| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মেঘ বলেছে যাবো যাবো
শরৎ! খুব প্রার্থিত শরৎ! নরম রোদের বিস্তৃতি পাহাড়বালিকার কাঁধ ছুঁয়ে ফিরে যায় মার্সেনারি পাখিদের ডানায় বর্ষণের পাঠশালা শেষ হয়ে গেলে সব মেঘেরা যায় পাহাড়ে বেড়াতে তখন এ্যামেচার কিছু মেঘ এসে ভীড় জমায় আমার জানলায় শরতের ক্যানভাসে আমি আর আমার জানলাবর্তী মেঘ... মেঘগুলো শুধু বলে যাবো যাবো ... --- অমিত চক্রবর্তী
দুই বন্ধুর রাতের খাবার প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো ততক্ষণে। রেস্তোরাঁর কাঁচের জানালা দিয়ে তারা দেখতে পাচ্ছিলো বাইরের রাস্তা, জনসমাগম। প্যারিস শহরের কোনও এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যার মৃদুমন্দ বাতাস এসে আলতো পরশ বোলাচ্ছিলো তাদের গায়। এমন সন্ধ্যায় ঘরে বসে থাকতে মন চায় না। ইচ্ছের ডানাগুলো মেলে দিয়ে ঘুরতে মন চায়, গাছের তলায় কিংবা নদীতীরে জোছনার আলোয় বসে ঘাসপোকা আর লার্ক পাখির সাথে সময় কাটাতে সাধ জাগে।
সেই দুই বন্ধুর একজন, হেনরী সিমন, গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো--- "নাহ... বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। আগেকার দিনে এমন সন্ধ্যায় নিজেকে আমার কত পরিপূর্ণ, কত প্রাণবন্ত মনে হতো, অথচ এখন, কেন যেন বড় অনুতাপ হয়। ... জীবনটা আসলেই কত ছোট!"
বছর পঁয়তাল্লিশেক বয়স , বেশ একমাথা টাক এবং ভারী স্বাস্থ্য ছিলো তার।
অপর বন্ধুটি- পিয়েরে গার্নিয়ার, সে ছিলো বয়সে কিছু বড় কিন্তু অনেকটা হালকা পাতলা , এবং তুলনামূলক ঝকঝকে চেহারার। সে জবাব দিলোঃ
"দ্যাখো বাপু, আমারও বয়স হয়েছে কিন্তু নিজে সেটা বুঝতেই পারিনি। আমি চিরকাল হাসিখুশি, স্বাস্থ্যবান, প্রাণচঞ্চল ছিলাম। মানুষ প্রত্যেক দিন নিজেকে আয়নায় দ্যাখে তো, তাই নিজের মধ্যেকার পরিবর্তনটা সে চট করে ধরতে পারে না--- ধরতে পারে না কারণ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটা খুব ধীর কিন্তু নিয়মিত, এবং এই প্রক্রিয়াটা মানুষের বাহ্যিক রূপটাকে এমনভাবে বদলে দেয় যে মানুষ পুরো ব্যাপারটা টেরও পায় না! যদি নেহাতই কেউ টের পেতে চায় তাহলে তাকে যা করতে হবে তা হলো, ৬ মাস আয়নার দিকে তাকানোই যাবে না। তারপর ঠিক ছয়মাস পর যেদিন আয়নার সামনে দাঁড়াবে সেদিন... ওহ, সে এক রামধাক্কা বটে!
মেয়েদের কথাই ভাবো একবার। কি করুণ অবস্থা এদের! এদের সব আনন্দ, ক্ষমতা এবং মনোযোগের উৎস হলো তাদের রূপ, সারাটা জীবন এদের শুধু কাটে নিজের রূপের চিন্তা করে, অথচ তাদের রূপ সারাজীবনে সাকূল্যে টেকে কতদিন? বড়জোর ১০ বছর, নাকি?
তো যেমনটি বললাম, আমি বুড়ো হয়েছি নিজেও বুঝতে পারিনি, ৫০বছর বয়েসেও আমি সত্যিই নিজেকে যুবক ভাবতাম। শারীরিকভাবে নিজেকে একটুও দুর্বল মনে হতো না, খুব সুখী এবং পরিতৃপ্ত মনে হতো।
কিন্তু সত্যি যখন বুড়ো হয়ে যাওয়ার উপলব্ধিটা হলো, এত অদ্ভুতভাবে হঠাৎ করে অনুভূতিটার সাথে আমার পরিচয় হলো যে আমি প্রায় ৬ মাস সেই ভয়ঙ্কর বোধটা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। আমার যে সময় ফুরিয়ে এসেছে সেই বোধের তীব্রতাটা আমাকে একেবারে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো।
আর দশটা পুরুষ মানুষের মত আমিও প্রেমে পড়েছি। সত্যি বলতে কি, পড়েছি অনেকবারই কিন্তু তার মধ্যে একটা ছিলো সবগুলোর চেয়ে আলাদা।
