| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জামাত শিবির সহ যে কয়টা রাজনৈতিক দল স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক অবস্থান নিয়ে আমাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন করেছিল ওদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা প্রথম কথা। সেই সাথে এই দলগুলির আদর্শ নিয়ে যাতে ভিন্ন নামে আবার অন্য দলের প্রাদুর্ভাব না ঘটে সেটাও নিশ্চিত করা দরকার। (আদর্শ শব্দটা এদের জন্যে ব্যবহার করতে বাঁধছে, ওদের আবার আদর্শ কি? কিন্তু বিকল্প কোনো শব্দ পাচ্ছি না। 'অপদর্শ' বলা কি ঠিক হবে? এরকম কোনো শব্দ কি আছে?) এই কাজটা কিভাবে করা যায়। সকলে মিলে ভাবনা চিন্তা করা দরকার। ভেবে চিন্তে পদক্ষেপ নিতে হবে।
একটা কাজ তো হচ্ছে ক্রমাগত আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া। এই লড়াইটা আমাদের ক্রমাগত চালিয়েই যেতে হবে, এমনকি দেশে ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও। কারণ বাংলাদেশে ওদের রাজনীতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হয়ে গেলেও ওদের ভৌতিক উপস্থিতি থেকেই যাবে। তাছাড়া দেশের বাইরে অন্যান্য দেশে ওদের বেরাদররা থাকবে, ওরাও প্রভাব তৈরী করতে চাইবে। আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে গেলেও আপাতদৃষ্টিতে যারা ধর্মভিতিক দোল নয় ওরাও ভোটের হিসাব নিকাশ করতে গিয়ে ধর্ম-তাসটা খেলতে চাইবে। সুতরাং আদর্শিক লড়াইটা চালিয়েই যেতে হবে। সঠিক ইতিহাস ও সঠিক তথ্য মানুষের সামনে যেন থাকে সেগুলি নিশ্চিত করতে হবে। ইতিহাসের সঠিক পথ তরুনদের চেতনাকে সবসময়ই শানিত করে। আশার কথা হচ্ছে এই আদর্শিক লড়াইটা এখন কেউ বন্ধ করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। রাষ্ট্র বা সরকার যে অবস্থানই গ্রহণ করুক না কেন, তরুনদের মধ্যে ব্যাপারটা মোটামুটি স্থান করে নিয়েছে এবং এটা দিনে দিনে আরো তীব্রতর হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রশ্নে বিভিন্ন মতের ও পথের তরুণ যুবকেরা কয়েকটা মৌলিক প্রশ্নে মোটামুটি এক জায়গায়ই আছে।
আদর্শিক লড়াই ছাড়াও আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই মুহুর্তে যেসব পদক্ষেপ এর কথা মাথায় আসছে সেগুলি হচ্ছে জমাতীদের আর্থিক শক্তির জায়গাটাকে আঘাত করা, শিক্ষা ব্যবস্থায় পর্যায়ক্রমিকভাবে আধুনিকায়ন করা এবং দেশের আইনের মধ্যে কিছু পরিবর্তন করা। তৃতীয় বিষয়টি, বর্তমানে প্রচলিত যেসব আইন দেশে রয়েছে তার মধ্যে কি কি পরিবর্তন করা যায় সেরকম কয়েকটা চিন্তা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে এই পরিবর্তনগুলিই সব না। সংবিধান থেকে শুরু করে পুরো আইনি ব্যবস্থাকে পর্যালোচনা করে দেখে পর্যায়ক্রমিক ভাবে প্রয়োজনীয় বিধান করতে হবে যাতে করে স্বাধীনতার মৌল চেতনার পরিপন্থী কর্মকান্ড সকল ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ থাকে।
সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর যে নিষেধ ছিল সেটাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। এক্ষেত্রে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সহ অনেকের একটা বক্তব্য রয়েছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে পঞ্চম সংশোধনী আদালতে নিষিদ্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সংবিধানের মূল ৩৮নং অনুচ্ছেদ পুনরিজ্জীবিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে জামাতের রাজনীতি তখনই বে আইনি হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন করে যে ৩৮নং অনুচ্ছেদ করা হয়েছে তার ফলে জামাতের রাজনীতির বৈধতা পেয়েছে।
