| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাশিদুল ইসলাম লাবলু
প্রকৃত সত্যকে উপলদ্ধি করতে হবে খোলা মন নিয়ে।
সায়েন্টিফিক তাফসীর – সুরা মূলক আয়াত নং ৫
“আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করিয়াছি প্রদীপমালা দ্বারা এবং উহাদেরকে করিয়াছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ এবং উহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তি”। সুরা মূলক আয়াত নং ৫
আমি লক্ষ্য করেছি অসংখ্য নাস্তিক এই আয়াতটি নিয়ে অট্টহাসে হাসতে থাকে। হাসাহাসির কারন শয়তানের দিকে নক্ষত্র নিক্ষেপ। উপহাস করে বলে শয়তানের দিকে আল্লায় নক্ষত্র ছুড়ে মারে। হা হা হা হা হা।নাস্তিকদের এহেন আচরনের কারনেই আল কোরআনে সূরা আল-ইমরান এর ৭ নম্বর আয়াতটি বলছে, আল্লাহ্তাআলা আপনার উপর কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছেন, যার মধ্যে কিছু আয়াত সুস্পষ্ট এবং সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি, আর কিছু আয়াত রূপক।যাদের অন্তরে বক্রতা আছে, তারা ফিতনা ও অপব্যাখ্যা খোঁজার জন্য রূপক আয়াত গুলো অনুসরণ করে।”এই বক্র শ্রেণির মানুষগুলোর হাসির খোরাক জোগাতে তারা নিজেরাই যে হাসির পাত্র হযে পড়ে সেটি তারা বোঝে না। তারা হাসে শয়তানের প্রতি নক্ষত্র নিক্ষেপ করেন। কিন্তু এই নক্ষত্র শব্দটি তৎকালীন ১৪০০ বৎসর পূর্বের মানুষ কিভাবে বুঝবে?
পাঠক, লক্ষ্য করুন খুবই প্রাঞ্জল ভাষায় একটি কথা বলা আছে। যার মধ্যে লুকিয়ে আছে ব্যপক বৈজ্ঞানিক তথ্য। আল্লাহ আকাশে এমন কিছু প্রদীপমালা রেখেছেন যা শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপ করা যায়। বলুনতো প্রিয় পাঠক আকাশে বা উপরে এমনকি কোন উপকরণ আছে যা দিয়ে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপ করা যায়? আপনিও যদি ঐঅসব নাস্তিকদের মতো শয়তান বলতে বিশাল একটি অলোৗকিক প্রানী ধরে নেন তাহলে ভূলটি হবে। তাহলে শয়তান কি? এই আয়াতের শয়তার বলতে মানুষের মাঝে একটি শ্রেনি যারা খারাপ তাদের বুঝোনো হয়েছে। এই শয়তান আযাযিল বা ইবলিশ নয় এই শয়তানেরা মানুষরুপী শয়তান। লক্ষ্য করুন আল কোরআনের আরেকটি আয়াত -“আর যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে ‘আমরা ঈমান এনেছি এবং যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে আছি। আমরা তো কেবল উপহাসকারী “। এ আয়াতে শয়তান বলতে মানুষেরই একটি শ্রেণিকে বোঝানো হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে অস্তিতিশীল মানুষেরই একটি বিশাল জাতিস্বত্তার কথা বোঝানো হয়েছে। শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ হিসেবে জলন্ত অগ্নির শাস্তি আকাশ থেকে প্রেরন করা হবে। ধ্বংশ করা হবে তাদের অহংকার। যারা স্রস্ঠার বিশ্বাসের প্রতি অহংকারীর মতো আচরবন করেন। এমন যুগে যুগে বা হাজার কিংবার মিলিয়ন বছরে এমনি গজব দিয়ে আল্লাহ মানবজাতির মধ্যে শয়তান শ্রেনি কে ধ্বং স করেন।
আয়াতের পরবর্তী অংশটি লক্ষ্য করুন। উহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি জলন্ত অগ্নির শাস্তি। সহজ প্রশ্বের সহজ উত্তর। আকাশ থেকে কোন জাতীয় জোতিস্ক পৃথিবীতে আঘাত হানে? উল্কাপিন্ড, ধুমকেতু, গ্রহানু এজাতীয় কিচু। আলোচ্য আয়াতে এস্টিরয়েড বেল্ট গ্রহানু প্রঞ্জের গ্রহানুসমূহকে বোঝানো হয়েছে । গ্রহাণু বেল্ট হল মহাকাশের একটি অঞ্চল যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। মঙ্গল ও বৃহস্পতির কক্ষপথের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গ্রহানু বেষ্টনী সৌরজগতের অংশবিশেষ। এরপর আরও কিছু গ্রহাণুর বেল্প রয়েছে যেগুলো কুইপার বেল্ট হিসেবে পরিচিত। মূল কথা,গ্রহাণু বেষ্টনী বা কুইপার বেল্ট নিজেদের পরিপূর্ণ রূপ নিতে পারে নি। এদের ব্যর্থ বৃহৎ গ্রহও বলা যেতে পারে। এগুলো যদি সম্পূর্ণভাবে একত্রিত হতে পারতো তবে হয়তো গ্রহে পরিণত হতো। কিন্তু তা না হয়ে এরা খন্ড খন্ড পাথরের টুকরা হয়ে একটি কক্ষপথ তৈরী করে মঙ্গলের পাশে একটি কক্ষপথে সুর্যকে কেন্দ্র করে ঘরছে। প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে, আমাদের সৌরজগৎ গঠিত হওয়ার সময়, মহাকাশে ধূলিকণা ও গ্যাসের বিশাল মেঘ ছিল, যা সৌর নীহারিকা নামে পরিচিত ছিল। এই নীহারিকার ধূলিকণা ও বরফের কণাগুলো একত্রিত হয়ে ছোট ছোট পাথুরে পিন্ড তৈরি করে, যা ভ্রূণগ্রহ (planetesimals) নামে পরিচিত।