নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু।

আস সালাম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক

উম্মু আবদুল্লাহ

তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে ধন্য করেছ, তা মনে করো না। বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন। (হুজুরাত:১৭)

উম্মু আবদুল্লাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্ম নিরপেক্ষতা ও আমেরিকা

১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৭

আমার এর আগের বোরখা সংক্রান্ত পোস্টটিতে প্রসংগ ক্রমে আমেরিকায় ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে কিছুটা কথা উঠেছিল, আলোচনা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এ পোস্টে এ নিয়ে আরো কয়েকটি লাইন লিখছি।





আমেরিকা কি একটি সেক্যুলার দেশ?



অবশ্যই। আমেরিকার সংবিধানের প্রথম দশটি সংশোধনী "বিল অব রাইটস" নামে পরিচিত, যার প্রথমটিই হচ্ছে ধর্ম নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত।



প্রথম সংশোধনী:



কংগ্রেস কোন আইন করবে না যা কোন ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করে, কিংবা কোন ধর্মের স্বাধীনভাবে পালনকে বাধা দেবে।



প্রথম অংশটি হল "এস্টাবলিশমেন্ট ক্লস", যার ফলে কংগ্রেস কোন জাতীয় ধর্ম মনোনয়ন করতে পারবে না কিংবা কোন ধর্মকে অন্য ধর্মের উপর প্রাধান্য দিতে পারবে না।



সোজা কথা, রাষ্ট্র ধর্ম বলে কোন কিছু থাকতে পারবে না।



দ্বিতীয় অংশটি হল: "ফ্রি এক্সারসাইজ ক্লস"। যার ফলে ব্যক্তি তার নিজের ধর্ম পালনে পুরো স্বাধীন।



একদিকে রাষ্ট্র কোন বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাত দেখাবে না, অন্যদিকে রাষ্ট্র কোন ব্যক্তির ধর্ম পালনকে বাধা দেবে না।



এই দুইয়ে মিলে প্রথম সংশোধনীর ধর্ম সম্পর্কিত অংশটুকু [১]।





উল্লেখ্য এই "ফ্রী এক্সারসাইজ ক্লস" আছে বলে বিশ্বখ্যাত ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান আইকিয়া তাদের নির্ধারিত ইউনিফর্মে মুসলিম মেয়েদের জন্য হিজাবের অনুমোদন রেখেছে। এই হিজাবের কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল "দ্য হিজাব শপ ডট কম" নামে একটি প্রতিষ্ঠান। আইকিয়া হিজাব নামে পরিচিত স্কার্ফের ছবি নীচে দেখুন [২]।







প্রথম সংশোধনীর প্রেক্ষাপট: যেভাবে হল প্রথম সংশোধনী



১৮০২ সালে থমাস জেফারসন (সংবিধান প্রনেতাদের একজন এবং আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট) ড্যানবারি বাপটিস্টদের কাছে একটি চিঠি লিখেন যাতে তিনি বলেন যে, বাপটিস্টদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং তাদের কোন ভয় নেই। বাপটিস্টরা তখন নির্যাতিত হচ্ছিল কারন কানেক্টিকাটের সংবিধান তাদের সুরক্ষা দিচ্ছিল না। এই প্রেক্ষাপটেই সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে বলা হয়, সবাই নিজেদের ধর্ম পালনে স্বাধীন এবং রাষ্ট্র কোন বিশেষ ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করবে না।



জেফারসন তার চিঠিতে লেখেন:



"তোমাদের মত আমিও বিশ্বাস করি ধর্ম শুধু মানুষ ও তার স্রষ্টার মধ্য সম্পর্কিত একটি বিষয়। মানুষ তার বিশ্বাস ও প্রার্থনার জন্য শুধু তার স্রষ্টার কাছেই দায়বদ্ধ। আইনের আওতায় শুধু মানুষের কর্মকেই ফেলা যায়, বিশ্বাসকে নয়। ......... যার ফলে সংবিধানের এই "কোন আইন হতে পারবে না জাতীয় ধর্ম মনোনয়ন করে কিংবা কোন ধর্মকে অন্য ধর্মের উপর প্রাধান্য দিয়ে" বাক্যটি চার্চ ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদকারী দেয়াল হয়ে থাকল।"



এই চিঠিটি জেফারসন পাঠানোর আগে এটর্নি জেনারেলকে দিয়ে রিভিউ করিয়ে নেন [৩]।





আমেরিকার জনগন ও রাজনীতিবিদদের অভিমত:





এখন দেখা যাক এ বিষয়ে আমেরিকানরা কি ভাবেন।



একটি জরিপে দেখা গিয়েছে শতকরা ৫৫ ভাগ আমেরিকান মনে করেন সংবিধান খ্রীষ্টান জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।



এ বিষয়ে সিনেটর জন ম্যাককেইন কে জিজ্ঞেস করা হল, তিনি কি ভাবেন? তিনি জবাব দিলেন:



আমি সম্ভবত "হ্যা"ই বলব যে সংবিধান আমেরিকাকে একটি ক্রীশ্চান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু তা আমি ব্যপক অর্থে বলি। যে নারী স্বর্ন দুয়ারের সামনে বাতি জ্বেলে আছে, সে এটা বলে না, "আমি শুধু ক্রীষ্টানদের স্বাগতম জানাই।" আমরা স্বাগতম জানাই গরীবদের, ক্লান্তদের এবং গন মানুষকে। কিন্তু তারা যখন আসে তখন জানে তারা এমন একটি জাতির মাঝে যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্রীশ্চান মূল্যবোধ দিয়ে।[৪]





এ বিষয়ে সিনেটর হিলারী ক্লিনটন বলেন:



আমাদের এই জাতি বিশ্বাসীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি জাতি। আমাদের ইতিহাসের বেশ কিছু গুরুত্ববহ সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলন, যেমন দাসপ্রথার উচ্ছেদ, সমস্ত আমেরিকানদের জন্য নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা, এসব বিশ্বাসীদের সাহায্যে সংঘটিত হয়েছে। [৫]



এ বিষয়ে একজন ইতিহাসবিদ ম্যাক ক্লে বলেন:

"প্রথম সংশোধনীর উদ্দেশ্য এটা ছিল না যে প্রশাসনকে ধর্ম থেকে মুক্ত করবে। বরং এটা ছিল ধর্মীয় গোত্রের সংঘাত থেকে মুক্তি এবং চার্চের অতিরিক্ত ক্ষমতা কমিয়ে দেবার উপায়।"[৬]



অন্যান্য রাষ্ট্র:



অন্যদিকে ইংল্যান্ডে রয়েছে রাষ্ট্র ধর্ম। ইউরোপের অনেক দেশেই ক্রিশ্চিয়ানিসমকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে তবে প্রায়গুলোই বিভিন্ন শাখাকে করে থাকে। যেমন ডেনমার্ক করেছে লুথারিয়ান বিশ্বাসকে।



মুসলিম রাষ্ট্রগুলো সবগুলোতেই প্রায় রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলাম রয়েছে। ব্যতিক্রম হল তুরষ্ক এবং আলবেনিয়া। [৭]



এখন সম্ভবত বাংলাদেশ এই কাতারে সামিল হবে বা হয়েছে।





ধর্ম নিরপেক্ষতা বিষয়ে কয়েকটি রিলেটেড পোস্ট:



ধর্মনিরপেক্ষতা : সন্ধ্যাবাতি/আস্তমেয়ে

ধর্ম ও রাষ্ট্র : নূরুজ্জামান মানিক

সেক্যুলারিজম ও তুরষ্ক : ত্রিভুজ

সেক্যুলারিজম বিপ্লবে বাংলাদেশ : বাংগাল





১।http://en.wikipedia.org/wiki/First_Amendment_to_the_United_States_Constitution

২। Click This Link

৩।http://en.wikipedia.org/wiki/Separation_of_church_and_state_in_the_United_States

Click This Link

৪।http://atheism.about.com/od/johnmccainonreligion/a/McCainSecular.htm

৫।http://atheism.about.com/od/hillaryclintonreligion/a/PeopleFaith.htm ৬। Click This Link

৭। http://en.wikipedia.org/wiki/State_religion

মন্তব্য ৪৫ টি রেটিং +৯/-৪

মন্তব্য (৪৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:০০

নীল_পদ্ম বলেছেন: সেক্যুলার কি-না জানি না, তয় ওখানে প্রেসিডেন্ট শপথ নেন বাইবেল হাতে নিয়া =p~

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪০

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: সেক্যুলার তো অবশ্যই। কিন্তু ধর্ম নিরপেক্ষতা তো আর ধর্মহীনতা নয়!


