| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জ্যাক স্মিথ
লিখতে না পড়তে ভালো লাগে, বলতে না শুনতে ভালোবাসি, সেমি-ইন্ট্রোভার্ট।

গণতন্ত্রের ধারক এবং বাহক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যেশ্যে একযোগে হামলা চালিয়ে ইরানের প্রথম সারির ৫০ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হত্যা, শতশত স্কুল ছাত্রছাত্রীদের হত্যা, অসংখ্য সিভিলিয়ানস নারীপুরুষ হত্যা করার মাধ্যমে ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে- গত দুই দিন ধরে ইরানের আকাশ থেকে বোমিং করার মাধ্যমে হাজার হাজার নারী-পুরুষের ঘরাবারি জ্বালিয়ে দিয়ে, অসংখ্য অবকাঠামো ধ্বংস করার মধ্যমে তারা ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে গণতন্ত্রের ঝান্ডাধারী ডোনাল ট্রাম্প প্রয়োজনে প্রতিদিন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এবং শিশু হত্যার মাধ্যমে; ইরানকে ধুলির সাথে মিশিয়ে দিয়ে হলেও তিনি ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়াই ছাড়িবেন। জয় হোউক গণতন্ত্রের।
ইরান কিন্তু ইতিমধ্যেই গণতন্ত্রের সুবাস পেতে শুরু করেছে- গতরাতে ইরানের নৌবাহীনীর বেশ কয়েকটি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং IRGC এর সদর দপ্তর শান্তিপূর্ণভাবে গুড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ইরানকে গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হইয়াছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন "ইরান যদি নিজেদের রাক্ষায় আর কোন মিসাইল ছুড়ে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এমন শক্তি প্রদর্শণ করা হাবে যা বিশ্ব দেখেনি কখনো আগে" এভাবেই তিনি শ্বান্তিপূর্ণভাবে ইরানে গণতন্ত্র এক্সপোর্ট করতে চান বি২ বোমারু বিমানের মাধ্যমে।
ছবি: ইরানে গণতন্ত্রের বীজ বপণ হচ্ছে
অবাক করা তথ্য হচ্ছে- গণতন্ত্রের পাদ্রী মিস্টার ট্রাম্প মুখে গণতন্ত্রের বুলি আউরালেও প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজেই গণতন্ত্রেরের ধার ধারেন না- আমেরিকার প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ ইরানে হামলার বিপক্ষে, যুদ্ধ শুরু করতে তিনি কংগ্রেসের অনুমোদনের কোন ধার ধারেন না। সারা বিশ্বের অন্তত ৯০% জনগণই এই হামালার বিপক্ষে কিন্তু তবুও তিনি ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়াই ছাড়িবেন- ইহাই গণতন্ত্রের সুফল, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়।
গণতন্ত্রের (আমেরিকার) আরেক চ্যালা ইউরোপ ( বিশ্বজুড়ে যারা এক সময় ডাকাতি করে বেড়াতো ) গতকাল ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছে- ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র দেশগুলোর উপর মিসাইল হামলা বন্ধ না করে তাহলে তারাও ইরানের উপর শান্তিপুর্ণভাবে হামলা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়াই ছাড়িবে- আর এভাবেই তারা বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের সুবাস ছড়িয়ে দিতে চায়।
সারাবিশ্বে আজ গণতন্ত্রের পতকা পতপত করে উড়িচ্ছে যার কিছু উদাহরণ হচ্ছে-
গত মাসেই আমেরিকা ভেনিজুয়েলাতে গণতন্ত্রের পতকা উড়িয়ে দিয়ে এলো
ইরাকে তো সেই কবেই থেকেই গণতন্ত্রের পতকা পত পত করে উড়ছে,
তাছাড়া- লিবিয়া, সিরিয়া, লেবাননে আজ গণতন্ত্রের পতকা পত পত করে উড়ছে, এ সকল দেশের জনগণ এখন বেশ শান্তিতেই আছে।
সমগ্র আফ্রিকা জুড়ে তো গণতন্ত্রের সুবাস মৌ মৌ করছে।
সাপ্তাহ দুয়েক আগে বাংলাদেশেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলো, আমারও এখন খুব শান্তিতে আছি।
বর্তমান সময়ে বিশ্বের বৃহৎ দুটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত এবং আমেরিকা- জনসংখ্যার দিক দিয়ে ভারত এগিয়ে এবং অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিতে এগিয়ে আমেরিকা। আমেরিকার কাজ যেমন বিশ্বজুড়ে ডাকাতি করা আর ভারতের কাজ হচ্ছে এশিয়ার ছোট ছোট দেশগুলোর উপর খবরদারি করা; এভাবেই বিশ্বের বৃহৎ দুটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের চর্চা করছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন দেশ দুটির ভিতরেও গণতন্ত্রের সঠিক কোন চার্চা নেই। যারা অন্যের সম্পদ লুটপাট করে, বিশ্বজুড়ে ডাকাতি করে বেড়ায়, নিজ দেশের ভিতরেও যাদের গণতন্ত্রের চার্চা নেই সেই তারাই আবার কিভাবে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ছবক দেয়?
