নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

প্রকৃত সত্যের দিকে আমাদের ছুটতে হবে..

রাশিদুল ইসলাম লাবলু

প্রকৃত সত্যকে উপলদ্ধি করতে হবে খোলা মন নিয়ে।

রাশিদুল ইসলাম লাবলু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফ্যামিলি কার্ড ! সম্ভাব্না নাকি ফাকা বুলি।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮



তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড নামক এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি শুধু নারীদের আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন। এই অঙ্গিকার অনুসারে মহিলাদের ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা প্রদান করার প্রতিশ্রতি দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচির আওতায় পরিবার প্রতি কত টাকা সহায়তা দেয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ নেই; বরং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, প্রতিটি পরিবার মাসে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে, আবার কেউ বলছেন সমপরিমাণ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেয়া হবে। এই সহায়তা নগদ অর্থ হিসেবে অথবা নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য, যেমন চাল, আটা, ডাল ও ভোজ্যতেল হিসেবে দেওয়া হতে পারে। এতে একটি পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদার বড় অংশ নিশ্চিত হবে। খাবারের পেছনে মাসিক ব্যয় কমে গেলে পরিবার কিছুটা স্বস্তি পাবে, আর সেই স্বস্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন নারী।

আসলে ফ্যামিলি কার্ড দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ এ বিষয়ে কোন দ্বিধা নেই। এখন প্রশ্ন হলো এই কার্ড আসলে দেশের কোন শ্রেণির মানুষের জন্য প্রাপ্তি ঘটবে সেই বিষয়ে তেমন কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না্। দেশের সকল জনগোষ্টির জন্য নাকি শুধুমাত্র দরিদ্র শ্রেনির মানুষের জন্য? এই সহায়তা দরিদ্র পরিবারকে স্বল্প মেয়াদে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, এতে সন্দেহ নেই। নারীর হাতে অর্থ গেলে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে, শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষা ব্যয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু সামাজিক সুবিধা ঘোষণার ক্ষেত্রে শুধু উদ্দেশ্য নয়, তার বাস্তবায়নযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সহায়তা শুধুমাত্র কি দ্রারিদ্রের জন্য নাকি?

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি ২৫ লাখ পরিবার রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যে, ফ্যামিলি কার্ড সব পরিবারের জন্যই প্রযোজ্য। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি ২৫ লক্ষ পরিবার আছে বলেই সরকারি সুত্রে জানা যায়। যদি সকল পরিবারের জন্য এই কার্ডের আয়োজন থাকে তাহলে প্রতি মাসে সরকারের প্রয়োজন ১০ হাজার ৬ শত ২৫ হাজার কোটি টাকা। বৎসরে ব্যায় ১লাখ ২৭ হাজার ৫ শত হাজার কোটি টাকা। তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে বলেন, “আমরা কি সকল মা-বোনের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ডটা পৌঁছে দেবো? না, সেভাবে করছি না। করছি তবে একটু অন্যভাবে। বাংলাদেশে আমরা যদি পরিবার হিসেবে দেখি, চার কোটি পরিবার আছে। বাংলাদেশে ৭০ শতাংশের মতো পরিবার গ্রামে থাকেন, ৩০ শতাংশের মতো পরিবার থাকে শহরে। আমরা কাজটি শুরু করবো পরিবার ভিত্তিক। প্রথমে গ্রাম থেকেই শুরু করবো, শহরেরও কিছু কিছু অংশ নেবো। শহরের যেই অংশগুলোতে সাধারণত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ ও পরিবারগুলো থাকে, সেই পরিবারগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু হবে।” তারেক রহমানের বক্তব্য অনুসারে ৭০ শতাংশ গ্রামের মাুনষের জন্য যদি হয় তাহলে শুরুতেই লাগবে ৮৯ হাজার ২ শ ৫০ হাজার কোটি টাকা। যদি দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ তথা গ্রাম অঞ্চলের দুই কোটি পরিবারকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়, তা হলে এর বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা। যা সাম্প্রতিক জাতীয় বাজেটের প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশের সমান।

এই অঙ্কটি কোনো ছোটখাটো ব্যয় নয়। অর্থণীতি সংক্রান্ত লেখক ওয়ালিউদ্দিন তানভীর এর একটি লেখায় জানা যায- বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ইতোমধ্যেই ঘাটতি বাজেটের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর সরকারকে বড় অঙ্কের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ নিতে হচ্ছে শুধু চলতি ব্যয় মেটানোর জন্য। এই অবস্থায় ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি বিশাল পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, তা স্পষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি। যদি এই অর্থ রাজস্ব খাত থেকে জোগান দেয়া হয়, তাহলে সরকারকে হয় নতুন করে কর বাড়াতে হবে, নয়তো বিদ্যমান করের বোঝা আরো ভারী করতে হবে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। অন্যদিকে, যদি উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ কমিয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হয়, তাহলে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আর যদি এই ব্যয় মেটাতে সরকার অতিরিক্ত ঋণের পথ বেছে নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা আরো বাড়বে। সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে সামাজিক ও উন্নয়ন খাতে ভবিষ্যৎ বরাদ্দ সঙ্কুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত টাকা বাজারে ছাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে সেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেই। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়, ফ্যামিলি কার্ড কি একটি অর্থনৈতিকভাবে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নাকি এটি মূলত নির্বাচনের আগে দেয়া একটি জনপ্রিয় কিন্তু অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি?

ফ্যামিলি কার্ড নিঃসন্দেহে ভালো একটি উদ্যেগ তবে তার প্রতিক্রিয়া গুলো লক্ষ্য করতে হবে। আমি মনে করি দেশের প্রত্যন্ত দরিদ্র শ্রেনির জ্ন্য যদি এই কার্ডটি হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এটি দেশের দরিদ্র শ্রেনির উন্নয়ন ঘটাবে। যেমন বাংলাদেশ এর আগেও এমন সাহসী উদ্যোগ দেখেছে। ১৯৯২-৯৩ সালে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়েছিল। সেই উদ্যোগ খাদ্যের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করে লাখো শিশুকে, বিশেষ করে মেয়েদের স্কুলে ফিরিয়ে এনেছিল। এই ফ্যামিলি কার্ডও দেশের দারিদ্র শ্রেনিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। ধরি দেশের ১০% দ্রারিদ্র শ্রেনির জন্য এই কার্ডটি প্রয়োগ করা হলো। নিপীড়িত দুঃস্থ চরমভাবে দারিদ্র শ্রেনির মানুষগুলোর জন্য যদি এই কার্ডের ব্যবহার বাস্তবায়ন করা হয় তবে নিপীড়িত দুঃস্থ মানুষের অভাব লাঘবে সহায়ক ভূমীকা পালন করবে। কিন্তু প্রশ্ন হয়ে দেখা দিচ্ছে এই কার্ড কি দলীয়করণের গ্যাড়াকলে পড়ে গেলে দুঃস্থ মানুষের পরিবর্তে দলীয় কর্মীদের রসদ জোগাবে নাতো? এই ফ্যামিলি কার্ড কি দলীয় কর্মীদের আয়ের ক্ষেত্র হবে না তো? সেই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সঠিক কোন নির্দেশনা পাওয়া গেলো না।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৩

ফেনা বলেছেন: তলায় হাত দিয়ে দেখেন এই কার্ড দেশে আগে থেকেই চালু আছে। সবই ভোটের জন্য ভাওতাবাজি।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৩

রাশিদুল ইসলাম লাবলু বলেছেন: কথাটি আপনি ঠিকই বলেছেন ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.