আমাদের সংবিধানের মূল ৩৮ নং অনুচ্ছেদটা ছিলো:
"জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে;
তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোন সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সংঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোনো সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার বা তাহার সদস্য হইবার বা অন্য কোনো প্রকারে তাহার তত্পরতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার কোন ব্যক্তির থাকিবে না।"
জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহনের পরে ১৯৭৮ সনে এক প্রক্লেমেশনের মাধ্যমে ৩৮নং অনুচ্ছেদের প্রথম অংশটা ঠিক রেখে শর্তটুকু বিলুপ্ত করে দেয়। ১৯৭৯ সনের সংসদ নির্বাচনের পর সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এই প্রক্লেমেশনগুলিকে বৈধতা দেওয়া হয়। এর ফলেই রাজাকার আলবদরেরা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলিকে আবার সংগঠিত করে মাঠে নামে। (জামাত অবশ্য প্রথমে স্বনামে আসেনি, তবে সেটা ভিন্ন কাহিনী এখানে এতটা প্রাসঙ্গিক না।) এবারে যখন আমাদের সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বেআইনি ঘোষণা করে দিল, তাহলে ৩৮ অনুচ্ছেদের ওই শর্ততো এমনিতেই আবার পুনরিজ্জীবিত হয়ে গেল। জামাত তো তাহলে বেআইনি সংগঠন। কিন্তু এই বক্তব্যটা এখন গুরুত্ব বা প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে। কারণ বর্তমান সংসদ আবার ২০১১ সনে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৩৮ নং অনুচ্ছেদের "তবে শর্ত থেকে যে ..." অংশটি নুতন কিছু শর্ত দিয়ে প্রতিস্থান্পিত করেছে। ফলে ওই যে ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল বা সংঘ বা সমিতি করার যে নিষেধ ছিল সেটা আর থাকলো না। নতুন শর্তগুলি যেগুলি পঞ্চদশ সংশোধনীতে যোগ করেছে সেগুলি কিছু এলেবেলে ধরনের শর্ত, এগুলি দিয়ে আপনি কোনো সংগঠনকেই আটকাতে পারবেন না। বর্তমান সংসদ ইটা কেন করেছে কি জন্যে করেছে সেই আলোচনা না করে বরং দাবি তোলা যায় যে ৩৮নং অনুচ্ছেদেকে তার পূর্ণাঙ্গ মূল রূপে ফিরিয়ে আনতে হবে।
এটা গেল সংবিধানের কথা। সংবিধানের ৩৮নং অনুচ্ছেদের পূর্ণাঙ্গ মূল রূপে ফিরিয়ে আনার পরেও আরো কিছু করণীয় আছে। আমাদের দন্ডবিধিতেও কিছু পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এসবের মৌল চেতনার বিরোধী কোনো কাজ বা প্রকাশ বা প্রচারণাকে দন্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আমাদের দন্ডবিধিতে এখন একটা ধারা আছে, ধারা ১২৩A। এই ধারার অধীনে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত করে বা ১৯৭১সনের ২৬শে মার্চের ঘোষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সৃষ্টি বা তার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করে এমন কোনো কাজ বা কথা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্যে দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ড সেই সাথে জরিমানা হতে পারে। এই ধারাটিকেই আরেকটু বিস্তৃত করে, বা এই ধারাটির সাথে আরেকটি ব্যাখ্যা বা উপধারা বা নতুন ধারা যোগ করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ, চিহ্ন বা বক্তব্য প্রচার প্রকাশ বা পৃষ্টপোষকতা করাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করা যায়। এখানে খুবই সংক্ষিপ্ত ও খানিকটা বিমূর্ত আকারে বলা হলেও, আইন করার ক্ষেত্রে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট বিধান করা সম্ভব।
