নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

প্রকৃত সত্যের দিকে আমাদের ছুটতে হবে..

রাশিদুল ইসলাম লাবলু

প্রকৃত সত্যকে উপলদ্ধি করতে হবে খোলা মন নিয়ে।

রাশিদুল ইসলাম লাবলু › বিস্তারিত পোস্টঃ

এনসিপি এর নেতা নেত্রীকে নিয়ে অহরহই চলছে প্রোপ্রাগান্ডা! মিথ্যার বেসাতী দিয়ে কি সত্যকে অবদমিত করা যায়?

০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১:৫৫



এনসিপি এর নেতা নেত্রীকে নিয়ে অহরহই চলছে প্রোপ্রাগান্ডা! মিথ্যার বেসাতী দিয়ে কি সত্যকে অবদমিত করা যায়?
সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন টাকাগুলো কোনো ব্যক্তির পকেটে বা ব্যক্তিগত ফান্ডে যায়নি।এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের 'বিশেষ বরাদ্দ' খাতের অর্থ, যা নিয়ম মেনে বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নের জন্য ।এই বরাদ্দ মূলত স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া এডিপি প্রকল্প, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ব্যয় হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জবাবে সুর নরম করে মোস্তাক মিয়া বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজে টাকা খেয়েছেন সেটি তিনি বলেননি। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তাদের দুই উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আসিফের উপজেলায় ১৫ কোটি ও হাসনাত আবদুল্লাহর উপজেলায় ১০ কোটি। কিন্তু গণমাধ্যমে তার বক্তব্যটি হয়তো সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। এই প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ জানান, জেলা পরিষদের প্রশাসক রাজস্ব খাত ও বিশেষ বরাদ্দ খাতের পার্থক্্য না বুঝেই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন。কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হবে তা জেলা পরিষদের কমিটির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়, ব্যক্তি বা নেতার কাছে সরাসরি অর্থ হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, "ওনি এটা ক্লিয়ারলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বলছেন। উনি তো আর কোন সরকারি কর্মকর্তা বা সরকারের দায়িত্বশীল কেউ না। উনি বিএনপির নিয়োগকৃত একজন প্রশাসক।"

একটু গভীরভাবে ভেবে দেখেন হ্যারেজমেন্ট করার নতুন একটি দৃষ্টিভঙ্গী হলো মিডিয়া ব্লাকমেইলিং। এই নিউজটি প্রকাশের আগে পত্রিকাগুলো কিন্ত ইচ্ছে করলে সঠিক তথ্য জেনে নিউজ করতে পারতো কিন্তু তারা করে নাই। কারন তাদের উদ্দ্যেশ্য ছিলো মিডিয়ার মাধ্যমে হ্যারেজমেন্ট করা।কাদেরকে হ্যারেজমেন্ট করতে হবে? উঠতি নতুন তরুন নেতৃবৃন্দদের।তাদের নতুন বন্দোবস্তকে থামিয়ে দিয়ে প্রয়োজনে মিথ্যা প্রচারনাও চালাতে হবে।একের পর এক বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে তার ব্যক্তি ইমেজ ক্ষতিগ্রস্থ করার কৌশল।সালাউদ্দিন তারভীরের ঘটনাটি একবার ভাবুন।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল।অবৈধ পন্থায় ডিসি নিয়োগ ও পুস্তক প্রকাশের দূনীর্তিতে আভিযোগ প্রকাশ করা হয়।তিনি শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দাবী করা হয়।এই অভিযোগের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)তানভীরকে দল থেকে বহিষ্কৃত করেন ।এরপর তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের আদেশ দেওয়া হয়।এনসিপিও তৃতীয় ধারার একজন নেতা হিসেবে সংবাদ শুনে চমকে উঠেন। তিনি এই অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করলেন দূনীতি দমন কর্মকর্তাদের এবং তদন্তের দাবী করলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ।পরবর্তীতে দুদকের তদন্তে এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং তানভীরকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।তানভীর নামের এই ছেলেটির জীবন ধ্বংশ হয় এই মিথ্যা প্রচারনায় কারনে। একদিকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আরেকদিকে তার ব্যাবসায়িক ক্যারিয়ার।এই সকল ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অনেক সময় সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই আর্থিক দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে তরুন নেতৃত্বদের হয়রানি করা হচ্ছে।

জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা সুরভীকে ৫০ কোটি টাকার চাদাবাজীর মামলায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করার দিন জনৈক মহিলা পুলিশ নাকি বলেছিলেন এই মেয়ের মশারীটাও তো ছেড়া্ ভাঙ্গা ঘরে থাকে। তাহলে ৫০ কোটি টাকা কোথায় রাখলো? মেয়েটি সহজ সরল। তার অপরাধ তিনি জুলাই যোদ্ধা। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা ছিলো তার অপরাধ।মেয়েটি এই অপরাধে বেশ কদিন জেল খাটে। পরবতী জানা যায় একজন সাংবাদিকের সাথে তার মনোমালিন্য হয়েছিলো। সেই সাংবাদিক পরিকল্পিতভাবে পুলিশদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।শুধু তাই নয় অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি নারী যার একুশ বছর বয়স দেখিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়োছিলো। এবং যাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবী প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছিলো তারাও এমন চাঁদা সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানে না। পরবতীতে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ প্রদান করা হয়। প্রকাশ হয়ে পড়ে সাংবাদিক এবং পুলিশ কর্মকর্তার যোগসাজসে মেয়েটিকে বলির পাঠা বানানোর অপচেষ্টা করা হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি অপেক্ষাকৃত নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও অভিযোগ ছড়ানোর ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই প্রোপাগান্ডাগুলোর ধরন, নেপথ্য কারণ এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা জরুরি হয়ে পড়ছে।বিশেষ করে যখন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুজব ও অপপ্রচারের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।এনসিপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঠেকানো।এনসিপি,বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।প্রথাগত বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের জন্য হুমকি মনে করতে পারে এবং তাদের জনসমর্থন কমাতে প্রোপাগান্ডাকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে তাছাড়া এই প্রোপ্রাডান্ডার মাধ্যমে ছাত্র বিপ্লবের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা একটি উদ্দেশ্য। এনসিপি যেহেতু ছাত্র-নেতৃত্বাধীন একটি দল, তাই এই দলের নেতাদের বিতর্কিত করতে পারলে ছাত্র বিপ্লবের নৈতিক ভিত্তি এবং এর অর্জনগুলোকেও দুর্বল করা সম্ভব।

এনসিপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ছড়ানো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি দুঃখজনক দিক। এই ধরনের প্রচারণা কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের ক্ষতি করে না, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন সর্ম্পূণ জনসচেতনতা সৃষ্টি।মিডিয়া ক্যু করে ইতিমধ্যে জনগনের মধ্যে একটি বিভ্রান্ত ছড়ানো সম্ভব হয়েছে।এভাবে জনগন বিভ্রান্ত হতে থাকলে বা বিপ্লবীদের ভূল বুঝলে দেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে।বিপ্লবীরা যে দেশের জনগনের কতবড় উপকার করেছে সেটি জনগনকে বুঝতে হবে।যে ফ্যাসিবাদী শক্তি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা জনমত গড়ে তোলা চেষ্টা করছে তাদেরই মতো যদি যদি সরকার একই প্রচেষ্টা করে তাহলে এদেশে ফ্যাসিবাদের জয় জয়কার হবে। তাই আমি মনে করি বর্তমান সরকার ও মিডিয়াগুলো একটু সচেতন থাকা উচিত। প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত সংস্থার নিরপেক্ষতা।দুর্নীতি দমন কমিশন বা অন্যান্য স্বাধীন তদন্ত সংস্থার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করা।গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এ ক্ষেত্রে বড় ভূমীকা রাখে। গণমাধ্যমকে অবশ্যই কোনো খবর প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং গুজবের প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। জনগণের সচেতনতা সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল লিটারেসি এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে গুজব চেনার উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা গেলে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে এবং একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠনো সম্ভব হবে।

লেখক:রাশিদুল ইসলাম লাবলু
ব্লগার, কলাম লেখক এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর
(সাবেক সংবাদ কর্মী)



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.