| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ব্লগ কি?
১৯৯৭ এর ১৭ ডিসেম্বর, ” Jorn Barger” নামক এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম ‘ weblog ‘ শব্দটির উদ্ভাবন করেন। পরবর্তীতে, ‘Peter Merholz’- যিনি তার নিজস্ব ব্লগ Petermeএ একরকম কৌতুক করেই ‘ weblog ‘ শব্দটিকে ভাগ করে ‘ blog’ বলে সম্বোধন করেন ১৯৯৯ এর এপ্রিল বা মার্চের দিকে। তারপর থেকে ‘ blog ‘ শব্দটির ব্যাবহার বেড়ে যেতে থাকে। Evan Williams নামক এক ব্যক্তি blog শব্দটিকে যথাক্রমে ‘ বিশেষ্য’ ও ‘ক্রিয়াপদ’- দু ভাবেই কাজে লাগান। তিনিই ‘Blogger’ কথাটির উদ্ভাবন করেন। ‘ব্লগিং’- এর জনপ্রিয়তার পূর্বে ‘ডিজিটাল কমিউনিটি’ বা ‘অনলাইন যোগাযোগ’ এর অন্যান্য জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো ছিলো Usenet, GEnie, BiX, CompuServe, এবং BBS, ইত্যাদি। তখনকার জন্য এগুলো জনপ্রিয় হলেও এগুলোর সাহায্যে খুব কষ্ট করেই Running conversation- এর কাজগুলো করা হতো। কিন্তু আধুনিক ব্লগিং এর সুবাদে মানুষ এখন খুব সহজেই সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছে। ব্লগিং মানুষকে দিয়েছে তার নিজস্ব একটি পরিচয়। যারা ব্লগিং করে, তাদেরকে বলা হয় ব্লগার। ব্লগাররা সাধারণত নিজেদেরকে ‘Diarists’ বা ‘Journalers’.ও বলতে পারে। Justin Hall, যিনি পার্সোনাল ব্লগিং শুরু করেছিলেন ১৯৯৪ সালে। তখন তিনি ‘Swarthmore College’-এ পড়তেন। তাকে ধরা হয় ব্লগিং-এর ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো ব্লগার। সেসময়ের চলমান কিছু জনপ্রিয় ব্লগের মধ্যে ‘Jerry Pournelle’ এবং ‘Dave Winer’s’- এর পার্সোনাল ব্লগ ছিলো অন্যতম। এগুলো ছিলো সবচেয়ে পুরনো এবং দীর্ঘসময় ধরে চলা জনপ্রিয় ব্লগ। ব্লগিং এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে এর চাহিদাও বাড়তে থাকে। এতে যোগ হয় বিভিন্নরকম প্রযুক্তি। তার বদৌলতে বর্তমানের ব্লগসাইটগুলো মেইনটেইন করার জন্য ব্রাউজার ভিত্তিক কিছু সফটওয়্যার ব্যাবহার করা হয় যা সাইটগুলোকে মেইনটেইন করার কাজ করে থাকে।
১৯৯৯ থেকে ব্লগিং- এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং যা এখনও রয়েছে। Bruce Ableson নামক এক ব্যক্তি ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে ‘ওপেন ডায়েরি’ নামক একটি ব্লগ খোলেন এবং রাতারাতি তার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। হাজার হাজার ব্লগার তার ব্লগের সাথে যুক্ত হন এবং এটিই সর্বপ্রথম ব্লগ কমিউনিটি যেখানে, অন্যান্য ব্লগারদের লেখায় মন্তব্য করার সুযোগ দেয়া হয়। এছাড়া Evan Williams এবং Meg Hourihan যারা Pyra Labs-এ কাজ করতেন, ১৯৯৯ সালে তারা চালু করেন তাদের নিজস্ব ব্লগ সাইট “blogger.com”, যা ২০০৩ এর ফেব্রুয়ারিতে Google কিনে নেয়। ব্লগ হচ্ছে এমন একটি গণ মাধ্যম যেখানে লেখক তার নিজের লেখা কোনো রকম কাটা ছেড়া ছাড়া প্রকাশ করতে পারেন। পত্রিকায় লেখা দিলে পত্রিকা লেখা সম্পাদনা করে ছাপে। পত্রিকায় লেখা প্রকাশে লেখকের স্বাধীনতা থাকেনা। লেখকের সম্পূর্ণ লেখার অর্ধেক কিংবা কিছু অংশ বাদ দিয়ে পত্রিকায় লেখা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ব্লগে এ ধরনের কোনো বিধি নিষেধ নেই। লেখক এখানে লেখার পূর্ণ স্বাধীনতা পায়। লেখক যদি ভুল লেখে। তবে ওই ভুলটিও প্রকাশ হবে।
