নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের যে বড় ক্ষতি হবে

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩২


জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের সমাজে যে বড় ক্ষতি ও ক্ষত তৈরি হবে, তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো তারা ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই সংবিধান ছিঁড়ে ফেলবে না বা জাতীয় পতাকা পোড়াবে না। কিন্তু নিচের খবরটি পড়ে মনে হল, আমার প্রত্যাশা আরেকটু কমিয়ে নিতে হবে।

ইবনে সিনা ফার্মা, যা জামাতের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত, সেখানে লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স পদের এক চাকরির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে শুধুমাত্র "পুরুষ" এবং "প্র্যাকটিসিং মুসলিম" প্রার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন। এমন বৈষম্যমূলক চাকরির আবেদনের নিয়ম বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। সংবিধান অনুসারে সকল নাগরিক আইনের সামনে সমান এবং লিঙ্গ ও ধর্মভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ।

জামাত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ভেঙে পড়বে। জামাতের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে আছে দেশকে ইসলামী শাসনতন্ত্র বা শরিয়া আদর্শে পরিচালনার নীতি। নাগরিকত্ব আর সমান অধিকারের ভিত্তিতে থাকবে না। তা নৈতিক ও ধর্মীয় যোগ্যতার প্রশ্নে রূপ নেবে। আইন, নীতি ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নাগরিক বা জনসম্মতির বদলে ধর্মীয় ব্যাখ্যার অধীনে চলে যাবে।

দ্বিতীয় পরিবর্তন আসবে নারীর অধিকার ও তাদের জীবিকায়। নারী অধিকারের প্রশ্নে জামাতের অবস্থান হলো, নারীর প্রধান জায়গা পরিবার ও ঘর। কর্মজীবি নারীদের গণিকা ইত্যাদি বলা এবং পরে চাপের মুখে অস্বীকার করার পরেও বার্তাটি স্পষ্ট। ক্ষমতায় গেলে এই বার্তাই রাষ্ট্রীয় নীতি হয়ে উঠবে। নারীর জীবনের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, পোশাক, চলাফেরা, কর্মক্ষেত্র - সবই তাদের নজরদারির অংশ হবে।
জামাত ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘু, আদিবাসী থেকে শুরু করে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠের বাইরের ধর্ম-গোত্র-বর্ণের মানুষ, তারা সবাই প্রান্তিক হয়ে পড়বে। সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুভূতি, ইসলামী মূল্যবোধ - এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে এমন একটি আবহ তৈরি করা হবে, যেখানে রাষ্ট্র হবে একটি নির্দিষ্ট ধর্মবিশ্বাসী বা মতবাদের মানুষের। সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং অন্য বিশ্বাস বা মতবাদের মানুষের নিরাপত্তা শুধু কাগজেই থাকবে, বাস্তবে নয়।

জামাত বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য এবং বহু মতের সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয় না। রাজনীতিকে তারা দেখে বিশেষ ধর্মীয় মতবাদ এবং বিভাজনের চোখে। যুক্তি, আলোচনা, সমালোচনা - এগুলো তাদের বিষয় নয়। তাদের মতে জনসম্মতি বা পাবলিক ওপিনিয়নের বিষয়গুলো সর্বজনগ্রাহ্য যুক্তি দিয়ে নয়, বিশ্বাস দিয়ে বিচার করতে হবে। অতএব, আপনি হয় বিশ্বাসী নয় বিভ্রান্ত। হয় মোমিন নাহলে নাস্তিক। ধর্ষকের সংজ্ঞা নিয়ে আপনার প্রশ্ন করার অধিকার নেই। প্রশ্ন হলো আপনি কি সেই সংজ্ঞায় বিশ্বাস করেন, কি করেন না। বিশ্বাস না করলে আপনি নাস্তিক। এখন আপনাকে হত্যা করা হবে নাকি দোররা মারা হবে, এটা তাদের বিবেচনা। লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, সবার জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। সমালোচনা ইসলামবিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত হবে। বই, নাটক, সিনেমা, গান, সবকিছুর ওপর সেন্সরশিপ বসবে।