=p~ =p~

২| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৪৮

শিপু ভাই বলেছেন: আপাতত শোকেসে।
পরে ভাল কইরা পড়ুমনে।

+

১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:০০

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

৩| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৪৮

রিডার ওয়ান বলেছেন:
আমি যেটা বুঝি, তাত্বিক ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত না করলেও, বাস্তবে ওরা ধর্মভীরু। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের লোক থাকায় হয়ত কোন নির্দিশ্ট একটি ধর্মকে আলাদা করা যায় না। তবে খ্রীস্ট ধর্মের প্রভাব বেশী। আর যুক্তরাষ্ট্রের একেকটা স্টেট আসলে একেক চরিত্রের। স্টেটগুলো আলাদা আলাদা ভাবে নির্দিশ্ট ধর্মকে প্রমোট করে।

আপনার লেখাটা ভাল লেগেছে। তবে শেষের একটা প‌্যারা নিয়ে একটা কথা।

মুসলিম রাষ্ট্রগুলো সবগুলোতেই প্রায় রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলাম রয়েছে। ব্যতিক্রম হল তুরষ্ক এবং আলবেনিয়া।

মুসলিম রাষ্ট্র না বলে বোধহয় ইসলামিক স্টেট বলতে পারেন। কেননা রাষ্ট্র মুসলিম হয়না, রাষ্ট্রের নাগরিক মুসলিম হয়!! ইসলামিক স্টেট বলতে বোঝায় ইসলামি শরীয়তের মডেল অনুযায়ী গড়ে ওঠা রাষ্ট্র। প্রকৃতপক্ষে সেরকম কোন রাষ্ট্র বর্তমানে আছে বলে আমার জানা নেই !!

বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে ধরেছেন কিনা জানি না। ওআইসির সদস্য পদ থাকায় ইসলামিক রাষ্ট্র বলতে পারেন! এছাড়া এখানে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি। কিন্তু কাগজে কলমে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ। ৭২ এর সংবিধানে এমনটাই বলা হয়েছিল। আর সেটাতে সেই সময়ের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ছিল। পরবর্তীতে জোর করেই সেটা পাল্টানো হয়েছিল। সেই পরিবর্তনকে সম্প্রতি বিচারবিভাগ অবৈধ ঘোষনা করেছে। সুতরাং এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ। যদিও ধর্ম নিরপেক্ষতাও একধরনের ধর্ম!!

আসলে রাষ্ট্রের ধর্ম থাকে কি করে এটাই আমার মাথায় ঢোকে না!! ধর্ম ত মানুষের জন্য। রাষ্ট্রের মডেল হয়ত কোন ধর্মের অনুসরনে হয়।

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২২

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ইংরেজীতে বহুল প্রচলিত স্টেট রিলিজিয়নের বাংলা অনুবাদ হল রাষ্ট্র ধর্ম। রাষ্ট্র যদি কোন ধর্মকে অফিসিয়াল এনডোর্সমেন্ট দেয় তা সে ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম। আর রাষ্ট্র কোন ধর্মকে সে মর্যাদা না দিলে তা হবে ধর্ম নিরপেক্ষ বা সেক্যুলার রাষ্ট্র। উইকির সংজ্ঞা নীচে দিলাম।

A state religion (also called an official religion, established church or state church) is a religious body or creed officially endorsed by the state. Practically, a state without a state religion is called a secular state.

বৌদ্ধ ধর্মকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন দিয়েছে ভূটান, কম্বোডিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড এবং তিব্বত।

পৃথিবীতে ধর্মনিরপেক্ষ এবং রাষ্ট্রধর্ম সহ দেশগুলোর তালিকার জন্য উইকি দেখুন:

http://en.wikipedia.org/wiki/State_religion

মুসলিম দেশগুলোতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলেই যে সবক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তের মডেল অনুসরন করা হবে তা কিন্তু নয়। মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, কিন্তু তা কি পুরো মাত্রার ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী দেশ?

ইসলামিক রিপাবলিক দেশের উদাহরন হল ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং মৌরিতানিয়া। এছাড়া সৌদি আরবে শরিয়া আইন রয়েছে যদিও তা রাজতন্ত্র। থিওক্রেটিক দেশগুলোতে সে দেশের ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক অনুসরন করা হয়, যা স্টেট রিলিজিয়ন শুদ্ধ দেশগুলোর ক্ষেত্রে নাও করা হতে পারে।

বাংলাদেশ এখন থেকে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র কারন বাংলাদেশের সংবিধানের এখনকার অবস্থায় কোন ধর্মের অফিসিয়াল অনুমোদন নেই বা কোন ধর্মের রাজনৈতিক মর্যাদা নেই। ফিরে আসা সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলো বেশ পরিষ্কার ভাবেই এটা বলছে। এ নিয়ে দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই।

ওআইসিতে যাওয়া বা না যাওয়া দিয়ে কিছু আসে যায় না। বাংলাদেশের সংবিধানই বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এবার আমার নিজের একটি পর্যবেক্ষনের কথা বলি। অনেকে বলছেন বাংলাদেশে রাষ্ট্র ধর্ম "ইসলাম" - ওটা সংবিধানে রাখা হবে। কিন্তু ওটা করা হলেই একটি ধর্ম অনুমোদন পেয়ে যায়, যা ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতির ঠিক বিপরীত এবং উল্টো। পত্রিকা পড়ে দেখলাম বাংলাদেশের সংবিধানের ধর্ম নিরপেক্ষতার সংজ্ঞা পরিষ্কার ভাবে দেয়া আছে যে কোন ধর্ম রাজনৈতিক মর্যাদা পাবে না। ফলে বাংলাদেশে কোন ধর্ম রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পাবার কথা নয় কারন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দিতে পারে না (পত্রিকার থেকে পাওয়া)।

৪| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৪৯

রিয়াদরকস্ বলেছেন: ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটাই খেলো মনে হয়- মুখে আছে কাজে নাই। আমার মনে হয় না বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষ কোন দেশ আছে বা মানুষ আছে। সবাই যার যার ধর্ম নিয়া ব্যস্ত।

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩০

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আপনার এই অনুভূতির পেছনে যে বিষয়টি কাজ করছে তা হল পৃথিবীতে ধর্ম মানুষের কাছে এখনও গুরুত্ববহ। তাই আমেরিকা ধর্ম নিরপেক্ষ একটি দেশ হলেও সে দেশটি প্রবল ভাবে ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। আমেরিকার দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার উপরের কক্ষের মানুষেরা সংবিধান জেনেই তাই এরকম মন্তব্য করছেন।

৫| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:২৪

ShusthoChinta বলেছেন: প্রত্যেকটা ধর্মই প্রকৃতপক্ষে একেকটি মতবাদ,এইভাবে সেক্যুলারিজমও একটি মতবাদ,এটিকে মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা কেমন উদারতা আমার মাথায় আসে না! কোন রাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় রাষ্ট্র ঘোষনার সাথে সেক্যুলার রাষ্ট্র ঘোষনার সাথে পার্থক্য কোথায় আমাকে কেউ বুঝিয়ে দিন প্লিজ!

১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:৫৫

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: একটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চাল চলন, সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসই সে দেশের চরিত্রকে প্রতিষ্ঠিত করে।

৬| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:২৬

পারভেজ আলম বলেছেন: আমেরিকা দেশটা নামেই সেকুলার। এডওয়ার্ড সাইদের মতে দুনিয়ার সবচেয়ে ধর্মিয় রাষ্ট্র হইল আমেরিকা। এই রাষ্ট্রের বিচারালয়ে আল্লাহ, প্রশাসনে আল্লাহ, সামরিক বাহিনীতে আল্লাহ। এত বেশিবার আল্লাহর নাম আর কোন রাষ্ট্র নেয় কি না সন্দেহ আছে। এই রাষ্ট্র না কি আল্লাহর রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রের সৈনিকরা না কি আল্লাহর সৈনিক।

এহেন রাষ্ট্র সংবিধানে সেকুলারিজমের কথা লিখলেই কি আর না লিখলেই কি। বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:৪৫

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: সংবিধানেই রাষ্ট্র চালিত হয়।

৭| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:২৬

তায়েফ আহমাদ বলেছেন: IN GOD WE TRUST

১৪ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:২১

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: হ্যা.................

