখার পর সোহানকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যুক মনে হলো রোহানের। কঙ্কালসার একটি দেহ, চোখের নিচে কালো দাগ, এলোমেলো চুল আর ঘোলাটে দুটে চোখ। ভাবতেই অবাক লাগে এই মেয়ের প্রেমে পড়েছিল তার ভাই।
- জানো রোহান ! তোমার ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছিল কোনো এক ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করব আমরা। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি,তাইতো প্রতি ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে আমি কালো গোলাপ খুঁজি বাসর সাজাতে ৷ বাকিটা জীবন কালো গোলাপ নিয়েই কাটিয়ে দিব ৷
(এই বলে কাঁদতে শুরু করে নীলা)
কিন্তু রোহানের তো এখন কাঁদলে হবে না । তার অনেক কাজ বাকি । নীলাকে দাঁড় করিয়ে রেখে রোহান নিয়ে আসল সোহানের শেষ চিরকুটটি ! সোহানের শেষ চিরকুটটি পেয়েছিল শুধু রোহান,সেখানে লিখা ছিল -
" নীলা, তুমি যেমন জানো, তেমনি আমিও জানি, তোমার আমার প্রেম শাশ্বত, ধ্রুব ঠিক আমাদের অস্তিত্বের মতো। কিন্তু ঐ ধর্ম, ঐ সমাজ আমাদের এক হতে দিলো না। সমাজের চোখে আমরা পাপী হিন্দু মুসলিম প্রেমিকযুগল হিসেবে। সমাজের বোঝা কাঁধে নিয়ে বেঁচে থাকা যায় কিন্তু তুমি বিনে আমার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দায়। ভালোবাসা বুকে পুষে বেঁচে থাকতে হয়তো অনেকে পারে, কিন্তু আমি নই। আবার দেখা হবে, সমাজ বিহীন এক ভালোবাসার রাজ্যে। যেখানে তোমার আর আমার মাঝে থাকবে শুধুই ভালোবাসা! "
২৫ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৪
হিপনোটক্সিক ইরেকটাস বলেছেন: ধন্যবাদ ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:২৩
শুঁটকি মাছ বলেছেন: বাহ দারুন লিখেছেন। আপনার লেখার ধরনটা বেশ সুন্দর।