নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যের সন্ধানে

আমি আলোকিত সমাজের একজন সদস্য হতে চাই

চিন্তাশীল জগত

হে মুসলিম!আমরা এইজন্যই মুসলিম যে ইসলামে প্রবেশের সময় আমরা আমাদের ইচ্ছাকে আল্লাহর কাছে বিসর্জন দিয়েছি ।কাজেই এখন যদি আমরা চাই যে আমরা আমরণ ইসলামের ছায়াতলে থাকব এবং সেই চিরস্থায়ী জগত তথা জান্নাতের একজন বাসিন্দা হব তাহলে ইসলামের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নিমিত্তে আমাদের উচিত আল্লাহর রশি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে নিজেকে একজন আল্লাহর পথের পথিক হিসেবে গড়ে তোলা।

চিন্তাশীল জগত › বিস্তারিত পোস্টঃ

কল্যাণ ও অকল্যাণের প্রতিচ্ছবি

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৫০

সকল প্রশংসা শুধুই আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বসমূহের একমাত্র প্রতিপালক।আমরা কেবল তাঁরই ইবাদাত করি এবং কেবল তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো হিদায়াতকারী নেই।



আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ(সাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।



মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি হলো সে সর্বদা কল্যাণের প্রত্যাশী অর্থাৎ সে সদা কল্যাণের নিকটবর্তী হতে চায় এবং পাশাপাশি অকল্যাণ থেকে দূরে থাকতে চায়।আর সবমিলিয়ে এগুলোকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র।



কিন্তু মজার ব্যপার হলো কল্যাণের প্রকৃত রূপ আর উৎস নিয়ে আলোচনায় বসলে আমাদের সমাজে মূলত দুটি মত পাওয়া যায়।আর এটা স্বাভাবিক,কেননা আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে এই অবধি দুনিয়ার বুকে যত বনি আদম এসেছে তাদেরকে বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলীর ভিত্তিতে দুটি দলে ভাগ করা যায়।যার প্রথমটি,

যারা আল্লাহ ও কিয়ামত তথা প্রতিফল দিবসে বিশ্বাস করে

এবং অপরটি

যারা আল্লাহ ও কিয়ামত তথা প্রতিফল দিবসে বিশ্বাস করে না



এখন আমরা যদি দাবী করি যে আমরা আল্লাহ ও প্রতিফল দিবসে বিশ্বাসী তবে আমাদের কথায়, কাজে এবং চলাফেরায় এমন একটা গতি নিয়ে আসতে হবে যা অবশ্যই দ্বিতীয় দল বা Philosophy থেকে শুধুই ভিন্ন নয় বরং বিরোধীও বটে।



আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি Ultimate কল্যাণ শুধুই তাদের জন্যই অপেক্ষা করছে যারা আল্লাহ ও কিয়ামত বা প্রতিদান দিবসে বিশ্বাস করে।



আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে জান্নাত তথা Ultimate কল্যাণ শুধুই তাদের জন্যই অপেক্ষা করছে যারা আল্লাহ ও প্রতিফল দিবসে বিশ্বাস করে।



আল্লাহর কসম!যারা আল্লাহ ও কিয়ামত তথা প্রতিফল দিবসে বিশ্বাস করে না জাহান্নামই তাদের জন্য উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল যেখানে তারা প্রত্যাবর্তন করবে।



কল্যাণ ও অকল্যাণ বলতে আমরা কি বুঝি?



কল্যাণ তাই যাকে আল্লাহ কল্যাণ হিসেবে চিহ্নিত অথবা নির্ধারিত করেন।অনুরূপভাবে অকল্যাণ তাই যাকে আল্লাহ অকল্যাণ হিসেবে চিহ্নিত অথবা নির্ধারিত করেন।

তাই আমাদের উচিত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা আল্লাহই এগুলোর উত্তম নির্ধারক এবং এগুলো সবই আল্লাহর পক্ষ থেকেই।যেমনটি মহামহিম আল্লাহ বলেনঃ



“তোমরা যেখানেই থাক না কেন; মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও। বস্তুতঃ তাদের কোন কল্যাণ সাধিত হলে তারা বলে যে, এটা সাধিত হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয়, তবে বলে, এটা হয়েছে তোমার পক্ষ থেকে, বলে দাও, এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। পক্ষান্তরে তাদের পরিণতি কি হবে, যারা কখনও কোন কথা বুঝতে চেষ্টা করে না।” (সূরা আন-নিসা : ৭৮)





কোন মানুষ কি তার ইচ্ছানুযায়ী কল্যাণ কিংবা অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে ?



