নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অজানা পথের সন্ধানে

I will CHOOSE the TRUTH I BELIEVE . . . .

ইব্রাহীম আহমেদ

সাধারণের মাঝে অতি সাধারন “The difficulty of literature is not to write, but to write what you mean; not to affect your reader, but to affect him precisely as you wish.”

ইব্রাহীম আহমেদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

নেমেসিস _ পাঠকের ভাবনা

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৯

নেমেসিস । মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন তো অনুবাদক থেকে থ্রিলার লেখক হয়ে উঠলেন ।



বাতিঘরের অনুবাদ সব সময় অন্যরকম । যেন মৌলিক উপন্যাস । আর নাজিম উদ্দিনের কল্যানে সেগুলো হয়ে ওঠে অনন্য । তাই , নেমেসিস , যদিও অনুবাদ মনে করেই কেনা , মৌলিক জানতে পেরে আর তর সইল না ।



দেশীয় পটভূমিতে , তার উপর প্রথম মৌলিক থ্রিলার হিসেবে বইটি অসাধারন । থ্রিলার হিসেবে সব যোগ্যতাই পূরন করেছে – নির্দিধায় বলাই যায় ।



বইটিতে ড্যান ব্রাউনের প্রভাব লক্ষ্যনীয় । আর সব ব্রাউন বইয়ের মত শুরুতেই মৃত্যু দৃশ্য । একজন ভাড়াটে, কিন্তু প্রফেসনাল খুনী – যার পেছনে কল কাঠি নাড়ছে অন্য কোন শক্তি । মাঝে মাঝে খুনীকে অল্প-স্বল্প দেখানো । আসলে বইটিকে ড্যান ব্রাউনের কোন উপন্যাসের অনুবাদ বলে চালানো যেত –শুধু অভাব একটাই , নেই কোন সাংকেতিক খেলা , কোন কোড ব্রেকিং অথবা দুনিয়া জুড়ে বিতর্কিত কোন বিষয় ।



বিতর্ক নেই- এই কথাটা একেবারে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না । যে লেখক খুন হলেন – তিনি যেন বাস্তবের কোন চরিত্র ! এতটা মিলে না রাখলেও মন হয় হত । নিজের মেয়ের বান্ধবীকে বিয়ে , প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাদ , অভিযোগ – এমন কি নামটাও এত কাছাকাছি ! আর লেখকের যে জনপ্রিয় চরিত্রের কথাটা বলা হয়েছে , [সব সময় এক পোশাকে থাকা – পথে পথে ঘুরে বেড়ান – আলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী – কারো জীবনের বিশাল সমস্যা দূর করে উধাও হয়ে যাওয়া ] – নিশ্চিত করেই বলা যায় , একটা বাচ্চা ছেলেও বলতে পারবে লেখকটি কে ।



উপন্যাসের মাঝে একটু খেই হারিয়ে ফেলছে বলে মনে হচ্ছিল । ফিনিশিং ভাল ; কিন্তু কেন জানি মনে হচ্ছিল – শেষটা এমনই হবে । থ্রিলার গল্পের শেষ চমকটা যেন থাকল না । হোমসের কিছু গল্পে [আমার ঠিক নাম মনে হচ্ছে না , কিন্তু একাধিক কেসে এটি ঘটে ] , রহস্য উদ্ধারের পরে অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় নি । কারন ছিল হোমসের আইনের বিচারের চাইতে নিজের বিবেককে প্রাধান্য দেওয়া । এখানেও তেমনটিই আশা করছিলাম , রহস্য উদঘাটনের পরে । শেষে তাই হল ।



তা যাই হোক । এক কথায় বইটি অসাধারন । তবে আমি পড়েছি আরেক সমস্যাতে। বইটিতে ১৮+ কন্টেন্ট একটু বেশি । নাজিম উদ্দিনের বই – আমার ভাই SSC দিচ্ছে – পড়ার জন্যে উন্মুখ হয়ে আছে ।আমার কেন জানি মনে হয়েছে , লেখক আরেকটু রেখে ঢেকে বলতে পারতেন অনেক কিছু । আমার জন্য – কোন সমস্যা নেই , কিন্তু মনে হয় টিন এজারদের জন্য অনেক কিছু এত আগে না জানা-ই ভালো ।



বাংলাদেশ গোয়েন্দা বিভাগকে অন্য চোখে দেখবেন , অন্তত ক্ষনিকের জন্যে হলেও । না, মাসুদ রানার মত সুপার পাওয়ার হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশ , যা স্বাভাবিক , তাই দেখানো হয়েছে । জেফরি বেগের চরিত্রটা আসলেই ভাল লেগেছে । প্রযুক্তিগুলোর ব্যাবহারও হয়েছে চমৎকার । অবশ্য ভাগ্যের কিছু সহায়তা পেয়েছে সে । নইলে আর ‘নেমেসিস’ কেন !



সব কথার শেষ কথা হল , নাজিম উদ্দিন কে ধন্যবাদ । ভবিষ্যতে তাঁর থেকে আরো লেখা আশা করব , আশা করব , তিনি লিখে যাবেন নিয়মিত । তবে যত দ্রুত তিনি ড্যান ব্রাউনের ছায়া থেকে সরে আসতে পারবেন , ততই মঙ্গল ।



অনুভূতি লিখতে বসে মনে হয় ‘রিভিউ’ লিখে ফেললাম । তবে এটাকে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া বলতে পারেন। বইটি পড়া হয়ে থাকলে কেমন লেগেছে জানাবেন । আর না পড়া থাকলে , বলব, এখনি বইটি নিয়ে বসে পড়ুন … আপনার সময়টা খারাপ কাটবে না ।



ভাল থাকবেন সবাই ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.