নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইমতিয়জ মাহমুদ

স্বাধীনতা, বন্ধনহীন অবারিত নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা

ইমতিয়জ মাহমুদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

রুহুল কবির রিজভি ও ফরহাদ মজহার বিষয়ক একটি অনাবশ্যক আলোচনা

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ সকাল ৮:৩১

প্রথমে রুহুল কবির রিজভি প্রসঙ্গে বলি। রবিবার বিকেলে বিএনপি অফিসে একটা সংবাদ সম্মেলেনে রুহুল কবির রিজভি বেশ বিষোদ্গার করলেন। ওঁর প্রথম বিষোদ্গার হচ্ছে বিএনপির মিছিলের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বিষয়ক। সেটা নিয়ে এই লেখাটা না। এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি শাহবাগের তরুনদের ইচ্ছেমতো গালাগালি করলেন এবং হুমকি দিলেন। এইসময় (অর্থাৎ গালাগালির সময়) রুহুল কবির রিজভীর চেহারা ছিলো ভয়ংকর। মনে হচ্ছিল তিনি পারলে সেই মুহুর্তেই শাহবাগের ছেলেপিলেদের ছিড়ে মেরে কেটে ফেলবেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভি সাহেব যেসব শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করেছেন সেগুলি বেশ ভয়াবহ। শাহবাগের ছেলেমেয়েদেরকে তিনি বলছেন পদলেহনকারী, তিনি ওদেরকে বলছেন নষ্ট, নোংরা ও বিপথগামী ব্লগার। তারপর তিনি বলছেন ওঁরা হাত পা গুটিয়ে বসে নেই, তাঁরা নাকি এদেরকে চিনে রাখছেন- মানে ভবিষ্যতে ওঁরা ক্ষমতায় গেলে ওদেরকে দেখে নেবেন।



তিনি এসব কেন বলছেন? কেন এইসব গালাগালি এবং হুমকি? কেউ একজন নাকি ব্লগে বা কোনো একটা ফেসবুক পেজে বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি মেরেছে। রিজভী সেই হুমকির জন্যে শাহবাগের তরুনদেরকে দায়ী করে এইসব গালাগালি আর হুমকি দিচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনটার খবর টেলিভিশনে কয়েকবার দেখলাম। দেখার পর বেশ হাসিও পেলো আবার একটু শঙ্কিতও হলাম। হাসি পেলো ভদ্রলোক যে প্রক্রিয়ায় যেভাবে বেগম জিয়ার প্রতি খুনের হুমকিত উপস্থাপন করলেন সেটা দেখে। আর শঙ্কিত হলাম যে এই যদি হয় আমাদের দেশের এত বড় দলের এত বড় নেতার কান্ড এবং কান্ডজ্ঞান তাহলে আমাদের কি উপায় হবে।



সংবাদ সম্মেলনে রিজভি সাহেবের কথা শুনেই বুঝা যাচ্ছিলো ফেসবুক, ব্লগ বা এধরনের অনলাইন জগত বা কর্মকান্ড সম্পর্কে ভদ্রলোকের ধারণা খুব স্পষ্ট না। কৌতুহল বসে আমি ফেসবুকে অনুসন্ধান করে দেখালম ওঁর প্রোফাইল বা পেজ আছে কিনা। দেখলাম যে আছে, একটা প্রোফাইল আছে একটা পেজ ও আছে। (লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি Click This LinkClick This Link), যদিও এগুলি খুব একটা ব্যবহার হয় বলে মনে হয়না। অবশ্য এছাড়াও রিজভি সাহেবের অন্যকোনো প্রোফাইল বা পেজ থাকতে পারে, আমি হয়ত খুঁজে পাইনি। এটুকু অন্তত বুঝা যাচ্ছে যে রিজভি সাহেব ফেসবুক সম্পর্কে নেহায়েত অপরিচিত নন। কিন্তু ভদ্রলোক যেভাবে কথিত হুমকিটা উপস্থাপন করলেন তাতে মনে হচ্ছিলো ভদ্রলোক ফেসবুক বা ব্লগ সম্পর্কে নেহায়েতই অজ্ঞ।



