| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাশিদুল ইসলাম লাবলু
প্রকৃত সত্যকে উপলদ্ধি করতে হবে খোলা মন নিয়ে।
কেনো বিশ্বে মুসলিমদের ভূখন্ডে খনিজ সমৃদ্ধ সম্পদে ছড়াছড়ি। বিশ্বের বেশিরভাগ খনিজ সম্পদ মুসলিম দেশে। বিশ্বের অনেক মুসলিম প্রধান দেশ খনিজ সম্পদে বিশেষ করে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ। এই প্রাচুর্যের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট ভূতাত্ত্বিক, ভৌগোলিক এবং ঐতিহাসিক কারণ। মধ্যপ্রাচ্য সৌদি, ইরান, ইরাক বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের অধিকারী। লিবিয়া, আলজেরিয়া এবং মিশর সহ উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ রয়েছে । এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠনও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে প্রাচীন সমুদ্রের তলদেশে জমা হওয়া জৈব পদার্থ থেকে হাইড্রোকার্বন গঠিত হয়েছে। আলজেরিয়াতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শেল গ্যাস মজুদ রয়েছে । কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং আজারবাইজান সহ মধ্য এশিয়ার দেশগুলো তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ । এছাড়াও, এই দেশগুলোতে বিরল মৃত্তিকা উপাদান (rare earth elements) সহ অন্যান্য মূল্যবান খনিজ পদার্থের বিশাল মজুদ রয়েছে, যা এখনও সম্পূর্ণরূপে অনাবিষ্কৃত । ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলোতেও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য মজুদ রয়েছে ।
এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন, বিশেষ করে সামুদ্রিক অববাহিকাগুলো, হাইড্রোকার্বন গঠনের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। আজকের মধ্যপ্রাচ্য একসময় 'টেথিস সাগর' নামক একটি অগভীর ও উষ্ণ সাগরের তলদেশে ছিল। এই সাগরে প্রচুর পরিমাণে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীব এবং উদ্ভিদ (Plankton and Algae) ছিল। যখন এগুলো মারা যেত, তখন তারা সাগরের তলদেশে জমা হতো এবং পলিমাটির নিচে চাপা পড়ত। মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য মূলত তাদের অনন্য ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের ফল। প্রাচীন টেথিস সাগরের উপস্থিতি, অনুকূল ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং হাইড্রোকার্বন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় চাপ ও তাপমাত্রার সমন্বয় এই অঞ্চলগুলোকে বিশ্বের অন্যতম খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করেছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদগুলো এই দেশগুলোর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে খনিজ তেল (পেট্রোলিয়াম) এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বিশাল অংশ মুসলিম-প্রধান দেশগুলোতে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত। ওআইসি ভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় ৬০% থেকে ৭৫% এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০% এর অধিকারী।