তার সাথে আমার প্রথম দেখা হিয়েছিলো ইত্রেতাত নামক এক সমুদ্রতীরে। সে প্রায় ১২ বছর আগের কথা, যুদ্ধের ঠিক পরপরই ছিলো সময়টা। সকালে স্নান করার সময়টায় ঐ জায়গাটা বড় অদ্ভুত সুন্দর লাগতো। জায়গাটা ছোটখাট, আকারে খানিকটা ঘোড়ার খুরের মত, চারদিকে পাহাড় ঘেরা, পাহাড়গুলোয় রহস্যময় সব গর্ত থাকতো। দু'টো পাহাড় ছিলো সেখানে, তার মধ্যে একটা অনেকখানি লম্বা হয়ে সমুদ্রের ভেতরে চলে এসেছিলো দৈত্যর পায়ের মত, আরেকটা ছিলো অনেক নিরেট ধরণের কিন্তু আকারে ছোট। মহিলারা বড় বড় উঁচু উঁচু পাথরের খাঁজে বালুবেলায় এসে জড়ো হতো, সেখানে তারা তাদের স্নানের পোশাকগুলো বাগানের মত করে সাজিয়ে রাখতো। যখন প্রখর রোদ এসে সমুদ্রের নীল-সবুজ জলে, একপাশে বিশ্রামের জন্য রাখা বড় বড় রং-বেরংয়ের ছাতাগুলোর ওপর পড়তো তখন চারপাশটা ভারি মায়াময় আর মনোরম লাগতো। প্রকৃতি যেন হেসে উঠতো আপনমনে। জলের ধারে বসে আপনমনে স্নানরতাদের দেখতে ভালো লাগতো। স্নানের রোব পরে মেয়েরা একে একে আসতো, তারপর জলে নেমে ঠিক ঢেউয়ের ফেনার কাছাকাছি এসে আলতো করে সেটা খুলে ছুঁড়ে দিতো... তারপর ছোট ছোট পা ফেলে খানিকটা দৌড়ে যেতো আরও গভীরে। কিছুক্ষণ জলের সাথে খেলা করে তারপর ফিরে আসতো হাঁপাতে হাঁপাতে।
খুব কম মেয়েই সত্যিকারভাবে স্নান করার আনন্দটা নিতে পারতো। সমুদ্রস্নান ব্যাপারটাকে অনেকটা পরীক্ষার মত বলা যায় কারণ সবার শরীর এই ব্যাপারটা নিতে পারে না, কাজেই এই একটা জায়গায় এসে মোটামুটি পায়ের গোড়ালি থেকে গলা পর্যন্ত একটা টেস্ট হয়ে যেতো। যদিও সমুদ্রস্নান নাজুক ত্বকের জন্য খুব উপকারী ছিলোতবু অনেকেরই পানি থেকে উঠে আসার পর অনেক ধরণের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতো।
প্রথম যখন সেই সুযৌবনা মেয়েটিকে আমি জলের মধ্যে দেখলাম, আমার এত তীব্র একটা ভালোলাগার, আনন্দের অনুভূতি হলো... স্নান নামক সেই পরীক্ষায় মেয়েটি খুব ভালোভাবে উতরে গিয়েছিলো। কিছু কিছু মানুষের মুখ আছে প্রথম দর্শনেই অদ্ভুত ভালো লেগে যায়, মনে হয়- হ্যাঁ, এই মেয়েটিকে ভালোবাসার জন্যই তো আমি পৃথিবীতে এসেছি! আমারও ঠিক সেরকমই মনে হয়েছিলো, আমি একেবারে বাকরূদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম।
তারপর একসময় তার সাথে আমার পরিচয় হলো, আর পরিচয় হওয়ার পরেই আমার এমন বেহাল দশা হলো যা আর কখনও হয়নি! আমার মনটা তার জন্য বড় ছটফট করতো। এভাবে কায়মনোবাক্যে একজন রমণীর বশ্যতা স্বীকার করার অনুভূতিটা খুব আনন্দের হলেও একই সাথে খুব তীব্র যন্ত্রণারও বটে। অনুভূতিটাকে প্রায় টর্চারের পর্যায়ে ফেলা যায়, আবার ভালোও লাগে। তার চেহারা, তার হাসি, তার হাওয়ায় ওড়া চুল, তার মুখের ছোট ছোট রেখাগুলো, তার শরীরের সামান্যতমও আন্দোলনও আমাকে আনন্দ দিতো-কষ্ট দিতো- আমাকে পাগল করতো, আমার ভেতরটা ছেয়ে ফেলতো। তার অঙ্গভঙ্গী, তার স্বভাব (এমনকি তার পোশাকগুলোও, মনে হতো যেন সে ঐ পোশাকগুলো পরে থাকলে সেগুলো থেকে অন্যরকম এক সৌন্দর্য বিচ্ছুরিত হয়!) সবকিছু আমাকে প্রায় আচ্ছন্ন করে ফেলছিলো। ঘরের কোনও আসবাবে তার মাথার স্কার্ফের ছায়া পড়লেও বা সে তার হাতের গ্লাভসগুলো খুলে চেয়ারের ওপর রাখলেও আমার মনটা দুর্বল হয়ে যেতো। তার গাউনগুলো আমার কাছে অতুলনীয় ছিলো। তার মাথার টুপিটারও আমার কাছে জুড়ি মেলা ভার ছিলো।
সে বিবাহিতা ছিলো, তবে তার স্বামী শুধুমাত্র শনিবারে আসতো আবার সোমবারেই চলে যেতো। জানি না কেন লোকটার প্রতি আমার কোনওরকম ঈর্ষাই হতো না। কোন সৃষ্টিই কখনো আমার কাছে তুচ্ছ মনে হয় নি এই জীবনে, কিন্তু এই মানুষটার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য নিজেকে নিজের কাছে ওদের চেয়েও ছোট মনে হতো।