ব্লগের প্রকারভেদ:
কোন ব্লগে কি ধরনের পোস্ট দেওয়া হয় তার উপর ভিত্তি করে ব্লগকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি হল:
১. ব্যক্তিগত ব্লগ
এখানে ব্যক্তি কোন একটি বিষয়ের উপর তার মতামত পোষ্ট আকারে তুলে ধরেন এবং পাঠকদের সাথে এর উপর মতামত আদান প্রদান করেন। এই ধরনের ব্লগে সাধারণত কোন ব্যক্তি তার প্রতিদিনের জীবন যাত্রা এবং তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে। ব্যক্তিগত ব্লগ বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ধরণের ব্লগ ব্লগার তার নিজের শখ থেকে করে থাকে। তাদের ব্লগ কেউ পড়ুক বা না পড়–ক এতে তাদের কোন আসে যায় না। নিজের আনন্দ লাভ করা এ ধরণের ব্লগের মূল উদ্দেশ্য।
২. সামাজিক ব্লগ
সামাজিক ব্লগ হল এমন ব্লগ সাইট যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের মতামত বা মুক্ত চিন্তা তুলে ধরতে পারে। একজন ব্যক্তি একটি পোষ্ট দেবার পর উক্ত ব্লগের অন্যান্য ব্লগাররা তার পোষ্টর উপর মন্তব্য করতে পারে। যেমন- সামহয়্যারইন ব্লগ, আমার ব্লগ ইত্যাদি সামাজিক ব্লগের অন্তর্ভুক্ত।
৩. ব্যবসায়িক ব্লগ:
কোম্পানি/ প্রতিষ্ঠান তাদের কোন পণ্য বা সেবার উপর নতুন নতুন তথ্য প্রদান করেন এবং পাঠক তাদের মতামত প্রদান করতে পারেন। এ ধরনের ব্লগ সাধারণত কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের প্রচার বা গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে করে থাকে। যেমন- গুগল ব্লগ, অপেরা ডেস্কটপ টিম ইত্যাদি।
৪. প্রশ্ন ব্লগ
প্রশ্ন ব্লগে ব্লগার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। এই প্রশ্ন কোন ফর্ম বা ই-মেইলের মাধ্যমে ব্লগাদের কাছে পৌঁছান হয়। যেমন: ইয়াহু এনসার হল প্রশ্ন ব্লগ।
৫. খবর ব্লগ:
যে সকল ব্লগে বিভিন্ন সাম্প্রতিক খবরের উপর বিশ্লেষণ স্থান পায় তাদেরকে খবর ব্লগ বা News Blog বলে। আরো কয়েক ধরনের ব্লগ বর্তমানে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যেমন মাইক্রো ব্লগ, টুইটার এমন একটি ব্লগ। এটি ব্যক্তিগত ব্লগের ভেতরেও পরে। এখানে কোন ব্লগার এখন কি করছেন বা ভাবছেন তা অতি সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে থাকেন। যেমন: আমার টুইটার ব্লগ।
পোষ্ট করা ব্লগের ধরন অনুযায়ী ব্লগকে আবার কয়েকভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হল:
১) ফটোলগ: এ ধরনের ব্লগে ব্লগার তাদের ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে তোলা
বা স্ক্যান করা ছবি আদান প্রদান করে থাকে।
২) ভিলগ: যে ব্লগে ব্লগার ভিডিও শেয়ার করা হয় তাকে ভিলগ বলে।
৩) লিংকলগ: বিভিন্ন ওয়েব সাইটের ঠিকানা দ্বারা গঠিত ব্লগ হল লিংকলগ
ব্লগের শাস্তি
