নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মনের কথা কালিতে

আহ্‌মদ ইর্তিজা

লিখা একটা স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। সৃজনশীল কিছু লিখার জন্য টেবিলে বসে কলম চিবুতে হয়না। জীবনের প্রতিদিনই একেকটা গল্প যারা জমাট বেঁধে পরিণত হয় একটা উপন্যাসে। আর সমগ্র জীবনের সকল হাসি কান্না, সাফল্য ব্যর্থতা মিলে জন্ম নেয় একটা মহাকাব্য।

আহ্‌মদ ইর্তিজা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কর্মজীবী নারীর নিষ্ঠা-স্বপ্ন আর সফি সাহেবের যেনাকারিদের গল্প

২৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ২:১০

ইফতারের পর আব্বুর সাথে গিয়েছিলাম ইস্টার্ন মল্লিকাতে। হটাৎ দুজনেরই লাচ্ছি খাওয়ার ইচ্ছা হল। গেলাম ফুড কোর্টগুলাতে। একটা দোকান থেকে একটা ছেলে খুব ডাকাডাকি করলো, তাই সেখানেই বসলাম। দেখা গেলো, দোকানটা চালাচ্ছেন তিনজন মেয়ে, আর ছোট ছেলেটার কাজ ডাকাডাকি করা। একজন এসে লাচ্ছি দিয়ে গেলো। আব্বুর একটু কৌতূহল হচ্ছিল তাই জিজ্ঞেস করলো দোকানটা তাদের কিনা।

জবাবে একটা অসাধারণ কাহিনী জানা গেলো। মেয়ে তিনটে তিন বোন। তারা মালিবাগে থাকতেন। অল্প বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর দুই বোন আর এক ভাইকে নিয়ে বড় বোন অকূল পাথারে পড়লেন। সঞ্চিত কিছু অর্থ দিয়ে শাহবাগে একটা ছোট দোকান খুললেন তিনি। তারপর পসার বেড়েছে, এখন শাহবাগ আর এলিফেন্ট রোদে মোট তিনটে দোকানের মালিকানা তাঁর। তাঁর দুই বোনের একজন ইন্টার দিবে, আরেকজন ইসলামি ইউনিভার্সিটিতে ল পড়ছে, ছোট ভাইটি এইচএসসি দিয়েছে, রমজানে ব্যস্ততা বেশি তাই তারা বড় বোনকে সাহায্য করতে এসেছে। বড়বোনের বয়স ২৬-২৭ এর বেশি হবে না, এই বয়সেই শূন্য থেকে শুধুমাত্র মনোবল আর পরিশ্রমের মাধ্যমে এতটুকু এসেছেন, তিন ভাইবোনের পড়াশুনা করাচ্ছেন। আমাকে জানালেন, তাঁর স্বপ্ন হচ্ছে, এককোটি টাকা জমাতে পারলে একটা ফিক্স ডিপোজিট খুলবেন যাতে বাকি জীবনে আর সংগ্রাম করতে না হয়। কাজ শিখার জন্য এই বছর জাপানে যাবেন, দুয়া চাইলেন।


এক আশ্চর্য ভাললাগা আর তিক্ততায় মন ভরে গেলো। একা একটা মেয়ে এইভাবে নিজ যোগ্যতায় এতটুকু আসতে পারে, কোটি টাকার স্বপ্ন লালন করতে পারে আর সেই দেশে এক আলেম বলেন যেসব মেয়েরা চাকরি করে, কাজ করে টাকা উপার্জন করেন, তারা নাকি যেনা করে টাকা উপার্জন করছেন।শফি সাহেব, আপনি পীর মৌলানা মানুষ, যত না জানেন তার চেয়ে অনেক বেশি জানিয়ে মানুষের কাছ থেকে কলাটা, মূলাটা, সরকারের কাছ থেকে হেলিকাপ্টার বাগিয়ে নানা ভড়ং করে যাচ্ছেন। এইসব মা বোনদের স্বীকৃতি আপনি দিবেন না, বুঝবেনও না। ইসলামের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক মহীয়সী হযরত খাদিজা (র) একজন প্রখ্যাত বনিক ছিলেন, আমাদের নবী হযরত রাসুল্লাহ (সঃ) তাঁর অধীনে চাকরি করতেন, আর আপনি কর্মজীবী নারীদেরকে এককথায় যেনাকারি বানিয়ে দিয়েছেন (নাউজুবিল্লাহ)। আপনার কিভাবে এখনো ইসলামচ্যুত মুরতাদ হননি বড় জানতে ইচ্ছা করে।