৮| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:৩৬

পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: আমার একটা খুবই নির্দোষ কৌতুহল-

* কোনো রাষ্ট্র যদি সংবিধানমতে ধর্মনিরপেক্ষ হয় এবং নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে কোনো বাঁধা না দ্যায় তবে সেই দেশ নিয়ে কি আপনার আপত্তি আছে? যদি থাকে তবে কেন?

* ইসলামিক স্কুল/ফেইথ স্কুলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে(বিশ্বাস করুন ছোটো বাচ্চাদেরও ইচ্ছার স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, নইলে বড় হয়ে তারা ভেজিটেবল হয়ে যায়, নিজস্ব চিন্তাশক্তি গ্রো করেনা) যদি জোর করে কোনো কাচ্চাবাচ্চাকে পড়ানো হয় তবে সেক্ষেত্রে কি আপনার আপত্তি আছে?

* আপনি কি সুনির্দিষ্টভাবে দ্যাখাতে পারবেন যে ইসলামিক স্কুল/ফেইথ স্কুল গুলোতে ইউরোপ-আমেরিকার স্ট্যান্ডার্ডে শিক্ষা দেয়া হয়? আমি কিন্তু আপনাকে প্রমাণ দিতে পারবো যে এদের শিক্ষা আর আমাদের মাদ্রাসার আমপারা-সিপারা মুখস্ত করানোর মধ্যে ব্যাসিক কোনো পার্থক্য নাই(অবশ্যই ব্যতিক্রম মাথায় রেখে)।

* স্কার্ফ, ও ঢিলেঢালা অন্য যেকোনো লম্বা ঘেরের পোশাক দিয়ে পর্দা করলে তাকে কি বোরকার বিকল্প ইউনিফর্ম হিসেবে অনুমোদন দেবেন?

* আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন কেন? রাষ্ট্রতো আপনার ঘাড়ে বোরকা চাপিয়ে বা খুলে নিচ্ছে না!
*********

জবাব পেলে বাধিত হবো।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৫০

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আপনার কথাগুলোর জবাব:

"* কোনো রাষ্ট্র যদি সংবিধানমতে ধর্মনিরপেক্ষ হয় এবং নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে কোনো বাঁধা না দ্যায় তবে সেই দেশ নিয়ে কি আপনার আপত্তি আছে? যদি থাকে তবে কেন?"

আমি আগেই বলেছি একটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চাল চলন, সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসই সে দেশের চরিত্রকে প্রতিষ্ঠিত করে। আমার নিজের ব্যক্তিগত মতামত থাকতে পারে, কিন্তু তা সামষ্টিক মতামতের উপরে স্থান পায় না। ধর্ম নিরপেক্ষতার যেহেতু প্রকারভেদ রয়েছে তাই এককথায় এর জবাব হয় না।


"ইসলামিক স্কুল/ফেইথ স্কুলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে(বিশ্বাস করুন ছোটো বাচ্চাদেরও ইচ্ছার স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, নইলে বড় হয়ে তারা ভেজিটেবল হয়ে যায়, নিজস্ব চিন্তাশক্তি গ্রো করেনা) যদি জোর করে কোনো কাচ্চাবাচ্চাকে পড়ানো হয় তবে সেক্ষেত্রে কি আপনার আপত্তি আছে?"

শিশুদের ইচ্ছা/অনিচ্ছা তো অবশ্যই গুরুত্ব পাবে। মানুষ নিজের ভাল সবচেয়ে বেশী বোঝে নিজে। তবে শিশুদের আমরা পুরো স্বাধীনতা কখনই দেই না। বাংলাদেশের সংবিধানও দেয় না। সেজন্যেই দেখবেন ১৮ বছর বয়েসের নীচে কেউ বিয়ে করতে পারে না। কোন কোন বাচ্চা সকালে উঠে ঘোষনা দেয় সে আর স্কুলে যাবে না। অভিভাবক কিংবা সমাজ কেউই এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবার মত ভাবে না।

ইসলামিক স্কুলে জোর করে পড়ানোর বিষয়টি আমি বাস্তব জীবনে খুব বেশী দেখি নি। বরং উল্টোটাই দেখেছি। পয়সা নেই বলে বাবা মা পাবলিক স্কুলে দিচ্ছে। এদিকে বাচ্চা যেতে চায় না।


"আপনি কি সুনির্দিষ্টভাবে দ্যাখাতে পারবেন যে ইসলামিক স্কুল/ফেইথ স্কুল গুলোতে ইউরোপ-আমেরিকার স্ট্যান্ডার্ডে শিক্ষা দেয়া হয়? আমি কিন্তু আপনাকে প্রমাণ দিতে পারবো যে এদের শিক্ষা আর আমাদের মাদ্রাসার আমপারা-সিপারা মুখস্ত করানোর মধ্যে ব্যাসিক কোনো পার্থক্য নাই(অবশ্যই ব্যতিক্রম মাথায় রেখে)।"

আপনি কোন ইসলামিক স্কুলগুলোর কথা বলছেন বুঝতে পারছি না। সাধারন ভাবে প্রচলিত ইসলামিক স্কুল গুলোকেও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সাধারন কারিকুলামের একটা নির্দিষ্ট অংশ অনুসরন করতে হয়। এই কারিকুলাম শিথিল হলেও একটা নির্দিষ্ট মান রয়েছে। আর যদি হিফজ বা সেরকম স্কুলের কথা বলেন (সংখ্যায় নগন্য) তবে সেটা আলাদা। সেগুলো সাধারন স্কুলের মধ্যে পড়ে না। ওসব স্কুলের ছাত্রদের আলাদা হোম স্কুলিং করতে হয় বা অন্য স্কুলে দিতে হয় কারন ক্লাশে সাধারন বিষয় পড়ানো হয় না।


"* স্কার্ফ, ও ঢিলেঢালা অন্য যেকোনো লম্বা ঘেরের পোশাক দিয়ে পর্দা করলে তাকে কি বোরকার বিকল্প ইউনিফর্ম হিসেবে অনুমোদন দেবেন?"

আমি অনুমোদন দেবার কেউ নই। বাংলাদেশে মনে হয় না তা অনুমোদন পাবে। কোর্ট তো সেরকম নির্দেশনাই দিচ্ছে।


"* আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন কেন? রাষ্ট্রতো আপনার ঘাড়ে বোরকা চাপিয়ে বা খুলে নিচ্ছে না!"

আমি আমার মতামত প্রকাশ করছি মাত্র। তা গ্রহন করা বা না করার সম্পূর্ন স্বাধীনতা অন্যদের রয়েছে।

৯| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:২৭

ত্রিভুজ বলেছেন: লেখাটার সম্ভবত আরো পর্ব আসবে..? অপেক্ষায় রইলাম। তুরস্কের ধর্মনিরপেেক্ষতা নিয়ে কমপক্ষে কয়েকটি পর্ব হতে পারে। তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে একটা লেখা দেব ভাবছিলাম- এই লেখাটার পরে- Click This Link ..কেন যেন দেয়া হলো না।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৩৫

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: এই মুহুর্তে ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে যা বলার এ পোস্টেই বলে শেষ করব। তুরষ্ক বিশুদ্ধ একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র ছিল, তবে বাংলাদেশ কোন মডেল নিচ্ছে তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের সংবিধানের বিস্তারিত অনুচ্ছেদ গুলোর উপরে।

উপরের লেখাটি বেশ সুন্দর।

১০| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৩২

পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: ধর্ম নিরপেক্ষতার যেহেতু প্রকারভেদ রয়েছে তাই এককথায় এর জবাব হয় না।

