নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিঃসঙ্গ পথচারী

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ

তারপরও মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে ঘুরে দাড়াব.....।

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

//১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ ও জীবনের সমীকরণ//

১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনার পর নিখুঁতভাবে তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলো, অতঃপর আশানুরূপ অথবা আশাতীত ফলাফলও এলো। আপাতদৃষ্টিতে সমীকরণের রাইট হ্যান্ড সাইড আর লেফট হ্যান্ড সাইট হয়ে পরলো কেমন যেন ভারসাম্যহীন। স্বল্প মেয়াদে তাই হল আর তাতেই রথী-মহারথী আর নেপথ্যের পরিকল্পকরা খুশিতে বাকবাকুম।

/পনেরোই আগস্টের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু মরেও অমর হয়ে রইলেন। তিনি যে এভাবে অমর হয়ে রইবেন তা কি খুনিদের মস্তিষ্কে ছিল?

খুনিদের বা কথিত সূর্যসন্তানদের জীবন এখন কেমন? সূর্যসন্তান হয়েও তারা ভয় পায় সূর্যের আলো। সূর্যের ভরা আলোয় আশ পাশ, চারিদিক থেকে "খুনি খুনি" শব্দের প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়া বোধকরি সুখকর নয়। অথচ একটা সময় (মানে অনেকটা সময়) তাদের পক্ষে ছিল দেশী-বিদেশীদের অকুণ্ঠ সমর্থন। এমনকি তাদের রক্ষা কবজ হিসেবে একটা আইনও ছিল। সমাজে তারা এখন জীবিত থেকেও মৃতের মত। নয় কি?

আবারও বলছি, একজন মরে অমরত্ব লাভ করলেন আর অপর পক্ষ জীবিত থেকেও মৃত।

/বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুতে সেদিন নিশ্চয়ই খুব উল্লসিত ছিল জুলফিকার আলী ভুট্টো ও তার অনুসারী পাকিস্তানি জনগণ। একটা দেশের অভ্যুদয়ের শুরুতেই এরকম একটা ঘটনা। তাও আবার সরাসরি পাকিস্তানিদের হাত নোংরা করতে হয়নি। কি বিশাল তাদের অর্জন।

আহা...জুলফিকার আলী ভুট্টো যদি জানতেন যে পচাত্তরের আর চার বছর পর তার ভবিতব্য কি? কি অপমানজনকভাবে অসহায়ের মতো ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলে তাকে বিদায় নিতে হয়েছিলো।

অন্যদিকে মৃত্যুর মুহূর্তেও খুনিদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু। পিতার মতোই সন্তানকে (যদিও তারা ছিলো পিতার খুনি) ধমকে ছিলেন। তাদের সাহস ছিলনা বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের জবাব দেবার। তাই গুলি ছুড়ে ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বুকেই গুলি গুলো পেতে নিয়েছিলেন....পিঠে নয়।

/বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য ছিল অপূরণীয় ক্ষতি। শিশু বড় হয়ে নিজের পায়ে দাড়াতে শেখার আগেই হুট করে এতিম হয়ে যাবার মত অবস্থা। এরপরেও পঁচাত্তরের পর পরবর্তী ছেচল্লিশ বছরের মাথায় পাকিস্তান আর বাংলাদেশের তুলনামূলক অবস্থান বিবেচনা করলে হতাশ হওয়ার কিছু দেখিনা। বিভিন্ন সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সূচকে কেবল পাকিস্তান নয় অনেক দেশের সাথেই বাংলাদেশের অগ্রগতির দৃশ্যমান পার্থক্য বিদ্যমান।

নৈতিক অবস্থানের বিষয়টিও আমাদের খুব সচেতনতার সাথে মনে রাখতে হবে। একাত্তরের যুদ্ধ অপরাধ সংগঠন ও পরবর্তীতে পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানিরা এখনও তাদের অপরাধ স্বীকার করেনি। ক্ষমা চাওয়া তো আরো দূরের বিষয়। সুতরাং পাকিস্তানিদের সকল অন্যায় ও অপরাধের কর্মের ভুক্তভোগী হিসেবে বাংলাদেশ নৈতিকভাবে সর্বদা এগিয়ে থাকবে।

কর্মফল (ভালো বা খারাপ কাজের) সবাইকেই ভোগ করতে হয়। একদিন পরেই হোক আর পঞ্চাশ বছর পরেই হোক।

আসলে জীবনের হিসাব নিকাশ কখনো অমীমাংসিত থাকে না। সমীকরণ দুই হাত শেষ পর্যন্ত সমান সমান হয়েই যায়।

নোটঃ
তবে সুনির্দিষ্ট একটি দলের ওপর ১৫ ই আগষ্ট ১৯৭৫ এ ঘটা ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতা আজও চলমান।

/১৫ আগস্ট ১৯৭৫:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে সামরিক অভ্যুত্থানে হত্যা করা হয়।

/২০০৪ সালের ৭ মে:
টঙ্গীর নোয়াগাঁও উচ্চবিদ্যালয় মাঠ (স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাবেশ)। সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন আহসানউল্লাহ মাস্টার (সংসদ সদস্য) এবং ওমর ফারুক রতন (শিক্ষার্থী)।

/২১ আগস্ট ২০০৪:
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ দলের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত ও অনেকে আহত হন।

/২৭ জানুয়ারি ২০০৫:
বৈদ্যের বাজার, হবিগঞ্জ সদর। স্থানীয় আওয়ামী লীগের জনসভা শেষে গাড়িতে ওঠার সময় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। নিহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া, তাঁর ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা এবং স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.