নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হে নাবিক, তুমি মিনতি আমার রাখো

আমি একজন সামুদ্রচারী, সাত সাগরে ঘুরে বেড়াই, অনেক দেশ দেখে আক্ষেপ হয়, নিজের দেশের দুরাবস্থার কথা ভেবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাবি, যেমনই হোক, আমার দেশ বাংলাদেশ।

জাহাজী বাউল

যেতে চাই অনেক দূর, পৃথিবীর শেষ প্রান্তে... যেতে যেতে যেতে... হঠাৎ দেখি, ফিরে এসেছি নিজের ঘরেই...

জাহাজী বাউল › বিস্তারিত পোস্টঃ

সচেতনতা মূলক পোস্ট: মেরিন ইঞ্জিনিয়ার / অফিসার হওয়ার জন্য যারা চেষ্টা করছেন

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:০১

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার / অফিসার হওয়ার জন্য যারা চেষ্টা করছেন তাদের জন্য আমার শেষ পোস্ট :
এই টপিকটা নিয়ে শিপ এ থাকাকালিন কিছুটা সচেতনতা তৈরি করার একটা প্ল্যান করেছিলাম , সেই জন্যই শিপ থেকে সাইন অফ করার পরে এই গ্রুপ সহ অন্যান্য গ্রুপে কিছু লিখা দিয়েছিলাম । সেই সুবাদে অনেক ছেলেদের সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয়েছে , যাদের অনেকেই এখন খুব পরিচিত ছোট ভাই হয়ে গেছে। আমার কিছু কথা নিয়ে অনেকের মধ্যে কনফিউসন ছিল , যেটা পরিচয় হওয়ার পর , কথা বলার পর সবার কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। এখন আসল কথায় আসি। সরকারি মেরিন একাডেমির ভর্তি ফলাফল অনেক আগেই প্রকাশ হয়েছে , মনে হয় তাদের ভর্তি কার্যক্রমও শেষ। যারা ভর্তি হয়েছে , সেটা সঠিক না ভুল ছিল এটা সময়ই বলে দিবে। তবে আমার নিজের ছোট ভাই-বোন থাকলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কখনই মেরিন প্রফেসনে আসতে বলতাম না। আজ থেকে ৪-৫ বছর আগে হলে ভিন্ন ব্যাপার ছিল।
যথারীতি সরকারি একাডেমীতে অনেকেই চান্স পায় নি , ঐ সব ছেলে গুলুকে বিভ্রান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে । শুনা যায় বিভিন্ন কোচিং সেন্টার গুলোর সাথে এক ধরনের চুক্তি হয়েছে। এক একটা স্টুডেন্ট দিতে পারলে কিছু কমিসন। অনেক সচেতন মুলক পোস্ট , পেপার এ লিখা সব মিলেয়ে এখন আর মানুষকে রঙ্গিন ফানুশ এর মিথ্যা স্বপ্ন দেখাতে পারছে না বেশিরভাগ প্রাইভেট মেরিন ইন্সিটিউট গুলো । বেশিরভাগ প্রাইভেট একাডেমী নামধারিরা প্রথম ব্যাচ এর ক্যাডেট এখনও জাহাজে পাঠাতে পারে নাই। যেখানে তৃতীয় ব্যাচ বের হওয়ার অপেক্ষায়। বুঝাই যাচ্ছে অনেক গুলো লাইফ , ফ্যামিলির বিশাল এক বোঝা, ফাপর আর টেনশন এ পড়তে যাচ্ছে , সাথে চাকরি না পাওয়ার মানসিক কষ্ট , আত্মীয়স্বজনদের বক্র দৃষ্টি , জবলেস হয়ে থাকার জন্য গার্ল –ফ্রেন্ড হারানর বেদনাতো আছেই। এদের সি-টাইম কতো দিনের আমি ঠিক জানি না । যাদের ১২ মাসের বেশি তাদের ২ টা জাহাজ করতে হবে । এই মার্কেটে ২ টা জাহাজে ক্যাডেট লাইফ করা কিভাবে সম্ভব সেটা চিন্তা করে আমি ভয় পাই । প্রায় ৫৫০ জন (সরকারি-বেসরকারি) ক্যাডেট এর এখনও কোন চাকরি হয় নাই , এরা ১ বছর যাবত বসা। সরকারি মেরিন একাডেমী থেকে যারা কিছুদিন আগে বের হয়েছে তাদের কথা বাদই দিলাম। আর প্রাইভেট মিলিয়ে আরও ২ মাস এর ভিতরে ১০০০ জন মার্কেটে আসবে। এদের সি-টাইম কি করে শেষ হবে ?? আকাশ থেকে শিপ পয়দা করা হবে ?? ২৪ মাস যাদের সি টাইম করতে হবে তাদের দুঃখের কথা বাদই দিলাম।
যারা এই জিনিস গুলো ফেস করছে , অলরেডি এই প্রফেসন এ চলে আসছে তাদের কথা আলাদা । যারা এখনও আসে নাই , এত লিখা-লেখির পরেও দ্বিধা-সংকোচ এ আছে ২০ লাখ টাকা খরচ করে এই প্রফেসনে আসব কি আসব না , তাদের আমি একটা সহজ জিনিস বলি , ধরে নিলাম তোমাকে তারা কোন ভাবে ক্রু হিসাবে , অথবা কোন টাগ বোট এ , না হলে কোন জাহাজে ৫ জন ডেক ক্যাডেট, ৫ জন ইঞ্জিন ক্যাডেট হিসাবে সি-টাইম শেষ করিয়ে দিল ( স্বনাম ধন্য এক এজেঞ্ছি এই ভাবেই লোক উঠাচ্ছে । এদের যখন অনুমোদন দেয়া হয় তখন প্রাইভেট একাডেমীগুলোর প্রতি শর্ত ছিল সি ডি সি হাতে দেয়ার ৬ মাস এর ভিতরে সি টাইম করার জন্য জাহাজে প্রেরন করতে হবে। পাসিং আউট এর ৩ মাস এর ভিতরে সি ডি সি করে দিতে হবে। তার মানে হল পাসিং আউট এর ৯ মাসের মধ্যে জাহাজে পাঠাতে হবে। বেশিরভাগই (৯৮%) এই শর্তপুরন করতে পারেনি। ) এরপরে তুমি ক্লাস-৩ পাস করলা । ক্যাডেট যখন ছিলা তখন তো এক জাহাজে ৫-১০ জন করে সি টাইম শেষ করেছ । অফিসার ও কি ৫-১০ জন হিসাবে একই র‍্যাঙ্কে এ জাহাজে উঠে নাকি ? এটা কি সম্ভব ?? কমন সেন্স ব্যাবহার করো ভাই। আর এই জন্যই ৪০০ এর অধিক ক্লাস-৩ হোল্ডার বসে আছে। আমি যখন গতবছর জাহাজে যাই তখন এই সংখ্যাটা ছিল ২৫০ এর মত ,এক বছর এ সেটা বেরে হয়েছে ৪০০ এর বেশি। তারমানে এত অফিসার এর জন্য চাকরি বাজারে নেই। এখন যারা বিভিন্ন প্রাইভেট অ্যাকাডেমির ক্যাডেট, তারা গিয়ে বলতে পারছ , প্রেসার দিতে পারছ , সি – টাইম শেষ করিয়ে দেয়ার জন্য , যেহেতু তোমরা অনেক টাকা দিয়েছ । ক্লাস-৩ এর পরেও কি সেটা করা যাবে ?? তাঁদের সাথে তোমার চুক্তি সি টাইম শেষ করিয়ে দেয়া পর্যন্ত, এর পরে তোমার কোন দায়িত্ব তারা নিবে না। ক্লাস-৩ এর পরে তুমি একা । আর এই কারনেই ৪০০ এর অধিক জুনিয়র অফিসার বসে আছে , তারা লাখ লাখ টাকার যে স্বপ্নের ফানুশ উড়িয়ে তোমার থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে , যারা বলছে কোন মতে ক্লাস-৩ পাস করলেই লাখ লাখ টাকা , যদি তাই সত্য হতো তাহলে কেন এত গুলো ছেলে পাস করেও চাকরি পাচ্ছে না ??
