| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

আব্দুল মান্নান স্বপন রচিত 'গালি অভিধান' নামক একটা বই পড়েছিলাম বহু আগে। বাঙালি যে গালি জিনিসটাকে অসামাজিকতা হিসেবে গ্রহণ করে পর্দার পেছনে জিনিসটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে, সেটা বোঝা যায় এই অভিধান পড়লেই।
সেদিন স্যার ক্লাসে বলেছিলেন 'অভিমান' শব্দটার কোন আক্ষরিক ইংরেজি অনুবাদ আছে কিনা। সবচে কাছাকাছি ইংরেজি অনুবাদ যেটা পরে আমি খুঁজে বের করেছিলাম, সেটা হলো কোপনতা (touchiness, short tempered); সবাই জানি, আমাদের বাঙালি 'অভিমান' জিনিসটা এই অর্থের ধারেকাছেও যায় না। অভিমান হলো স্ট্রেইট কিছু থাকলে, তাঁর বিপরীত জিনিসটাই। শব্দটার ইংরেজি অনুবাদ না থাকার মূল কারণই হলো, পশ্চিমারা খুবই স্ট্রেইট মানসিকতা ধারণ করে। আমাদের মতো মনে মনে কলা খায় না, দেখিয়েই খায়; গাছে না থাকলে উপোষ থাকে, তবু মনে মনে খায় না। সেন্টিমেন্টাল মানসিকতাই আমাদেরকে অভিমানী বানিয়েছে, একার্থে সেন্টি খেতে বাধ্য করেছে।
বলছি না যে, পশ্চিমারা কথায় কথায় 'ফাক' 'ফাক' করে বলে আমাদেরকেও তা করতে হবে। কিন্তু কিছু জিনিসকে যোগ্য নাম না দিলে আসলেই মানায় না। ভাষার অপমান করা হয়। এপ্রোপ্রিয়েট বলতেও একটা ব্যাপার আছে। পশ্চিমারা মুখের উপর কথা বলে দেখেই আমরা নবাবের সামনে সেজদা থেকে উঠে এখন বসের সামনে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারি। কিছু তো অবশ্যই আছে তাঁদের স্ট্রেইটনেসে, যা আমাদেরকে কিছুটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।
আজ বালকের মুখে 'বাল' শুনেই দেশীয় সাংস্কৃতি গেল গেল রব করে যারা আকাশ নামিয়ে আনছেন, তারা কি কখনো গালিগালাজের শুদ্ধতা নিয়েও ভেবে দেখেছেন?
'বিনয় ও নম্রতা' নামের একটা প্রবন্ধ পড়েছিলাম লুৎফর রহমানের। অতি বিনয়ের প্রতি তার লিখে যাওয়া সতর্কবাণীগুলো আজ মনে পড়ছে। চোরকে চোর না বললে আল্টিমেটলি একটা সময় সে নিজেকে সাধুই ভাবতে শুরু করবে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩২
ওমেরা বলেছেন: জী যা বলেছেন ঠিকই বলেছেন ।