আমি সুস্পষ্টভাবে সেই প্রকারটি উল্লেখ করেছি এবং হ্যাঁ/না বোধক উত্তর চেয়েছি। আপনি স্পষ্টতঃই এড়িয়ে গেলেন।

এই কারিকুলাম শিথিল হলেও একটা নির্দিষ্ট মান রয়েছে।

ফেইথ স্কুল হলো খৃস্টানদের আর ইসলামিক তো বুঝতেই পারছেন কাদের। এদের শিক্ষার মানের ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে এই ডকুমেন্টারীটা চাইলে দেখতে পারেন।

আমি অনুমোদন দেবার কেউ নই। বাংলাদেশে মনে হয় না তা অনুমোদন পাবে। কোর্ট তো সেরকম নির্দেশনাই দিচ্ছে।


হা হা। আমি ঠিক এজন্যেই প্রশ্নটা করেছিলাম, এখানেও স্পষ্টভাবেই আপনার মন বায়াসড হয়ে আছে বোরকার দিকে; অথচ স্কুল/কলেজ ড্রেসের সাথে স্কার্ফ পড়ে খুব চমৎকারভাবে এই পর্দাটি করা যায় এবং বাংলাদেশে অনেকে তা করছেও এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো এর বিরুদ্ধে কোনো কথাও শোনা যায়নি।

কোন কোন বাচ্চা সকালে উঠে ঘোষনা দেয় সে আর স্কুলে যাবে না। অভিভাবক কিংবা সমাজ কেউই এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবার মত ভাবে না।

আপনি ঠিকই বলেছেন; তবে কথা হচ্ছে কি আপনার এই দৃষ্টিভঙ্গি একান্তই বাঙালি ঘরানার। এখানে বাচ্চাকাচ্চাকে পোষা জীবজন্তুর বাইরে খুব একটা ভাবা হয় না। একটু খাইয়ে দাইয়ে রাখলেই হয়; মতামতের কি গুরুত্ব আছে তাদের? তবে যেহেতু উদাহরণ দিচ্ছেন পশ্চিমের শিক্ষাব্যবস্থার, সেজন্যই প্রশ্নটা করেছিলাম, কারণ সেখানে এই মনস্তাত্বিক বিষয়টিকে অসম্ভব গুরুত্ব দেয়া হয় যাতে করে শিশুরা পড়াশুনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহী হয়। ফেইথ স্কুল বা ইসলামিক স্কুল বনাম কিন্ডারগার্টেন এ তাই প্রথমগুলো বিপুল ভাবেই হেরে যাবে সমর্থনে। কিন্তু যেহেতু এই শিশূদের বাবা-মা গোড়া ক্যাথলিক/মর্মন বা মধ্যপ্রাচ্য, গ্রেটার ইন্ডিয়া আগত মুসলিম, তাই তারা এসবকে পাত্তাই দ্যান না। বিস্তারিত আবার ঐ ডকুমেন্টারিতে দেখুন। এই লেখাটাতেও চোখ বুলাতে পারেন।
*********

তাই শেষের এই কথাগুলো বলেছিলাম,

আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন কেন? রাষ্ট্রতো আপনার ঘাড়ে বোরকা চাপিয়ে বা খুলে নিচ্ছে না!
**

১৬ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৩:৩০

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
"আমি সুস্পষ্টভাবে সেই প্রকারটি উল্লেখ করেছি এবং হ্যাঁ/না বোধক উত্তর চেয়েছি। আপনি স্পষ্টতঃই এড়িয়ে গেলেন।"



ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে কোন বিষয় আমি এড়িয়ে যাই নি। সব ধর্ম নিরপেক্ষ দেশই ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলে। এদিকে আবার পাবলিক স্কুলে কিছু ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে স্কার্ফ পড়া নিষিদ্ধ। যার ফলে ধর্ম নিরপেক্ষতার সুস্পষ্ট মডেল না জানলে মন্তব্য করা মুশকিল।

বাংলাদেশের ধর্ম নিরপেক্ষ মডেলে ধর্মীয় রাজনীতি অবৈধ। আমি এটা সমর্থন করি না, কারন নীতিগত ভাবে আমি বহু দলীয় গনতন্ত্রের সমর্থক।

"ফেইথ স্কুল হলো খৃস্টানদের আর ইসলামিক তো বুঝতেই পারছেন কাদের।"

আপনি সম্ভবত বৃটেনের স্কুলগুলোর কথা বলছেন। বৃটেন ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র নয়, চার্চ অব ইংল্যান্ডকে রাজনৈতিক মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সেখানকার ফেইথ স্কুলের অনেক গুলো সরকারী। আমেরিকাতে মনে হয় না সেরকম, অন্তত আমি বেশীর ভাগই দেখেছি প্রাইভেট যদিও এরা বিভিন্ন অনুদান পেতে পারে।

ফেইথ স্কুলগুলো কি খুব খারাপ করছে? যা হোক, এটা অন্য একটা আলোচনা। আমি বৃটেন নিয়ে খুব ভাল জানি না। আর আমেরিকার শিক্ষা ব্যবস্থায় যেসব পাবলিক স্কুলে এডভান্সড প্রোগ্রাম থাকে, শুধু সেসব পাবলিক স্কুলই অভিভাবকের কাছে আদরনীয়। নতুবা প্রাইভেটের চেয়ে পাবলিক কেন বেশী আকর্ষনীয় হবে (টিউশনের বিষয়টি ছাড়া)?

আপনি যেসব লেখার লিংক দিয়েছেন তাতে এটাও লেখা রয়েছে:

"অর্থনৈতিক বা অন্য কারণে কোনো শিশুর পড়ালেখা বাদ দিতে হলে বা বিদ্যালয় বদলাতে হলে সেটা অভিভাবকই নির্ধারণ করে দেয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একজন শিক্ষার্থীর যদি বিদ্যালয় ছেড়ে অন্য কিছু করতে বা বিদ্যালয় বদলাতে ইচ্ছে করে, তাহলে সেটাকে অনধিকার চর্চা হিসেবেই দেখা হবে। "

কিন্তু আমেরিকার পাবলিক স্কুলে কি বিদ্যালয় পরিবর্তন খুব সহজ কিছু? যে জায়গায় বাড়ী, সেখানকার স্কুলেই বাচ্চা দিতে হয়।


"অথচ স্কুল/কলেজ ড্রেসের সাথে স্কার্ফ পড়ে খুব চমৎকারভাবে এই পর্দাটি করা যায় এবং বাংলাদেশে অনেকে তা করছেও এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো এর বিরুদ্ধে কোনো কথাও শোনা যায়নি।"

উঠে নাই বলে সামনে যে উঠবে না তা কে বলতে পারে। সেক্ষেত্রেও হাইকোর্টের নির্ধারিত ড্রেস কোডে স্কার্ফ না থাকার সম্ভাবনাই বেশী কারন এটা ধর্মীয় পোশাক। ধর্মীয় পোশাককে ড্রেস কোড করার বিষয়ে হাইকোর্টের আপত্তি রয়েছে।

আর বোরখা চিরায়ত ভাবে মাদ্রাসার রেওয়াজ। সেখানে এটা ড্রেস কোড হওয়াটাই স্বাভাবিক কারন ধর্মীয় স্কুলে ধর্মীয় ড্রেস কোড তো থাকতেই পারে। সেইটা হাইকোর্টের দ্বারা বন্ধ হওয়াতে খুব খুশী হইনি - এটা সত্য।

"আপনি ঠিকই বলেছেন; তবে কথা হচ্ছে কি আপনার এই দৃষ্টিভঙ্গি একান্তই বাঙালি ঘরানার। এখানে বাচ্চাকাচ্চাকে পোষা জীবজন্তুর বাইরে খুব একটা ভাবা হয় না। একটু খাইয়ে দাইয়ে রাখলেই হয়; মতামতের কি গুরুত্ব আছে তাদের? তবে যেহেতু উদাহরণ দিচ্ছেন পশ্চিমের শিক্ষাব্যবস্থার, সেজন্যই প্রশ্নটা করেছিলাম, কারণ সেখানে এই মনস্তাত্বিক বিষয়টিকে অসম্ভব গুরুত্ব দেয়া হয় যাতে করে শিশুরা পড়াশুনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহী হয়। ফেইথ স্কুল বা ইসলামিক স্কুল বনাম কিন্ডারগার্টেন এ তাই প্রথমগুলো বিপুল ভাবেই হেরে যাবে সমর্থনে। কিন্তু যেহেতু এই শিশূদের বাবা-মা গোড়া ক্যাথলিক/মর্মন বা মধ্যপ্রাচ্য, গ্রেটার ইন্ডিয়া আগত মুসলিম, তাই তারা এসবকে পাত্তাই দ্যান না।"