গভীর ক্ষতিটা হবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে। জামাত কখনোই মুক্তিযুদ্ধে তাদের দায় স্বীকার করেনি। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভারতীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে চালিয়ে দেয় বা পুনর্ব্যাখ্যা করে। ক্ষমতায় গেলে এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাবে। মুক্তিযুদ্ধের নৈতিক ভিত্তি ঝাপসা হবে এবং ইতিহাস নতুনভাবে লেখা হবে।
জামাত ক্ষমতায় এলে রাজনীতির ভাষা বদলে যাবে। রাজনীতি হবে নৈতিকতার যুদ্ধ - সৎ বনাম অসৎ, মিত্র বনাম শত্রুর যুদ্ধ। ভিন্নমতকে শত্রুতে রূপ দেওয়া হবে, আর সমালোচনাকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হবে। ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্র মানুষকে এক ছাঁচে ফেলতে চায় না। বরং এমন নিয়ম তৈরি করে, যেখানে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সবাই রাষ্ট্রকে নিজের বলে মানতে পারে। রাষ্ট্রের আইন এমন যুক্তির ওপর দাঁড়াতে হয়, যা সব নাগরিক, তাদের ধর্ম বা বিশ্বাস যাই হোক, গ্রহণ করতে পারে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হবে - আমরা তখন আর মানুষ থাকব না। আমাদেরকে নামিয়ে আনা হবে "কম মানুষ", "অল্প মানুষ", "ক্ষীণ মানুষ", "হীন মানুষ", "ক্ষুদ্র মানুষ", "নীচু মানুষ" ইত্যাদির পর্যায়ে। এমন অবস্থায় ভিন্ন মত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, চিন্তা, বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক, সুষ্ঠু ও সুসংগত সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। মানবতা, উন্নত চিন্তা এবং মনুষ্যত্বের সঙ্গে আমাদের সংযোগ তখন ছিন্ন হয়ে যাবে।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জামাত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ভেঙে পড়বে।
...................................................................................................
আমেরিকার স্বার্থ থাকলে অবশ্যই আসতে পারে,
আমাদের কপালে আফগানদের মতো বর্বর জাতি
হওয়ার সুযোগ হচ্ছে ।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

আমেরিকার স্বার্থের বেশ কিছু নমুনা তো ড. ইউনূসই দেখিয়ে গেলেন। কিছু ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা তো আমাদের অজানা নয়।

২| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১২

কামাল১৮ বলেছেন: জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসলে অবস্যই আমাদের মেনেনিতে হবে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: ও আচ্ছা!

৩| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৯

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
জামাত নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক শক্তিশালী হবে যে দেশের ইকোনমির একটা অংশ তারা নিয়ন্ত্রণ করবে শিক্ষ, স্বাস্থ্য, ব্যাংকি খাত। বহি:বিশ্ব ও দেশীয় অভ্যন্তরীণ চাপে হয়তো রাষ্ট্রের মুল ভিত্তি, নারীর অধিকার, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের মতো কোর বিষয়গুলো চাইলে পরিবর্তন করতে পারবে না,‌ তবে এইসব বিষয় নিয়ে তাঁদের ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করবে। ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি যেহেতু তাদের মুল অস্ত্র সমাজে ধর্মীয় উন্মাদনা বৃদ্ধি পাবে। শেখ হাসিনা যেমন দিল্লির সাহায্য নিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে ছিলো, জাশি ক্ষমতা ধরে রাখবে পাকিস্তান এবং তুরস্ক সাহায্য নিয়ে।‌

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: খুব ভালো পর্যবেক্ষন কলিমুদ্দি দফাদার। তাদের অর্থনৈতিক শক্তির বিষয়টা সম্পর্কে আমার খুব বেশি ধারনা নেই। তবে তারা মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান এবং তুরস্ক খুব ভালো বৈদেশিক সম্পর্ক তৈরি করেছে।

তাদের ন্যারেটিভের জায়গাটা মোটামুটি তারা দেখিয়ে দিয়েছে। ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির কিছু ভয়ঙ্কর দিক আছে, যেটা পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরানে ভিন্নভিন্ন ভাবে এবং মাত্রায় প্রকাশ পেয়েছে। আমার মনে হয় বাংলাদেশে আফগানি মডেলটার ভালো প্রসপেক্ট আছে! এটা কেমন হতে পারে সেটা হেফাজতের মামুনুল হককে দেখলে কিছুটা বোঝা যায়।

৪| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৫

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: যৌক্তিক বিশ্লেষণ। কিন্তু এগুলো বোঝার মতো ব্রেন দেশের অধিকাংশেরই নেই। আবার তাদের দোষারোপ করারও সুযোগ কই? বিএনপিকে ভরসা করার জায়গা নেই।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ। আমার মতে বিএনপিকে ভরসা করার কিছুটা জায়গা এখনও আছে। আর কব্বরের অন্ধকারে ঢোকার আগে সবই ভালো।

৫| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, ‘আমার নেত্রী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন খুব কাছে থেকে দেখেছি। আপনারা কী করতে পারেন।’

লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘আপনারা রগ কাটা ছাড়া কী চিনেন? মানুষ খুন করতে পারেন। কত মানুষ খুন করেছেন বলতে পারেন? কত মানুষের রগ কেটেছেন ভুলে গেছেন? আমি সে বিষয়ে বলতে চাই না, কখনো বলিনি। কিন্তু এখন আপনারা আমাকে দিয়ে বলাচ্ছেন।’ :P

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: জামাতের সেই সময়ে সরকারে বেশ কিছু কাজের বিষয়ে আমি অল্প বিস্তর শুনেছি। সত্য মিথ্যা জানা নেই। তার একটা বাবরকে যে কারনে জেল খাটতে হল। আমার মতে, বাবরের উচিত সেগুলো মানুষকে বলে দেওয়া।

৬| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

নারীরা যাবে কই?

তাদের কপালে শনি আছে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫

শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা :) যৌক্তিক প্রশ্ন বটে। তবে আপনি বিষয়টি এভাবে ভাবতেও পারেন - নারীরাই হয়তো এই যাত্রায় আমাদের রক্ষা করতে পারেন। যেখানে ভয়, সেখানেই জয়!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.