প্রত্যেক সামাজিক ব্লগ সাইটেরই নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি থাকে যা মেনে চলে ব্লগিং করতে হয়। কোন ব্লগার যদি উক্ত নীতিমালা ভঙ্গ করেন তবে ব্লগ সাইটের মডারেশন বোর্ড তাকে শাস্তি দেবার অধিকার রাখেন। শাস্তি স্বরূপ আপনার নির্দিষ্ট পোস্ট কিংবা মন্তব্য আপনার কিংবা লেখকের অনুমতি ছাড়াই মুছে দিতে বা ব্লগ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। এছাড়াও আপনার নীতিমালা ভঙ্গের অপরাধের মাত্রা যদি খুব বেশী হয় তবে আপনাকে ব্লগের সুযোগ সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে, এমনকি আপনাকে পুরোপুরি ব্যান বা লগইন ব্যান করতে পারে। লগইন ব্যান করলে আপনি আপনার একাউন্ট আর কখনই ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই ব্লগ একাউন্ট খুলে প্রথমেই ব্লগের নীতিমালা গুলো ভালভাবে জেনে-বুঝে ব্লগিং করা উচিৎ। তাই ব্লগে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কটূক্তি করা এক কথায় অসম্ভব। তবে বিদেশি ব্লগগুলোর পলিসি ভিন্ন রকম। সেখানে এসব নিয়ম কানুনের কোনো বালাই নাই। যে যা খুশি লেখে। কিন্তু দেশের ব্লগ গুলোতে যেখানে বেশি লোকের দীপ্ত মান পাদচারণা, সেখানে আজে বাজে বিষয়ে লেখার প্রশ্নই ওঠে না। কঠোর ভাবে এসব বিষয় সেখানে দেখা হয়।
বাংলা ব্লগের ইতিহাস:
২০০৬ সালের প্রথম মাস থেকে শুর হয় বাংলা ব্লগিং এর ইতিহাস। প্রথমে একটি বাংলা ব্লগিংসাইট তার যাত্র শুরু করার পরপরই আরও একাধিক সাইট অনলাইনে বাংলা ব্লগিং এর সুবিধা নিয়ে উপস্থিত হয়। এখন বেশ কয়েকটি ব্লগিং সাইট বাংলাভাষী অনলাইন ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর পার হবার পরও এদের কেউ কেউ তেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি, কেউ জনপ্রিয় হবার চেষ্টা করছে, আবার কেউবা নতুন শুরু করে জনপ্রিয়তা অর্জনের লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। স¤প্রতি বেশ কিছু সামাজিক ব্লগ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নিচে কয়েকটি প্রসিদ্ধ সামাজিক ব্লগ সাইটের ঠিকানা দেয়া হল-
1. http://www.sachalayatan.com/
2. http://www.somewhereinblog.net/
3. http://amarblog.com/
4. http://www.sonarbangladesh.com/blog/
5. http:// http://www.techtunes.com.bd/
6. http://www.prothom-aloblog.com/
7. http://www.nirmaaan.com/blog/
8. http:// http://www.biggani.com/
9. http:// http://www.banglablog.bdnews24.com/
10. http://www.nishorga.com/
11. http://www.drishtipat.org/bangla/
12. http:// http://www.bishorgo.com/
13. http://www.amarbornomala.com
এগুলোর মধ্যে সামহয়্যারইন ব্লগ সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়। এছাড়া আমার ব্লগ এবং সচলায়তন বেশ জনপ্রিয়। সম্প্রতি সোনারবাংলা ব্লগ নামে নতুন আরো একটি ব্লগ সাইট চালু হয়েছে যার জনপ্রিয়তা সন্তোষজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক কয়েকটি কোম্পানি ব্লগিং সাইট হিসেবে সারাবিশ্বেই তাদের জনপ্রিয়তা অনেক আগেই অর্জন করেছে। বিভিন্ন ফিচার বা সুবিধা নিয়ে এই ব্লগিং সাইটগুলো বিশ্বে কয়েক মিলিয়নের বেশী ব্লগকে প্রতিদিন সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
ব্লগে কারা লেখে?
