| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আহ্মদ ইর্তিজা
লিখা একটা স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। সৃজনশীল কিছু লিখার জন্য টেবিলে বসে কলম চিবুতে হয়না। জীবনের প্রতিদিনই একেকটা গল্প যারা জমাট বেঁধে পরিণত হয় একটা উপন্যাসে। আর সমগ্র জীবনের সকল হাসি কান্না, সাফল্য ব্যর্থতা মিলে জন্ম নেয় একটা মহাকাব্য।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল সম্বন্ধে বেশীর ভাগ মানুষই যা জানেন না তা হচ্ছে, স্যার একজন অসাধারণ লেখক হতে পারেন, তাঁর লিখা পড়ে সকলে রোমাঞ্চিত হতে পারেন, কিন্তু শিক্ষক হিসেবে তাঁর মত কাঠখোট্টা চরিত্র খুব কমই আছে।
স্যারের একটা সমস্যা হল তিনি ক্লাসের শেডিউল মনে রাখতে পারেন না। ইয়াসমিন ম্যাডাম (স্যারের সহধর্মিনি) সবসময় স্যারকে পথ দেখিয়ে ক্লাসে নিয়ে আসেন। ক্লাসে ঢুকেই স্যার দরজাটা একটু টেনে দেন। আমরা সারা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই এবং স্যার তাঁর শিক্ষকমূর্তি ধারন করেন।
স্যার আমাদের যে কোর্সটি পড়াতেন তাঁর নাম এলিমেন্টারি কুয়ান্টাম থিওরি। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। স্যার প্রথমদিন ক্লাসে এসেই ব্ল্যাকবোর্ডে খস খস করে একটা কটমটে সমীকরণ লিখলেন। এটা ছিল বিখ্যাত শ্রডিঙ্গার ইকুয়েশন। স্যার বললেন, “আমার এই কোর্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে এই ইকুয়েশন। তোমরা যাতে এটা ভুলতে না পার তাই আমি প্রতিদিন তোমাদের সামনে এটা একবার করে লিখব”। হয়েছিলও তাই। কোর্সের শেষদিন পর্যন্ত স্যার সমীকরণটা লিখতে বিলম্ব করেন নি।
স্যার ক্লাসে মাঝে মাঝে রেগে যেতেন। উনি বোর্ডে লিখতেন আর পড়াতেন আর আমরা অনেকে হাঁ করে বসে থাকতাম। একদিন পড়া শেষে স্যার জিগ্যেস করলেন কারো কোন প্রশ্ন আছে কিনা। আমরা কেউ কোন জবাব দিলাম না। স্যার এবার জিগ্যেস করলেন আমরা কি সব বুঝে গিয়েছি নাকি কিছুই বুঝি নাই। আমরা এবারও কোন জবাব দিলাম না। স্যার এবার রেগে-মেগে বললেন, এমন সহজ বিষয় বুঝতে না পারলে আসলে স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের পড়াশুনা আমাদের জন্য না!
ক্লাস টেস্টও কম ঝকমারি না। একদিন হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন পরীক্ষা দাও। আমরা সবাই বজ্রাহতের মত উত্তর করার চেষ্টা করলাম। পরীক্ষা শেষে স্যার বললেন, “ঘাবড়ানোর কিছু নাই তোমরা সবাই দশে দশ পেয়েছ, যাও খাতার উপর দশে দশ লিখে দাও”। আমরা তো হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম।
তবে স্যারের ক্লাসে মজাও কম হত না। ইয়াসমিন ম্যাডাম সবসময় ক্লাসের পেছনে বসে থাকতেন। মাঝে মাঝেই নানা ব্যপারে তাদের দুজনের মাঝে বচসা হয়ে যেত, সেটা আসলেই দেখার মত দৃশ্য হত! ম্যাডাম বকে যাচ্ছেন আর স্যার মাঝে মাঝে দুই এক কথার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আমরা হাসতে হাসতে শেষ!