বাঙ্গালী বাবা মায়েরা যে খুব খারাপ অভিভাবক তা তো জানতাম না। আমার তো বরং উল্টো ধারনা ছিল।

পশ্চিমে রিসোর্স বেশী তাই অনেক কিছু তাদের জন্যে সহজ। আর আপনি যেভাবে বলছেন যে সাধারনের সমর্থনে ফেইথ স্কুল হেরে যাবে, সেটা এসব কারনে নয়। ফেইথ স্কুলের অসুবিধার মূল কারন ফান্ডিং। টাকা নেই বলে তারা অনেক কিছু করতে পারে না।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে।

১১| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৩:৩৬

দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: ভাল লাগল। শুধু ২/১ টা জিনিস নিয়ে একটু বলি:

১. সংবিধান বা মূলনীতি এমন একট জিনিস, যেটা জনমতের সাথে সাথে চট করে নিজেকে বদলে ফেলেনা। সেইজন্যই, সংবিধানের কোন জিনিস বাস্তবে কতটুকু মানা হয়, সেটার জন্য জনমত জরীপ একটা ভুল পরিমাপক।

রাষ্ট্রীয় কোন সিদ্ধান্ত খুব অ-জনপ্রিয় হয়েও কিন্তু সংবিধান সম্মত হতে পারে, এবং রাষ্ট্র সেটা কার্যকরও করতে পারে। এর উদাহরণ আমেরিকায় প্রচুর রয়েছে---৬০ এর দশকে কেনেডির ডিসেগ্রিগেশন সিদ্ধান্ত সাউথে চরমভাবে অ-পছন্দের ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা পালন করা হয়। অধুনা নিউইয়র্কে পার্ক ৫১ নামে প্রস্তাবিত ইসলামী কমিউনিটি সেন্টারটিও সেখানে অ-জনপ্রিয়(এক জরিপে দেখা যায় সেখানকার প্রায় ৭৫ ভাগ লোক এটার বিরোধিতা করেন, যদিও সেটা বেশ প্রগ্রেসিভ একটা জায়গা) কিন্তু ওবামা থেকে শুরু করে সেখানকার মেয়র ব্লুমবার্গ সবাই বলছেন এটা তৈরী করার স্বাধীনতা সম্পুর্ণই সংবিধান সম্মত।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৭:৫৮

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: এর সাথে আমিও কিছু যোগ করতে চাই। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৬ এর এক জন সমাবেশে বলেছিলেন, "সংবিধান বড়, না গন দাবী বড়?"

তাই গন দাবী সব সময়ে সংবিধান সম্মত নাও হতে পারে।

১২| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৩:৪১

দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: @নীল-পদ্ম: @১নং কমেন্ট: বাইবেল হাতে নিয়ে শপথ নেয়াটা কোন আইন নয়, একটা প্রচলিত নিয়ম মাত্র। আমেরিকার অনেক প্রেসিডেন্টই আছেন, যারা বাইবেল হাতে নিয়ে শপথ নেননি। থিওডর রুজভেল্ট তার শপথে বাইবেল ব্যভার করেননি। জন কুইন্সি এডামস আইনের বই হাতে নিয়ে শপথ করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

Click This Link

"সো হেল্প মি গড" না বলে অন্য কিছু বলে শপথ নেওয়াও সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ, এটার উদাহরণও খুজলেই পাবেন। এটাকে বলা হয় "এফারমেশন"।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:১১

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আমেরিকায় ধর্মের প্রভাব বেশী থাকায় নিয়মটি জনপ্রিয়।

১৩| ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১

নাজনীন১ বলেছেন: আদালতে রায় হলেই যে মূলনীতি পাল্টে গেল তা কিন্তু নয়, সংসদের হাতেই ক্ষমতা রয়েছে সে রায় বাস্তবায়ন করবেন কি করবেন না।

আর এতোদিন মূলনীতিতে আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস থাকাতে কি সমস্যা হয়েছিল ঠিক বুঝি না। আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এটা অষ্টম সংশোধনীতে হয়েছে, সেটা তো এখনো বাতিল হয়নি মনে হয়। তবে সরকার চাইলে হয়তো কিছুদিনের মধ্যে বাতিল করতে পারে।

তবে রাষ্ট্রধর্ম নামক কিছু যে থাকতেই হবে এমন কোন কথাও নেই। সব ইসলামিক দেশে কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, তবে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আইন হবে এ জাতীয় কথা লেখা আছে। যেটা আমাদের দেশে পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল হবার আগেও ছিল না।

কিন্তু সংবিধানের মূলনীতিতে "আল্লাহ্‌ বা সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা রেখে"...এ কথাটা থাকতেই পারে। এটা এদেশের অধিকাংশ বিশ্বাসী মানুষের মতামতের প্রতিফলন। সংবিধানে যদি বিসমিল্লাহ্‌ থাকতে পারে, তাহলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা থাকতে অসুবিধা কোথায়?

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:০৯

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আপু, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

"আদালতে রায় হলেই যে মূলনীতি পাল্টে গেল তা কিন্তু নয়, সংসদের হাতেই ক্ষমতা রয়েছে সে রায় বাস্তবায়ন করবেন কি করবেন না।"

এইটা নিয়ে তো শুরু হয়েছে মহা বিতর্ক। আমি আর এতে অংশ নিতে চাই না। আমার কাছেও সাধারন জ্ঞানে মনে হয়েছে সংসদের মাধ্যমেই এটা হতে হবে। কিন্তু বাঘা বাঘা সংবিধান বিশেষজ্ঞরা যেখানে বলছেন এ রায় স্বনির্বাহী (সেল্ফ এক্সিকিউটিং), সেখানে আমি কি বলব!


"আর এতোদিন মূলনীতিতে আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস থাকাতে কি সমস্যা হয়েছিল ঠিক বুঝি না। আর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এটা অষ্টম সংশোধনীতে হয়েছে, সেটা তো এখনো বাতিল হয়নি মনে হয়। তবে সরকার চাইলে হয়তো কিছুদিনের মধ্যে বাতিল করতে পারে।"


পঞ্চম সংশোধনী ধর্ম নিরপেক্ষতাকে প্রতিস্থাপিত করে "আল্লাহর প্রতি আস্থা ....।" বাক্যগুলো দিয়ে। এছাড়া বাস্তবতার প্রতি লক্ষ্য রেখে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্লজ জুড়ে দেয়। কিন্তু রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রে কোন পরিবর্তন আনা হয় না। না সংবিধানে, না শিক্ষা ব্যবস্থায় বা প্রতিষ্ঠানে। মানুষ তার ধর্ম পালনে স্বাধীন, প্রতিটি নাগরিক দেশে সম নাগরিক অধিকার ভোগ করবে ইত্যাদি। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরোক্ষ হলেও রাষ্ট্র কর্তৃক ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে অষ্টম সংশোধনী পরিষ্কার ভাবে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অনুমোদন দেয়। এই সবই ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

"তবে রাষ্ট্রধর্ম নামক কিছু যে থাকতেই হবে এমন কোন কথাও নেই। সব ইসলামিক দেশে কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, তবে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আইন হবে এ জাতীয় কথা লেখা আছে। যেটা আমাদের দেশে পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল হবার আগেও ছিল না।"

হ্যা এটাও দেখলাম যে কিছু দেশে কোন ধর্মের রাষ্ট্রীয় অনুমোদন নেই কিন্তু সেসব দেশে মুসলিমদের আইনী ব্যবস্থায় ইসলামী আইন অনুসরন করা হয়।


"কিন্তু সংবিধানের মূলনীতিতে "আল্লাহ্‌ বা সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা রেখে"...এ কথাটা থাকতেই পারে। এটা এদেশের অধিকাংশ বিশ্বাসী মানুষের মতামতের প্রতিফলন। সংবিধানে যদি বিসমিল্লাহ্‌ থাকতে পারে, তাহলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা থাকতে অসুবিধা কোথায়? "