আর সেই মেয়েটি... আমি তাকে কি পাগলের মত ভালোই না বাসতাম! কি অদ্ভুত সুন্দর, মায়াবী আর তারুণ্যে ভরপুর ছিলো সে। সে যেন আমার কাছে ঠিক সৌন্দর্য সৌম্যতা আর সজীবতার সংজ্ঞা ছিলো। এর আগে যেন কোনও মানবীর রূপ-রঙ-মেধা-সৌকর্য-লাবণ্য- কমনীয়তা একই সাথে এত তীব্রভাবে এসে আমার চোখে এসে ধরা দেয়নি! এর আগে কখনও কারও গালের খাঁজ, কারও ঠোঁটের ওঠানামা, কারও কানের গোলাপি আভা, কারও নাকের মত এত সামান্য একটা অঙ্গের ভাঁজ আমাকে এমন মাতাল করে দেয়নি।
এমনি ভাবে তিন মাস কেটে গেলো। তারপর একদিন তীব্র বিষাদাক্রান্ত হয়ে আমাকে পাড়ি দিতে হলো আমেরিকার উদ্দেশ্যে। চলে এলাম ঠিকই কিন্তু তার স্মৃতি আমার মস্তিষ্কে পালাপাকিভাবে স্থায়ী হয়ে গেলো। অতদূরে থেকেও আমি তার জন্য ঠিক ততখানিই পাগল ছিলাম যতখানি তার কাছাকাছি থাকার সময়ে ছিলাম। বছরের পর বছর কেটে গেলো, তবু আমি তাকে একটুও ভুলতে পারলাম না। তার সেই অসাধারণ রূপের ছটা যেন আমার চোখের এবং মনের আয়নায় বিজয়ীর মত আসন করে নিয়েছিলো। তার প্রতি আমার ভালোবাসাটা তখনও সত্যি ছিলো, ঠিক যেমন মানুষের তার নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং আনন্দময় মুহূর্তগুলির প্রতি এক ধরণের কোমল ভালোবাসা থাকে, ঠিক তেমন।
সমগ্র জীবনের সাথে তুলনা করলে ১২ বছর মোটেও এমন কোনও দীর্ঘ সময় নয়। মানুষ সহসা বুঝতেও পারে না যে কোথা দিয়ে এতটা সময় চলে গেলো। একটার পর একটা বছর চলে যায়, কখনও মনে হয় ধীরে যাচ্ছে, আবার কখনও মনে হয় জোর গতিতে যাচ্ছে। প্রতিটা বছরই লম্বা মনে হয় আবার যেন খুব দ্রুত ফুরিয়েও গেলো মনে হয়। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে যেতে যে ছাপটুকু সময় রেখে যায় তা খুবই সামান্য, কয়েক বছর পর একসময় পেছন ফিরে তাকালে একজন মানুষের কিছুই চোখে পড়ে না, এবং সে কতটা বুড়ো হয়েছে সেটাও বুঝতে পারে না। সত্যিই আমার একেকসময় মনে হতো যেন ১২বছর নয়, ইত্রেতাত এর সেই মায়াবী বালুকাবেলা যেন আমি ছেড়ে এসেছি মাত্র কয়েক মাস হলো।
গেলো বসন্তে আমার একদিন কিছু বন্ধুবান্ধবের সাথে মেজোঁ-লাফিত এ খাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো।
ঠিক ট্রেনটা ছাড়ার মুহূর্তে একজন মোটাসোটা বিশাল বপুধারী মহিলা চারটা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আমার বগিতে ঢুকলো। আমি মহিলার মুখের দিকে একবার তাকালাম, ইয়া বড় চাঁদের মত গোল একটা মুখ, বহু কষ্টে একটা রিবনওয়ালা টুপির মধ্যে সেটাকে আঁটানো হয়েছে।
বেচারী হাসফাঁস করে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলো, তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে উঠতে গিয়ে তার প্রায় দমবন্ধ হয়ে আসার মত অবস্থা। বাচ্চাগুলো কথা বলতে শুরু করলো। আমি খবরের কাগজটা খুলে পড়তে লাগলাম।
অ্যাসনিয়েরেস পার হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ আমার সেই প্রতিবেশিনী আমার দিকে ফিরে বললো, "যদি কিছু মনে না করেন... আপনি... মঁসিয়ে গার্নিয়ের নন?"
"হ্যাঁ, আমিই।"
আমার কথা শুনে সে হাসতে লাগলো। সেটা একজন হাসিখুশি মহিলার আনন্দের হাসি নিশ্চয়ই কিন্তু তার মাঝেও কোথাও যেন একটা কষ্ট মাখা ছিলো।
"তুমি বোধহয় আমাকে চিনতে পারোনি!" ...
আমার একটু সংকোচ হচ্ছিলো। মুখটা খানিকটা চেনা চেনা মনে হচ্ছিলো কিন্তু কবে দেখেছি বা কোথায় দেখেছি কিছুই মনে করতে পারছিলাম না। তাই উত্তর দিলামঃ
"হ্যাঁ, মানে... না... আমি আপনাকে দেখেছি নিশ্চয়ই... কিন্তু নামটা ঠিক... মনে করতে পারছি না।"
সে একটু লজ্জা পেয়ে বললো "আমি মিসেস জুলি লেফেরে!"