প্রথমত তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারছিলেন না (অথবা বলছিলেন না) ওই হুমকিটা কোথায় পোস্ট করা হয়েছে, কোনো ব্লগে নাকি ফেসবুকে। একবার বললেন ব্লগে একবার বললেন ফেসবুকে স্টেটাস আকারে। তিনি কি আসলেই এই কথিত স্টেটাসটা অনলাইনে নিজের চোখে দেখেছেন? নাকি কেউ একজন ওঁকে কাগজে লিখে দিয়েছে আর তিনি সেটা শুধু পড়ে গেলেন। আর তিনি সেটা নিজের চোখে পড়ুন বা নাই পড়ুন, ব্লগে হোক বা ফেসবুকে হোক ওই স্টেটাসটা যেই লিখে থাকুক তার তো একটা নাম থাকবে। সেই নামটা তো তিনি বলবেন, নাকি! আর নিজে যদি ব্যাপারটা নাই দেখেন বা নাই বুঝেন কাউকে তো একটু জিগ্যেস করে নিবেন। যে কোনো কাউকে জিগ্যেস করলেই তো তাঁকে বলে দিতো যে এই ধরনের একটা কথা অনলাইনে যে কেউ যে কোনো নাম নিয়ে লিখতে পারে। এটাকে অজ্ঞতা বলব না? নাকি তিনি ইচ্ছে করে জেনে শুনেই এসব করছেন।



এরপর দেখি কি লেখা ছিল সেই কথিত হুমকিতে। যে ব্যক্তি সেটা পোস্ট করেছেন তিনি নাকি লিখেছেন ‘আমি রাগে অনবরত কাঁপতেছি/ ক্ষোভে অভিমানে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না/ দেশে গণহত্যা চালাচ্ছে সরকার!!! – খালেদা জিয়া/ আমার মন চাইতেছে, খালেদারে মাইরা গণহত্যা শুরু করি।’ (নয়া দিগন্তের কোটেশন)। এইটাকে রিজভি সাহেব হত্যার হুমকি মনে করলেন? ইটা পড়েই এত কাপাকাপি আর হাকাহাকি? ফেসবুকে আর ব্লগে কি ভাষায় কি পর্যায়ের গালিগালাজ হয়, জামাত শিবির বিএনপিপন্থী ফেসবুক পেজগুলিতে কি ভাষায় শেখ হাসিনাকে গালাগালি করা হয় সেগুলি যদি দেখতেন তাইলে ওঁর কি অবস্থা হতো। এখান থেকেও আমার মনে হচ্ছিলো ভদ্রলোক অনলাইনে খুব একটা বিচরণ করেন না। করলে এই স্টেটাস দেখে, রাগ হয়ত হতেন, এইরকম উত্তেজিত হতেন না।



অবশ্য এটাও হতে পারে যে তিনি পুরো ব্যাপারটা জানেন ও বুঝেন এবং ইচ্ছে করেই একটা হালকা জিনিসকে ব্যবহার করে শাহবাগের বিরুদ্ধে মানুষকে উত্তেজিত করে তুলতে চাইছেন। সেটাও হতে পারে। কিন্তু এইগুলি কি ভাষা তিনি ব্যবহার করছেন। আরেকটা ভয়ঙ্কর কথা তিনি বলেছেন। শাহবাগ নাকি একটা 'ভিনদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের জায়গা। এইটা কি বললেন মিয়াভাই। জয় বাংলা শ্লোগান ভিনদেশী সংস্কৃতি? পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা - এটা ভিনদেশী সংস্কৃতি? আমার সোনার বাংলা- ভিনদেশী সংস্কৃতি? মা গো ভাবনা কেন- এটা ভিনদেশী সংস্কৃতি? রুহুল কবির রিজভি কি বুঝে বলছেন? ওঁর যদি এগুলি ভিনদেশী সংস্কৃতি হয় তাহলে তো ভাই সবিনয়ে প্রশ্ন করতেই হয়- আপনার দেশ কোনটা?



আমি জানি এইগুলি কথা বলে কোন লাভ নাই। রুহুল কবির রিজভি সাহেবদের কানে এইসব কথাবার্তা পৌছালেও তাতে ওঁদের কোনো পরিবর্তন হবেনা। খুব বেশি হলে তিনি হয়ত চিনে রাখা নামগুলির সাথে আরেকটা নাম যোগ করবেন। সেজন্যেই শিরোনাম্টাতে বলেছি, এটা একটা অনাবশ্যক আলোচনা। তবু আলোচনাটা করি এবং এটার সাথে ফরহাদ মজহারের বিষয়টাও একটু বলি।



