নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ঘুরতে ভালোবাসি। আমি খুব নেট পাগল। আমি নবম শ্রেণী থেকে অনার্স পযর্ন্ত নানী বাড়িতে ছিলাম।

নাহল তরকারি

আমি ধার্মিক। আমি সব কিছু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী বিচার বিশ্রেশণ করি। আমি সামাজিক রীতিনীতি, সমাজিক কু সংস্কার, আবেগ দিয়ে কোন কিছু বিচার করি না।

নাহল তরকারি › বিস্তারিত পোস্টঃ

যে প্রজন্ম অপেক্ষা করতে জানত — এক মিলেনিয়ালের স্মৃতিচারণ

২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৬

একটা ফাঁকা জায়গা, সবুজ তৃণভূমি আর বাতাসে দুলতে থাকা গাছের ডালপালা দেখলেই আজও আমার কিশোর বয়সের কথা মনে পড়ে যায়। মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টা হয়তো সেই দিনগুলোতেই ছিল। ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া আমাদের মতো Millennials প্রজন্ম এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে, যখন প্রযুক্তি ছিল সীমিত, কিন্তু অনুভূতি ছিল গভীর। তখন গ্রামের সন্ধ্যাগুলো ছিল শান্ত, আকাশ ছিল অনেক বড়, আর ছোট ছোট জিনিসের মধ্যেও ছিল অদ্ভুত আনন্দ। হাতে একটা Nokia 1661 নিয়ে এফএম রেডিও শোনা ছিল আমাদের বিনোদনের বড় অংশ। ভালো সিগন্যাল পাওয়ার জন্য বাড়ির বাইরে, খোলা মাঠে কিংবা রাস্তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হতো। রাতের নীরবতায় আরজেদের কণ্ঠ শুনতে শুনতে মনে হতো, পৃথিবীটা কত সুন্দর। তখন একটা কণ্ঠও মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারত।

সেই সময় চ্যাটিং মানে ছিল এসএমএস। Grameenphone বা Banglalink থেকে ২০ টাকায় ১০০ এসএমএস প্যাক কিনে বন্ধুদের মেসেজ পাঠানো ছিল বিশাল আনন্দের বিষয়। একটা রিপ্লাইয়ের জন্য অপেক্ষা করার মধ্যেও আলাদা অনুভূতি ছিল। এখনকার মতো সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে হয়ে যেত না, তাই প্রতিটি কথার আলাদা মূল্য ছিল। ২০১১ সালে যখন Nokia 5130 XpressMusic ফোনটি হাতে এলো, তখন মনে হয়েছিল জীবন অনেক আধুনিক হয়ে গেছে। কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে মেমোরি কার্ডে গান লোড করে আনা, নতুন গান শোনার উত্তেজনা, বন্ধুদের সাথে গান শেয়ার করা—এসব ছিল আমাদের ছোট ছোট সুখ। তখন ২০ টাকার ২০ এমবি ইন্টারনেট প্যাক কিনে Facebook চালানোও ছিল এক ধরনের বিলাসিতা। সেটাও আবার Opera Mini দিয়ে। একটা ছবি আপলোড দিতে কত সময় লাগত, কত হিসাব করে এমবি ব্যবহার করতে হতো! তবুও তখনকার ফেসবুক ছিল অনেক ব্যক্তিত্বপূর্ণ। মানুষ নিজেকে প্রকাশ করত, কিন্তু প্রদর্শন করত না।

তারপর ধীরে ধীরে সময় বদলাতে শুরু করল। ২০১৩ সালে থ্রিজি এলো, আমরা ডাউনলোড স্পিড দেখে অবাক হলাম। ২০১৮ সালে ফোরজি এসে যেন পৃথিবীকে আরও দ্রুত করে দিল। অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে এলো, ভিডিও স্ট্রিমিং শুরু হলো, সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে পাওয়া সম্ভব হয়ে গেল। ২০২০ সালের পর সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ফাইবার ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ল। এখন ২০২৬ সালে এসে আর কেউ খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে এফএম রেডিও শোনে না, কেউ ২০ এমবি কিনে ফেসবুক চালায় না, কেউ কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে মেমোরি কার্ডে গান লোড করে না। Nokia 5130 XpressMusic এখন শুধু স্মৃতি, একটা হারিয়ে যাওয়া সময়ের প্রতীক।

কিন্তু সত্যি বলতে, আমরা যারা সেই সময়টা দেখেছি, তারা জানি জীবনের আসল সৌন্দর্য কোথায় ছিল। আমরা অপেক্ষা করতে জানতাম, অল্পতে খুশি হতে জানতাম, ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ খুঁজে নিতে জানতাম। আজ প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে, জীবন অনেক দ্রুত হয়েছে, কিন্তু কোথাও যেন অনুভূতির গভীরতা কমে গেছে। তাই আজও যখন কোনো ফাঁকা মাঠ দেখি, বাতাসে দুলতে থাকা গাছের ডাল দেখি, তখন মনে হয় আমার কিশোর বয়সটা এখনো কোথাও দাঁড়িয়ে আছে—হাতে একটা পুরোনো নকিয়া ফোন নিয়ে, দূরের কোনো এফএম রেডিওর শব্দ শোনার অপেক্ষায়।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫৩

ইমরোজ৭৫ বলেছেন: আমিও রেডিও তে কত গল্প শুনেছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.