জাফর স্যারের গুনমুগ্ধের অভাব নাই। আমার মতে তাঁর নিন্দুকের সংখ্যাও আশাতীত রকমের বেশী। কিন্তু কেউ একটা জিনিস বুঝতে চায় না, তিনি কোন দেবতা নন যে তাঁকে দেবজ্ঞানে পূজা করতে হবে, তিনি কিছু ভুল করলে মাতম ফেলতে হবে। ভালো-খারাপ সবকিছু মিলেই তো মানুষ। আর তিনিও একজন মানুষ, একজন মেধাবী বিজ্ঞানী, একজন অসাধারণ লেখক, একজন ভীতিকর শিক্ষক।
২০ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩১
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: স্যারের সারপ্রাইজ ক্লাসটেস্ট কয়েকটাতে অংশ নিলেই বুঝবেন কেন ভীতিকর ![]()
২|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:০৬
শান্তির দেবদূত বলেছেন: ভাল লেগেছে, স্যারের সম্মন্ধে নতুন কিছু জানলাম। আর স্যারেরা মাঝেমাঝে না রাগলে ত্যান্দর পুলাপাইন ঠিক থাকে না
। আহারে শ্রডিঙ্গার ইকুয়েশন ! ভীতিকর একটা ব্যাপার স্যাপার ছিল
৩|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৫
দাকুড়াল বলেছেন: জ্বী আপানার স্যার অনেক কিছুই মনে রাখতে পারেন না। যারা ওনার মাকে রক্ষীবাহিনী দিয়ে রাইফেল ঠেকিয়ে ঘর থেকে উচ্ছেদ করলেন, আজকে উনি তাদের চামচামী করেন।একটু লজ্জাও করে না।সব ভুলে গেছেন।
উনিই আসল মনভুলা বিজ্ঞানী।
২০ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩২
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: জবাব দিতে পারলাম না, নাম দেখেই ভয় পেয়েছি !
৪|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:৪১
ডি মুন বলেছেন: ভালো-খারাপ সবকিছু মিলেই তো মানুষ। আর তিনিও একজন মানুষ, একজন মেধাবী বিজ্ঞানী, একজন অসাধারণ লেখক, একজন ভীতিকর শিক্ষক।
লেখা ভালো লাগলো। ধন্যবাদ
৫|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৮
মুদ্দাকির বলেছেন: জেনে ভালো লাগল +++
৬|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৩
rakibmbstu বলেছেন: ++++++
৭|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৬
উদ্ভাসিত বলেছেন: দাকুড়াল ইতিহাসের পাঠ কি বালের কল্লায় নিয়েছ? তোমার আসল পিতা ফোনসেক্স সাইদি যে সারের বাবাকে পাইক্কাদের হাতে তুলে দিয়েছিল সেই ইতিহাস বোধহয় তোমার পিতা তোমাকে বলে যাইতে পারেন নাই, বদলে নিজের চটি বইয়ের গল্প শুনায়ে দিসে। অবশ্য স্বাধীনতার পর আইডেন্টিটি চেঞ্জ করে যৌনবটিকা বিক্রিতে এতই ব্যাস্ত ছিল তোমার পিতা যে বলার সময় ছিল না। তোমার বালের কল্লার ইতিহাস গিয়া সাথি ছাগুদের বল, পপুলারিটি পাবা ছাগসমাজে।
২০ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৮
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: ভাই বাদ দেন ![]()
৮|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৮:০২
Eisenheim বলেছেন: সবসময় আমরা সাহিত্যিক বা কলামিস্ট হিসেবেই জাফর ইকবাল স্যারকে দেখি, কিন্তু উনার শিক্ষক মূর্তির সাথে পরিচয় হয়নি আগে কখনো। লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো ++
তারপর..খবর কি তোমার? আছো কেমন?