এতবড় ধাক্কা আমি জীবনেও খাইনি! মনে হলো যেন আমার চোখের ওপর কেউ খুব নির্দয়ভাবে একটা পর্দা টেনে ছিঁড়ে ফেললো। এমন একটা হৃদয়বিদারক সত্য উদ্ঘাটনের মত শক্তি আমার মনের একেবারেই ছিলো না।
আর এই কিনা সে! এই মোটা, ঢাউস দেহধারী... সে! শেষবার যখন আমি তাকে দেখি তারপর সে এই ৪ সন্তানের মা হয়েছে। তার মত তার বাচ্চাগুলোকে দেখেও আমি খুবই অবাক হলাম। সেই ৪টি মেয়ে এই মহিলারই সন্তান, এই মহিলারই অংশ। বেশ বড় হয়ে গেছে তারা ততদিনে। আর তার সেই অদ্ভুত কোমল সৌন্দর্য আর কমনীয়তার ছিঁটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই তখন। আমার শুধু মনে হচ্ছিলো যেন এই তো গতকালই আমি তাকে দেখেছি আর আজ আবার দেখছি, অথচ এত পার্থক্য! এও কি সম্ভব! তীব্র দুঃখে আমার মনটা ছেয়ে গেলো... সেই সাথে প্রকৃতির এহেন বিরূপ আচরণ দেখে অসম্ভব রাগও হতে লাগলো, কেমন যেন এক অক্ষম আক্রোশে আমার ভেতরটা ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে লাগলো।
হতবিহবল হয়ে আমি আবার তাকালাম তার দিকে। তারপর একবার আমার চোখ পড়লো তার হাতের দিকে, একবার আমার হাতের দিকে। নিজের অজান্তেই চোখে পানি চলে এলো আমার। তার সেই হারিয়ে যাওয়া যৌবনের জন্য কাঁদছিলাম আমি। আমার শুধু মনে হচ্ছিলো এই বিশালদেহী মহিলাটিকে আমি চিনি না।
সেও অনেক উচ্ছসিত ছিলো। একটু থেমে থেমে বললোঃ
"আমি একেবারে বদলে গেছি, না? কিছু তো বলার নেই... সবকিছুরই একটা সময় থাকে, তাই না বলো? দ্যাখো, আমি মা হয়েছি... আর কিছু নয়, শুধু একজন ভালো মা! আর যা কিছু ছিলো আমার জীবনে সবকিছুকে বিদায় জানিয়েছি। ওহ... আমি আশাও করিনি যে এতবছর পর তুমি আমাকে দেখলে চিনতে পারবে। তুমিও তো অনেক বদলে গেছো। এটা সত্যিই তুমি কিনা, আমার কোনও ভুল হচ্ছে কিনা সেটা ধরতেই আমার অনেক সময় লেগে গেছে। তোমার চুলও তো সব পেকে গেছে! ১২ বছর কেটে গেছে... ভেবে দ্যাখো, ১২ বছর! আমার বড় মেয়েটার বয়সই এখন ১০!"
আমি তার বড় মেয়েটার দিকে তাকালাম। তার মধ্যে আমি তার মায়ের সেই সৌন্দর্যের কিছু ছোঁয়া খুঁজে পেলাম কিন্তু তখনও সেই সৌন্দর্যের মধ্যে খানিকটা অপূর্ণতা ছিলো, অদূর ভবিষ্যতেই যার পূর্ণতার আশা দেখা যাচ্ছিলো। জীবনটা আমার কাছে জোর গতিতে ছুটে চলা একটা ট্রেনের মতই মনে হচ্ছিলো তখন।
ততক্ষণে আমরা মেজোঁ-লাফিত এ পৌঁছে গেছি। আমি আমার সেই পুরনো বান্ধবীটির হাতে চুমু খেলাম আলতো করে। আমার অনুভূতিগুলো এত নির্মমভাবে আহত হয়েছিলো যে আমি কথা বলার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম।
তারপর অনেক রাতে, নিজের ঘরে ফিরে, বহু বছর পর আমি আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। তখন আমার মনে পড়লো আমি আগে কেমন ছিলাম, আমি যেন মনের আয়নায় দেখতে পেলাম কেমন ছিলো আমার সেই কালো চুল আর খয়েরি গোঁফ। এবং সত্যিই আমি তখন আবিষ্কার করলাম আমি ঠিক কতটা বদলে গেছি, বুড়ো হয়ে গেছি।
সময় আমাকে বিদায় জানিয়েছে।"
... ... ...
মূল নামঃ গী দ্য মোপাসাঁ
ছদ্ম নামঃ জোসেফ প্রুনিয়ের, গী দ্য ভলম্যান্ট, মফ্রিনিউস ইত্যাদি।
জন্মঃ ৫ই অগাস্ট ১৮৫০, শাতো দে মেরোমেসনিল, ফ্রান্স
লিখেছেনঃ ছোট গল্প, উপন্যাস ও কবিতা
কাজ করেছেন প্রকৃতি ও বাস্তবতা (Naturalism & Realism) নিয়ে
প্রতিভাবান এই লেখক ৬ই জুলাই ১৮৯৩ সালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে প্যাসি, ফ্রান্সে আত্মহত্যা করেন।
মূল লেখার লিঙ্ক
২১ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৭
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
আমার ব্লগে স্বাগতম।
২|
২১ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৫
রিয়েল ডেমোন বলেছেন: দারুন খুটিয়ে খুটিয়ে পড়লাম, আমি প্যারিস এ আছি। মিরোমেসনির ঐ রাজার বাড়ির পাশে প্রায় সময়ই যাওয়া হয়।
অনুবাদ দারুন লাগলো। ![]()
২১ শে মে, ২০১১ রাত ৮:০১
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: বাহ, আপনার অভিজ্ঞতাটি নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ!
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন।
৩|
২১ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৬
সকাল রয় বলেছেন:
সুন্দরম!!
২১ শে মে, ২০১১ রাত ৮:০১
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: ধন্যবাদম!