ফেসবুকে খুব সম্ভবত ব্রাত্য রাইসু নামে একজনের শেয়ার করা একটা লেখা দেখালাম। ফরহাদ মজহার লিখেছেন দৈনিক দেশ পত্রিকায়। সেখানে তিনি বিএনপি জামাতের ভাষায় সাম্প্রতিক এইসব ঘটনাকে 'গণহত্যা' নাম দিয়ে এখানে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন এবং বিচারবিভাগীয় তদন্ত শাস্তি এসব চেয়েছেন। বিচার বিচাগীয় তদন্ত তিনি চাইতেই পারেন, কিন্তু তিনি এটাকে কিভাবে গণহত্যা বলছেন এবং কি করে এখানে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করলেন? আরো অবাক ব্যাপার বেশ বড় একটা লেখা লিখেছেন ভদ্রলোক এইগুলি নিয়ে, কিন্তু একবারও তিনি হিন্দুদের উপর হামলার কথাটা বললেন না বা সেগুলি নিবারণের কথা বললেন না। এই লেখাটা পড়ে খুব বিরক্ত লাগলো, একটু অবাকও হলাম।



ফরহাদ মজহার আমার পরিচিত নাম অনেক আগে থেকে, আমার যৌবনের শুরু থেকেই। তিনি যে রাজনৈতিক ধারার কথা বলতেন সেটা আমার পছন্দ ছিলনা, কিন্তু তিনি ভালো লিখতেন ওঁদের একটা জার্নাল ছিলো সেটাতে। সুন্দর কিছু কবিতাও লিখেছেন। পরে আমি শুনেছি তিনি নাকি একটু সুফী ধরনের বা সেরকম কি একটু ইসলাম বা ধর্ম টর্ম নিয়ে মেতেছেন। নয়া কৃষি আন্দোলন করেন, প্রবর্তনা থেকে খদ্দর কিনেছি অনেকবার, প্রেমিকাদের নিয়ে সেখানে খানাপিনাও করেছি। ভদ্রলোককে আমার বুদ্ধিমান ব্যক্তি মনে হয়, জ্ঞানী ব্যক্তি মনে হয়, ভিন্ন মত নিয়েই একটু ভালই লাগত তাঁকে। ভালো লাগত বলেই ওঁর লেখাটা পড়ে একটু বেশি খারাপ লাগলো। এই যে তিনি এই লেখাটা লিখলেন, তিনি কি চাইছেন? তিনি কি চাইছেন যে পুলিশ জামাত শিবিরের এইসব ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডে পুলিশ বাধা না দিক? জামাত শিবিরের এই হুলিগানগুলি পুলিশকে ধরে ধরে জবাই করুক, আর পুলিশ টপাটপ মরতে থাকুক? জামাত শিবিরের এই সন্ত্রাসিগুলি হিন্দুদের বাড়িঘর মন্দিরে হামলা করুক আর পুলিশ চেয়ে চেয়ে দেখুক? এই কথাগুলি সাধারণ কোনো বিএনপি বা জামাতের নেতা কর্মী যদি বলতো, আমি সেরকম দোষ দিতাম না। একজন বুদ্ধিমান লোক যখন বলে তখনই ব্যাপারটা একটু শংকা জাগায়।



পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি যখন এই ধরনের পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগ করে তখন ওদেরকে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। দেশের আইনে যেমন সেসব বিধান আছে, সেই সাথে আন্তর্জাতিকভাবেও কতগুলি প্রায় সর্বজন স্বীকৃত আচরণবিধির মতো আছে। জাতিসংঘ থেকে এই লাইনে কয়েকটা সিদ্ধান্ত, রিপোর্ট এইসব রয়েছে। আমি বিস্তারিত সেইসব বিধানে না গিয়েও বলতে পারি, জামাত শিবির যেসব কান্ড কারখানা করছে গত কয়েক মাস ধরে, তাতে আমাদের পুলিশ বিজিবি যেভাবে আচরণ করছে সেটাকে খুব বেশি দোষের কিছু বলা যাবেনা। মুশকিল হচ্ছে ফরহাদ মজহার এগুলি ভালোই জানার কথা, সম্ভবত আমার চেয়ে ভালই জানেন তিনি। সেকারণেই তিনি যখন এই ধরনের লেখা লিখতে থাকেন তখন শঙ্কা হয়।



কিন্তু যেরকমটা আগেই বলেছি, এগুলি লিখে বা বলে কি লাভ!

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ সকাল ৯:০৬

স্বপ্নক বলেছেন: আরে শুকু, শাহবাগ চত্বরে বিএনপিকে গালিগালাজ করা হয়, প্রজন্ম চত্বর পেজে হত্যার হুমকি (এটা আমি নিজের চোখে দেখেছি, পরে ওরা সরিয়ে ফেলেছে) দেওয়া হয়, আর আপনি আশা করেন উনি শাহলীগদেরকে সোনামনি বলে আদর করবেন?

শুকু শব্দের পরিচিতিঃ Click This Link

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.