২০ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১০:২৪
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: গরিবের আর থাকা, আছি কোনরকম ভাই ![]()
আবার স্টার্ট দিলাম ব্লগিং
৯|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১০:০৫
এফ রহমান বলেছেন: বোঝা গেলো আপনার লেভেল। কুয়ান্টাম একোয়েশান, শ্রডিংগার এগুলো কি কোন সাইন্সের ছাত্র উচ্চারণ করে! কোয়ান্টাম , ইকোয়েশান , স্রডিঞ্জার ।
২০ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১০:২৮
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: উচ্চারন শ্রডিঙ্গার (জার্মান) হবে। কুয়ান্টাম বলাতে কোন সমস্যা নেই। আর ইকুয়েশনকে সরাসরি বানান করে লিখলে এরকমই আসে, এখানে লেভেলের কোন প্রশ্ন আসে না। ভাগ্য ভাল আপনি শেডিউল উচ্চারণে ভুল ধরেন নাই। ভালো লাগলো এফ (?) ভায়া।
১০|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:৪৪
প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: ভাল লাগল অন্যরূপের জাফর ইকবালের গল্প শুনে।
১১|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১২:০৭
হলুদ ফুল বলেছেন: :'( abeg re abeg . shob sir e best .tader vul jay na :-)
১২|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১২:৩৮
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন: পড়ে ভালো লাগলো ইর্তিজা ।
১৩|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১:৫৬
দাকুড়াল বলেছেন: আহ্মদ ইর্তিজা , আই ডি দেখে ভয় পাবেন না।আমি দাকুড়াল বলতে যুক্তির দাকুড়াল বুঝিয়েছি।বাস্তবে না।বাস্তবে আমি খুব নিরীহ গোবেচার টাইপ লোক। তবে অনুরোধ আপনার স্যারের ভাই প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের দেয়াল বইটার ৯৪ নম্বর পাতা পড়ে কমেন্ট করুন। সঙ্গে ডাউনলোড লিঙ্কও দিয়ে দিলাম।
আর উদ্ভাসিত কমেন্টের কোনো জবাব হয় না। আমি মুর্খের সাথে তর্ক করি না। ও যদি হুমায়ুন আহমেদের বইকে চটি বলে, তাহলে ওর জন্মই চটিপাড়ায়। ও একটা খাটী ……
Click This Link
২১ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:৩৯
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: ভাইয়া আমি আসলে জাফর স্যারের রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা মতবাদ নিয়ে কিছু বলি নাই। সবার কাছে তিনি একজন আইকনিক পার্সোনালিটি কিন্তু আমাদের কাছে তিনি একজন শিক্ষক, এই ব্যপারটাই তুলে ধরতে চেয়েছিলাম ![]()
১৪|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:০৯
মাটি আমার মা বলেছেন: একজন শিক্ষকের রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একজন ছাত্রের কাছে তার শিক্ষক অবশ্যই সন্মানের। আমি নিজে তার লেখার ভক্ত ছিলাম, নিজ সন্তানকে তার বই উপহার দিতাম কিন্তু এখন দেই না, তার একান্ত ব্যাক্তিগত জীবনের একটা ব্যাপার জানার পর। তারপরও তাঁকে দেশের সম্পদই মনে করি।
১৫|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:১৩
দাকুড়াল বলেছেন: রাজনৈতিক কমেন্ট করার জন্য সর্যি। শিক্ষক হিসাবে আমিও তাকে কিছু বলি নাই।কারন শিক্ষক যেই হোক না কেন তিনি সন্মানীয়। কিন্তু শিক্ষকতার সুযোগে উনি যা করতেছেন, সেসব নিন্দনীয়।আমার কথা হল, ওনার বাবার হত্যাকারী রাজাকারদের ফাসী ওনার মত যেমন চাই, ঠিক তেমনি চাই যারা ওনার মাকে রক্ষীবাহিনী দিয়ে রাইফেল ঠেকিয়ে ঘর থেকে উচ্ছেদ করলেন তাদের ব্যাপারেও উনি কিছু বলুক। আমার কষ্ট, উনি এসব ভুলে গেলেন?