৪|
২১ শে মে, ২০১১ রাত ৯:০২
শেখ আমিনুল ইসলাম বলেছেন: অসাধারণ! অনেক অনেক ভালো লেগেছে আপা। গাই ডি মোপাসা এত গভীর অনুভূতি নিয়ে লিখতেন, উনার গল্পগুলো অনুবাদ করা খুবই কষ্টসাধ্য। সেটাই অসাধারণভাবে করেছেন আপা। কৃতজ্ঞতা ![]()
আমি ফেয়ারওয়েল আর ডায়মন্ড নেকলেস অনুবাদ শুরু করেছিলাম। কিন্তু কঠিন ভেবে মাঝ পথে হাল ছেড়ে দিয়েছি। আমার অনুবাদের প্রথম দুই লাইনের অনুবাদ শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছি না আপা
"দুই বন্ধুর খাওয়া প্রায় শেষের দিকে। রেস্তোরাঁর জানালা দিয়ে তাঁরা চাইলেই জনাকীর্ণ প্রধান সড়কটি দেখতে পাবে, অনুভব করতে পারবে প্যারিসের উপর দিয়ে বয়ে আসা গ্রীষ্মের সন্ধ্যার উষ্ণ মৃদুমন্দ বাতাসকে। এমন একটা অনভূতি আপনার মনে আসবে, যেন কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করবে, জানতে ইচ্ছে করবে না কোথায়, হয়ত কোনো গাছের নীচে; স্বপ্নে এসে ছুঁয়ে যাবে পূর্ণিমার আলোয় ভিজে যাওয়া নদীগুলো, অদ্ভুত সব জোনাকপোকা আর গানের পাখিরা। "
২১ শে মে, ২০১১ রাত ১১:২১
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: হ্যাঁ আপনারটাও ভালো হয়েছে তো। শুধু শুধুই মাঝপথে হাল ছেড়ে দিয়েছেন আমিনুল... ভেবে দেখুন- আমরা ক'জনই বা আছি যারা ইন্টারনেটে অনুবাদ নিয়ে কাজ করি? আমরাও যদি হাল ছেড়ে দিই তাহলে কিভাবে হবে? কাজেই কাজটা থামিয়ে না দিয়ে আবারও শুরু করবেন এবং কন্টিনিউ করবেন, এই হলো আমার অনুরোধ। ![]()
৫|
২১ শে মে, ২০১১ রাত ৯:১৪
সায়েম মুন বলেছেন: আপনার এই অনুবাদটা তো আমি আগেই পড়েছি। ঝরঝরে ল্যাখছেন তাও জানাইছি
কিপ ইট আপ।![]()
২১ শে মে, ২০১১ রাত ১১:২৭
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: থ্যাঙ্কু হে মুনাপু! অনেক সাহস পাইলাম আপ্নের কথায়।
৬|
২২ শে মে, ২০১১ রাত ১২:৪০
আলিম আল রাজি বলেছেন: :O চোখ কপালে। এইটা কার পোস্ট। আপু এটা কিভাবে সম্ভব হলো বলেন তো। আপনি পোস্ট দিয়েছেন? অসম্ভব। অবিশ্বাস্য।
২২ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৫৬
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: ভাইয়া আপনি আমাকে 'আপনি' করে বলছেন? এও যে অবিশ্বাস্য!
২২ শে মে, ২০১১ সকাল ১০:০৫
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: এর আগেও আমি একটা পোস্ট দিয়েছিলাম, সেটাও তো দেখেননি ভাইয়া! প্রেমে পড়লে দেখি মানুষ আসলেই জগৎ সংসার সব ভুল মেরে বসে!
৭|
২২ শে মে, ২০১১ সকাল ১১:২২
আলিম আল রাজি বলেছেন: ভালো লেগেছে বেশ। অনুবাদটা ঝরঝরে। সাবলিল।
২২ শে মে, ২০১১ সকাল ১১:৪০
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: থ্যাঙ্কস আ লট! ![]()
৮|
২২ শে মে, ২০১১ দুপুর ১২:০১
গানচিল বলেছেন: খুব সুন্দর একটা গল্প মেঘ। আর আপনার গদ্য লেখার হাত ও বেশ ভাল।
২২ শে মে, ২০১১ দুপুর ১২:০২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: গদ্য লেখা! নাকি অনুবাদ করা! ![]()
৯|
২২ শে মে, ২০১১ দুপুর ১২:০৩
আমি ২৪৪১১৩৯ থেকে বলছি বলেছেন: ভালো লাগলো অনুবাদ।
২২ শে মে, ২০১১ দুপুর ১২:১৬
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ!
১০|
২২ শে মে, ২০১১ দুপুর ১২:৫৬
গানচিল বলেছেন: অনুবাদ তো অবশ্যই (যা শিরোনামেই দেখছি)....কিন্তু কোন অনুবাদকে সাবলীলভাবে প্রকাশ করার জন্য ভাল গদ্য লেখার হাতও তো চাই !
২২ শে মে, ২০১১ দুপুর ১:১১
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: হাহাহা! ওয়েল সেইড ![]()
১১|
২২ শে মে, ২০১১ বিকাল ৪:২৩
রেজোওয়ানা বলেছেন: কি নির্মম বাস্তবতা! সময় সবাইকেই এক সময়ে বিদায় জানায়!
অনুবাদ অন্য যে কোন বারের তুলনার আরও ভাল হয়েছে......
২২ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৯
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: বাপ্রে এ যে দেখি বিশাল কম্পলিমেন্ট! ![]()
১২|
২২ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৪
Dee Dee বলেছেন: অনুবাদটা অনেক ভালো লাগলো আপু!