বিসমিল্লাহ সংবিধানের অংশ নয়। আর বাকী অংশ তো আপনার মতামত। আপনি কিংবা আপনার মত যারা এরকম বিশ্বাস পোষন করে তারা সংখ্যা লঘু। সংবিধান তো সংখ্যা গরিষ্ঠের বিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করবে। এই সরকার তিন চতুর্থাংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে এসেছে, তাই তাদের পাল্লাটা ভারী। তারা মনে করে "ধর্ম নিরপেক্ষতা" নীতি দিয়ে "সর্ব শক্তিমান আল্লাহর উপর আস্থা এবং বিশ্বাস"কে প্রতিস্থাপিত করা প্রয়োজন।

১৪| ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:০০

নাজনীন১ বলেছেন: আর বোরকার ব্যাপারে একটা কথা বলে যাই, পর্দা করতে গেলে যে বোরকাই লাগবে, আমরা কি এই মতবাদ থেকে বেরোতে পারি না? আর একটা সরকারী কলেজে কেন জোর করে বোরকা পরানোর চেষ্টা হচ্ছিল? সেটা তো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিল না? তো, সেই কলেজের অধ্যক্ষ জোর করে ইসলামের সেবা করতে গিয়ে কি হিতে বিপরীতটাই করলেন না?

এখন মাননীয় বিজ্ঞ প্রগতিশীল বিচারকও অজুহাত খুঁজে পেলেন যেকোন প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক বাধ্যতামূলক না করতে বলতে। এতে কি সেই অধ্যক্ষের এতোটুকু দায় থাকে না? গত ৪০ বছরে তো এ ধরণের রায়ের দরকার পড়েনি এদেশে? দুঃখজনক যে এখন কোন মাদ্রাসারও সেই স্বাধীন ইচ্ছাটা থাকলো না।

তবে কোন প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক কেউ যদি স্বেচ্ছায় পরতে চায়, আর তাকে যদি বাঁধা দেয়া হয়, তারও উচিত হবে আদালতে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা। তাহলে বোঝা যাবে আমাদের মাননীয় আদালত কতটুকু নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ২:১৫

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: সেই কলেজের অধ্যক্ষ কি কারনে এটা করতে চেয়েছিলেন কে জানে। আমার ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম কেউ চাপিয়ে দেয় নি, চাপানোটা আমি পছন্দও করি না। তবে ভাল কাজে আমাকে অন্যরা উৎসাহিত করেছে এবং আমিও অন্যদের উৎসাহিত করে থাকি।


সব মন্দেরই একটা ভাল থাকে। এই রায়ের ভাল দিকটা হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি নিজের খামখেয়ালীকে অন্যের উপর চাপিয়ে দেবার জন্যে ধর্মকে টেনে আনার চেষ্টা করে তবে তা প্রতিহত করা হবে।

১৫| ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:০৭

আমি ও যাযাবর বলেছেন: @ নাজনীন আপু ..... বৈদেশে আপনার অবস্হা কেমন ? বোরকা পরতে পারেন তো ? নাকি জিন্স পছন্দ করেন বাইরে আর ঘরে .........

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:১২

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ব্যক্তি কেন্দ্রিক এসব কথা আমার ব্লগে না বললেই খুশী হই। আপনি চাইলে উনার ব্লগে উনাকে বলতে পারেন। আমার এখানে আমার পোস্টের প্রাসংগিকতা নষ্ট করবেন না প্লীজ।

১৬| ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:২৩

নাজনীন১ বলেছেন: @ আমি ও যাযাবর, দুঃখিত, আমি বাংলাদেশে থাকতেও বোরকা পরি নাই, তবে হিজাব পরেছি ভার্সিটিতে উঠে স্বেচ্ছায়, পরিবারের চাপে পড়ে নয়। আমি সরকারী স্কুল, কলেজে পড়েছি। সেখানে যদি আমাকে বোরকা পরতে বাধ্য করা হতো আমি পছন্দ করতাম না, কারণ, আমি তো মাদ্রাসায় পড়তে যাইনি!

আর আমি বড্ড সেকেলে, এখনো বিদেশে এসে সালোয়ার-কামিজের সাথে হিজাবই পরি। তবে প্রচন্ড ঠান্ডায় জিন্স-ক্যাডস তো পরা লাগেই। কেন? তাতে কি পর্দা করা যায় না? ;)

আর যে ভাবীরা বোরকা পরা পছন্দ করেন তারা বোরকা পরতে পারেন, চাইলে নেকাবও।

আর কিছু জানতে চান? ও হ্যাঁ, এখানে চাইলে মুসলিম মেয়েরা মসজিদে গিয়েও নামাজ পড়তে পারে।

১৬ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:১৩

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ;) ;)

১৭| ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:৪০

নাজনীন১ বলেছেন: @ লেখক, আপনি কি সংবিধানের সংশোধনী নিয়ে পি মুন্সীর এই চার পর্বের লেখাগুলো পড়েছিলেন? যদি না পড়ে থাকেন, তাহলে পড়ে দেখতে পারেন, কমেন্টসহ বিস্তারিত আলোচনা করা আছে সেখানে।

Click This Link

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:০০

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: লিংকের জন্য ধন্যবাদ। একটু উকি মারলাম। বিষয় কি ........... লেখাটি একটু জটিল। আমরা যারা একেবারে অজ্ঞ এ বিষয়ে তাদের পক্ষে মর্ম উদ্ধার কঠিন। তাও চেষ্টা করছি।

১৮| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১:৩৯

পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: আলোচনা ভালো লেগেছে, অনেক কিছুতেই হয়তো মতানৈক্য হয়নি, সেটুকু ভিন্নতা থাকবে বলেই মানুষ আলাদা হয়তো।

আপনিও ভালো থাকুন। আবার হয়তো কথা হবে।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ২:০২

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: শুভ কামনা আপনার প্রতি।

১৯| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:০২

রিডার ওয়ান বলেছেন:
আপনার এই পোস্টে আলোচনা গুলোও ভাল হয়েছে। নতুন কিছু ব্যপার জানতে পারলাম।

আমি যেটা বুঝি, তাত্বিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম বলতে বোঝায় যখন ধর্মীয় বিধানকে রাষ্ট্রের সংবিধান বা আইনকানুন এর উপরে স্থান দেয়া হয় অথবা রাষ্ট্রের যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ধর্মকে বিবেচনায় রেখে। এই ধরনের রাষ্ট্রের কিছু ধর্মীয় নেতা বা গোষ্ঠী থাকেন এবং তারাই দেশের যে কোন মৌলিক সমস্যার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেন। যেমন – পোপ অথবা ইরান, পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতারা যারা ফতোয়া দেয়ার আইনগত অধিকার রাখেন । উইকির সংজ্ঞাটাও এই অর্থই বোঝাচ্ছে।

রাষ্ট্রধর্মের কন্সেপ্ট অনেক পুরনো এবং এর অনেক রূপ আছে। যেমন – ভারত পাকিস্তান ভাগটা হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে, তাই তাদের সংবিধানে যাই থাকুক তাদের রাষ্ট্রধর্ম আছেই। যদিও ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ। (এর কারন খুব সম্ভবত তাদের অনেক ধরনের ধর্ম আছে। কোন একটিকে সবার উপরে স্থান দেয়া সম্ভব না। যদিও বাস্তবে তারা হিন্দু ধর্মকেই প্রমোট করে। হিন্দু ধর্মেও অনেক ভাগ আছে।) রাষ্ট্রধর্মের কন্সেপ্ট অর্থাৎ কোন একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকবে সেটা ইসলামের আগমনের সাথেই বাতিল হয়ে গেছে। আমি এটাই বুঝেছি।

ধর্মনিরপেক্ষতা কন্সেপ্টের শুরুটা হয়েছিল বোধহয় চার্চ বিরোধী মনোভাব থেকে। ইউরোপে একটা সময় ছিল যখন চার্চই দেশের সব সিদ্ধান্ত দিত। তাদের দুর্নীতির কারনে মানুষ রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্তি চাইল এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার উদ্ভব হল। তাই আমার মনে হয় ধর্ম নিরেপক্ষতার ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বটা চার্চের সাথেই। ধর্মহীনতা আরও জটিল ব্যপার !