আমরা তখন থাকি বাবর রোডের একটি পরিত্যাক্ত বাড়ির একতলায়। সরকার শহীদ পরিবার হিসাবে আমার মাকে সেখানে বাস করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
এই নিয়ে লঙ্কাকান্ড। এক রাতে রক্ষীবাহিনী এসে বাড়ি ঘেরাও করলো। তাদের দাবি- এই বাড়ি তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রক্ষীবাহিনীর র্কমকর্তা এখানে থাকবেন। মা শহীদ পরিবার হিসাবে বাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার চিঠি দেখালেন। সেই চিঠি তারা মায়ের মুখের ওপর ছুঁড়ে ফেলল। এরপর শুরু হলো তান্ডব। লেপ-তোষক, বইপত্র, রান্নার হাড়িকুড়ি তারা রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলতে শুরু করলো।
রক্ষীবাহিনীর একজন এসে মায়ের মাথার ওপর রাইফেল তাক করে বলল, এই মুহূর্তে বাড়ি ছেড়ে বের হন, নইলে গুলি করবো।
মা বললেন, গুলি করতে চাইলে গুলি করুন। আমি বাড়ি ছাড়বো না। এত রাতে ছেলে মেয়ে নিয়ে আমি কোথায় যাবো?
আমার ছোট ভাই জাফর ইকবাল তখন মায়ের হাত ধরে তাঁকে রাস্তায় নিয়ে এল। কী আশ্চর্য দৃশ্য! নরদমার পাশে অভুক্ত একটি পরিবার বসে আছে। সেই রাতেই রক্ষীবাহিনীর একজন সুবেদার মেজর ঐ বাড়ির একতলায় দাখিল হলেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে উঠে পড়লেন।
হুমায়ুন আহমেদের দেয়াল উপন্যাসের ৯৩ নম্বর পাতা।
Click This Link
২১ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:১১
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: আসলে এই ঘটনার বর্ণনা স্যারের রঙিন চশমা বইটাতেও আছে, তিনি ভুলেন নাই। ![]()
১৬|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৪
বোকামানুষ বলেছেন: ভাল লাগলো নতুন কিছু জেনে
১৭|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:৪২
দাকুড়াল বলেছেন: তিনি তো কলাম লিখে ভাসিয়ে ফেলছেন সরকারের চামচামি করে,কিনতু কোনদিন লিখলেন না,রক্ষীবাহিনী ওনাদের এভাবে..... দিয়েছেন।
২১ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৪
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: উনি লিখেছেন। ভালোভাবেই লিখেছেন ![]()
আপনি দয়া করে রঙিন চশমা বইটি সংগ্রহ করুন।
১৮|
২১ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১৭
হাসান মাহবুব বলেছেন: ভালো লাগো জেনে।
১৯|
২৪ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১২:৩৫
Eisenheim বলেছেন: কমেন্ট রিপ্লাইয়ের সূত্র ধরে আবার তোমার পোস্টে ঢু মেরে গেলাম। উপরি পাওনা হিসেবে কিছু বিনোদনের আশা করেছিলাম
এবং বিনোদন পেয়েছি
ভালো থাকো
২৪ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:০৮
আহ্মদ ইর্তিজা বলেছেন: বিনোদন হবেই, বিতর্কিত মানুষ তো!
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:৫৮
সোহানী বলেছেন: তিনিও একজন মানুষ, একজন মেধাবী বিজ্ঞানী, একজন অসাধারণ লেখক, একজন ভীতিকর শিক্ষক !!!! ভীতিকর কেন ???
তবে উনি অবশ্যই সন্মানের দাবীদার কারন ব্যাক্তি স্বার্থ বা ভোগ বিলাসের উর্ধে সবসময় কিছু করার চেস্টা করেন ।
স্যারকে স্যালুট আর আপনাকে ++++