২৩ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৩২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ডি ডি! ![]()
১৩|
২২ শে মে, ২০১১ রাত ৯:১৫
কথক পলাশ বলেছেন: এই পোস্টে কমেন্ট করার জন্য গতকাল থেকে মুখিয়ে আছি। ছোট গল্পের এক অনন্য শিল্পী মোপাসাঁ। আর তার গল্পের অনুবাদ করেছেন আমাদের ভেবুপা। ঝরঝরে হয়েছে অনুবাদ। এমনিতেই ফরাসী আর রুশ গল্পের অনুবাদ করা খুব কঠিন। ওদের এমন কিছু শব্দ থাকে-যা দু তিন লাইনের অনুবাদেও কুলোয় না। তার মধ্যে আমাদের হাতে আসে ইংলিশের ফিল্টার হয়ে। মানে লেবু চিপতে চিপতে তিতা হবার পর।
আপনার অনুবাদে সেই স্বাদটা পেলাম।
পড়ে তৃপ্ত হবার মত।
এবং আমি তৃপ্ত।
২৩ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৩৩
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: হাহাহা! থ্যাঙ্কস পলাশ ভ্রাতা। লেবু চিপে তিতে করার ব্যাখ্যাটা খুব মনে ধরলো। ![]()
১৪|
২২ শে মে, ২০১১ রাত ৯:৩৪
মাহী ফ্লোরা বলেছেন: গল্পটি এত চমৎকার করে উপস্থাপন করেছেন আপু। সত্যি! আচ্ছা এই ধরনের গল্প কি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা আপু?ফরাসী এই লেখক কি তাঁর ভাষাতে গল্প লিখতেন নাকি ইংরেজিতে?
২৩ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৩৫
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: লেখক তো মাতৃভাষাতেই লিখতেন, কিন্তু পরে সেগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে, আর আমরা সেই ইংরেজি থেকে বাংলা করার দুঃসাহস দেখিয়ে যাচ্ছি আর কি। ![]()
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকুন।
১৫|
২২ শে মে, ২০১১ রাত ১০:০২
অনঙ্গ বলেছেন: ভালো লেগেছে অনুবাদ! ![]()
পড়তে পড়তে প্রিয় একটা কবিতার কথা মনে পড়ে গেল।
Click This Link
২৩ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৩৯
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: চমৎকার একটা কবিতা!
শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ, অনঙ্গ। ![]()
ভালো থাকুন।
১৬|
২২ শে মে, ২০১১ রাত ১১:২৭
নস্টালজিক বলেছেন: ফুল মার্কস, জিপসী!
২৩ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৪২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: আচ্ছা! তা গ্রেস মার্ক জোড়া দিয়ে ফুল মার্কস নয় তো?
হাহাহা!
১৭|
২৩ শে মে, ২০১১ রাত ১২:০০
এ আল শরীফ বলেছেন: অসাধারন........
২৩ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৪৩
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, শরীফ।
আমার ব্লগে স্বাগতম।
১৮|
২৩ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:০৪
শামীম শরীফ সুষম বলেছেন: অসাধারণ গল্প , অসামান্য অনুবাদ
২৩ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৪৩
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: থ্যাঙ্কস। অনেকদিন পর দেখলাম আপনাকে। ভালো আছেন?
১৯|
২৩ শে মে, ২০১১ দুপুর ১:১৭
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: মূল লেখার লিঙ্ক দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। দিয়ে দিলাম।
২০|
২৩ শে মে, ২০১১ দুপুর ২:০৯
পাগলমন২০১১ বলেছেন: কষ্ট লাগলো।আমিও বুড়ো হয়ে যাচ্ছি তো তাই।তবুও বাস্তবতাকে তো মেনে নিতেই হবে।এটার নামই বোধ হয় জীবন।অনুবাদ খুব ভাল লাগলো।ভাল লেখা উপহার দেয়ায় ধন্যবাদ।ভাল থাকা হয় যেন।
২৩ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আপনিও অনেক ভালো থাকবেন। ![]()
২১|
২৩ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২১
লিটল হামা বলেছেন: অসময়!
২৩ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৯
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: হ্যাঁ।
২২|
২৪ শে মে, ২০১১ দুপুর ১২:৫১
ফাইরুজ বলেছেন: দারুন লাগলো।
২৪ শে মে, ২০১১ দুপুর ১:০৪
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ফাইরুজ। ![]()
২৩|
২৭ শে মে, ২০১১ সকাল ১১:০৬
দীপান্বিতা বলেছেন: ওহ্! দারুন অনুবাদ করেছেন! ![]()
২৭ শে মে, ২০১১ রাত ১০:২৭
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: হেই দীপা, বেশ কিছুদিন হলো ফেসবুকে অ্যাড করেছি আপনাকে। কিন্তু আপনি তো...
![]()
২৪|
২৭ শে মে, ২০১১ দুপুর ২:০৩
ডেইফ বলেছেন:
মোপাসাঁ আমার প্রিয় লেখকদের মাঝে একজন।
আপনার অনুবাদটি অসম্ভব রকমের সুন্দর হয়েছে। অনুবাদে মূল গল্পের রেশ সবসময়ই একটু পরিবর্তন হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি সত্যিকার গল্পের রেশ টেনে রেখেছেন। ধন্যবাদ রইল।
২৭ শে মে, ২০১১ রাত ১০:২৯
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ডেইফ। এতটা প্রশংসা পেয়ে যাবো ভাবিনি। ![]()
অনেক শুভেচ্ছা রইলো। ভালো থাকুন।
২৫|
২৭ শে মে, ২০১১ রাত ১০:৩৬
নকীবুল বারী বলেছেন: পড়তে চমৎকার লাগলো.............
অনুবাদও হয়েছে সাবলীল
২৭ শে মে, ২০১১ রাত ১০:৩৮
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নকীব। অনেকদিন পর দেখলাম আপনাকে। ভালো আছেন আশা করি।
২৬|
৩০ শে মে, ২০১১ রাত ২:২৫
Dee Dee বলেছেন:
অট- সহজ উপায়ে বেসিক কেমিস্ট্রি জানতে কিলিক দিস লিঙ্ক ( ইউটিউব ভিডিওর সন্ধান পাওয়া গেছে)
৩০ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:৪২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: কিন্তু আমার অফিসে যে ইউটিউব ব্লকানো হয়ে গেছে!