**শফিভক্ত কেউ এসে সাফাই দেওয়ার আগে অনুরোধ করবো, আগে উনার তেঁতুল সমৃদ্ধ ওয়াজটা পুরোটা দেখে নিতে, অনেকে আমাকে ইতোমধ্যে মনগড়া নানা যুক্তি শুনিয়েছে কিন্তু মজার ব্যাপার, তারা কেউ ওয়াজটা শুনে নাই**

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ২:২৪

কসমিক রোহান বলেছেন: আল-কুরআন এবং হাদীস এর আলোকেই তিনি (আল্লামা শফী) তার বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের আল-কুরআন এবং হদীসকে জানতে হবে রুট লেভেল থেকে বিশুদ্ধভাবে, অতপর নিজেই বুঝতে পারবেন ইনশা আল্লাহ্‌।
ইসলাম কে গোড়া বা রুট লেভেল থেকেজানতে হবে, মাঝখান থেকে ইসলাম কে বোঝা যাবেনা।
আলিফ , বা , তা, ছা থেকে শুরু করা যেতে পারে, বুঝতে পারবেন।
মাঝখান থেকে বুঝা যাবেনা কিছুই।
ইসলাম কে শিখতে হবে এমন কারো কাছে থেকে যার ইসলামী ইলম এসেছে উর্দ্ধক্রমে স্বয়ং রাসুলাল্লাহ (সাঃ) কাছ থেকে।
আপনি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে যেতে পারেন। একদম রুট লেভেল থেকেশিখতে পারবেন।
অন্যথায় একজন আলেম এর কাছে যান, যিনি রুট থেকে ইসলাম জেনেছেন।
আমরা যারা জেনারেল সাবজেক্ট এর স্টুডেন্ট তাদের মেন্টালিক সেটাপ এবং লজিক তৈরী হয়েছে আলাদাভাবে যা আমাদেরকে আমাদের নিজেদের পছন্দমত লজিক গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। আমাদের সুবিধা অনুযায়ী লজিক আমরা মানি।
কোন কিছুর উপর ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে অনুমান করে লজিক স্থাপন করলে সেটা অধিকাংশ সময়েই ভুল হয়।
একটা ছোট্ট ভুলেই অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে।
তাই সাবধানী থাকা শ্রেয়।

২| ২৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ২:৩০

এস আর সজল বলেছেন: @কসমিক রোহান : কোরআন ও হাদিসের কোন আলোকে শফি এই ধরণের বক্তব্য দিছে বলবেন কি দোয়া করে। জানালে উপকার হয়। বিনীত।


"আপনার মেয়েকে কেন দিচ্ছেন গার্মেন্টসে কাজ করার জন্য? চাকরি তো অনেক করতেসেন। আপনি নিজে করতেসেন, আপনার বউ করতেসে,মেয়েরা করতেসে। কিন্তু কুলাইতে তো পারতেসেন না। খালি অভাব আর অভাব। আগের যুগে রোজগার করত একজন, স্বামী। সবাই মিইলা খাইত। এখন বরকত নাই। সবাই মিইলা এতো টাকা কামাইয়াও তো কুলাইতে পারতেসেন না। গার্মেন্টসে কেন দিচ্ছেন আপনার মেয়েকে? সকাল ৭/৮ টায় যায়, রাত ১০/১২ টায়ও আসেনা। কোন পুরুষের সাথে ঘোরাফেরা করে তুমি তো জান না। কতজনের সাথে মত্তলা হচ্ছে আপনার মেয়ে তা তো জানেন না। জেনা কইরা টাকা কামাই করতেসে, বরকত থাকবে কেমনে?"

