| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সফলতার গল্প শুনতে জাকার্বার্গ, ইলন মাস্ক, বিল গেটসদের দিকেই শুধু তাকিয়ে থাকি আমরা। কেন শুধু তারাই?
হিটলার-স্তালিনরা কি দোষ করেছিল?
হ্যাঁ, জানি। শেষেরদল খুনে। রক্ত দিয়ে ইতিহাসে তাদের নাম লেখা। কিন্তু 'সফল' বলতে যেসব বিত্তশালীদেরকে আমরা আইডিয়াল হিসেবে ধরছি, তারা সবাই কি শুধু দুধে ধোওয়া তুলসিপাতা?
'ক' থেকে 'ঙ' পর্যন্ত পাঁচজন মানুষ একটা ঘরে আটকা পড়লেন। ঘরে তাঁদের জন্য পাঁচখানা রুটিও রাখা ছিল। 'ক' যেভাবেই হোক, সাড়ে চারখানা রুটিই কবজা করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। আপনার কি মনে হয়, বাকি আধখানা রুটি চুপচাপ সবার ভাগ করে খাওয়া উচিৎ?
'ক'য়ের সাফল্যে সবাই হা করে তার দিকে তাকিয়ে থেকে আধখানা রুটিটা থেকে কিভাবে নিজের কাছে আরো বেশি রাখা যায়, তার তালিম নেয়া উচিৎ?
পৃথিবীতে আমরা যদি বন্দিই হয়ে থাকি, রিসোর্সও যদি আমাদের সীমিত হয়ে থাকে, তাহলে কেন রিসোর্স দখলের নিষ্ঠুর এই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতে হবে?
আমি আপনি গরীব না হলে, বলা ভালো 'বিফল' না হলে, তারা কেউ সফল হতে পারতো না। পুঁজিবাদী সফলদের দিকে তাকিয়ে মুখে লালা ঝরানোর আগে ভেবে দেখবেন, আফ্রিকান কন্টিনেন্টের উপোষ থাকা মানুষদের খাবারই আপনার আইডলের প্লেটে যাচ্ছে। আপনার আইডল যত পরিবেশবাদীই হোক না কেন, ঘুরপথে তাদের মদতেই কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে। কেনা হচ্ছে অস্ত্র। মরছে মানুষ। একজন 'সফল' মানুষ হবার স্বপ্ন দেখার আগে ভেবে রাখা ভালো, পৃথিবীটা বসবাসের অযোগ্য করে তোলাটাই কি আমার সফলতা?
আমাদের এই গ্রহটাতে এই মুহূর্তেই মাটির নিচে যতগুলো বিষ্ফোরক পুঁতে রাখা আছে, সেগুলো সরাতে সময় লাগবে ৫০০ বছরেরও বেশি। এখন, এই মুহূর্তেও যেগুলো পোঁতা হচ্ছে, সেগুলোর কথা নাহয় বাদই দিলাম।
'সামাজিক' লেবেল আঁটা অসুস্থ প্রতিযোগিতাময় এই পৃথিবীতে আপনিও প্রতিযোগী হিসেবে যোগ দেয়ার আগে একবার ভেবে দেখতে পারেন, পৃথিবীটা একটা ঘরেরই মতো। সাত আটশো কোটি মানুষ এই ঘরটাতে আমরা বাস করছি। পিস্তল, ছুরি, চাকু দিয়ে মানুষ মারার সংস্কৃতিটা আমরা ঘৃণা করতে শিখলেও রিসোর্স দখলে রেখে অপরকে ভাতে-পানিতে হত্যা করাটা আমাদের কাছে ঘৃণার্হ তো হয়ইনি, বরং আমরা ব্যাপারটাকে 'মহৎকর্ম' রূপ দিয়ে বসে আছি। পৃথিবীর সবাইকে যদি আপনি মানুষ ভাবতে না পারেন, তাহলে এই পৃথিবীতে বাস করার ক্ষেত্রে সবচে অযোগ্য ব্যক্তি আপনিই। প্রতিযোগিতা নয়, সহনশীলতা আর ভালোবাসাই আমাদেরকে একটা সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে পারে। ক্লাসে ফার্স্ট হবার আগ্রহের চেয়ে যেই ছেলেটা পেছনের বেঞ্চে কিছু না বুঝেই বসে থাকে, তাকে বোঝানোটাই আমাদের স্বাভাবিক কর্ম হবার কথা ছিলো। কিন্তু আমরা শুরুই করি ডিসক্রিমিনেশনের মাধ্যমে। 'খারাপ ছেলেদের সাথে মিশবে না'; উপদেশটাই আমাদেরকে খারাপ বানিয়ে দিচ্ছে। প্রতিযোগিতা, সফলতা আমাদের অন্ধ করে দিচ্ছে ক্রমশ অধিক পুঁজিবাদী হওয়ার দৌড়ে। বিশ্বের সাতানব্বই ভাগ সম্পদ যাদের দখলে, তারাই কি এই যুগের হিটলার, স্তালিন না?
২|
২৭ শে অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ৮:২১
রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট।
২৭ শে অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ৮:৫২
জেরেমি কিয়ের্কেগার্দ বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১১:১৯
পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন:
মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি,
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।