নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হার না মানা এক কিংবদন্তি সব্যসাচি লেখক ৷ হারবো না বলেই হাতে কলম তুলে নিয়েছি ৷ অগ্রজদের অনুপ্রেরণা, অনুজদের তাড়না –ই লিখার উপজীব্য ৷

ইসমাঈল সিরাজী 313

একজন সব্যসাচি লিখক ৷

ইসমাঈল সিরাজী 313 › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির কুফল

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:৫৯

ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির পরিণতি

দুই প্রতিবেশির একজন ছিল মুসলমান আর অন্যজন খ্রিস্টান। তারা মাঝেমধ্যেই ইসলাম ধর্ম নিয়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে আলাপ- আলোচনা করত। মুসলমান লোকটি সব সময় ইবাদত-বন্দেগী করত। আলাপ-আলোচনার সময় সে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন দিক এত সুন্দরভাবে তুলে ধরত যে, খ্রিস্টান লোকটি কিছু দিনের মধ্যেই ইসলাম গ্রহণ করল।
এরপর রাত হয়ে যাওয়ায় দুই বন্ধু যার যার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
ঘুমের এক পর্যায়ে নওমুসলিম লোকটি বুঝতে পারল যে, কেউ তার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে। সে দ্রুত বিছানা থেকে দরজার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল- এত রাতে দরজা ধাক্কাচ্ছে কে?
দরজার বাইরে থেকে জবাব এল- আমি তোমার বন্ধু। যার কাছে তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ। তুমি কি আমাকে চিনতে পারছ না?
নওমুসলিম লোকটি বলল: হ্যাঁ, চিনতে পেরেছি। কিন্তু এত রাতে তুমি কেন এসেছ?
মুসলমান লোকটি বলল: আমি এসেছি তোমাকে ফজরের নামায পড়ার জন্য ডাকতে। তাড়াতাড়ি ওঠে ওজু করে নাও। দু’বন্ধু মিলে মসজিদে নামায পড়ব।
নও মুসলিম লোকটি আর কোনো কথা বলে ওজু করে মসজিদের দিকে রওনা হলো।
মসজিদে এসে দু’বন্ধু আর কাউকে দেখতে পেল না। কারণ ফজরের নামাযে সময় তখনও হয়নি। অগত্যা দুই বন্ধু বেশ কিছুক্ষণ নফল নামায আদায় করল। এরপর নামাযের ওয়াক্ত হলে অন্য মুসল্লিদের সঙ্গে তারা ফজরের নামায পড়ল
। নামায শেষে তারা দোয়া-দরুদ পড়া শুরু করল। এভাবে এক সময় সকাল হয়ে গেলে। এবার নওমুসলিম লোকটা মসজিদ থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল। এ সময় বন্ধুটি জিজ্ঞেস করল- কোথায় যাচ্ছ তুমি?
জবাবে নওমুসলিম বলল- কেন, বাড়ি যাচ্ছি! ফজরের নামাযতো পড়লাম।
এখন আর এখানে থাকার দরকার কি?
মুসলমান বন্ধুটি বলল: আর একটু দেরি কর। বেশি করে দোয়া-কালাম পড়- এতে আল্লাহপাক খুব খুশি হবে।
নওমুসলিম লোকটি বলল- ঠিক আছে, তাই হোক।
এরপর আরো কিছুক্ষণ কেটে গেল। এক সময় সূর্য উঠল। নওমুসলিম লোকটি আবারো বাড়ি যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল।
এ সময় মুসলমান লোকটি একটা কুরআন শরীফ নিয়ে এসে বলল: আপাতত কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত কর। এতে করে সূর্যটাও পুরোপুরি উঠে যাবে। আর আমি তোমাকে একটা উপদেশ দিতে চাই। উপদেশটি হ’ল আজ তুমি রোযার নিয়ত করে নাও। তুমি নিশ্চয়ই জেনেছ যে, রোযা অনেক সওয়াবের কাজ!
এভাবে ধীরে ধীরে যোহরের নামাযের সময় হয়ে গেল। দু’বন্ধু একসাথে যোহরের নামায পড়ে নিল। এরপর নওমুসলিম বন্ধুটি আবারো বাড়িতে যেতে চাইল। কিন্তু মুসলমান লোকটা বলল: আর অল্প কিছূক্ষণ দেরি কর। আসরের নামা
যে সময় প্রায় হয়ে আসছে। এ নামাযটাও জামায়াতের সাথে মসজিদে পড়ে নেয়াই ভালো হবে।
আসরের নামায শেষ হবার পর সে তার নওমুসলিম বন্ধুকে বলল: আর একটু পরেই সুর্য ডুবে যাবে।তখন মাগরিবের নামায জামায়াতে পড়ার সওয়াবটাও পাওয়া যাবে।
মাগরিবের নামাযের পর নতুন মুসলমান লোকটি বাড়ি যেতে চাইল। সারা দিন রোযা রাখার করে সে বাড়িতে গিয়েই ইফতার করবে।
এ সময় মুসলমান লোকটি বাধা দিয়ে বলল: এখন আর এশার নামাযই বাকি আছে। আর খানিকটা অপেক্ষা কর। এশার নামাযটা পড়ে একসাথে বাড়ি যাব।অগত্যা নওমুসলিম লোকটি এক গ্লাস পানি দিয়ে ইফতার সারল।ঘণ্টাখানেক পর এশার নামাযও মসজিদে আদায় করল তারা। এরপর তারা নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেল।বাড়ি গিয়ে নওমুসলিম লোকটি একরাশ বিরক্তি নিয়ে শুয়ে পড়ল।
দ্বিতীয় রাতেও নওমুসলিম লোকটির কানে দরজা খট্খটানির শব্দ এল। সে ঘুম থেকে জেগে জিজ্ঞেস করল- কে ওখানে?
দরজার বাইরে থেকে জবাব এল- আমি তোমার প্রতিবেশি বন্ধু? ওজু করে কাপড়-চোপড় পরে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এস। একসাথে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায আদায় করব।
এ কথা শুনে নওমুসলিম উত্তেজিত হয়ে বলল: “আমি গতকাল মসজিদ থেকে ফিরে আসার সাথে সাথে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছি। তুমি চলে যাও। আর আমার চেয়ে কোনো বেকার লোকের কাছে যাও-যার কাছে নামায, রোজা ও আল্লাহর ইবাদত ছাড়া দুনিয়ার কোনো কাজ নেই।”
এরপর একটু দম নিয়ে সে আবার বলল- “আমি দরিদ্র ও অভাবি একজন মানুষ। তাছাড়া, আমার ওপর আমার পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু তোমার মত ধর্মকর্ম করতে গেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
তাই আমি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছি।” :(
এসব কথার কোনো জবাবই দিতে পারল না দরজার বাইরে দাঁড়ানো লোকটি বরং নিজের বাড়াবাড়ির কথা চিন্তা করে অনুতপ্ত হতে লাগল।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:০৬

মাকছুদুর রহমান বলেছেন: জনাব,প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি অপ্রাসঙ্গিক কথা টি বলার জন্য।
সামুতে রেজিস্ট্রেশন করছি অনেক দিন হয়েছে,এখনো প্রথম পাতায় লেখা প্রকাশের অনুমোদন পাচ্ছিনা। কি করবো? লেখা দিয়েছি,১০ টি,ব্লগে আছি ২ মাসেরও বেশি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.