নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জুময়া ইবনুল আসোয়াদ

একটাই পথ, সত্যের পথে আসুন ।

জুময়া ইবনুল আসোয়াদ

মুফতি, মুহাদ্দেস, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, লেকচারার ,আভা বিশ্ববিদ্যালয়,সৌদি আরব ।

জুময়া ইবনুল আসোয়াদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেঃ বন্ধু নির্বাচনে সাবধানতা অবলম্বনের তাগিদ

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ১১:১৫

জীবনে চলার পথে আমাদের বন্ধুর প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো কার সাথে বন্ধুত্ব করবেন? কার আদর্শকে গ্রহন করবেন। কার সাথে মনের সব না বলা কথা শেয়ার করবেন। একজন ভাল বন্ধু আপনার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করতে পারে। আবার একজন খারাপ বন্ধূ আপনার জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে।



একটি প্রবাদ আছে " ভাল এর সাথে হাটিলে খায় বাটার পান, খারাপের সাথে হাটিলে কাটা যায় দুই কান"।



ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেঃ বন্ধু নির্বাচনে সাবধানতা অবলম্বনের তাগিদঃ



পবিত্র কোরআনে মুমিনদেরকে মুমিনদের ব্যতীত অন্য ধর্মাবলম্বী ইহুদী, খ্রীষ্টান, মুশরিক ও পাপীদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে নিষেধ করা হয়েছে।



কোরআনের বানীঃ

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সুষ্পষ্ট ভাষায় ঘোষনা করেন-



"মুমিনগণ যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফিরকে বন্ধূরূপে গ্রহন না করে। যারা এরূপ করবে, আল্লাহর সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশাংকা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে।" (সূরা আলে ইমরান-২৮)



আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে- হে মুমিনগন! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহন করো না। তারা একে অপরের বন্ধূ। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না । (সূরা আল মায়েদাহ-৫১)



হাদিসের বানীঃ

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, মানুষ তার বন্ধূর জীবনাদর্শ ও ধর্ম মতের দ্বারা প্রভাবিত হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেরই অবশ্যই দৃষ্টি রাখা উচিত যে, সে কার সাথে ব্ন্ধুত্ব স্থাপন করছে।





বাস্তব জীবনে শিক্ষা গ্রহনঃ



এ হাদিসখানিতে বন্ধূ নির্বাচনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



মূল শিক্ষাঃ



এ হাদিসের মূল শিক্ষা হচ্ছে----



১. মানুষ বন্ধূর আদর্শের অনুসারী হয়।

২. মানুষ তার বন্ধূর ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

৩. এক বন্ধুর স্বভাব-চরিত্র, আচার-আচরণ অপর ব্ন্ধূর উপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করে।

৪. কাজেই বন্ধুত্ব করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

৫. চরিত্রবান, সৎ, ুসুন্দর, মর্জিত লোককে বন্ধু হিসেবে গ্রহন করতে হবে।

৬. ধার্মিক ও আদর্শবান লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত।

৭. অসৎ, দুশ্চিত্র লম্পট, অধার্মিক লোকদের সাথে কখনও বন্ধুত্ব করা উচিত নয়।

৮. মুসলিম ব্যতীত অমুসলিমগনকে বন্ধূরূপে গ্রহন করা যায় না । কাজেই মুমিনের বন্ধু হিন্দু, খ্রীষ্টান ইহুদীকে বানানো ঠিক নয়।

৯. তবে দুনিয়ার চলার জন্য অন্য ধর্মাবম্বীদের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে চলা যাবে। এ ক্ষেত্রে তাদের মৌলিক মানবীয় গুনাবলী তা দেখে নেয়া উচিত।

১০. কাজেই বন্ধু গ্রহনের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তি এর উপরও অনেকাংশে নির্ভরশীল।



আল্লাহ আমাদেরকে এ হাদীস থেকে শিক্ষা গ্রহন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.