ইসলাম সম্পর্কে এবং রাসূলের রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি তাতে আমার মনে হয় না কোন রাষ্ট্রধর্মের কন্সেপ্ট উনি প্রয়োগ করেছেন। ইসলামে রাষ্ট্রের যে দর্শন আছে তার সাথে এটা পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। ইসলামকে বলা হচ্ছে পূর্নাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, ধর্ম নয়। যেমন বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারে শিক্ষা বলতে শুধু ধর্মীয় শিক্ষার কথা বোঝায়। কিন্তু ইসলাম বলছে জ্ঞানঅর্জনের কথা এবং শিক্ষাকে বলা হচ্ছে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য অবশ্য কর্তব্য। রাসূলের মূল ফোকাস ছিল রাষ্ট্রের জনগনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং তাদেরকে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া, সংঘটিত করা। অর্থাৎ তার কাজের ফোকাস ছিল মানুষ, ধর্ম নয়।

যেসব রাষ্ট্র নিজেদের ইসলামিক রাষ্ট্র বলে দাবী করে, তারা আসলে অযৌক্তিক দাবী করে। আমার কমন সেন্স তাই বলছে। যেমন- ইরানে শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব, মুতাহ বিয়ে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর যারা মুসলিম রাষ্ট্র বলে কিন্তু ইসলামিক স্টেট নয়, তারা আসলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ যেমন- বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া। পাকিস্তানের কিছু অন্চলে আছে শরীয়াহ আইন, কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার ইসলামকে চরমভাবে পদদলিত করছে। আইনের প্রয়োগ এত সহজ ব্যপার না।

আসলে ইসলামে যা বলা হয়েছে তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে এসে হারিয়ে যাচ্ছে। সঠিক জ্ঞানচর্চা আর নেতৃত্বের অভাবেই এমনটা হচ্ছে। প্রকৃত ইসলামী মডেলের রাষ্ট্র একটাও নেই। কারন সেরকম হলে তা হত আদর্শ একটি রাষ্ট্র! বর্তমান বিশ্বে আদর্শ রাষ্ট্র কোনটা ?!?


আরেকটি ব্যপার । ৭২ এর সংবিধান নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা ঠিকই বলেছেন। আদালত সংবিধানে কোন সংশোধন করে নি, বরং একটি সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা দেয় নি। তাই সেই সরকারের করা সাংবিধান সংশোধনকেই বাতিল করেছে। তাই পুনমুদ্রন করলেই চলে। সেটাই সরকার করছে!

তবে আদালত সমস্যা করে ফেলেছে কিছু অংশ বাদ না দিয়ে। অর্থাৎ আদালতের উচিৎ ছিল পুরো সংশোধনীটি বাতিল করে দেয়া। তাহলে সঠিক হত এবং সরকার বর্তমান সময়ের সাথে সাংঘর্ষিক ব্যপারগুলো সংসদে সংশোধন করে নিতে পারত যেমন – বাকশাল! সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। তবে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য গনভোট করতে হয়। তাহলেই বোঝা যাবে মানুষ কি চায়। আফসোসের ব্যপার হচ্ছে মানুষ সবসময় সঠিক জিনিসটা চায় না !

আমাদের সংবিধান সংশোধনের কথা আসলেই ওঠে ঐ রাষ্ট্রধর্মের ব্যপারটা। সংবিধানে ধর্মের প্রসংগটা আসাই উচিৎ না। যেমন – সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার ব্যপারটা। এটা ত কেউ সংবিধান পড়ার সময় নিজের মত করেই বলে নিলেই পারে। আবার আল্লাহর উপর আস্থার ব্যপারটাও আছে। আল্লাহর উপর ত আস্থা রাখতেই হবে! সেটা আবার নতুন করে সংবিধানে বলে কলেবর বৃদ্ধির দরকারটা কি? এসব অপ্রয়োজনীয় প্রসংগ এনে সংবিধানকে কলুষিত করে একটা রাজনৈতিক ফায়দা লোটা হয়েছে। এই খানে আপনার প্রোফাইলে দেয়া একটি আয়াত প্রযোজ্য হতে পারে !

তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে ধন্য করেছ, তা মনে করো না।
বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন। (হুজুরাত:১৭)


ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের এই অন্চলের মানুষ ধর্মভীরু এবং ধর্মীয় রাজনীতি/দলাদলি থেকে দূরে থাকে। ৪৭ এর দেশ বিভাগে বাংলাদেশকে মানুষের ইচ্ছার বিপরীতে অনেকটা জোর করেই পাকিস্তানের সাথে দেয়া হয়েছিল!

মত বিভিন্ন হতে পারে কিন্তু সংবিধান নিয়ে সাধারন মানুষের জানা এবং আলোচনা করা উচিৎ।

মন্তব্যটা ঠিক গুছিয়ে লিখতে পারলাম না। আমি আসলে এই ব্যপারগুলো জানতে চাই। এখনও ভালভাবে জানি না। বাস্তব জীবন নিয়ে হিমশিম খাওয়া সাধারন মানুষের পক্ষে আসলে তাত্বিক বিষয় নিয়ে ভাবা কঠিন। এই দায়িত্বটা রাষ্ট্রের নেতাদের নেয়া উচিৎ! একটি আদর্শ রাষ্ট্রে তাই হয় !!


ধন্যবাদ । ভাল থাকবেন। পোস্ট পর্যবেক্ষনে থাকল।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৩:২২

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আপনি যথেষ্টই গুছিয়ে লিখেছেন। আমি একবার পড়েই মন্তব্যের মূল ভাব বুঝতে পেরেছি। আপনার কয়েকটি বিষয়ের উপর আমি কিছুটা নিজের মত দিচ্ছি।


"রাষ্ট্রধর্মের কন্সেপ্ট অর্থাৎ কোন একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকবে সেটা ইসলামের আগমনের সাথেই বাতিল হয়ে গেছে। আমি এটাই বুঝেছি।"

ধর্মীয় কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকাটা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামে বিচার বিভাগ সম্পূর্ন স্বাধীন এবং ইসলামের খলিফাদেরকেও আর দশজন সাধারনের মত বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। যেহেতু ইসলামের আইন মোটামুটি নির্ধারিত, তাই একনায়কদের মত খলিফারা নিজেদের বাচাতে ইচ্ছামত আইন করতে পারত না। ফলে দায়বদ্ধতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল।


"পাকিস্তানের কিছু অন্চলে আছে শরীয়াহ আইন, কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার ইসলামকে চরমভাবে পদদলিত করছে। আইনের প্রয়োগ এত সহজ ব্যপার না।

আসলে ইসলামে যা বলা হয়েছে তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে এসে হারিয়ে যাচ্ছে। সঠিক জ্ঞানচর্চা আর নেতৃত্বের অভাবেই এমনটা হচ্ছে। প্রকৃত ইসলামী মডেলের রাষ্ট্র একটাও নেই। কারন সেরকম হলে তা হত আদর্শ একটি রাষ্ট্র! বর্তমান বিশ্বে আদর্শ রাষ্ট্র কোনটা ?!?"