মুসলিমদের মধ্যে খনিজ সম্পদ আর ইহুদী নাসারাদের মধ্যে তুলনামূলক কম। ইশ্বরের এই অসম বণ্টন কেন?দীর্ঘদিনে ধরে ইহুদী এবং খ্রীষ্টান সম্প্রদায় বিষেদাগার সৃষ্টি করে চলেছে।ইহুদি বা খ্রিস্টান বিশ্বের জনগণের স্রষ্টার প্রতি এই ধরনের একটি বিরুপ ধারনা ছিলো।ঈশ্বর কেনো এই অসম বন্টন করলেন?এই ক্ষোভ থেকে ইহুদী ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।প্রতিশ্রতিশীল ভূমী তত্বের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তাদের ষড়যন্ত্। কিন্তু আদৌ কি ঈশ্বর ইহুদী খ্রীষ্টানদের সাথে অসম বন্টন করেছেন? আর অসম বন্টন করলে কেনো করেছেন?এবার আসি আল কোরআনের উত্তর বা ইহুদী খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের এহেন অভিযোগের পরিপেক্ষিতে আল কোরআনের বক্তব্য।আল কোরআন বলে- "যদি তারা তাওরাত, ইনজিল এবং তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদের কাছে যে কিতাব (কুরআন) নাজিল করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত (অনুসরণ) করত, তবে তারা তাদের ওপর (আসমান) থেকে এবং পায়ের নিচ থেকে (রিযিক) ভোগ করত। তাদের মধ্যে একটি দল সৎপথে রয়েছে, কিন্তু অনেকেই যা করছে তা অত্যন্ত মন্দ" সুরা মায়েদা আয়াত নয় ৬৬। আল কোরআনের এই আয়াতের দিকে লক্ষ্য করুন। আমি পূবেই আমি আমার বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করেছি মুসলিম সম্প্রদায়ের খনিজ সম্পদের প্রাপ্তি আল্লাহর দান। আয়াতটি লক্ষ করুন আয়াতটিতে বলা হচ্ছে ইহুদী নাছারা যদি তাদের উপর যা নাজিল হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করতো তবে অবশ্যই আল্রাহ তাদের আসমান হইতে এবং পায়ের নীচ থেকে রিযিক বা ভোগ সামগ্রী দিতেন।প্রিয় পাঠক পায়ের নীচ থেকে ভোগ সামগ্রী বলতে কি কিচু বুঝলেন না? পায়ের নীচ থেকে বা ভূমীর মধ্য থেকে খনিজ সমৃদ্ধ উপাদান যা মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের রিজিকের বা আয়ের ক্ষেত্রসমূহ। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে বিশ্বের তেল-গ্যাসের ৮০%, কয়লার ৬০% এবং খনিজ আকরিক (যেমন- লোহা, ইউরেনিয়াম) এর মত সম্পদও প্রচুর পরিমাণে আছে। এমনকি রাশিয়ার খনিজ সম্পদের বেশিরভাগ তুর্কিমেনিস্থান রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো—প্রধানত উত্তর ককেশাস (দাগেস্তান, চেচনিয়া, ইঙ্গুশেতিয়া) এবং ভোলগা অঞ্চল (তাতারস্তান, বাশকোর্তোস্তান)—প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই অঞ্চলগুলোতে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, এবং বিভিন্ন খনিজ আকরিক প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা রাশিয়ার জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাতারস্তান ও বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলগুলো ভোলগা-ইউরাল তেল ক্ষেত্রের অংশ। এখানে বিশাল খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে। উত্তর ককেশাস (দাগেস্তান, চেচনিয়া, ইঙ্গুশেতিয়া): এই অঞ্চলগুলোতেও প্রচুর পরিমাণে তেল ও গ্যাস পাওয়া যায়।খনিজ সম্পদ: তেল ও গ্যাস ছাড়াও, কিছু এলাকায় মূল্যবান খনিজ পদার্থ এবং খনিজ পানির উৎস রয়েছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
