নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

প্রকৃত সত্যের দিকে আমাদের ছুটতে হবে..

রাশিদুল ইসলাম লাবলু

প্রকৃত সত্যকে উপলদ্ধি করতে হবে খোলা মন নিয়ে।

রাশিদুল ইসলাম লাবলু › বিস্তারিত পোস্টঃ

সায়েন্টিফ তাফসীর-সুরা হামিম সিজদা : আয়াত ১২

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪০

সায়েন্টিফ তাফসীর-সুরা হামিম সিজদা : আয়াত ১২



“অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন, যা ছিল ধূম্রপুঞ্জবিশেষ। অতঃপর তিনি ওকে (আকাশকে) ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এস।’ ওরা বলল, আমরা তো অনুগত হয়ে আসলাম।“

আল কোরআনের সুরা হামিম সিজদার ১২ নং আয়াত নিয়ে আজ আমি আলোচনা করবো। আমি মনে করি আল কোরআনের এই আয়াতটি গভীর জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটিয়েছে কিন্তু আমাদের র্দূভাগ্য ১৪০০ বৎসরের পূর্বে সেই সময়ের মানুষের কি গভীর জ্ঞান উপলদ্ধি করার মতো মানসিক বিকাশ ঘটেছিলো? না। বর্তমান সময় হলে হয়তো এই বিষয়টি আমরা উপলদ্ধি করতে পারতাম।তো যাই হোক আমি এই আয়াতের মধ্যে পেয়েছি বিজ্ঞানের গোপন নিগুঢ় তত্ত্ব পেলাম। আল কোরআন যদি স্রষ্টার তথ্য না হতো তবে এত গভীর বিজ্ঞান কি করে সেই সময়ে পেলো সেটি নিয়েই আমি রিতীমতো স্তম্ভ হয়ে যাচ্ছি।আজ আমি এই পর্বে আয়াতটির প্রথম অংশ অথাৎ “অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন, যা ছিল ধূম্রপুঞ্জ বিশেষ “ এই অংশের আলোচনা করবো। পরবর্তী পর্বে আমি আয়াতটির পরবর্তী অংশ “অতঃপর তিনি ওকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এস।’ ওরা বলল, আমরা তো অনুগত হয়ে আসলাম।“ অংশটি নিয়ে আলোচনা করবো।কারন এই দুটি অংশ দুটি বৈজ্ঞানিক থিসিসের বিষয়বস্তুকে আনয়ন করে।
আয়াতটির প্রথম অংশে বলছেন “অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন যা ছিলো ধুম্রপুঞ্জ বিশেষ।“ আকাশের দিকে ধুম্রপুঞ্জ কি আদৌ ছিলো? বিজ্ঞানের ভাষায় এই জাতীয় ধুম্রপুঞ্জকে নেবুলা বা নীহারিকা বলা হয়। আয়াতটির দিকে লক্ষ্য করুন “যা ছিলো ধুম্রপঞ্জ বিশেষ তার দিকে স্রষ্টা মনোনিবেশ করলেন“ কিন্তু মনোনিবেশ বলতে কি বুঝানো হয়েছে? বা মনোনিবেশ করলৈন কেনো? যার সহজ সরল উত্তর আসে-যা ধুম্রপুঞ্জ ছিলো তা থেকেই স্রষ্টা সৃষ্টি শুরু করলেন। অথাৎ মনোনিবেশ বলতে ধুম্রপুঞ্জ হতেই স্রষ্টা সৃষ্টি শুরু করেন সেটিই বুঝিয়েছেন। ধুম্রপুঞ্জ হতে কি মহাবিশ্ব বা এমন কিছু সৃষ্টি সম্ভব? হ্যা সম্ভব। আমাদের সৌরজগৎ এমনই একটি প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে বলে একটি মতবাদ বিশ্বজুড়ে ব্যপক প্রচলিত। আল কোরআনের এই আয়াতটি আসলে ধুম্রপুঞ্জ রিলেটেড নীহারিকা মতবাদটিকেই সমর্তন দিয়ে দেয় সৃষ্টি সংক্রান্ত ব্যাপারে। আসলে আল কোরআনের এই আয়াতটিতে সৌরজগৎ সৃষ্টির বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে যা আমি বিভিন্ন প্রসং্গ তুলে ধরে প্রমান করার চেষ্টা করবো।