এটা ঠিক যে দেশে বিদেশে ইসলামী আইনের প্রয়োগ নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক উঠেছে। রাজনৈতিক ইসলাম মুসলিম বিশ্বে এখনও সফল হয় নি, বরং ব্যর্থতার পাল্লাই বেশী ভারী। এর কারন হিসেবে অনেক ফ্যাক্টর আলোচনায় আসতে পারে। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুতর যে বিষয়টি মনে হয়, তা হচ্ছে ইসলামের ইজতিহাদ বা গবেষনাকে নিরূৎসাহিত করা। যার ফলে ১৪০০ বছর আগের আইনকে শরিয়াবিদরা হুবহু সাধারন মানুষের উপরে চাপিয়ে দিতে চান। অথচ আইন তো হবে সে দেশের সমসাময়িক সামাজিক অবস্থা ও চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে। এই মৌলিক বিষয়টিকে অনেক ক্ষেত্রে আমলে আনা হয় না, যার ফলে সমস্যা থেকেই যায়।

আপনারা দেখবেন, বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইসলামিক দলগুলো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতি ধারন করে নামসর্বস্ব দল হিসেবে সাধারনের কাছে পরিচিত। এর কারন, এরা এক ধরনের কূপমন্ডুকতায় আক্রান্ত এবং নূতন কোন কিছুকে গ্রহন করতে চরম অনীহা। সাথে সাথে, চরম অসহিষ্ণুতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে এক দল অন্য দলকে রীতিমত কাফের পর্যন্ত দাবী করে থাকে। যার ফলে ইসলামী দলগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আম জনতার মাঝে শূন্যের পর্যায়ে নেমে গিয়েছে। এজন্য ইসলামী আইনকে বর্তমানের মানদন্ডে খাপ খাইয়ে নেবার বিষয়টি সফলতার মুখ দেখছে না।

"তবে আদালত সমস্যা করে ফেলেছে কিছু অংশ বাদ না দিয়ে। অর্থাৎ আদালতের উচিৎ ছিল পুরো সংশোধনীটি বাতিল করে দেয়া।"


আসলে পুরো বিষয়টি সাধারনের সামনে জগাখিচুড়ি হিসেবে চলে এসেছে। আমার মনে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তা হল আদালতের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা আসলে কতটুকু।

"সংবিধানে ধর্মের প্রসংগটা আসাই উচিৎ না। "


আমি এইখানে দ্বিমত রাখলাম। ধর্ম যেহেতু সমাজ জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়, তাই সংবিধান এ বিষয়ে আলোকপাত করতেই পারে। সেজন্যেই, আমেরিকার সংবিধানের "বিল অব রাইটস"এর প্রথম সংশোধনীতেই ধর্মের প্রসংগটি এসেছে।


"৪৭ এর দেশ বিভাগে বাংলাদেশকে মানুষের ইচ্ছার বিপরীতে অনেকটা জোর করেই পাকিস্তানের সাথে দেয়া হয়েছিল!"


এ বিষয়টা আমার মাথায় টাটকা নেই। তবে মনে হচ্ছে অন্যরকমই পড়েছিলাম। যেমন, সিলেট বিভাগকে এ অঞ্চলের অন্তর্গত করতে মওলানা ভাসানীর চেষ্টা ...................।

২০| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:১৪

নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: Click This Link

২০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:৫৯

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আপনার লেখাটি পড়লাম। মুক্তমনার লেখাটি সহ।

রাষ্ট্র ধর্ম কনসেপ্ট ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরোধী। রাষ্ট্র যখন সব ধর্মের বিষয়ে নিরপেক্ষ আচরন করবে, তখনই হবে তা ধর্ম নিরপেক্ষ। কিন্তু রাষ্ট্র যদি কোন ধর্মের প্রতি ঝুকে যায়, বা পক্ষপাত দেখায় - তবে সে রাষ্ট্র আর ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র নয়। যখন কোন ধর্মকে রাষ্ট্র ধর্ম করা হয়, তখন সে ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চলে আসে এবং রাষ্ট্র আর ধর্ম নিরপেক্ষ থাকেনা। সরকার কি করে এসবের মধ্যে সমন্বয় করবে - সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার লেখায় দেখলাম "সেক্যুলারিজম"কে সংজ্ঞায়িত করেছেন এই বলে যে "রাষ্ট্রকে ধর্মের বিষয়ে উদাসীন হয়ে যাওয়া।"

সেক্যুলারিজমে এটা সত্য বটে। কিন্তু ধর্ম নিরপেক্ষতা এই সেক্যুলারিজমের ১০০ ভাগ সমর্থিত নাও হতে পারে। ধর্ম নিরপেক্ষতা হচ্ছে "রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি", মানে ধর্মের প্রতি পক্ষপাতহীন আচরন। মুজিবের ভাষনে এই বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছিল।


নীচের লিংকটি দেখুন।

http://www.hardnewsmedia.com/2008/11/2414

একজন কলামিস্ট আহমেট কুরুর কথা হচ্ছে আমেরিকার সেক্যুলারিজম হল ধর্মের প্রতি পক্ষপাতহীনতা। অন্যদিকে ফ্রান্সের কিংবা তুরষ্কের সেক্যুলারিজম হল ধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক গন্ডি থেকে বের করে ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা। তিনি প্রথমটিকে "প্যাসিভ সেক্যুলারিজম" এবং পরেরটিকে "একটিভ সেক্যুলারিজম" টার্মে আখ্যায়িত করেছেন।


"In a paper titled Politics and Religion in Secular States, scholar Ahmet T Kuru states that the US embodies "passive secularism" which implies State neutrality towards religion. France and Turkey primarily practice ‘assertive secularism' which means that the State favours a secular worldview in the public sphere and confines religion to the private sphere. "

যতটুকু পড়েছি, তাতে বাংলাদেশের ধর্ম নিরপেক্ষতাতে "সব ধর্মের প্রতি পক্ষপাত হীনতা" বিষয়টি এসেছে, "প্রতিষ্ঠান থেকে ধর্মকে সরিয়ে দেয়া" বিষয়টি নয়।

২১| ২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৩৯

শিক্ষানবিস বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম আপাতত। সময় করে পড়ে নেব।

২০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:০৭

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

সময় করে পড়ার পরে পড়ার অনুধাবনটুকুও সময় করে বলে যাবেন আশা করি।

২২| ২১ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:৫০

নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: আপনার লেখায় দেখলাম "সেক্যুলারিজম"কে সংজ্ঞায়িত করেছেন এই বলে যে "রাষ্ট্রকে ধর্মের বিষয়ে উদাসীন হয়ে যাওয়া।"


কোথায় ?

২২ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৭:৫৩

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: লেখাটি পড়ে সেরকমই তো মনে হল। আমার অনুধাবনে কোথাও কি ভুল রয়েছে.............।

যে কারনে মনে হয়েছে:

আপনার কোট গুলো তুলে দিলাম:


"ড.অভিজিৎ রায় লিখেছেনঃ‘সেক্যুলারিজম’ শব্দটির অর্থ –‘সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা’ নয়, বরং এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে একটি মতবাদ, যা মনে করে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি থেকে ধর্মকে পৃথক রাখা উচিৎ।

আমেরিকান হেরিটেজ ডিকশনারীতে secularism শব্দটির সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে এভাবে -The view that religious considerations should be excluded from civil affairs or public education এ সংজ্ঞা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ধর্মকে রাষ্ট্রের কাজের সাথে জড়ানো যাবে না- এটাই সেক্যুলারিজমের মোদ্দা কথা।

ভারত তার জন্মলগ্ন থেকেই ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু সেক্যুলারিজমের প্রকৃত সংজ্ঞা অনুধাবণ করতে পেরেছিলেন অনেক ভালভাবে। তিনি রাষ্ট্রীয় কার্যাবলী থেকে ধর্মকে পৃথক রাখাই সঙ্গত মনে করতেন, জাতীয় জীবনে সব ধর্মের প্রতি উদাসীন থাকাটাই তার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হত। তিনি বলতেন -’ধর্ম বলতে যে ব্যাপার স্যাপারগুলোকে ভারতে কিংবা অন্যত্র বোঝানো হয়, তার ভয়াবহতা দেখে আমি শঙ্কিত এবং আমি সবসময়ই তা সোচ্চারে ঘোষণা করেছি। শুধু তাই নয়, আমার সবসময়ই মনে হয়েছে এ জঞ্জাল সাফ করে ফেলাই ভাল। প্রায় সব ক্ষেত্রেই ধর্ম দাঁড়ায় ধর্মান্ধতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা, মূঢ়তা, কুসংস্কার আর বিশেষ মহলের ইচ্ছার প্রতিভূ হিসেবে।’"

২৪ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১০:৩৮

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আপনার "ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার" লেখাটি এই টপিকের সাথে প্রাসংগিক মনে হওয়ায় উপরে লিংক হিসেবে দিয়ে দিলাম। যেহেতু ধর্ম নিরপেক্ষতা এই মুহুর্তে আলোচিত একটি বিষয়, তাই রিলেটেড কিছু পোস্টের লিংক এখানে রাখাটা সমীচীন মনে হল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.