জার্মানদের উদাহরণ নেওয়া যায়। জার্মানিতে ওদের দন্ডবিধিতে বিধান রয়েছে যে নাজিদের মতাদর্শ প্রচার করা বা তাদের চিহ্ন (স্বস্তিকা) ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। ইটা শুধু হিটলারের নাজি পার্টির ব্যাপারে না, বরং ওদের সাংবিধানিক আদালত যেসব দলকে ওদের নতুন প্রজাতন্ত্রের বিরোধী বলে বেআইনি ঘোষণা করেছে সেসব দলের ব্যাপারেও প্রযোজ্য। আমাদের এখানেও, এখন যেহেতু ১৯৭৩ সনের আইনের সংশোধন করে সংগঠনকেও বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, এই অধালোতের রায়ে দোষী সংগঠনএর মতবাদ, চিহ্ন শ্লোগান এসবের সাথে দন্ডবিধির একটা সম্পর্ক স্থাপন করে দেওয়া যায়। (জার্মানদের এই পুরো আইনি স্কিম্টাই পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখান থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে।)
এই ধরনের বিধান প্রস্তাবের আগে একটা নৈতিক প্রশ্নের নিস্পত্তি প্রয়োজন। প্রশ্নটি হচ্ছে বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার প্রশ্ন। ৩৮নং অনুচ্ছেদের পুন প্রবর্তনের ক্ষেত্রেও এই প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক।
আমাদের মূল সংবিধান অর্থাৎ ১৯৭২ সনের সংবিধানের চরিত্র হচ্ছে, সাধারণভাবে বলতে গেলে, একটা লিবারেল উটিলিটারিয়ান ধরনের মূলনীতির ভিত্তিতে গড়া একটা সংবিধান। এই মৌলনীতির সাথে কি ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ কিংবা কিছু কিছু চিন্তা, মতবাদ বা ধারণার প্রকাশকে অপরাধ বিবেচনা করা মানানসই হবে? আজকে আমরা এই কাজগুলির দাবি করলাম, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে এটা পাশও হয়ে গেল। ভবিষ্যতে কি কেউ আদালতে প্রশ্ন তুলতে পারবে যে এই বিধানগুলি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সাথে সাংঘর্ষিক বা অসঙ্গতিপূর্ণ? এই প্রশ্নটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা দরকার। কারণ এমন কিছু করা ঠিক হবে না যেটা ভবিষ্যতে উল্টো ফলাফল বয়ে আনতে পারে।
আমার মতামতটা আমি বলি। আমি মিল সাহেবের লিবার্টিতে বিশ্বাস করি। নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় রাষ্ট্র কোন বাধা বা প্রতিবন্ধকতা বা সীমারেখা আরোপ করতে পারে না। এই কারণে আমি সেন্সরশিপ বা এরকম যে কোন নিয়ন্ত্রণএর বিপক্ষে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুর মতবাদকে অবদমন করা রাষ্ট্রের বা সমাজের জন্যে কখনোই কল্যানকর হতে পারে না। আমার কাছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানেই হচ্ছে সংখ্যালঘুর স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার সীমারেখা একটাই, সেটা হচ্ছে অপরের ক্ষতি। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি অপর আরেকজন নাগরিকের ক্ষতি করছি ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্র আমার চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দিতে পারেনা।
তার মানে কি জামাত ও আলবদরেরা আমার রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিপক্ষের দর্শন প্রচার করতে পারবে? না। তাহলে যে আইনি পরিবর্তনগুলির কথা বলা হলো উপরে সেগুলি নৈতিকভাবে আমি কিভাবে জাস্টিফাই করবো? এই ব্যাখ্যাটা আমি আরেক কিস্তিতে দিতে চাই।
কিছু বানান ভুল থাকতে পারে, সেগুলি উপেক্ষা করতে পারলে ভাল হয়।
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:২৩
মুক্ত আকাশ বলেছেন: জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা স`রকারের ভোটের রাজনিটির জনয় ভাল কিচু হবে বলে মনে হয়না। তাতে করে জামায়াটের ভোট বিএনপির বাকসে যাবে।
বুদ্ধিমানের কাজ হবে কোনভাবে জামায়াতকে বিএনপি থেকে আলাদা করা..