নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সভ্যতা উৎকর্ষের এই যুগে পৃথিবী ছোটহয়ে আসছে, অদৃশ্য দেয়াল ক্রমশ সংকীর্ণহয়ে আসছে চারদিক থেকে। সংকীর্ণহয়ে যাচ্ছে আমাদের বিবেক,মন,চিন্তাশক্তি, ভালাথাকা আর ভালরাখার গণ্ডি, ভোঁতা হয়ে যাচ্ছেভালবাসা আর ভাললাগার অনুভূতি।পারস্পারিক জ্ঞান আর মূল্যবোধ

নিঃসঙ্গ আবেগ

নিজেকে খুঁজে ফিরি সবসময় .... ভালবাসি বাংলাদেশকে, হৃদপিণ্ডের ভিতর ফিনকি দিয়ে প্রবাহিত হয় সবুজের লাল! সপ্নঃ সপ্নের স্বাদ-গন্ধ নিতে চাই... অসাধ্য ওই পাহাড় চূড়াই উঠে ফুসফুস ভরে নিতে চাই বিশুদ্ধ অক্সিজেন। website: https://gardenforindoor.com/

নিঃসঙ্গ আবেগ › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রথম ইস্কুল!

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৪৩

একদিন আম্মা বললেন, “ওকে স্কুলে ভর্তি করে দাও। অনেক দুষ্ট হইছে।’’
বাবা বললেন, “আরো কয়েক মাস যাক, এত ছোট ছেলেকে কেউ স্কুলে দেয়? আর আসা-যাওয়া করবে কিভাবে? স্কুল তো অনেক দূর!” সেই সময় মফস্বল শহরে গনপরিবহন খুবই কম ছিল আর এখনকার মত স্কুলের গাড়ি ছিলনা।
“এই পাড়ার অনেক ছেলেমেয়ে হেটেই যায়,ওদের সাথে যাওয়া আসা করবে” মা স্কুলে দিয়েই ছাড়বেন এবার।
অবশেষে একটা শুভদিন দেখে সেই ছোট্ট ছেলেটি গুটি গুটি পায়ে তার বাবার সাথে স্কুলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করল। এলাকার সেই বড় পুকুর, বাজার, পেট্রোল পাম্প এসব মাইলস্টোন ছাড়িয়ে স্কুলে পৌঁছে গেল বাবা-ছেলে।
‘আব্বা, সারাদিন স্কুলেই থাকতে হবে?”
“হ্যা, বিকাল পর্যন্ত যতক্ষণ না ছুটি হয়”
“আব্বা, আমি বাড়ি যাব কিভাবে?”
“আজ তোমার মা এসে নিয়ে যাবে”
“আচ্ছা আব্বা, ওরা কি আমাকে মারবে”
“না তাঁরা তোমাকে অনেক কিছু শেখাবেন?”
“আব্বা, ক্ষুধা পেলে কি খাব?”
“কেন তোমার মা তোমার জন্য খাবার দিয়ে দিছে তোমার ব্যাগে?”
তারা একসাথে হেড-স্যার এর রুমে ঢুকল। পঞ্চাশের কাছাকাছি একটা মানুষ জিজ্ঞাসা করলেন “বাবা তোমার নাম কি?”
রাজ্যের লজ্জা এসে ভর করল, ছেলেটি বাবার বুকে মুখ লুকানোর চেষ্টা করছে। বাবা বললেন, “ও বাড়িতে অনেক কথা বলে এখানে মনে হয় একটু লজ্জা পাচ্ছে।”হেড-স্যার একজন আয়া ডেকে ছেলেটাকে ক্লাসে নিয়ে যেতে বললেন।

ছেলেটি পিছন ফিরে দেখছে তার বাবা সেই পথেই ফিরে যাচ্ছে যে পথে তারা এসেছিল। তার খুব ইচ্ছে করছিল দৌড়ে বাবার কাছে যেতে। সে কিভাবে এত্ত বড় স্কুল আর এত অপরিচিত মুখের মাঝে টিকে থাকবে! আলস্য নিয়ে মায়ের কাছে কাটানো সকাল আর বিকেলগুলো খুব মনে পরছিল। প্রজাপতির পিছু পিছু ছোটা, গোটা বাড়ি হইহুল্লর করা এসব কিছুই মনে পরছিল। ভীষণ ভীষণ করে মন চাচ্ছিল বাড়ি যেতে ……

সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ অনেক বড় হয়েছে স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডিও পেরিয়েছে। সে বোঝে, সেই দিনটা ছিল একটা দীর্ঘ যাত্রার শুরু যে যাত্রায় মানুষ তার জীবনের সব থেকে সুন্দর মুহূর্তগুলো কাটায়।
অনেক আবেগ-মায়ার বন্ধন ভাঙ্গে-গড়ে…… জীবন এগিয়ে চলে …

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:২৮

বিপরীত বাক বলেছেন: খুব সুন্দর লেখা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.