ফরাসি জ্যোতির্বিজ্ঞানী মারকুইস ডি ল্যাপলাস 1796 খ্রিস্টাব্দে সৌরজগতের উৎপত্তি সংক্রান্ত তার একটি মতবাদ প্রকাশ করেন। নীহারিকা মতবাদ। মতবাদটি তার "Exposition of the Solar System"গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। এই মতবাদটি 1755 খ্রিস্টাব্দে ইমানুয়েল কান্টের দেওয়া নীহারিকা মতবাদ এর তুলনায় অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত। মারকুইস ডি ল্যাপারাস ছাড়াও অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, আদিতে পৃথিবী ও সৌরজগৎ অবস্থান ছিল এক ধোঁয়াশার মধ্যে।একটি ধুম্রপুঞ্জ বিশেষ।সেটা ছিল সুবিশাল আকৃতির নীহারিকা।মহাকাশে ঘূর্ণায়মান লক্ষ লক্ষ মাইল ব্যাপী ধুলোর মেঘ একত্র হয়ে এই নীহারিকা গড়ে তুলেছিল। পরে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে নীহারিকার মধ্যে বিভিন্ন অণু-পরমাণু যতই পরস্পরের নিকটবর্তী হয়েছে, ততই পরস্পরের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে এবং তাদের গতিশীলতা থেকে উদ্ভূত শক্তি তাপে রূপান্তরিত হয়ে তাদের গতিশীলতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে তাপ বিকিরণের ফলে নীহারিকাটি সংকুচিত হতে থাকে এবং সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার গতিবেগ বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসময় ঘূর্ণন বেগ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে সেই নীহারিকার নিরক্ষীয় অঞ্চলে অভিকর্ষজ বল এবং কেন্দ্র বহির্মুখী বল পরস্পর সমান হয়। নীহারিকাটি যখন আরো সংকুচিত হয় তখন নীহারিকার বাইরের বলয় আকার অংশ সংকোচনে অংশগ্রহণ না করে বিচ্ছিন্ন হয়ে ওজন শূন্য অবস্থায় নিজের জায়গায় স্থির ভাবে ভাসতে থাকে। নীহারিকাটি সংকুচিত হতে থাকায় একাধিক বলয় আকার অংশ বিচ্ছিন্ন হয়। বিচ্ছিন্ন বলয় আকার অংশ একত্রিত এবং ঘনীভূত হয়ে গ্রহের সৃষ্টি হয়। গ্রহগুলির ক্রমশ সংকুচিত হওয়ায় বলয় আকার অংশ বিচ্ছিন্ন হয়। বিচ্ছিন্ন বলয় গুলি একত্রিত হয়ে উপগ্রহের সৃষ্টি করে।নীহারিকার কেন্দ্রীয় অংশ একটি নক্ষত্র তথা সূর্যরূপে প্রতিষ্ঠিত হয় ।



নীহারিকা হলো এক ধরনের মহাজাগতিক ধুম্রপুঞ্জ, যা মূলত ধূলিকণা, গ্যাস (হাইড্রোজেন, হিলিয়াম) ও প্লাজমা দিয়ে গঠিত আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ, যা মহাকাশে ধোঁয়ার মতো দেখায় এবং এটি নতুন নক্ষত্র ও গ্রহ সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। অথবা মৃত তারার অবশিষ্টাংশ হতেও নীহারিকা গঠন হতে পারে। নীহারিকা হলো মহাকাশের বিশাল ধুলো ও গ্যাসের মেঘ, যা দেখতে ধোঁয়ার মতো বা অস্পষ্ট আলোময় তাই একে ধুম্রপুঞ্জ বলা যেতে পারে।নীহারিকা অনুকল্প নামের এই বহুল পরিচিত ও সর্বজনগৃহীত মডেলটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন Emanuel Swedenborg, ইমানুয়েল কান্ট এবং পিয়ের সিমোঁ লাপ্লাস, সেই ঊনবিংশ শতাব্দীতে।পরবর্তীতে বিজ্ঞানের অনেকগুলো শাখার সক্রিয় অংশগ্রহণে মডেলটির উন্নতি ঘটেছে।প্রাথমিক অবস্থা থেকে সৌরজগৎ অনেক বিবর্তিত হয়েছে।কোন গ্রহের চারদিকে আবর্তনরত গ্যাস ও ধূলিকনার চাকতি থেকে তার উপগ্রহ তৈরি হয়ে থাকতে পারে, আবার কিছু উপগ্রহ ভিন্ন জায়গায় উৎপন্ন হয়ে পরবর্তীতে গ্রহের মহাকর্ষীয় বন্ধনে ধরা দিতে পারে।

বিষয়টি চিত্রের মাধ্যমে আপনাদের বোঝানোর চেণ্ট করি।নিম্নের চিত্রের দিকে লক্ষ করুন । A অংশ টুকু লক্ষ করুন। আগুন আগুন ধোয়া ধোয়া। যেটি একটি নীহারিকা। এই নীহারিকা পরবর্তী রুপ B অংশ। অগ্নিময় ধোয়াময় গ্যাসীয় নীহারীকার মাঝে অগ্নিময় হয়ে উঠছে ও সকল দিকে ঠান্ডা হচ্ছে।ধীর গতিতে দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় ঠান্ডা হওয়ার কারনে সৌরজগত একটি রুপ পেতে শুরু করে। পরবর্তী C অংশ দেখুন সকল অংশ প্রায় ঠান্ডা হয়ে গেছে শুধু সূর্য অংশটুকুই অগ্নিময়। তারপর দেখুন D অংশটুকু ঠান্ডা হয়ে গ্রহ জন্ম নেওয়া শুরু করেছে । এবং পরবর্তী E অংশে সকল গ্রহের সৃষ্টি হয়ে গেছে এবং গ্রহের গতিশীলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রিয় পাঠক, আমি কি বোঝাতে পারলাম এই আয়াতটি আসলে কি মিনিং করে। পূববতী অনেক আলোচক এই আয়াতটিকে মহাবিশ্ব সৃষ্টির সাথে তুলনা করছেন কিন্তু আমি বিষয়টি মেনে নিতে পারি নাই।কারন এই আয়াতটি তার বর্ননার মধ্য দিয়ে সৌরজগৎ সৃষ্টির বর্ননা করে বলে আমার মনে হয়।এটি আমাদের সৌরজগৎ সৃষ্টির বিষয়ে অবগত করে বৈজ্ঞানিক ব্যক্ষা থিসিসের সত্যতাকেই নির্দেশনা দেয়।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: এরকম পোষ্টের কোনো চাহিদা নেই।
কেউ পড়ে না। কেউ মন্তব্য করে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.