| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নাহল তরকারি
আমি ধার্মিক। আমি সব কিছু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী বিচার বিশ্রেশণ করি। আমি সামাজিক রীতিনীতি, সমাজিক কু সংস্কার, আবেগ দিয়ে কোন কিছু বিচার করি না।

অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল সিএনজি।
গজারিয়া ও সোনারগাঁও—দুই উপজেলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। কিন্তু তখন ঢাকা অভিমুখী বাসগুলো সোনারগাঁওয়ের যাত্রী তুলত না। ফলে আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের জন্য সিএনজিই ছিল একমাত্র ভরসা।
একসময় সরকার মহাসড়কে সিএনজি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিল। সিদ্ধান্তটির পেছনে নিশ্চয়ই নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন যৌক্তিক কারণ ছিল। কিন্তু এর প্রভাব সাধারণ যাত্রীদের ওপরও পড়েছিল। বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য তখন বিকল্প কোনো মিনিবাসও ছিল না। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতে আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল।
এই পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ছে এখন, যখন অনেকেই অটোরিকশা বা এই ধরনের যানবাহন নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন।
অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার পক্ষে কিছু যুক্তিও আছে। অনেক চালক যথেষ্ট প্রশিক্ষিত নন, দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে, আবার বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, এই যানবাহনগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলে সাধারণ মানুষের বিকল্প কী হবে?
যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে, তারা হয়তো খুব একটা সমস্যায় পড়বেন না। কিন্তু যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, তাদের জন্য অটো অনেক সময় দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তাই আমার মনে হয়, সমস্যার সমাধান নিষিদ্ধ করার মধ্যে না খুঁজে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়া উচিত।
এই যানবাহনের জন্য মহাসড়কে সম্ভব হলে আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিংয়ের আওতায় আনা যেতে পারে। নির্দিষ্ট গতিসীমা, নিরাপত্তা বিধি এবং নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা চালু করা যেতে পারে।
আরেকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ভাবা যেতে পারে—সোলার প্রযুক্তির ব্যবহার। সম্ভব হলে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা চার্জিং ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কিছুটা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কোনো একটি যানবাহন নিষিদ্ধ করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত—এর বিকল্প কী?
কারণ পরিবহনব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা নয়; সাধারণ মানুষের নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করাও।
তাই অটো নিষিদ্ধ করার আগে বিকল্প তৈরি করা হোক। আর বিকল্প না থাকলে নিষিদ্ধ না করে প্রশিক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ, আলাদা লেন ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই যানবাহনকে আরও শৃঙ্খলিত করা হোক।
©somewhere in net ltd.