বিষয়টা হচ্ছে এমন- একজন চোরের কাছ থেকে ধর্মের বাণী শিখতে হবে, একজন ডাকাতের কাছ থেক নীতি নৈতিকতা শিখতে হবে, একজন ধর্ষণকারীর কাছ থেকে নারীর অধিকার শিখতে হবে- বিষয়গুলো অনাকাংখিত হলেও বিশ্ব কিন্তু ঠিক সে পথেই এগুচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : পোস্ট'টি মূলত গণতন্ত্রকামী'দের উদ্দ্যেশ্যে যারা মনে করে- ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইরানী জনগণের জীবন মান উন্নয়নের উদ্দ্যেশ্য আমেরিকা ইরানে এই হামলা চালিয়েছে।
০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ইরানে কোনোদিন democracy আসবে না- গণতন্ত্র হচ্ছে দেশ শাসনের একটি পদ্ধতি যার প্রথম শর্তই হচ্ছে অন্যের মতামতকে সম্মান জানাতে হবে, কারো উপরে কোন মতবাদ চাপিয়ে দেয়া যাবে না। কিন্তু বর্তমানে democracy চর্চার নামে বিশ্বজুড়ে যা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ democracy এর মূল ভিত্তির পরিপন্থি। Dictatorship action এর মাধ্যমে democracy প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে তুলনা করা যেতে পারে - মদ পান করতে গিয়ে গোঁফ ভিজলো কি না তা নিয়ে চিন্তিত হওয়া, কারণ গোঁফ ভিজিয়ে পানীয় পান করা হারাম।
ইরানের শাসণ পদ্ধতি democratic হবে না monarchic হবে তা নির্ধারণ করার সম্পুর্ণ দায়িত্ব তো ইরানের জনগণের উপরে, বহিঃশক্তি এসে যদি তাদের উপর বল প্রয়োগের মাধ্যমে democracy চাপিয়ে দেয় তাহলে এ তো স্পষ্ট Dictatorship যা democracy মুল ভিত্তির সম্পুর্ণ পরিপন্থি।
গণতন্ত্রকামী'রা না বিশ্বজুড়ে শন্তির ফোঁয়ারা ছোটায়, তাহলে ইরানে কেন এখন হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে? democracy মুখোশের আড়ালে হত্যাযজ্ঞ কি তাদের কাছে বৈধ্য না এটাই democracy আসল রুপ?
বি: দ্র: - আমি কখনোই মনে করি না যে আমেরিকা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে তথা ইরানের জনগণের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে খামোনী সরকারে উপর আক্রমণ শুরু করেছে। এটা একান্তই দুই দেশের অভ্যন্তরীন দ্বন্দের বিষয়।
২|
০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এরপর নাকি আমাদের পিও পাকিসতান কে ধরবে ? আমি বুঝি না যে পাকিসতান কে কেন টারগেট করা হলো ?
০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আয় হায় বলেন কি? তাহলে গণতন্ত্রের গ্রামার লংঘণ হবে না? পকিস্তানে কি গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে অ্যাটম বোমা ফেলা হবে?
০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: কিছু কিছু ক্ষেত্রে- আচার, আচারণ আর রিয়্যাকশন পর্যবেক্ষণর পর আমার কাছে মনে হয় -খেলাফত কায়েমকারী আর গণতন্ত্র কায়েমকারী দুটি জাস্ট মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ.. দুটি গোষ্ঠীর সাইকলোজি অলমোস্ট সেইম।
৩|
০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
১। আহা - আরব বসন্তের মতো ইরানেও বসন্ত বয়ে চলেছে!
২। পৃথিবীতে যতোগুলো মুসলিম দেশে যুদ্ধ হয়েছে, তার জন্য বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ ৫০% দায়ী।
আমার ২ নং মন্তব্যের সাথে একমত হলে হাত তুলে জানাবেন। - তাহলে ইরান নিয়ে আমিও একটি পোস্ট লিখবো।
০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আর কিছুদিন পর থেকে ইরানে গণতন্ত্রের শান্তির পতকা পত পত করে উড়িবে।
পৃথিবীতে যতোগুলো মুসলিম দেশে যুদ্ধ হয়েছে, তার জন্য বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ ৫০% দায়ী। - এই জনগোষ্ঠীর কথা আর বলবেন না, এদের নিয়ে আমি ভীষণ ত্যক্ত এবং বিরক্ত এরা কি চায় তা তারা নিজেরাও জানে না, তবে চাপাবাজিতে আমরা বিশ্বসেরা যা আমি এই পোস্টে দেখিয়েছি। ভারতের পর আমেরিকা-ইসরাইলকেও যেভাবে আমরা শায়েস্তা করতে পারি
সবেমাত্র শতভাগ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলো- এখন আবার এরা পাঁয়তারা শুরু করছে এই সরকারকেও উৎখাত করে ইরানী স্ট্যাইলের ইসলামী সরকার ক্ষমতায় আনবে- কি ভয়াবহ অবস্থা, গণতন্ত্রের এ কি নোংরা চর্চা!!
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইরানে কোনোদিন democracy আসবে না । ইরানের নাগরিক এডুকেটেড হলে কি হবে তারা সবসময় monarchy এবং dictator পরিচালিত হয়েছে ।