ব্লগে সব শ্রেণি পেশার মানুষ লেখে। ব্লগ লেখায় বয়সের কোনো বিধি নিষেধ নেই। বাংলা ব্লগ গুলোতে সব দল মতের লোকেরা লেখে। এখানে কে আস্তিক, আর কে নাস্তিক, কে হিন্দু, কে মুসলমান এসব জানা যায় না সহজে। কারণ পরিচয় গোপন করে অনেকে লেখে । লেখা দিয়েই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়। ব্লগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা যেমন লেখে। তেমনি স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররাও লেখে। এখানে বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা লেখে, তেমনি ডান ধারার ব্যক্তিরাও লেখে। দীর্ঘদিন যারা বাংলা ব্লগ গুলোতে ব্লগিং করে আসছেন তারা এসব সত্যর সাথে পরিচিত। তাই ঢালাওভাবে ব্লগারদের নাস্তিক বলা । তাদেরকে খারাপ বলা হচ্ছে মূর্খের প্রলাপের মতো। ক্ষুদ্র জ্ঞান নিয়ে ব্লগ ও ব্লগারদের সম্পর্কে মন্তব্য করা উচিত নয়। একজন চিকিৎসক ব্লগে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়ে ব্লগ লিখেন। একজন প্রযুক্তিবিদ তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে লেখা লিখেন। তেমনি একজন রাজনীতিবিদ চলমান রাজনীতি নিয়ে লেখা লিখেন।
ব্লগে আরেকটি বিষয় খুব লক্ষণীয়। এখানে লেখকের সাথে পাঠকের সরাসরি লেখার বিষয় সম্পর্কে আলোচনা ও তর্ক বিতর্ক চলে। যেটা পত্রিকাতে হয় না। পত্রিকাতে যেসব লেখক লেখা প্রকাশ করেন তারা পাঠকের প্রতিক্রিয়া পান না। কিন্তু ব্লগে যারা লেখেন তারা পাঠকের প্রতিক্রিয়া পান দ্রুত। তাই পত্রিকায় এক তরফা ভাবে লেখা যত সহজ, ব্লগে লেখা ততটা সহজ নয়। এখানে পাঠকদের ভুং ভাং বোঝানো যায় না। মামার বাড়ি মাসির বাড়ির গল্প এখানে বলা যায় না। মিথ্যা লেখা লিখলে যুক্তি সহকারে প্রতিবাদ আসে। আসে প্রতিবাদী লেখা।
লেখালিখির জগতে যারা আছেন তারা বহু সময়োপযোগী লেখা পান এই ব্লগে। আবার ব্লগে কোনো লেখা দিলেই যে এটি প্রকাশ করবে ব্লগ কর্তৃপক্ষ। সেরকম নয়। দেশ, সমাজ, সম্প্রদায়, সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে লেখা প্রকাশ করলে। সে লেখা মুছে দেয় ব্লগ কর্তৃপক্ষ। সুতরাং ব্লগে বিতর্কিত লেখা থাকবে। আর কর্তৃপক্ষ বসে বসে সে সব দেখবে, এমনটা নয়। বিতর্কিত লেখা লিখে বহু ব্লগার ব্যান হয়েছে। বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যান হয়েছে অনেক ব্লগার। সুতরাং ব্লগে লেখার স্বাধীনতা থাকলেও তা ব্লগ কর্তৃপক্ষের নীতিমালার সাপেক্ষে থাকে। ব্লগ নিজের পরিচয় দিয়ে লেখা যায়। পরিচয় গোপন করেও লেখা যায়। ব্লগে দেশের লোকও লিখতে পারে। বিদেশের লোকও লিখতে পারে। ব্লগে লিখতে হলে ব্যক্তিতে একটি ফরম পূরণ করতে হয়। যেটাকে রেজিস্ট্রেশন বলা হয়। রেজিস্ট্রেশন না করা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিতে ব্লগের সদস্য করা হয় না। সদস্যহীন ব্যক্তি শুধু লেখা পড়তে পারবে। লেখায় মন্তব্য বা কোনো লেখা দিতে পারবে না। তাই যারা ব্লগার প্রথমে তারা রেজিস্ট্রেশন করে একটি ব্লগ আইডি পায়। তারপর তারা ওই আইডির মাধ্যমে লেখা পোস্ট করতে পারে। এ বিষয়টি অনেকটা ব্যাংকে আক্যাউন্ট খোলার মত। বাংলাদেশের কোনো কোনো ব্লগে সরাসরি রেজি করে লেখা যায়। যেমন আমার ব্লগ। আবার কোনো কোনো ব্লগে রেজি করে সরাসরি লেখা যায় না। যেমন সামহোয়ারইন ব্লগ।
ফেসবুক ?