৩| ২৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ২:৩০

আহ্‌মদ ইর্তিজা বলেছেন: আপনার মুল্যবান বক্তব্য সফি সাহেবের বক্তব্যের কোন ব্যাখা দিল না। আর এখানে ভাষা জ্ঞানের কথা আসলে, আপনার ওয়াজটা ভাল করে দেখা উচিত। একজন প্রকৃত ইমানদার অনুমানের উপর কোন ব্যাখ্যা ছাড়া বক্তব্য দেন না, কিন্তু উক্ত ওয়াজে কিছু রঙ তামাশার কথা ছাড়া গঠনমূলক এলেমদার কোন কথা আমি শুনতে পাইনি, দুঃখিত

৪| ২৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ২:৩২

এস আর সজল বলেছেন: দুঃখিত। উপরের শব্দটা "দোয়া" না হয়ে "দয়া" হবে। ধন্যবাদ।

৫| ২৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ২:৫৪

অপ্রিয় সত্য বলেছেন: এইসব হুজুররা সরকারী খায় আর মসজিদে আজান দেয়, তাদের পক্ষে বাস্তবতা বুঝা সম্ভব নয়।

৬| ২৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ৩:৫৭

পুকুরপাড় বলেছেন: @কসমিক রোহান, শফি যা বলেছে তা কোরান হাদীসের বিপরিত । সুরা নহলের ১২৫ নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক বলেন , " আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে। "
আর হাদীস শরিফে অশ্লীল অশালীন কথা বলতে নিষেধ করা আছে । তাহলে আপনি কই পাইলেন শফি কোরান হাদীস মতে কথা কইছে ?

৭| ২৯ শে জুলাই, ২০১৩ ভোর ৪:৩৯

তারেক বলেছেন: @এস আর সজল - জেনার বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। জেনার সর্বশেষ পর্যায় হচ্ছে অবৈধ ভাবে নারী-পুরুষের শারীরিক মিলন।এখন কোন পুরুষ বা মেয়ে যদি গায়ের মাহরাম কোন নারী বা পুরুষের হাত ধরে আধুনিকতার দিক থেকে ইহা কোন অপরাধ না ,কিন্তু ইসলামের দিক থেকে ইহা একটি গোনাহ এবং তখন সেটা হয়ে যায় হাতের জেনা।তেমনি ভাবে চোখের ,পায়ের ,দিলেন জেনাও রয়েছে। র্গামেন্টসের যে লাখ লাখ মেয়েরা রয়েছে তাদের মধ্যে ৯৮ % পর্দা করেনা। তাদের মধ্যে পর্দা হয়ে থাকে , উপোরোক্ত গোনাহ সমূহও কম-বেশী হয়ে থাকে। আল্লামা শফী সাহেব সে দিকেই দৃষ্টি পাত করেছেন।

তাছাড়া ইসলামে যেকোন মেয়ে পর্দা(আল্লাহর হুকুম) মেনে যে কোন শরীয়ত সম্মত কাজ করতে পারবে। গার্মেন্টসের মেয়েরা যদি পর্দা করে চাকরি করে তাহলে চাকরিও করা হলো আবার আল্লাহর হুকুমও পালন করা হলো।

ইসলামের সাথে মেয়েদের চাকরি করার কোন সংঘর্ষ নেই। ইসলামের সাথে সংঘর্ষ হচ্ছে বেপর্দা হয়ে মেয়েদের চাকরি করা।মাওলানা শফী এটাই বোঝাতে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা যারা বেশী বুঝি তারা আবার কোরআনের ব্যাখ্যাকে উল্টা বুঝি।
উদাহরন: গার্মেন্টসেই অনেক মেয়ে আছে যারা পর্দা করে চাকরি করছে। এতে ইসলামের কোন বাধা নেই।