এই ভ্রূণগ্রহগুলো একত্রিত হয়ে গ্রহের আকার ধারণ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বৃহস্পতি গ্রহ যখন তার বর্তমান ভরের কাছাকাছি আসে, তখন তার শক্তিশালী মহাকর্ষীয় টানে এই ভ্রূণগ্রহগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মঙ্গল ও বৃহস্পতির কক্ষপথের মাঝের অঞ্চলে এই ভ্রূণগ্রহগুলো গ্রহের আকার নিতে পারেনি, বরং সংঘর্ষের ফলে ভেঙে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয়, যা গ্রহাণু বেল্ট নামে পরিচিত।
প্রিয় পাঠক, এই আয়াতে শয়তানের উপর নিক্ষিপ্ত জোতিস্কসমূহ বা উপকরনসমূহ বলতে গ্রহানুসমূহকেই বোঝানো হয়েছে। এবং উহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি জলন্ত অগ্নির শাস্তি বলতে এ্যাস্টির্য়েরড বেল্ট এলাকাকেই বোঝানো হয়েছে। আল্রাহ বলছেন তিনি গুহানুপুঞ্জ বা এস্টিরয়েড বেল্ট সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীর বুকে মানুষ নামক শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরন হিসেবে। সহজভাবে যদি বোঝার চেষ্টা করেন তাহলে বুঝবেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন গ্রহানুর আঘাতে পৃথিবীর মধ্যকার মানুষের একটি শ্রেনি শয়তানদের ধ্বংশস্তুপে পরিনত করার হুমকি দিচ্ছেন। পৃথিবীতে গ্রহাণুর আঘাত সত্যিই একটি বাস্তব ঝুঁকি, যা অতীতে বড় বিপর্যয় ঘটিয়েছে (যেমন ডাইনোসরের বিলুপ্তি এবং ভবিষ্যতে ঘটতে পারে, তবে NASA সহ মহাকাশ সংস্থাগুলো সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ ও ট্র্যাক করছে; যদিও '2024-YR4' এর মতো কিছু গ্রহাণুর আঘাতের আশঙ্কা (২০৩২ সালে) একসময় থাকলেও, পর্যবেক্ষণের পর সেই ঝুঁকি কমে গেছে বা বাতিল হয়েছে। তবে বড় ধরনের গ্রহাণুর আঘাত বিরল হলেও তা বৈশ্বিক বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম।
এখন প্রশ্ন পৃথিবীর বুকে এই জাতীয় গ্রহানুর আঘাতে কি এরুপ শয়তানের সাম্রাজ্য ধ্বংশ হয়েছে? ইতিহাস কি বলে? অতীতে এমন সভ্যতা ধ্বংশ হয়েছে গ্রহানুর আঘাতে। গ্রহানুর আঘাতে ফলে ভুমিকম্প সুনামি বহু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারনে বিলীন হয়ে গেছে মনুষ্য সভ্যতা! এস্টিরয়েডের আঘাতে ধ্বংশস্তুপে পরিনত হয়েছে, বিলীন হয়েছে। যার জলজ্যান্ত উদাহরন জর্দানের ডেড সী বা মৃত সাগরের স্থানটি। আল কোরআনে বলা আছে “সূর্যোদয়ের সময় মহানাদ তাদের আঘাত করে। অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম ও তাদের ওপর কঙ্কর বর্ষণ করলাম। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। পথের পাশে ওই জনপদের ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান। (সুরা : হিজর ৭৩-৭৬) এই আয়াতটি পর্যালোচনা করলে জানা যায়-আজ থেকে ৩১০০ বছল পূর্বে বর্তমান জর্দান ও ঈসরাইলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ডেড সী বা মৃত সাগরের স্থানটিতে ছিলো সদম ও গোমরাহ নগর। তারা উন্নতির চরম শিখরে উন্নীত হওয়ার কারণে সীমা লঙ্ঘনকারী জাতিতে পরিণত হয়েছিল। পূর্বেকার ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলির ন্যায় তারা চূড়ান্ত বিলাস-ব্যসনে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। অন্যায়-অনাচার ও নানাবিধ দুষ্কর্ম তাদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এমনকি পুংমৈথুন বা সমকামিতার মত