| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জোনাকির প্রদীপ
এক পৃথিবীর একশ রকম স্বপ্ন দেখার!সাধ্য থাকবে যে রূপকথার!!সে রূপকথা আমার একার!!!
এটা ৭১ নয়। এটা ২০১৩।
তবুও উঁচু দেয়ালের ফাঁকে ফাঁকে_অলিতে গলিতে_দূষিত কিংবা বিশুদ্ধ বাতাসে এখনো লাশের গন্ধ ভেসে বেড়ায়। আমি বন্ধ করে রাখি আমার দেয়ালের ছোট্ট জানালাখানি….
কিন্তু দুর্লভ সূর্যালোকের লোভে বাধ্য হয়ে খুলতে হলো সেই জানালা…….অমনি এসিড এসে ঝলসে দিল আমার মুখ……
আমরা পরাধীন নই! আমরা স্বাধীন!
এটা ৭১ নয়! এটা ২০১৩!
ঝলসে যাওয়া মুখ আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল আমার সমাজ_আমার পরিবার_আমার ভালবাসার মানুষ……….!
তাই বেঁচে থাকার সুতীব্র ইচ্ছায় আমাকে পা রাখতে হলো গার্মেন্টেস্ এর মেঝেতে….
এসিড শুধু ঝলসেছিল মুখ। এবার আগুন এসে ঝলসে দিল সমস্ত শরীর……..
আমি মৃত। মৃত মানুষকে শান্তনা দেয়া যায়না। এই সুযোগের যথার্থ ব্যবহার করে কেউ আসলোনা……
কেউ আসেনা……..
জানি,কোনদিন আসবেওনা………
আমার সেভেনে পরা ছোট্ট বোন যখন স্কুলে যাবার জন্য বাড়ির বাইরে পা রাখল_পাড়ার নষ্ট ছেলেরা কেড়ে নিল ওর দুরন্ত কৈশোর।
ধর্ষিতা ছোট বোনের লাশ কাধে আমার বাবা যখন রাজপথে নামল_তখন পুলিশ এসে ভেঙ্গে দিল তার পা।
এখানে দিনের আলো খুঁজে পাওয়া দুর্লভ……….
দুঃস্বপ্নের রাতের আঁধারে প্রতিনিয়তই আমরা ডুকরে কেঁদে উঠি……..
বিস্ময়কর হলেও সত্য_এটা নাকি ৭১ নয়! এটা নাকি ২০১৩!!!
সীমান্তে প্রতিনিয়তই মরতে হচ্ছে ফেলানিদের_ভীরের বাসে আমার গায়ে ইচ্ছেমতন হাতরে বেড়াচ্ছে নুপংশুকের বিষাক্ত কালো হাত_তীব্র ক্ষুধার আক্রোশে ছোট ছোট শিশু ঘুরে বেড়াচ্ছে তথাকথিত বিওবানদের পেছন পেছন_প্রতিনিয়তই খাবারে মিশছে বিষ…….!
রাত বাড়োটার পর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হয়। দরজা খুলতে ভয় পায় আমার মা।সদ্য তারুণ্যে পা রাখা আমার ছোট্ট ভাই নেশার ঘোরে মাতাল!
তার কলম ধরার হাতে গাজা ভর্তি স্টিক নামের সিগারেট_কখনো আবার বাবা নামের ইয়াবা…….
সমস্ত ছোট ভাইগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে……….
সুস্থ পুথিবীতে অসুষ্থ মৃতদেহ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে……
তবুও এটা ৭১ নয়_এটা নাকি ১৩! ২০১৩!!!
আমি থমকে যাই।
আমার মৃতদেহ আড়ষ্ট হয়ে যায়।
১৯ এর ৭১_আর ২০ এর ১৩ তে কেমন অদ্ভুত মিল!
৭১ এর মতন ১৩ তে এসেও নীজামীরা জীবীত!
কাদের মোল্লা,গোলাম আযম আর সাকা চৌধুরীরা জীবিত!
নোংরা প্রতিদ্বন্দীতা_আর কথায় কথায় মানুষ মারার রাজনৈতিক কালো হাত গুলো জীবিত!
কেবল শেখ মুজীব মৃত।
মুনীর চৌধুরী মৃত।
জহীর রায়হান আর শহীদুল্লাহ কায়সাররা মৃত……..
এখানে রানা প্লাজা ধ্বসবেই_তাতে কারোর কিছু আসবে যাবেনা…….
সাগর রুনীরা মরবেই_কারোর কিছু আসবে যাবেনা…….
লিমনের পা ভাঙবেই_কারোর কিছু আসবে যাবেনা………
হুমায়ুন আজাদ মরবে_ত্বকীরা মরবে………..আর_সবাই শুধু দেখবে_কারোর-ই কোন কালেই কোন কিছু আসবে যাবে না……..
কেউ আফসোস করবে_কেউ হা-হুতাশ করবে_কেউ তোতা পাখির বুলি আওড়িয়ে বজ্র কন্ঠে বক্তৃতা দেবে………
আর আমরা কেবল দেখব!
ধৈর্য্য নিয়ে শুনব!
শুনতে শুনতে দুচোখ গলিয়ে ইচ্ছে মতন পানি ফেলব!
শোনার পর নিষ্ঠ হাতে জমজমাট হাত-তালি দেব!
তারপর দু-দিন পর ভুলে যাব……….
জন্ম দিব নতুন কোন কলঙ্কের…..! নতুন কোন ইয়াহিয়া কিংবা নতুন কোন নীজামীর………..!
…………………..নতুন কোন ফেলানীর!
নজরুল কিংবা জীবনানন্দ এখানে আর জন্মাবেনা।
জন্মাবেনা মতিউর কিংবা নূর হোসেন ।
এক এক করে সমস্ত জাহানারা ইমামরা মারা যাবে………..
সমস্ত বীরাঙ্গনারা মারা যাবে…………
কেবল জন্ম নিবে কলঙ্ক…….
জন্ম নিবে মিথ্যা………..
জন্ম নিবে নতুন নতুন ধর্ম ব্যবসায়ী……….
আর নতুন নতুন তেতুল শফী………
এটাই এখানকার নিয়ম।চিরাচরিত নিয়ম।চিরপুরাতন নিয়ম।
৭১ থেকে ১৩ অবধি_এই নিয়মকেই মাথা পেতে মেনে নিয়েছি…………
তাইতো আমার লাশের সৎকার হয় ডাস্টবিনে।
আমার রক্ত মাংসে তড়তড়িয়ে বেড়ে ওঠে কিছু অপুষ্ট কাক।
লাল রঙা ব্যাগ কাধের ছোট্ট মেয়েটি কেবল ভয় পায়।
ড্রইভার নাক কুচকে মোটামুটি সভ্য একটা গালি দিয়ে সেটে দেয় দামী গাড়ির অন্ধকার জানালা।
মেয়েটার মা বিরক্তিতে কপাল কুঁচকায়।
দেরী হয়ে যাচ্ছে……….
আজ সুমীর exam…………..
Englisg 1st paper exam…………
©somewhere in net ltd.