আসলে চাহিদার থেকে যোগান বেশি হয়ে যাওয়াতে আন্তঃজাতিক ভাবে স্বীকৃত এই প্রফেসনটার সম্মান আজ প্রায় ধুলাতে মিশে গেছে, সাথে দুর্নীতির কথা না হই বাদই দিলাম।
এরপরেও যদি কারও কোন ডাউট থাকে তাহলে ডিপার্টমেনট অফ শিপিং নামে মতিঝিল এ একটা জায়গা আছে । মতিঝিল এর BIWTA ভবন এর ৮ তলা। ঐ খানে আসুন , অনেক ছেলে সি-টাইম শেষ করে ক্লাস-৩ এক্সাম দিচ্ছে , সরাসরি তাঁদের সাথে কথা বলুন , যারা কষ্ট করছে, এক্সাম দিচ্ছে , কিভাবে কতো কষ্ট করে সি-টাইম শেষ করতে হয়েছে, কেমন এখন জব মার্কেট , ক্লাস-৩ করলেই কি লাখ লাখ টাকা , নাকি আবার ক্যাডেট এর মত ২০০ ডলার এর চাকরির জন্য যেতে হচ্ছে , ৯-১০ মাস অপেক্ষা করে আর থাকতে না পেরে। আসুন , কথা বলুন , কনফিউসন দূর করুন। যারা একাডেমি খুলে বসে আছে তারা কিন্তু এখন জব মার্কেটে নেই ; তারা কখনই জানবে না আসল অবস্থা, আর জানলেও আপনাকে বলবে না। তাই নিজেই কথা বলে জান। বুঝতে পারবেন এই মার্কেটে আপনার ২০ লাখ টাকা উঠে আসতে কতো বছর লাগবে। সাথে জানবেন আরও ফাঁকফোকর এই প্রফেসনের। যারা আপনাদের সিনিয়র, আপনাকে তো শোনানো হচ্ছে কাপ্তান, চিফ –ইঞ্জিনিয়ার দের গল্প , সেটা হতে হলে কতো ঘাটের পানি খেয়ে হতে হবে, সব জানতে পারবেন। আপনি কথা তাঁদের সাথেই বলুন যারা এখন মার্কেট আছে , তাঁদের সাথে নয় যারা রিটায়ার করে এখন একাডেমি খুলে বসেছে। দয়া করে কারো রিটায়ারমেন্ট প্রজেক্ট এর ইনভেস্ট এ পরিনত হবেন না।
( কাউকে নিরুৎসাহিত করা এই লিখার উদ্দেশ্য নয় , বরং যে স্বপ্ন নিয়ে আপনি এই প্রফেসনে আসছেন আর বাস্তবতাটা কি ? যা শুনে আসছেন , কিন্তু আসল ব্যাপারটা কি? সেটা জানানোর একটি চেষ্টা এই পোস্ট। যাতে প্রফেসনে আসার পরে আফসোস না করতে হয়। সৎ পথে টাকা উপার্জন এর জন্য আর থেকে ভালো আর কোন প্রফেসন পৃথিবীতে আছে কিনা আমার জানা নাই , তবে সময় এখন খারাপ, তাই সব হারিয়ে কান্না করার থেকে ১০ বার চিন্তা করুন , মধ্যবিত্ত একটি পরিবার এর জন্য ২০ লাখ টাকা অনেক টাকা।)
-- কাজি মোঃ আবু সাইদ Click This Link

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:৫৬

নতুন বলেছেন: কাজের লেখা... সবার সচেতন হওয়া দরকার...

হুজুগে না মেতে বাস্তবতা খোজা উচিত সবার...

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.