ইসলামে নারী শিক্ষার প্রতি কোন বাধা নেই।তাহলে প্রশ্ন জাগে হুজুররা কেন মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে এক কথা বলেন? তার কারন ঐ একটাই: পর্দা, আল্লাহর হুকুম। স্কুল,কলেজ বিশেষ করে ইউনির্ভাসিটি গুলোতে মেয়েদের পর্দা যে অবস্থা সেটার প্রতি লক্ষ করেই হুজুররা নারী শিক্ষার বিরোধিতা করে।

কিন্তু প্রকৃত কথা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে ইসলামে কোন বাধা নেই। কিন্তু তা করতে হবে আল্লাহর হুকুম মেনে।


উদাহরন। ঢাকসহ সারা বাংলাদেশে কয়েক হাজার মহিলা মাদ্রাসা আছে যেখানে কয়েক হাজার মেয়ে পড়াশুনা করছে এবং এসব মহিলা মাদ্রাসায় বেশীর ভাগই শিক্ষক হচ্ছেন মহিলা। এটা নারী শিক্ষা ও নারীদের চাকরি করার ব্যাপারে ইসলামের কোন সমস্যা নাই তার একটা প্রকৃষ্ট উদাহরন।

৮| ২৯ শে জুলাই, ২০১৩ ভোর ৪:৪০

আমিই মিসিরআলি বলেছেন: আপনার লেখাটা অনেক ভালো লাগলো +++

প্রয়াত তারেক মাসুদের ''মাটির ময়না'' সিনেমার একটা গানে বলেছিল
''কোরান-হাদীস বুঝতে কিছু জ্ঞানের প্রয়োজন
দুই পাতা সিপারা পইরা বুঝবে কি মদন
নিজেরাই বোঝে না অন্যরে বুঝায়
সব লোকেরে ভুল বুঝাইয়া কাঠমোল্লারা খায়
''

শফি'র মত কাঠমোল্লা ফতোয়াবাজ দের অভাব নাই এই দেশে X( X((

৯| ৩০ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১২:৫৫

এস আর সজল বলেছেন: @্তারেক র্গামেন্টসের যে লাখ লাখ মেয়েরা রয়েছে তাদের মধ্যে ৯৮ % পর্দা করেনা।

১. এই জিনিস আপনি পাইছেন কই আমাকে দয়া করে বলবেন????
২. আপনার পরিবারের কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের কেউ কি আছে গার্মেন্টসে কাজ করে?
৩.আর শফি সামগ্রিকভাবে বলেছেন, কোন বিশেষ দিক নিয়ে বলেন নি। আপনাকে বক্তৃতাটা শোনার জন্য অনুরোধ করলাম।
৪. শফি বলেছেন ক্লাস ৫এর বেশি পড়াশুনা করার সরকার নাই। এটাকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
৫. "পর্দা"-ই কি একমাত্র শালীনতা? সাধারণ পোশাক পরিচ্ছদে কি কেউ শালীন থাকতে পারে না? আর কারো মানা-নামানার নিজস্ব স্বাধীনতা কি থাকতে পারে না? (আমি জানার জন্য প্রশ্ন করলাম। আশা করবো এটা নিয়ে প্যাচাবেন না। সুন্দর আলোচনা কাম্য।) ধন্যবাদ। বিনীত।

১০| ০১ লা আগস্ট, ২০১৩ ভোর ৫:৪৯

কসমিক রোহান বলেছেন: আমি সবাইকে একটা কথাই বলবো যদি মুসল্মান হয়ে থাকেন তবে আরো ভালমতো ইসলামকে জানুন।
আমার পূর্বের কমেন্ট টা আবার পড়ুন।

আমি যতটুকু জেনেছি প্রমান দেখেই যেনেছি। তাই বলে আমি প্রমাণকারী নই এই যোগ্যতা আমার নেই। একজন হাক্কানী আলেম এর কাছে যান তিনি প্রমাণ করে দেবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.