নোংরামিতে তারা লিপ্ত হয়েছিল, যা ইতিপূর্বেকার কোন জাতি এতটা ব্যাভিচার করতো না। এক গ্রহানুর আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো নগরটি সম্পূর্ণ উল্টিয়ে ধ্বংশস্তুপে পরিনত করে দেন পাশাপাশি আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো গ্রহানু নিক্ষিপ্ত হওয়ার ফলে সমগ্র সভ্যতা বিলীন হয়ে যায় এবং সেখানে একটি মৃত সাগরে পরনিত হয়। যা আজ ডেড সী নামে পরিচিত। ফিলিস্তিন ও জর্দান নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল অঞ্চলজুড়ে নদীর রূপ ধারণ করে আছে এটি। জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ নিচু। এর পানিতে তেলজাতীয় পদার্থ বেশি। এই পানিতে কোন কিছু ডোবে না। এতে কোনো মাছ, ব্যাঙ, এমনকি কোনো জলজ প্রাণীও বেঁচে থাকতে পারে না। এ কারণেই একে ‘মৃত সাগর’ বলা হয়। সাদুম উপসাগরবেষ্টিত এলাকায় এক ধরনের অপরিচিত উদ্ভিদের বীজ পাওয়া যায়, সেগুলো মাটির স্তরে স্তরে সমাধিস্থ হয়ে আছে। সেখানে শ্যামল উদ্ভিদ পাওয়া যায়, যার ফল কাটলে তার মধ্যে পাওয়া যায় ধুলাবালি ও ছাই। এখানকার মাটিতে প্রচুর গন্ধক পাওয়া যায়। এই গন্ধক উল্কাপতনের অকাট্য প্রমাণ। এ শাস্তি এসেছিল গ্রহানুর আঘাত, ভয়ানক ভূমিকম্প, সুনামি ও অগ্নি উদিগরণকারী বিস্ফোরণ আকারে। ভূমিকম্প সে জনপদকে ওলটপালট করে দিয়েছিল।
সুতরাং প্রিয় পাঠক মানবজাতি স্রষ্টার বিশ্বার থেকে ফিরে গিয়ে অসভ্য নোংরা সভ্যতা গড়ে তুললে আবারো তাদের উপর এরুপ ধ্বংশলীলা প্রেরণ করা হবে সেটি প্রুকাশ করা হয়েছে। ১২ নং আয়াতের পরবর্তীতে ১৩ নং আয়াতে লক্ষ করুন। বলা হচ্ছে। “এর পরেও যদি ওরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে (ওদেরকে) বল, আমি তো তোমাদেরকে এক ধ্বংসকর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছি; যেরূপ শাস্তির সম্মুখীন হয়েছিল আ’দ ও সামূদ;”। সুতরাং পৃথিবীর মধ্যে স্রষ্টা বিরোধীতা মানেই ধ্বংশলীলা। কারন আল কোরআন বলে - হে মানুষ তোমরা কি নিশ্চিত আমি তোমাদের উপর প্রস্তরখন্ড নিক্ষিপ্ত করাবো না?

©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৯
বাজ ৩ বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম।
লেখকের নিয়ত ও কুরআনের মর্যাদা রক্ষার আগ্রহ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। নাস্তিকদের উপহাসের জবাব দেওয়ার চেষ্টা একটি ইতিবাচক দিক। তবে বিনয়ের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে চাই—
কুরআনের তাফসীর একটি সংবেদনশীল ইলমি বিষয়। সুরা মুলক ৫ নং আয়াতে যে “শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপ”-এর কথা এসেছে, তা সহিহ তাফসীরসমূহ (ইবনে কাসীর, তাবারী, কুরতুবী প্রমুখ) অনুযায়ী জিন শয়তানদের প্রসঙ্গে, মানুষের ক্ষেত্রে নয়। এছাড়া এই আয়াতে গ্রহাণু বেল্ট, কুইপার বেল্ট বা নির্দিষ্ট জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক কাঠামোর কথা নিশ্চিতভাবে বোঝানো হয়েছে—এমন ব্যাখ্যা কুরআন, সহিহ হাদিস বা সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যায় পাওয়া যায় না।
বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার কথা ইশারা হিসেবে বলা যেতে পারে, কিন্তু সেটিকে আয়াতের নির্দিষ্ট অর্থ হিসেবে স্থির করে দেওয়া তাফসীরের স্বীকৃত পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কুরআনের অর্থের উপর নিজস্ব ধারণা আরোপের আশঙ্কা তৈরি হয়।
আমাদের দায়িত্ব হবে—
কুরআনের স্পষ্ট অর্থকে স্পষ্ট রাখা,
রূপক আয়াতকে রূপক হিসেবেই বোঝা,
এবং আধুনিক বিজ্ঞানকে কুরআনের “ব্যাখ্যাকারী” নয়, বরং “সম্ভাব্য সামঞ্জস্য” হিসেবে উপস্থাপন করা।
আশা করি বিষয়টি ইলমি দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচিত হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে হিকমত ও ভারসাম্য দান করুন। আমিন।