ফেসবুক হচ্ছে এমন একটি সামাজিক গণমাধ্যম। যেখানে ব্যক্তি তার পরিচিত বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। ব্যক্তি পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। অর্থাৎ ব্যক্তির দিনের সব কথা অন্যকে জানাতে পারেন। কর্মব্যস্ততার কারণে বহু পরিচিত লোকের সাথে যোগাযোগ করা হয়ে উঠে না অনেকের। এ দূরত্ব মেটাতে ডিজিটাল জগতে ফেসবুকের আর্বিভাব। ফেসবুকে ব্লগের সবকিছুই আছে। পার্থক্য শুধু এখানে বন্ধুদের মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে। যারা বন্ধু নন তারা এসব জানতে পারেন না। ফেসবুকে সবকিছুই প্রকাশ করা যায়। এখানে কোনো কর্তৃপক্ষ থাকে না। লেখা পোস্ট করলে যদি বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কিংবা কোনো ব্যক্তির কাছে যদি কারো পোস্ট দৃষ্টি কটু মনে হয় তবে তিনি ওই ব্যক্তিকে তার বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন। কোনো বন্ধুর মন্তব্য যদি খারাপ মনে হয়। তবে সে মন্তব্য কেটে বাদ দেয়া যায়। মন্তব্য প্রেরনকারী বন্ধুকে ব্লক করা যায়। ফেসবুকে আরেকটি মজার ফিচার হচ্ছে ছবি ও লেখা ট্যাগ করা। ট্যাগিং হচ্ছে বন্ধুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা। ট্যাগিং করা নোট বা ছবি বন্ধুর ওয়ালে প্রবেশ করে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। একাই ভাবে ওই বন্ধুর বন্ধুদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করা যায়। ফেসবুকে এসব বিষয় অনেকে ভালো করে বোঝে না। এই না বোঝার কারণে রামুর ঘটনাটি ঘটেছে বলে অনুমান করা হয়।
ব্লগে যেকেনো লেখা লিখলে সেটা সবসময় পাবলিকলি প্রকাশিত হয়। ফেসবুকে কিন্তু তা না। এখানে লেখা লিখলেই সব লেখা পাবলিকলি প্রকাশ হয় না। এখানে বিভিন্ন অপশন থাকে। লেখা সবাই পড়তে পারবে কিনা অথবা শুধু বন্ধুরা পড়তে পারবে অথবা বন্ধুর বন্ধুরা পড়তে পারবে এসব নির্ধারণ করে দিয়ে লেখা প্রকাশ করতে হয় ফেসুবুকে। কিন্তু ব্লগে যেসব লেখা প্রকাশিত হয় তা সবার জন্যই প্রকাশিত হয়। কে বন্ধু আর কে বন্ধু নয় তা জানানোর অবকাশ নেই সেখানে ।
পরিশেষ বলতে চাই ব্লগ বা ফেসবুকে যারা লেখেন। তারা দেশের মানুষের জন্যই লেখেন। মানুষকে সচেতন করার জন্যই লেখেন। একে বাঁকা চোখে দেখা ঠিক নয়।
©somewhere in net ltd.