বিশ্বের মুসলিম এলাকার আয়ের প্রধান ক্ষেত্র হলো খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী হতে উপার্জিত আয়। বিশ্বের ৭০% খনিজ সম্পদ মুসলিম দেশগুলোতে সন্ধান পাওয়া আর ১৪০০ বছর পূর্বে আর কোরআনের আয়াতের বর্ননারই বাস্তবায়ন। লক্ষ্য করুন আয়াতটিতে বলছেন ইহুদী নাছারাদের মধ্যে একটি দল সৎপথে রয়েছে কিন্তু অধিকাংশ মন্দ। ঠিক অনুরুপ পরিমান খনিজ সম্পদ ইহুদী নাছারাদের দেশসমূহে।আয়াতটিতে উল্লেখ করা হয়েছে পায়ের নীচ থেকে এবং আকাশ থেকে রিজিক সংগ্রহ! পায়ের নীচের রিজিক বলতে মাটির নীচের খনিজ সম্পদ থেকে উত্তোলিত আয় এবং আকাশ হইতে বলতে যা এখনও মানুষ হয়তো আহরন করতে পারে নাই। মহাকাশ থেকেও মানুষ আহরন করবে বিভিন্ন রিজিকের উপকরণ। বিশেষ করে গ্রহানু বেল্টে রয়েছে স্বর্ণের গ্রহানু বা আরো অনেক উপকরন যা আগামীতে মানুষের রিজিক মহাকাশ থেকেই উত্তরন সম্ভব হবে।পায়ের নীচের রিজিক বা খনিজ সম্পদ মুসলিম দেশগুলোতে প্রধান্য পেয়েছে কেনো এই প্রশ্ন থেকেই ইহুদী খ্রীষ্টান সম্প্রদায় একটি গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করে। মুসলিমদের ভূমী দখলের ষড়যন্ত্র।ইশ্বরের প্রতিশ্রুতিশীল ভূমী তত্ত্ব দাড় করিয়ে তারা মুসলিমদের ভূমী দখলের ষড়যন্ত্র চাঙ্গা করে।এই তত্ত্বের বাস্তবায়ন করতে প্রথমে তারা মুসলিমদের একটি সন্ত্রাসী জাতি বলে প্রচার চালানোর ভিত্তি তৈরী করতে থাকে বিভিন্ন পরিকল্পনা।পরিকল্পনা অনুসারে তালেবান, আইএস বা বিভিন্ন সন্ত্রানী সংগঠন ইসরাইলের ছত্রছায়ার গড়ে তোলা হয় মুসলিম ভূখন্ডে।তাদের দিয়ে বিভিন্ন কুকর্ম বা মানবাধিকার লংঘনের মতো ঘটনা ঘটিয়ে মুসলিমদের বিশ্বে হেয় প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা করেছে।র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। কিন্তু তারা ব্যথ হয় বা মুসলিম জনতা বুঝতে সক্ষম হয় যখন জানা যায়-দুনিয়াব্যাপী 'ইসলামী খেলাফত' প্রতিষ্ঠার যুদ্ধের স্বঘোষিত খলিফা ও সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা খলিফা আবুবকর আল বাগদাদি মুসলমান নন। তিনি একজন ইহুদি। তার আসল নাম আকা ইলিয়ট শিমন। এর চেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী 'ইসলামী শাসনব্যবস্থা' কায়েমের আদর্শে মত্ত আইএস ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সৃষ্টি এবং আমেরিকার সার্বিক সহায়তায় গড়ে ওঠে আইএস।এ থেকেই ইহুদী খ্রীষ্টানদের গোপন উদ্দেশ্য পরিস্কার হতে শুরু করে।আরো স্পণ্ট হয়ে ওঠে যখন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করে বলেছেন, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশের ওপর ইসরাইলের অধিকার রয়েছে।তার বক্তব্যের পরিপেক্ষিতে সাংবাদিক কার্লসন উল্লেখ করেছিলেন যে বাইবেল অনুযায়ী আব্রাহামের বংশধরদের যে ভূমির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাতে বর্তমানের প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অন্তর্ভুক্ত।এর জবাবে হাকাবি বলেন, তারা (ইসরাইল) যদি এর পুরোটা নিয়ে নেয় তবে সেটি ভালোই হবে।তবে তিনি পরে যোগ করেন, ইসরাইল তার সীমানা বাড়াতে চাইছে না, বরং তারা বর্তমান ভূমিতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। হাকাবির এই বক্তব্যের পরপরই সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান এবং ওআইসি ও আরব লীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে ‘চরমপন্থী বক্তব্য’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে তাদের অবস্থানের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
সুতরাং আল্লাহ যা পছন্দ করে মুসলিম জাতি স্বত্তাকে দিয়ে গেছেন সেটি কি জোর করে ইহুদী খ্রীষ্টান জাতি কেড়ে নিতে পারবে?সুতরাং কেনো মুসলিম জাতি খনিজ সম্পদক সমৃদ্ধ হয়েছে সেটি ইহুদী খ্রীষ্টানরা ১৪০০ বৎসরের পুরানো আল কোরআন পড়লেই বুঝতে পারতো।
লেখক : রাশিদুল ইসলাম লাবলু
গবেষক, কলাম লেখক ও গবেষক
©somewhere in net ltd.