আচ্ছা দেখবো বাসায় গিয়ে দেখতে পারি কিনা।
২৭|
০২ রা জুন, ২০১১ বিকাল ৪:৫৩
সূর্য্য ব্যানার্জী বলেছেন: মোঁপাসার লেখা ভালো লাগে। তার ছোট গল্পের সমগ্রটা পড়েছি অনেক আগে। শেয়ারের জন্য থ্যাঙ্কস।
অনুবাদটাও এগিয়েছে স্বচ্ছন্দ্যগতিতে, সাবলীল! আপনি ভালো অনুবাদ করেন।
০৪ ঠা জুন, ২০১১ দুপুর ১:০১
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সূর্য্য ব্যানার্জী বাবু। ভালো লাগলো আপনার কমপ্লিমেন্ট পেয়ে। আমার ব্লগে স্বাগতম। ![]()
২৮|
০৩ রা জুন, ২০১১ রাত ৯:৪৮
কোহকাফের বাসিন্দা! বলেছেন: আসসালাম
অনুবাদ ভালা হৈছে, গপ্পোটাও পছন্দের ছিল।
মাআসসালাম।
০৪ ঠা জুন, ২০১১ দুপুর ১:০২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: আসসালাম! আছো কেমন? ম্যালাদিন পর দেখলাম।
২৯|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ দুপুর ১২:২৯
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: গল্পটা খুব সুন্দর। আর অনুবাদটা সুন্দর হয়েছে বলেই সেটা বোঝা গেল। বেশ ঝরঝরে। প্রথম তিনটে প্যারার শুরুর কিছু লাইন ছাড়া বোঝার উপায় নেই যে অনুবাদ। ![]()
০৪ ঠা জুন, ২০১১ দুপুর ১:০৫
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: খাইছে রে এ তো দেখি কঠিন সমালোচনা!
মানে আর কেউ এভাবে বলেনি তো তাই বুঝতেও পারিনি।
একটু ধরিয়ে দাও তো দেখি কোথায় কোথায় ওরকম আছে। চেষ্টা করে দেখি কোনও চেঞ্জ আনতে পারি কিনা।
৩০|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ দুপুর ১:১২
শিরীষ বলেছেন:
সব কথা বলা হয়ে গেছে। তারপরও বলি, আপনার হাতে অনুবাদ গুলো ছবি হয়ে ওঠে। শুভেচ্ছা মেঘযাবো।
০৫ ই জুন, ২০১১ রাত ১২:৫৩
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: আবারও অনেক শুভকামনা, প্রিয় কবি। আপনার প্রতিটি মন্তব্য আমার ভেতরে অশেষ অনুপ্রেরণা জাগায়। ![]()
৩১|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ দুপুর ১:৫১
ইষ্টিকুটুম বলেছেন: অনুবাদটা এত সুন্দর বলেই গল্পের ভাব এত সুন্দর লাগলো। ++++
এরকম আরো চাই।
০৫ ই জুন, ২০১১ রাত ২:১৩
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: থ্যাঙ্কস! আপনি এমন করে চোখে বড় একটা চশমা লাগিয়ে ড্যাবড্যাব করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে নিশ্চয়ই এরকম আরও দিতে পারবো। ![]()
৩২|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১৩
নস্টালজিক বলেছেন: তুমি নাই!
০৫ ই জুন, ২০১১ রাত ২:২৪
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: কি যে বলেন কবি ভাই... আমি আছি তো! আমি আছি, আর আমার কিন্তু একটা প্যান্টিনও পাওনা আছে হুঁহুঁ!

৩৩|
০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১১:৩২
সমুদ্র কন্যা বলেছেন: যেমন ধরো প্রথম প্যারায় 'শেষ হয়ে এসেছিলো', 'পাচ্ছিলো', 'বোলাচ্ছিলো'...এগুলো পাস্ট টেন্স না করলে ভাল লাগতো। কারণ পরেই তুমি বলছো, 'গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো'। সাধারণত আমরা এইভাবেই কথা বলি। এইরকমই আরো কয়েকটা জায়গা মিলে ঝিলে গেছে আর কি। এখন পড়লে তুমি বুঝতে পারবা।![]()
তোমার অনুবাদ অনেক ভাল হইছে। তবে এই ছোট্ট দুয়েকটা জায়গায় একটু আটকে যায়। এরপর থেকে ঠিক হয়ে যাবে নিশ্চয়ই। ![]()
০৫ ই জুন, ২০১১ রাত ২:২২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: হেহেহে, এরকম আমার এর আগেও হৈসিলো, এর আগে যে অনুবাদটা করসিলাম (দ্য ড্রিম - ও হেনরী) ঐটায়। সেবার রেজোওয়ানা আপা ব্যাপারটা ধরায়ে দিসিলেন। দেখতেই পাচ্ছো, লাভ বিশেষ হয় নাই (অর্থাৎ অনুবাদকের স্বভাব তেমন একটা শোধরায় নাই)।
আচ্ছা ঠিক আছে, বেটার লাক নেক্সট টাইম।
৩৪|
০৭ ই জুন, ২০১১ সকাল ৭:৫৭
আরিয়ানা বলেছেন: ভাল লাগলো চমৎকার অনুবাদ। ভাল থাকবেন।
০৭ ই জুন, ২০১১ সকাল ১০:১১
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: থ্যাঙ্কস আরিয়ানা। আপনিও ভালো থাকবেন। আমার ব্লগে স্বাগতম। ![]()
৩৫|
০৭ ই জুন, ২০১১ সকাল ৮:১০
সাকিন উল আলম ইভান বলেছেন: ভালো লাগলো ,খুব সুন্দর করে অনুবাদ করেছেন ............