অবশ্যই না।কোন মানুষই তার ইচ্ছানুযায়ী কল্যাণ কিংবা অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে না এমনকি স্বয়ং নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও নয়।

এ ব্যপারে কিয়ামত দিবসের মালিক আল্লাহ বলেনঃ



“আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান তা ছাড়া। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য”(সূরা আল আরাফ,১৮৮)



এখানে একথা দিনের আলোর মত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, আল্লাহর কোন বান্দাই গায়েব জানেন না চাই তারা হোক না কোন নাবী-রাসূল(আলাইহিমুস সালাম) কিংবা আল্লাহর কোন নিকটতম বান্দা।আর আল্লাহই সমস্ত দৃশ্য-অদৃশ্যের মালিক এবং তিনি যাকে যেটুকু ইচ্ছা গায়েবের জ্ঞান দান করেন তথা গায়েবের ব্যপারে অবহিত করেন।





কল্যাণের উৎস কি?



যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তারাই ঈমানদার,তারাই মুত্তাকী এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যাবতীয় কল্যাণের চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহর হাতে।এ ব্যপারে সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেনঃ



“বলুন হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।”(সূরা আলে-ইমরানঃ২৬)



কল্যাণের দিকে কেন ধাবিত হবো?



কল্যাণের প্রতি মানুষের আকাংখা চিরন্তন।কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি প্রকৃত কল্যাণ তখনই সাধিত হয় যখন মানুষ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়।আর অকল্যাণের মুখোমুখি তখনই হয় যখন মানুষ আল্লাহর অবাধ্য হয় কিংবা আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়।এ ব্যপারে মহাজ্ঞানী আল্লাহ বলেনঃ



“আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছি এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজ কল্যানের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।”(সূরা লুকমানঃ১২)



মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ



“যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আল্লাহ তোমাদের থেকে বেপরওয়া। তিনি তাঁর বান্দাদের কাফের হয়ে পড়া পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপ ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত।”(সূরা আয-যুমারঃ৭)



কাজেই আমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় সেতো তার নিজ কল্যাণের জন্যই।অপরদিকে আমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ হলে সেক্ষেত্রে আল্লাহর কোনই ক্ষতি নেই বরং প্রকৃত ক্ষতি আমাদেরই কেননা আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।







কল্যাণের দিকে কিভাবে ধাবিত হবো?



আমি আবারো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, চিরস্থায়ী কল্যাণ তথা জান্নাত শুধু তারাই পাবে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী।তাই আল্লাহ বারবার তার ঈমানদার বান্দাদের উৎসাহ দিয়েছেন।যেমন দয়াবান আল্লাহ বলেনঃ



“তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী।”(সূরা হাদীদঃ২১)



“তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার প্রশস্ততা ও বিস্তৃতি হচ্ছে আসমান ও যমীন সদৃশ , যা তৈরী করা হয়েছে আল্লাহভীরুদের জন্য।”(সূরা আলে ইমরানঃ১৩৩)



আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ মুমিনদের ভালবাসেন এবং মুমিনদের দায়িত্ব আল্লাহর এ আহবানে সাড়া দেয়া।আর জান্নাত সেই সব ভাগ্যবান লোকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যারা আল্লাহকে ভয় করে।

(চলবে, যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন)



সহায়ক বইসমূহঃ

(১)প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যা তথা গভীর জ্ঞানের জন্য তাফসির ইবনু কাছীর।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.