০৭ ই জুন, ২০১১ সকাল ১০:১২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ইভান। টেক কেয়ার। ![]()
৩৬|
১৮ ই জুন, ২০১১ সকাল ৭:৪২
সাইমনরকস বলেছেন: চমৎকার অনুবাদ। এই বর্ষায় তাই আপনার জন্য একটি কবিতা
১৮ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১২:৪৮
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
৩৭|
১৮ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১:০২
স্পর্শহীন কিছুদিন বলেছেন: সুন্দর অনুবাদ। সময় পান কখন?
ভালো আছেন?
১৮ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১:৪৬
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: সময় সাধারণতঃ পাই না, তবে একবার পেলে আর দেরী করি না।
আমি আছি ভালোই। আপনি ভালো?
৩৮|
১৯ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১২:০৩
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন:
অনুবাদটা দারুন লাগছে আপু. ![]()
আপনি কি পণ করেছেন যে আমার ঘরে আর যাবেন না??
অনেক দিন দেখি না আপনাকে।
৩৯|
২০ শে জুন, ২০১১ সকাল ১১:৩৪
নাআমি বলেছেন: অসাধারন অনুবাদ করেছেন......!
খুব ভাল লাগল .........
২০ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১২:৫৯
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নাআমি আপা।
ভালো থাকবেন খুব। ![]()
৪০|
২০ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৪:৩৪
চতুষ্কোণ বলেছেন: অসাধারণ লাগলো। মপাঁসার সাথে পরিচয় স্কুল জীবনে। ছোটগল্পের জনক বলা হয় তাকে। তোমার অনুবাদ মুগ্ধ করলো রিতিমতো।![]()
২০ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৫:৩২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: সর্বনাশ... এত ভালো লেগে যাবে তা তো বুঝিনি! ![]()
৪১|
২৪ শে জুন, ২০১১ রাত ৩:১৬
রুদ্রপ্রতাপ বলেছেন: ???????
২৬ শে জুন, ২০১১ সকাল ১০:০৮
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: কি হলো?
৪২|
২৬ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১:৫৫
আমিনুল ইসলাম বলেছেন: অনুবাদটা সাবলীল আর সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ। ![]()
২৬ শে জুন, ২০১১ দুপুর ২:১৯
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আমিনুল ইসলাম। ভালো থাকবেন।
৪৩|
২৬ শে জুন, ২০১১ দুপুর ২:৪৪
মহাবিশ্ব বলেছেন:
জীবনটাই যে এমন। সময় কাউকেই ছেড়ে কথা বলে না। সবুজ বর্তমানটা পাতা ঝরা গাছে পরিণত হয়ে যায় একসময়।
চমৎকার লাগলো মেঘ। সুন্দর সাবলীল ঝরঝরে।
শুভকামনা রেখে গেলাম। ভালো থাকবেন।
২৬ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৩:১৪
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মহাবিশ্ব দা। নিজের অনুবাদ পড়ে আমি নিজেই বিরক্ত হয়ে যাই। আপনারা ভালো বললে তাও একটু ভালো লাগে। ![]()
৪৪|
২৭ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৩:৩২
নস্টালজিক বলেছেন: নতুন অনুবাদে হাত দাও!
২৭ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৪:৪৭
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: সময়ের বড়ই অভাব ভাইজান! তবে মাঝেমাঝে বান্দরামি- পোংটামি ইত্যাদি মার্কা পোস্ট দিতে ইচ্ছে করে। ওরকমই একটা দিয়ে দেবো ভাবছি।
৪৫|
০৪ ঠা জুলাই, ২০১১ রাত ১১:১৪
স্মৃতির নদীগুলো এলোমেলো... বলেছেন: ভালো লাগলো অনেক। ![]()
০৫ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:০৪
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এলোমেলো!
৪৬|
০৫ ই জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৮
মেঘলা মানুষ বলেছেন: চমৎকার অনুবাদ!
খুব ভালো লাগলো। সামনে আরও পাব আশা রাখছি।
ভাল থাকবেন, শুভেচ্ছা।
০৬ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১২:৪৮
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মেঘলা মানুষ। ভালো লাগলো আপনার মন্তব্যটি পেয়ে। ভালো থাকুন।
৪৭|
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:১৫
কাউসার রুশো বলেছেন: অনেক সুন্দর হয়েছে অনুবাদটা ।
+++ ![]()
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:০২
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ রুশো। ![]()
৪৮|
২৩ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৯:৫৬
ত্রিশোনকু বলেছেন: গী দ্য মোপাসাঁ আমার আতি প্রিয় গল্পকারদের একজন।
আপনার অনুদিত গল্পটির ইংরেজী অনুবাদ পড়েছিলা এক্কে বারে বাচ্চাকালে।
অনুবাদ সপ্রতিভ, সচ্ছন্দ, গতিশীল ও ঝরঝরে।
অভিনন্দন।
আমার মনে হয় অনুবাদে আপনার মন দেয়া প্রয়োজন।
আমি সাধারনতঃ ইংরেজী সাহিত্যের অনুবাদ বা ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুদিত সাহিত্য পড়তে হোঁচট খাই। খটমটে ও গতিহীন লাগে।
২৬ শে অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১:২০
মেঘ বলেছে যাবো যাবো বলেছেন: খুব ডিটেইল কমেন্ট।
খুব ভালো লাগলো।
অনেক ধন্যবাদ আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য।
অনুবাদের কাজ করতে আমার খুবই ভালো লাগে কিন্তু সময়ের অভাবে কুলিয়ে উঠতে পারি না। দেখি, সময়-সুযোগ পেলে আরও দেবো।
ভালো থাকুন।
৪৯|
০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:০৬
বাদ দেন বলেছেন: অনুবাদ জটিল হইসে +++++++
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৩
ইনকগনিটো বলেছেন: সুন্দর অনুবাদ করেছেন। বেশ ভালো লাগলো।